জাতীয়
সিঙ্গাপুরে হাদির অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে (এসজিএইচ) চিকিৎসাধীন। কিছুক্ষণ আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ খবর জানা গেছে। সংকটাপন্ন অবস্থাতেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে গত সোমবার হাদিকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেই তার অবস্থার কিছুটা অবনতি হলেও হাসপাতালে নেয়ার পর কিছুটা উন্নতি হয়। গতকাল মঙ্গলবার সারাদিন ও আজ সকালে স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও দুপুরের পর স্বাস্থ্যের অবনতির খবর জানা যায়।
এর আগে অন্তবর্তীকালীন সরকার ও পরিবারের অনুরোধে আরও ভালো চিকিৎসার জন্য হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে কুইন এলিজাবেথ হাসাপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা মেডিক্যাল রিপোর্টসহ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠিও পাঠায় কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে। স্বাস্থ্য পারমিট করলে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই স্বাস্থ্যের কিছুটা অবনতির খবর জানা গেছে।
সূত্র বলছে, ওসমান হাদির মাথায় খুব জটিল একটি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। তবে এ জন্য সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে ভালো ব্যবস্থা নেই। বৃটেনের বার্মিংহামের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে এ অপারেশনের ভালো ব্যবস্থা রয়েছে।
সূত্রটি আরও বলছে, শুরুতে ইনকিলাব মঞ্চ এবং বাংলাদেশ ও বৃটেনের কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী ওসমান হাদিকে বৃটেনে নেওয়ার প্রচেষ্টা নেন। তবে এখন বিষয়টি নিয়ে সরকার দ্রুত উদ্যোগী হয়েছে। আজ সকালে তিনজন উপদেষ্টা, ফওজুল কবির খান, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ডা. সায়েদুর রহমান টেলিকনফারেন্সে হাদির বড় ভাই ওমরের সঙ্গে কথা বলেন এবং সরকারের তরফ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা ও উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
সব ঠিক থাকলেও ওসমান হাদিকে লম্বা সফরে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা আছে কিনা, সে বিষয়ে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের সবুজ সংকেতের প্রয়োজন। চিকিৎসকরা সফরের বিষয়ে সায় না দিলে তাকে বৃটেনে নেওয়ার চেষ্টা হবে ঝুঁকিপূর্ণ।
এর আগে আজ সকালে ইনকিলাব মঞ্চে তাদের ফেসবুক পেজের একটি পোস্টে জানায়, হাদির স্বাস্থ্য স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সবাই। অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করতে হলে প্রথমে শরীরকে সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল করতে হবে। চিকিৎসা সিঙ্গাপুর অথবা ইংল্যান্ড যে কোনো জায়গায় হতে পারে। ব্রেন সক্রিয় করার জন্য অপারেশন প্রয়োজন। বর্তমানে মূল লক্ষ্য হলো শরীর আর ব্রেনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা। ব্রেন ছাড়া শরীরের অন্য সব অঙ্গ সক্রিয় রয়েছে।’
তার পরিবার তার জন্য বিশেষ দোয়া কামনা করেছে, ‘ওসমান হাদির জন্য বিশেষ দোয়ার আহ্বান করেছে তার পরিবার। আল্লাহ যেন তাকে হায়াতে তাইয়েবাহ নসীব করেন।’
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে শুরু ডিসি সম্মেলন
রাজধানীতে চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এবারের উদ্বোধনী আয়োজন ঘিরে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের অবতারণা হয়। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ের নিজ দফতর থেকে পায়ে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের উদ্দেশে রওনা দেন। দূরত্ব খুব বেশি না হলেও তার এ পদযাত্রা উপস্থিত মানুষের দৃষ্টি কাড়ে।
রাস্তার দু’পাশে ভিড় করে দাঁড়িয়েছিলেন সাধারণ নাগরিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রধানমন্ত্রীকে দেখে তারা উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নাড়িয়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন এবং মাঝে মাঝে থেমে কারও সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
এই চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও জেলা পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, জেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সেবা প্রদানে গতিশীলতা আনা এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে করণীয় নির্ধারণে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সাধারণ মানুষের কাছাকাছি আসার ঘটনাকে অনেকেই ইতিবাচক ও জনবান্ধব বলে মনে করছেন।
জাতীয়
ডিসি সম্মেলন শুরু আজ, আলোচনায় ৪৯৮ প্রস্তাব
দেশের মাঠ প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে আজ রোববার (৩ মে) থেকে শুরু হচ্ছে চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায় এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে সম্মেলনটি চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। এবারে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে পাওয়া ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। এবারের সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে বাছাই করা ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনায় আসবে।
সম্মেলন ঘিরে শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, আইনশৃঙ্খলা জোরদার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দারিদ্র্য বিমোচনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রস্তাবগুলো প্রাধান্য পেয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতেই সর্বাধিক সংখ্যক প্রস্তাব রয়েছে।
চারদিনের এই আয়োজনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ৩০টি কার্য-অধিবেশন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, নির্দেশনা গ্রহণ এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিও রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গেও পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম দিনের সূচি অনুযায়ী উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা ও ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হবে। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে ধারাবাহিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবন-এ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নৈশভোজে অংশ নেবেন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন, যা মাঠ প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয়
থানাগুলোকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
রাজধানীর ঢাকাসহ সারাদেশের থানাগুলোকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২ মে) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন রমনা মডেল থানা পরিদর্শনকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে তিনি থানার বিভিন্ন কক্ষ ও হাজতখানাসহ সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।
থানা পরিদর্শনকালে মন্ত্রী থানার ওসি ও ডিউটি অফিসারসহ কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
মন্ত্রী বলেন, সততা ন্যায়নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সাধারণ জনগণকে (সেবাগ্রহীতাদেরকে) সেবা প্রদানের জন্য উপস্থিত পুলিশ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কারো বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের রিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন।
আইন-আদালত
আলোচিত বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেখার ভার সুপ্রিম জুডিশিয়ারি কাউন্সিলের : আইনমন্ত্রী
ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এ ধরনের অভিযোগ তদন্তের বিষয়টি সরকারের নয়, বরং সুপ্রিম জুডিশিয়ারি কাউন্সিল এটা দেখবে।
শনিবার (২ মে) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাইকোর্টের এক বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয় না। কারণ এটা সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের বিষয়ে যদি মিসকন্ডাক্টের অভিযোগ আসে, সেটা সুপ্রিম জুডিশিয়ারি কাউন্সিল দেখবে।
আইন মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোনো রকম কর্তব্য, দায়িত্ব, সম্পৃক্ততা নেই।’
ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং ওই প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিরসনের কার্যকর উপায় চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে গবেষণাটি চালানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষকের সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনা ও তার পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষের ওই ঘটনার পর শিক্ষার্থীর বাবা হাইকোর্টের এক বিচারক মাধ্যমিক শাখার ওই শিক্ষককে বাসভবনে ডেকে নিয়ে নাজেহাল করেন।
এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা চলছে।
জাতীয়
ভিজিটর ভিসা নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা
ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে দেশটির কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করা অনুমোদিত নয়। তবে কিছু ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।
শনিবার (২ মে) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ভিসা সংক্রান্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ভিজিটর ভিসায় (বি১/বি২ ভিসা) যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কিছু ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়; যেমন, চুক্তি নিয়ে আলোচনা বা দরকষাকষি করা এবং সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তার জন্য কাজ করা অনুমোদিত নয়।




