আইন-আদালত
প্রধান বিচারপতির বিদায় সংবর্ধনা আগামীকাল
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিদায় সংবর্ধনা জানানো হবে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সকাল সাড়ে ১০টায় আপিল বিভাগের ১ নম্বর এজলাসকক্ষে প্রধান বিচারপতিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান দেশের প্রধান বিচারপতিকে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করবেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ১১ আগস্ট দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। সংবিধান অনুযায়ী, বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। প্রধান বিচারপতির বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে ২৭ ডিসেম্বর। ওই দিন ছুটি থাকায় আগামীকাল তার শেষ কর্মদিবস।
প্রথা অনুসারে শেষ কর্মদিবসে বিদায়ী বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা জানানো হয়ে থাকে।
আইন-আদালত
সুপ্রিম কোর্ট এজলাসে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা, কালো কাপড়ে প্রতিবাদ
সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট বিটে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা। তারা অবিলম্বে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (৩ মে) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম (এসআরএফ) এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, গত চার মাস ধরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বেঞ্চে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আদালত কক্ষ হচ্ছে একটি পাবলিক প্লেস। যেখানে বিচার কাযক্রম সর্ব সাধারণের পর্যবেক্ষণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তাই সেখানে সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া কেবল পেশাগত প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং এটি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, যুগের পর যুগ ধরে গণমাধ্যমকর্মীরা আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে অবাধ প্রবেশের মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ করে আসছিলেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি হিসেবে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এজলাস কক্ষগুলোতে সাংবাদিক প্রবেশে মৌখিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। অবাধ তথ্য প্রবাহ এবং স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আদালতসহ সব পাবলিক প্লেসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বজায় রাখা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই সুপ্রিম কোর্টের সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান সাংবাদিক নেতারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুর রহমান রানা, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম, চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি মাজহারুল হক মান্না প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসআরএফের কার্যনির্বাহী সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, সংগঠনের বর্তমান কোষাধ্যক্ষ কামরুল ইসলাম ফকির, দপ্তর সম্পাদক মাঈনুল আহসান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য দিদারুল আলম, সৈয়দা সাবরিনা মজুমদারসহ সুপ্রিম কোর্টে বিটে কর্মরত শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী।
এমএন
আইন-আদালত
আলোচিত বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেখার ভার সুপ্রিম জুডিশিয়ারি কাউন্সিলের : আইনমন্ত্রী
ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এ ধরনের অভিযোগ তদন্তের বিষয়টি সরকারের নয়, বরং সুপ্রিম জুডিশিয়ারি কাউন্সিল এটা দেখবে।
শনিবার (২ মে) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাইকোর্টের এক বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয় না। কারণ এটা সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের বিষয়ে যদি মিসকন্ডাক্টের অভিযোগ আসে, সেটা সুপ্রিম জুডিশিয়ারি কাউন্সিল দেখবে।
আইন মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোনো রকম কর্তব্য, দায়িত্ব, সম্পৃক্ততা নেই।’
ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং ওই প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিরসনের কার্যকর উপায় চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে গবেষণাটি চালানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষকের সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনা ও তার পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষের ওই ঘটনার পর শিক্ষার্থীর বাবা হাইকোর্টের এক বিচারক মাধ্যমিক শাখার ওই শিক্ষককে বাসভবনে ডেকে নিয়ে নাজেহাল করেন।
এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা চলছে।
আইন-আদালত
নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণে ইসিকে নির্দেশ হাইকোর্টের
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
গত ২২ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ের পর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে গত ২২ এপ্রিল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।
জানা গেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল বিকাল ৪টা পর্যন্ত। কিন্তু এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম তার মনোনয়নপত্র জমা দেন ৪টা ১৯ মিনিটে। নির্ধারিত সময়ের পর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করে কমিশন।
এমএন
আইন-আদালত
হাইকোর্টে এমপি মুফতি আমির হামজার আগাম জামিন
মানহানির মামলায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিচারপতি জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আমির হামজার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আশিকুজ্জামান নজরুল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলামিন।
পরে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, হাইকোর্ট মুফতি আমির হামজাকে ৮ সপ্তাহ বা মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগাম জামিন দিয়েছেন। উপযুক্ত সময়ে তিনি সিরাজগঞ্জের আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।
এর আগে মানহানির মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।
গত ২১ এপ্রিল কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এ বিষয়ে নির্দেশ দেন।
এর আগে আমির হামজাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। তবে তিনি নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন বিচারক।
২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা দায়রা ও জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। তার অভিযোগ, সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তান ইকবাল হাসান মাহমুদকে ‘নাস্তিক’ বলে অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন আমির হামজা। সেই সঙ্গে তিনি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও করেছেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
গত ২৬ মার্চ ইকবাল হাসান মাহমুদ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে একটি বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যকে ঘিরে পরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় তাকে ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য আমির হামজা।
আইন-আদালত
নিপীড়িতদের আইনি সহায়তা দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: আইনমন্ত্রী
নিপীড়িত মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর বনানীতে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী মিথ্যা মামলা করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সরকার বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, কেউ যদি লিগ্যাল এইড সেবা থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে তা আইন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে। আদালতে যাওয়ার আগে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য লিগ্যাল এইডের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
যৌন নির্যাতনের শিকার হলেও যারা আদালতে যেতে পারেন না, তারা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাবেন বলেও আশ্বস্ত করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, মামলা জট কমানোর লক্ষ্যেই লিগ্যাল এইড কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলা চলাকালীন সময়েও চাইলে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে।
এমএন




