রাজনীতি
গুলশানের বাসায় পৌঁছেছেন জুবাইদা ও জাইমা রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে পৌঁছেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে তারা তারেক রহমানের গুলশানের বাসায় পৌঁছান। এসময় পুলিশ ও সিএসএফ সদস্যরা তাদের প্রটোকল দিয়ে নিয়ে আসেন।
এর আগে, সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-কন্যাকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর বিমানটি বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাটি স্পর্শ করে। বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এ সময় তিনি নেতাদের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন এবং উপস্থিত সবার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত সোয়া ১২টা) তাকে বহনকারী বিমান ঢাকার উদ্দেশে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
রাজনীতি
নাহিদ-আখতারসহ এনসিপির শীর্ষ নেতারা যেসব কেন্দ্রে ভোট দিবেন
আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা কোন কেন্দ্রে ভোট দেবেন, তা নিশ্চিত করেছে দলটির মিডিয়া সেল। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলটির মিডিয়া সেল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনিসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডা থানার বেরাইদ এলাকার ১৬২. এ.কে.এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিবেন। এছাড়া সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনের কাউনিয়া উপজেলার টেপা মধুপুর এলাকার ভায়েরহাট সেন্টারে তার মাকে নিয়ে ভোট দিবেন।
এছাড়া এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা-১০ আসনের নিউমার্কেট এলাকায় গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল কেন্দ্রে, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সার্জিস আলম পঞ্চগড়-২ আসেনর মনকুমার রাখালদেবীহাট হাইস্কুল কেন্দ্রে, দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪ আসনের ৩ নং রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দিবেন।
নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী সারোয়ার তুষার ঘোড়াশাল পাইলট স্কুল কেন্দ্রে, নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসুদ হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর শহীদ আলী আহমেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে, ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী জাভেদ রাসিন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭১ নং ওয়ার্ডের মারকাজুল উলুম মাদ্রাসায় ভোট দিবেন।
এমএন
রাজনীতি
জামায়াত নেতা শফিকুর রহমান: যার সঙ্গে সবাই এখন দেখা করতে চায়
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। যে জামায়াতে ইসলামী ও তার শীর্ষ নেতাদের কিছুদিন আগেও দেশি অভিজাত শ্রেণি ও বিদেশি কূটনীতিকরা এড়িয়ে চলতেন, এখন তারাই দলটির সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে ভিড় করছেন। গত বুধবার দলের আমির শফিকুর রহমান একটি উচ্চাভিলাষী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইশতেহারে মূল প্রতিশ্রুতি ছিল—দল ক্ষমতায় এলে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ভিত্তি তৈরি করা। রাজনীতিক ও কূটনীতিকদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে ৬৭ বছর বয়সী শফিকুর রহমান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইশতেহারে স্লোগান বেশি, বিশদ পরিকল্পনা কম। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত নেতৃত্বের কাছে ইশতেহার আর্থিক হিসাবের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার বিষয়েই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতকে এমন একটি দল হিসেবে তুলে ধরেছেন, যারা ধর্মীয় মতাদর্শে এতটাই আবদ্ধ যে, একটি তরুণ, বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক সমাজ পরিচালনায় তারা অক্ষম। কিন্তু নতুন ইশতেহারদলটিতে এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছে, যারা ধর্মীয় পরিচয় ও আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার মধ্যে কোনও বিরোধ দেখছে না।
দলটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ব্যক্তিদের তালিকাও ছিল সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, অভিজাত শ্রেণি ও বিদেশি কূটনীতিকরা তাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে যোগাযোগ এড়িয়ে চলতেন, কিংবা গোপনে সীমিত যোগাযোগ রাখতেন। এখন তাদের সঙ্গে সে যোগাযোগ প্রকাশ্যেই হচ্ছে।
গত কয়েক মাসে ইউরোপীয়, পশ্চিমা এমনকি ভারতীয় কূটনীতিকরাও ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক সময় যে নেতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায় ‘অস্পৃশ্য’ মনে করা হতো, সে নেতার সঙ্গেই এখন সবাই কথা বলতে চাইছেন। যে নেতার দল দুইবার নিষিদ্ধ হয়েছিল, সবশেষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়—তার সামনে আসন্ন নির্বাচন এমন একটি প্রশ্ন আসছে, যা এক বছর আগেও কেউ উচ্চারণ করতে সাহস করতেন না। আর তা হলো, শফিকুর রহমান কি বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন?
‘মানুষের জন্য লড়ব’
জামায়াতে ইসলামী ও দলের শীর্ষ নেতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির এ পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৈরি হওয়া শূন্যতা। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটায়নি, বরং দেশের রাজনৈতিক কাঠামোকেই নাড়িয়ে দেয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী রাজনীতির কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়ে।
আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠ থেকে কার্যত উধাও হয়ে গেছে। বিএনপি একমাত্র বড় দল হিসেবে টিকে থাকায় অনেকেই ভেবেছিলেন ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) সে শূন্যতা পূরণ করবে। বাস্তবে সে জায়গা দখল করে নিয়েছে দীর্ঘদিন কোনঠাসা হয়ে থাকা জামায়াত।
নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত এখন দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির একটি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিছু জরিপে দলটি বিএনপির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। এ রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান, বলছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
শফিকুর রহমান ২০১৯ সালে জামায়াতের নেতৃত্বে আসেন, তখন দলটি নিষিদ্ধ ছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মধ্যরাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ‘জঙ্গিবাদে সহায়তার’ অভিযোগে। ১৫ মাস পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। ২০২৫ সালের মার্চে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মামলার আসামির তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।
এরপর থেকেই আবেগঘন কিন্তু হিসেবি জনসমাবেশে শফিকুর রহমান ব্যাপক আলোচনায় আসেন। গত জুলাইয়ে ঢাকার এক বিশাল সমাবেশে তীব্র গরমে দুবার মঞ্চে অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষা করে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহ যতদিন হায়াৎ দেবেন, ততদিন আমি মানুষের জন্য লড়ব। জামায়াত ক্ষমতায় এলে আমরা মালিক নয়, খাদেম হব। কোনও মন্ত্রী প্লট নেবে না, করমুক্ত গাড়ি নেবে না। চাঁদাবাজি হবে না, দুর্নীতি হবে না। তরুণদের স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমরা তোমাদের সঙ্গেই আছি।’
জামায়াতের ভাবমূর্তি গড়ার চেষ্টা
সমর্থকদের কাছে শফিকুর রহমান একজন সহজপ্রাপ্য, নৈতিকতায় দৃঢ় নেতা—যিনি ঘরে থাকার চেয়ে বাইরে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পছন্দ করেন। টানা তৃতীয় মেয়াদে দলের আমির হিসেবে তিনি জামায়াতের ভেতরে দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে এখন তার চ্যালেঞ্জ শুধু নির্বাচন নয়, ভাবমূর্তি রক্ষারও।
দলে নতুন সমর্থকদের টানতে গিয়ে তিনি জামায়াতকে ধর্মীয় দল থেকে ‘সুশাসন, শৃঙ্খলা ও পরিবর্তনের বাহন’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। এ পরিবর্তন কতটা বাস্তব আর কতটা কৌশলগত—সেটাই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ পুনর্গঠনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ১৯৭১ সালের ভূমিকা। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ও পরবর্তী যুদ্ধাপরাধ বিচারের বিষয়টি আজও দলটির পিছু ছাড়েনি।
ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক সময়ে ‘অতীতের ভুল’ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন, তবে নির্দিষ্ট করে দায় স্বীকারের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। দলটির সমর্থকদের মতে, এটি রাজনৈতিক বাস্তবতা, আর সমালোচকদের মতে এটি ইচ্ছাকৃত অস্পষ্টতা।
নারী নেতৃত্ব
জামায়াতের সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে নারী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নারীর পক্ষে দলের শীর্ষ পদে থাকা সম্ভব নয়। আল্লাহ সবাইকে আলাদা স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। একজন পুরুষ সন্তান জন্ম দিতে বা বুকের দুধ খাওয়াতে পারে না। শারীরিক সীমাবদ্ধতা আছে।
তার এই বক্তব্য নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নারীদের অগ্রণী ভূমিকার পর এমন অবস্থান জামায়াতের জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। রাজনৈতিক ইতিহাসবিদ মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি নতুন কিছু নয়—জামায়াত কখনও সাধারণ আসনে নারী প্রার্থী দেয়নি।
‘দাদু’ শফিকুর
তরুণ সমর্থকদের কাছে এসব বিতর্কের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছেন শফিকুর রহমান নিজেই। প্রচারণায় তরুণদের অনেকেই তাকে ডাকছেন ‘দাদু’ বলে। চট্টগ্রামে আইনের এক তরুণ শিক্ষার্থী বলেন, ‘তিনি আমাদের সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলেন। অন্য নেতারা তরুণদের তুচ্ছ করেন, কিন্তু শফিকুর রহমান তা করেন না।’
সামনে কী অপেক্ষা করছে?
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু প্রার্থী দিয়েছে। বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগও বাড়িয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছে। সবমিলিয়ে, নির্বাচনে জিতুক বা হারুক—বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডা. শফিকুর রহমান এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম।
রাজনৈতিক ইতিহাসবিদ মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, ‘তার রাজনৈতিক দর্শন এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, কিন্তু দলের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ নিঃসন্দেহে দৃঢ়।’
এমএন
রাজনীতি
ঢাকা-৮ আসনকে মদিনার সমাজ বানাতে চাই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা-৮ আসনকে একটি আদর্শ ও ইনসাফভিত্তিক মদিনার সমাজ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি এই অঙ্গীকার করেন।
গণসংযোগের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় নিজ আসনের প্রার্থী এবং আন্দোলনে নিহত শহীদ শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করে নাসীরুদ্দীন তিনি বলেন, ওসমান হাদি বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, জামায়াত চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি দল। এনসিপি ও জামায়াত উভয় দলই দেশ গঠনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।
জিয়ারত শেষে তিনি শাহবাগ এলাকায় গিয়ে ফুল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন।
নাইম
রাজনীতি
তিন বিভাগে জামায়াতের মাস্টারপ্ল্যান: শরিকদের ছাড় সামান্যই
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উত্তরাঞ্চলকে পাখির চোখ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে নিজেদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখতে দলটি বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে। ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিলেও এসব গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে শরিক দলগুলোকে আসন ছাড়ার ক্ষেত্রে বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে দলটি।
তথ্যানুযায়ী, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে মাত্র চারটি ছেড়েছে শরিকদের। আর রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে শরিকদের জন্য ছেড়েছে তিনটি। আরও একটি বিভাগে আসন বণ্টনে জামায়াত ছাড় দেয়নি বললেই চলে। সেটি হলো খুলনা। এ বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ৩৫টিই নিজেদের প্রার্থীর জন্য রেখেছে।
এছাড়াও সীমান্তবর্তী এলাকার আসনগুলোকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। যেমন রংপুর বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী ১৭টি আসনের মধ্যে ১৪টি নিজেদের হাতে রেখেছে। রাজশাহী, খুলনা, সিলেটের চিত্রও একই রকম।
তবে ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ আসনে শরিকদের ছাড় দিয়েছে জামায়াত। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে উত্তর চট্টগ্রাম, বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীতেও প্রায় অর্ধেক আসন ছেড়েছে।
শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোর তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ৮-১০টি বাদে বাকিগুলোতে অতীতে জামায়াতের শক্ত অবস্থান ছিল না। জামায়াত নেতাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় তাদের জোট এখন বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। জামায়াত, শরিক দল, দোদুল্যমান এবং বিএনপিবিরোধী ভোট যোগ করলে সারাদেশে সংখ্যাটি বেশ বড়। ফলে শরিকদের দুর্বল আসন ছাড়া হয়নি।
জামায়াত নেতারা বলছেন, দাঁড়িপাল্লা এখন শক্তিশালী প্রতীক। এনসিপির শাপলা কলিও তাই। ১৫ বছরের লড়াই-সংগ্রাম এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী ইতিবাচক ভূমিকার কারণে জামায়াত এখন বড় দল। সব আসনেই জামায়াত শক্তিশালী। তাই শরিকদের যেসব আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো দুর্বল নয়।
শুরুর দিকে জামায়াত, এনসিপি, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দল নির্বাচনি ঐক্য করেছিল। নানা অসন্তুষ্টির কথা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন জোট ত্যাগ করে। পরে যুক্ত হয় মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি। এনসিপিকে পঞ্চগড়-১, দিনাজপুর-৫, কুড়িগ্রাম-২ এবং রংপুর-৪ আসন ছেড়েছে জামায়াত। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বাকি আট শরিক দলকে রংপুর বিভাগে একটিও আসন ছাড়েনি দাঁড়িপাল্লা।
জামায়াত দলীয়ভাবে যে তিনটি জরিপ করেছে, তাতে দাবি করা হয়েছে, রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনে অন্তত ২৫টিতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীরা জয়ী হবেন। রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় ৩৯টি আসনের ১৮টিতে নিশ্চিত জয় আশা করছে জামায়াত। আর বাকি আসনগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ধরে রাখছে দলটি।
অন্যদিকে ব্রেইন, ইনোভেশন, ন্যারেটিভসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরিপেও জামায়াত রংপুর ও খুলনা বিভাগে এগিয়ে রয়েছে বিএনপির চেয়ে। রাজশাহী বিভাগে অবস্থান প্রায় সমানে সমানে।
জামায়াতে ইসলামী ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ১২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৮ আসন পেয়েছিল। যা দলটির সর্বোচ্চ নির্বাচনি সাফল্য। ২০০১ সালে বিএনপির জোট শরিক হয়ে ১৭ আসন পেয়েছিল। এর সাতটি পেয়েছিল রংপুর থেকে। অন্যান্য বিভাগে আসন পেলেও ১৯৯১ সালে রাজবাড়ী জেলায় একটি আসন ছাড়া কখনো ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে জামায়াত জয়ী হতে পারেনি।
২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে প্রথম দুই পর্বে ৩০ উপজেলায় জয়ী হয়েছিল জামায়াত। যার অধিকাংশ ছিল রংপুর বিভাগের। পরের তিন ধাপে আরও ছয় উপজেলায় জয়ী হয় জামায়াত।
এমএন
রাজনীতি
ঘাঁটি রক্ষায় বিএনপি, চ্যালেঞ্জ ছুড়ছে জামায়াত
সাগর-পাহাড় ঘেরা পর্যটন নগরী কক্সবাজার এখন নির্বাচনী উত্তাপের কেন্দ্রে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জেলার ৪টি আসনেই জমে উঠেছে ভোটের কঠিন সমীকরণ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াত এবার একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামায় পাল্টে গেছে অতীতের সব হিসাব-নিকাশ।
অভিজ্ঞ বনাম নবীন, সংগঠন বনাম জনভিত্তি- শেষ দুই দিনে প্রার্থীদের ব্যস্ততা তাই চূড়ান্ত।
কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৮ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ১৭ জন দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত, একজন স্বতন্ত্র।
২২ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই মাঠে নেমেছেন সবাই। শেষ সময়ে ‘ডোর-টু-ডোর’ প্রচারণা, পথসভা, গণসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার- সব মিলিয়ে ভোটার টানার চেষ্টা চলছে জোরেশোরে।
কক্সবাজার–১ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি তারুণ্য:
চকরিয়া–পেকুয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসনটি এবার জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচিত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রার্থী হওয়ায় গুরুত্ব বেড়েছে। তার বিপরীতে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর তরুণ প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কাগজে তিনজন থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই দুজনের মধ্যে। অভিজ্ঞ রাজনীতিকের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বনাম নবীন প্রার্থীর তৃণমূল সক্রিয়তা- এ লড়াইয়ের ফল ঘিরে কৌতূহল রয়েছে।
কক্সবাজার-২ অর্থনীতির কেন্দ্রে ভোটের লড়াই:
মহেশখালী–কুতুবদিয়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচজন। সাবেক এমপি আলমগীর ফরিদ (ধানের শীষ) এবং জামায়াতের ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদকে ঘিরেই মূল লড়াই।
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পর্যটন সম্ভাবনা মিলিয়ে এই এলাকা এখন দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় স্বার্থ-এসব প্রশ্নে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চলছে।
কক্সবাজার-৩ সদর আসনে তীব্র প্রতিযোগিতা:
সদর, রামু ও ঈদগাঁও নিয়ে কক্সবাজার–৩ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ছয়জন। বিএনপির লুৎফুর রহমান কাজল ও জামায়াতের শহীদুল আলম বাহাদুরের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখছেন ভোটাররা।
জেলা সদর হওয়ায় আসনটি প্রতীকীভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। বড় সমাবেশ, নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ এবং ঘন ঘন গণসংযোগে প্রচারণা পেয়েছে গতি। প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়েও মাঠে সক্রিয় প্রার্থীরা।
কক্সবাজার-৪ সীমান্ত, রোহিঙ্গা ও ‘লক্ষ্মী আসন’ তত্ত্ব:
উখিয়া–টেকনাফ নিয়ে গঠিত কক্সবাজার–৪ বরাবরই জাতীয় আলোচনায় থাকে। রোহিঙ্গা সংকট, মাদক ও মানবপাচার, সীমান্ত নিরাপত্তা- এসব ইস্যু এই আসনকে আলাদা গুরুত্ব দেয়। রাজনৈতিকভাবে একে ‘লক্ষ্মী আসন’ বলা হয়।
অতীতে এখানে যে দলের প্রার্থী জিতেছেন, সেই দলই সরকার গঠন করেছে- এমন বিশ্বাস স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত।
এবার বিএনপির প্রার্থী সাবেক চারবারের এমপি শাহজাহান চৌধুরী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা আমির নুর আহমদ আনোয়ারী। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও এলডিপির প্রার্থী। দক্ষিণের এ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা তাই বেশ জমজমাট।
বদলে যাওয়া জোট সমীকরণ:
স্বাধীনতার পর থেকে কক্সবাজারকে ‘বিএনপির ঘাঁটি’ বলা হলেও অতীতের জোট নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত একসঙ্গে লড়েছে। এবার দুই দল আলাদা প্রতীকে মাঠে।
ফলে ভোটের সমীকরণে নতুন হিসাব তৈরি হয়েছে। সাংগঠনিক শক্তি ও ভোট স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। চূড়ান্ত ফল জানতে অপেক্ষা ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চার আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৭ জন। আগের নির্বাচনের তুলনায় বেড়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৯৭ জন ভোটার। জেলায় ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রের ৩ হাজার ৬৮৯টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে।
দায়িত্বে থাকবেন ১২ হাজার ২৫১ জন কর্মকর্তা। দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন ভোটাররা- একটি সংসদ নির্বাচনে, অন্যটি গণভোটে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা। আচরণবিধি তদারকিতে প্রতিটি উপজেলায় দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছেন।
শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, জোটভাঙা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতায় কক্সবাজারের চার আসনে এখন কেবল অপেক্ষা- ভোটের রায়ে কোন সমীকরণ টিকে থাকে।



