জাতীয়
তারেক রহমানের আগমনে রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ হবে: প্রেস সচিব
৬ হাজার ৩১৪ দিন পর দেশের মাটি স্পর্শ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমনে দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ হবে বলে মনে করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় করতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পবিত্র জপমালা রাণী গির্জায় গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আজ বাংলাদেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। তাদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে সিলেটে আসে সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে। সিলেটে যাত্রাবিরতি শেষে ফ্লাইটটি বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দলের নেতা। তার দেশে আসার প্রভাব হবে খুবই ইতিবাচক।
সামনে বড় নির্বাচন-এ কথা উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, দেশ একটা ‘ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশনে’ (গণতান্ত্রিক উত্তরণে) আছে। তারেক রহমানের দেশে আসার পর এই ট্রানজিশন আরও স্মুথ হবে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, তার নিরাপত্তা বিএনপি দেখছে। বিএনপি যে ধরনের সহযোগিতা সরকারের কাছে চাচ্ছে, সব সহযোগিতাই করা হচ্ছে।
এসময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বকশ চৌধুরী কেন পদত্যাগ করলেন-এ প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, এটা গতকাল রাত ১২টার দিকের ঘটনা। তিনি এখনো কারণ জানতে পারেননি।
বড়দিনের শুভেচ্ছাবিনিময়
তেজগাঁওয়ের পবিত্র জপমালা রাণী গির্জায় এসে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে বড়দিনের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তারা চান, সব সম্প্রদায়ের সবাই যেন নিজ নিজ ধর্ম, আচার, অনুষ্ঠান নির্ভয়ে-আনন্দে পালন করতে পারেন। এটা সত্যিকার গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
জাতীয়
নির্বাচনের মাঠে ৯ লাখ ১৯ হাজার ফোর্স, সেনা ১ লাখ
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন সদস্য। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সশস্ত্র সদস্য রয়েছে সেনাবাহিনীর। এ ছাড়া ভোটের মাঠ পর্যবেক্ষণে সব বাহিনীর ড্রোন ব্যবহৃত হবে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ভোটে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নৌবাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৫শ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসি’র ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন।
অন্যদিকে নির্বাচনী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে ৩শ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিভিন্ন নির্বাচনী অপরাধে ইতোমধ্যে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ৪৬৮টি ঘটনায় ২৫৯টি মামলায় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মোট ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনী তদন্ত কমিটি সংক্ষিপ্ত বিচারে আরও ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।
ভোট পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ৫৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, স্বেচ্ছায় ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক ইতোমধ্যে দেশে এসেছেন। পাশাপাশি দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮০টি সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন মাঠে থাকবেন।
এমএন
জাতীয়
নীলফামারীর চারটি আসনে ২৬৪ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
নীলফামারীর চারটি সংসদীয় আসনে ৫৬২টি ভোটকেন্দ্রে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এরমধ্যে ২৬৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাকি কেন্দ্রগুলো সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রকে অধিকগুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ভাগ করা হয়েছে।
এতে জেলায় অধিকগুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৭১টি ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৯৩টি মিলে ২৬৪ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সূত্র জানায়, ভোটার সংখ্যা বেশি, বিগত নির্বাচনের সময় অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুর, সীমানা প্রাচীর না থাকা, প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবশালী নেতার বাড়ি সংলগ্ন কেন্দ্র, দূরবর্তী ও জনবহুল এলাকাসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভারত সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী জেলাটি তিস্তা নদী বিধৌত ও অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে চারটি আসন রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে এই জেলার আসনগুলোতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, জেপি, বাসদ (মার্কবাদী), বিএনএফ, ন্যাপ ও স্বতন্ত্রসহ মোট ২৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানিয়েছেন সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণের সব প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সব বাহিনী দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, আনসার বাহিনী কাজ করছে।
নতুন করে ২৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ পেয়েছি। চারটি জুডিসিয়াল তদন্ত টিম রয়েছে। এতে আটজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন।
তিনি জানান, অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে প্রতিটি উপজেলায় যৌথবাহিনীর মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিকভাবে আমাদের সার্বিক পরিস্থিতি অনেক ভালো। যারা ভোটগ্রহণ করবেন সে সব কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালটসহ ভোটের উপকরণ
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারসহ ভোটের উপকরণ কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে৷
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তারা নিজের দপ্তর থেকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নির্বাচনী সকল উপকরণ বিতরণ করছেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন।
আর হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
এসব ভোটার ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটদান করার সুযোগ পাচ্ছেন। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ২১ হাজার ৫০৬টি।
নির্বাচনে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোট নেবেন। এদের মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন, পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক ও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন।
১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করছে।
এতে দলের প্রার্থী রয়েছে ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এরমধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন। বাকি ২০ জন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
ভোটে পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন।
শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ভোট স্থগিত করেছে কমিশন, যেখানে পরবর্তীতে নতুন তফসিলের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করবে ভোট আয়োজনকারী সংস্থাটি।
জাতীয়
নতুন সরকারের প্রতি অগ্রিম শুভ কামনা জ্বালানি উপদেষ্টার
দরজায় কড়া নাড়ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা শেষ কর্মদিবস অতিবাহিত করেছেন। তারই ধারায় সুষ্ঠু নির্বাচন ও নতুন সরকারের প্রতি অগ্রিম শুভ কামনা জানিয়েছেন জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শেষ কার্যদিবস অতিবাহিত করেছি। যদিও আইন অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ পর্যন্ত আমি উপদেষ্টা পদে বহাল থাকব, নির্বাচনের পর নৈতিক বিবেচনায় আমি আর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার থেকে বিরত থাকব।
জাতির সেবার সুযোগ পাওয়া যে কোনো নাগরিকের জন্য ভাগ্যের বিষয়। এ সৌভাগ্যের জন্য আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। উপদেষ্টা পদে কার্যকালে, আমার সাথে কর্মরত সচিববৃন্দ, দফতর ও কোম্পানি প্রধানসহ সকল সহকর্মীর সমর্থন ও অকুণ্ঠ সহযোগিতা পেয়েছি, এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, সহিংসতা মুক্ত ও উৎসবমুখর হোক। আমি আগেও বেশ কয়েকবার বলেছি, যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, আমরা জাতি হিসেবে তাদের পেছনে দাঁড়াব। নতুন সরকারের জন্য শুভ কামনা।
এমএন
জাতীয়
বিদায়বেলায় উপদেষ্টারা, সাফল্যের মূল্যায়নে কে কত নম্বর দিলেন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোট। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে এবং বিদায় নেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দেড় বছরের দায়িত্ব পালন শেষে নিজেদের সাফল্য, ব্যর্থতা এবং কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তারা ১০০ নম্বরের মধ্যে নিজেদের বিভিন্ন নম্বর দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নিজেদের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দেন। এর মধ্যে তিনজন উপদেষ্টা নিজেদের কাজের মূল্যায়নে ৭০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর দিয়েছেন। তবে কেউই নিজেকে শতভাগ সফল বলে দাবি করেননি। এছাড়া অন্যান্য উপদেষ্টারাও নানা বিষয় তুলে ধরেছেন।
নিজেকে ৭০ বা ৮০-এর বেশি দিতে রাজি নই : অর্থ উপদেষ্টা
নিজের মূল্যায়নে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি খুব প্র্যাগমেটিক মানুষ। নিজেকে ১০০ নম্বর কেন দেব? আমাদের অনেক ইচ্ছা ছিল, অনেক কাজ শুরু করেছি, কিন্তু সব শেষ করে যেতে পারিনি। সে কারণেই আমি নিজেকে ৭০ বা ৮০-এর বেশি দিতে রাজি নই।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সময়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা সহজ ছিল না। কাঠামোগত দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময় লেগেছে।
৩০ শতাংশ হয়তো আরও ভালো হতে পারত, কিন্তু হয়নি : নৌপরিবহন উপদেষ্টা
নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাফল্যের শতাংশ আমি মেবি (সম্ভবত) ৭০ শতাংশ দেব। এটা আমার মূল্যায়ন। ৩০ শতাংশ হয়তো আরও ভালো হতে পারত, কিন্তু হয়নি। হয়নি বিভিন্ন কারণে, নানাবিধ কারণে।
দেশের অস্থির সময়ে পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এত বড় প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখেও পুলিশ কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। এমনকি লাঠিচার্জের ক্ষেত্রেও তারা যথেষ্ট সংবরণ দেখিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, লাঠি মারলে লোকে বলে পুলিশ লাঠি মারছে, আর রাইফেল তো কথাই নেই; রাইফেল তো বলতে গেলে আনইউজড (অব্যবহৃত)।
বিপ্লবের পর অনেক দেশ বছরের পর বছর অনিশ্চয়তা ও গৃহযুদ্ধের (সিভিল ওয়ার) মধ্যে কাটিয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় এবং সুশৃঙ্খল বলেও মনে করেন তিনি।
প্রশাসনিক জটিলতা ও জনবল সংকটে শতভাগ সফল হতে পারিনি : ধর্ম উপদেষ্টা
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমি ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছি। আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে অনেক অর্গান আছে, অনুদান শাখা আছে। অনুদান শাখার মাধ্যমে দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, কবরস্থান এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হয়েছে।
নিজের সফলতার খতিয়ান তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসনিক কিছু জটিলতা ও জনবল সংকটের কারণে আমি শতভাগ সফল হতে পারিনি। প্রশাসনিক কাজ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে আমরা ইতোমধ্যে শূন্যপদ পূরণে ছয়জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আর কিছুদিন সময় পেলে ওয়াকফ প্রশাসনকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে এবং জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে পারতাম। ওয়াকফ সংক্রান্ত কাজগুলো বেশ জটিল, বিশেষ করে ভূমিসংক্রান্ত মামলার কারণে হাইকোর্টে বছরের পর বছর শুনানি ঝুলে থাকে।
জ্বালানি খাত ঘুরে দাঁড়াতে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন, কোনোটাই পাইনি : জ্বালানি উপদেষ্টা
জ্বালানি খান ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু, এর কোনোটাই তিনি পাননি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে এ খাতে দৃশ্যমান কিছু না করতে পারার ব্যর্থতা শিকার করে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। তার কোনোটাই পাননি তিনি। তবে রাজনৈতিক সরকার নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাতকে ঢেলে সাজাতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফাওজুল কবির খান বলেন, ভর্তুকি দিয়ে কোনো প্রকল্প হাতে নিতে চায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। আদানি চুক্তি নির্বাচিত সরকারের হাত ধরে সমাধান হবে।
বিদায়ের সময় ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না : ভূমি উপদেষ্টা
সরকারের ভেতরে অন্যদের সমর্থন না পাওয়ায় ভূমি নিবন্ধন আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিদায়ের সময় ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না।
ভোগান্তি লাঘবে ভূমি নিবন্ধনকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার একটা প্রক্রিয়া ছিল। সেই বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমি যখন বিদায় নিচ্ছি তখন ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমরা সফল হইনি।
কেন সফল হননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের তো সমর্থন পেতে হবে, এটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারের আরও যারা আছেন তাদের সমর্থন লাভ করতে পারিনি।
ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমা করবেন, আমাকে ভুলে যাবেন : বাণিজ্য উপদেষ্টা
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ইনশাআল্লাহ নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে সাথে সাথে আমি আমার কর্মজীবনে ফেরত যাব। আশা করি আপনারা আমাকে ভুলে যাবেন এবং মাফ করে দেবেন। আমি ভুলে থাকতে চাই। আমি কখনোই কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে আসিনি আগে। আমি আবার চাই আপনাদের মাধ্যমে একটি স্বনির্বন্ধ অনুরোধ করতে চাই, শেষ অনুরোধ, যে আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।
তিনি বলেন, গত দেড় বছর বিভিন্ন প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রেখেছেন। এতে তার কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি যেসব জায়গায় ভুল ছিল, সেগুলো সংশোধনের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
‘সরকারে আসার সময় আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। আল্লাহর রহমতে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারও প্রতি বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি করিনি। সম্মিলিতভাবে আল্লাহ তায়ালা বরকত দিয়েছেন।’
এমএন



