আইন-আদালত
আরও তিন হত্যা মামলায় জামিন পেলেন ছোট সাজ্জাদ
চট্টগ্রামের ডাবল মার্ডারসহ একাধিক হত্যা মামলার আসামি সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ আরও তিনটি হত্যা মামলায় জামিন লাভ করেছেন। উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের কাগজপত্র ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছেছে বলে মঙ্গলবার কারা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এর আগে হাইকোর্ট থেকে আরও চার মামলায় পেয়েছিলেন ছোট সাজ্জাদ। এ নিয়ে একে একে সাতটি হত্যা মামলায় জামিন পেলেন তিনি। তবে সাতটি মামলায় জামিন পেলেও সহসা মুক্তি পাচ্ছেন না সাজ্জাদ। এর আগে চার মামলায় জামিন লাভের খবর পাওয়ার পর সাজ্জাদকে গত রোববার চান্দগাঁও থানার দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানানো হয় আদালতে। অন্যন্য থানা থেকেও সংশ্লিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানানো হাবে বলে সিএমপি সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শাহ সৈয়দ শরীফ সাম্প্রতিক সময়ে একে একে সাতটি খুনের মামলা ছোট সাজ্জাদের জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছেছে বলে জানান। সর্বশেষ যে তিনটি হত্যা মামলায় জামিনের কাগজপত্র এসেছে এর মধ্যে রয়েছে, চান্দগাঁও থানার তানভীর ছিদ্দিকী হত্যা মামলা, হৃদয় চন্দ্র তারুয়া হত্যা মামলা ও ফজলে রাব্বী হত্যা মামলা। সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ১০টি খুনের মামলাসহ ১৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে জোড়া খুনসহ আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মামলাও রয়েছে। তার স্ত্রী তামান্না শারমিনের বিরুদ্ধেও একাধিক খুনসহ অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। সাজ্জাদ বর্তমানে রাজশাহী এবং তামান্না ফেনী জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মো. জামালের ছেলে সাজ্জাদ। নগরীর বায়েজিদ, অক্সিজেন ও চান্দগাঁও থানা এলাকায় ‘ছোট সাজ্জাদ’ নামে পরিচিত। তাকে ধরিয়ে দিতে পুলিশ পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল। গত ১০ মে নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ ‘ছোট সাজ্জাদের’ স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তারের পর তার স্ত্রী তামান্না ‘কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে আদালত ও জামিন’ কিনে নেওয়ার কথা বলে দেশের আইন ও নিরাপত্তা সংস্থাকে অপমান করেন। তার এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়েছিল। মূলত এর পরই ঢাকা থেকে সাজ্জাদকে গ্রেফতার করা হয়। আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই শীর্ষ সন্ত্রাসী একে একে হত্যা মামলায় জামিন লাভের কারণে পুলিশের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপানো এই শীর্ষ সন্ত্রাসী যাতে কারাগার থেকে বের হতে না পারেন সে ব্যাপারেও সতর্ক রয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।
এ বিষয়ে চান্দগাঁও থানার ওসি জাহেদুল কবির জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদকে দুই মামলায় গ্রেফতার দেখাতে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম আদালতের এপিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেছেন, আবেদন দুটি আদালতে অপেক্ষায় রয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ক্ষেত্রে আসামির উপস্থিতিতে শুনানি গ্রহণের বিধান রয়েছে। আসামিরা বর্তমানে বিভিন্ন কারাগারে আটক থাকায়, অনলাইন মাধ্যমে শুনানি গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এমকে
আইন-আদালত
চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বৈধ: হাইকোর্ট
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে কোনো বাধা থাকল না।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
গত ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলে দ্বিধা বিভক্ত রায় দেন হাইকোর্ট। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করেন। বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট খারিজ করে চুক্তি প্রক্রিয়া বৈধ ঘোষণা করেন।
পরে নিয়মানুযায়ী প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান।
গত ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়। একইসঙ্গে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে যেকোনো অপারেটরকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব (নিযুক্ত) দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি অনুসারে ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক পাবলিক বিডিং (দরপত্র আহ্বান) নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন রিটটি করেন। রিটে নৌসচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়।
নিউমুরিং টার্মিনালে সবই আছে, তবু কেন বিদেশির হাতে যাচ্ছে’ শিরোনামে গত বছরের ২৬ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এ প্রতিবেদনসহ এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এনসিটি পরিচালনায় ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করার নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়।
এমকে
আইন-আদালত
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় যেকোনো দিন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করতে পারেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। শহীদ আবু সাঈদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
এ মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক উপাচার্যসহ ২৪ আসামি পলাতক।
অন্য ৬ আসামি রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ কারাগারে।
সেসময় আবু সাইদকে হত্যার ভিডিও দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন।
পরে পুলিশ তার বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড পুরো আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং আবু সাঈদ আন্দোলনের এক আইকনিক চরিত্রে পরিণত হন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ২০২৫ সালের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
এমকে
আইন-আদালত
হাইকোর্টের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী
চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির।
এর আগে, প্রার্থিতা ফিরে পেতে চট্টগ্রাম-২ আসনে (ফটিকছড়ি) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
এদিকে, গত ২২ জানুয়ারি ঋণ পুনঃতফসিল করায় চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন চেম্বার আদালত।
গত ১৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার জজ আদালত।
প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে প্রিমিয়ার লিজিংয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মলয় কুমার রায়।
তার আগে, হাইকোর্ট চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে আদেশ দেন।
একইদিন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) বিএনপির সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
এমএন
আইন-আদালত
৩৫ লাখ টাকার সম্পত্তি কার নাই, প্রশ্ন আবেদ পুত্রের
রিমান্ড আদেশ হওয়ার পর প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম বলেছেন, ‘পঁয়ত্রিশ লাখ টাকার সম্পত্তি কার নাই?’
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে প্রিজনভ্যানে তোলার পর তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে এ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন।
গত মঙ্গলবার সিয়ামকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় দুদক। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বৃহস্পতিবার সিয়ামের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য সোমবার দিন ঠিক করে। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা সোয়া ১২ টার দিকে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শুরু হয়।
সিয়ামের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
তিনি বলেন, “সিয়ামের বিরুদ্ধে দুদকের ২৭(১) ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আবার একই ধারায় মামলা। কতবার আসামি করবেন একই অপরাধে।
“এক মাস আগে দুদক অভিযোগপত্র দিয়ে বলেছে, তার ৩৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন করেছে। মামলাটাও তো একই। রিমান্ডের যৌক্তিকতা নেই। রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।”
দুদকের পক্ষে কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। বিভিন্ন খাত থেকে তার নামে প্রচুর টাকা এসেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।”
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। ৩টা ৪৩ মিনিটের দিকে তাকে কারাগারে নিতে প্রিজনভ্যানে তোলা হয়।
তখন সাংবাদিকদের উদ্দেশে সিয়াম বলেন, “৩৫ লাখ টাকা সম্পত্তি বাপ আমারে দিছে। একটা গাড়ি, একটা জায়গা দিছে। ৮ লাখ টাকার জায়গা আর ২৫ লাখ টাকার গাড়ি। আমি কি কামাইছি? বাপে আমারে দিছে।
“এটার জন্য আমি কীভাবে দুদকের মামলার অন্তর্ভুক্ত হলাম। আমার বাবার রিমান্ড চলতেছে। দেখা করতে গেছিলাম, ধরে নিয়ে আসছে। দুদক থেকে চার্জশিট দিক। কয় টাকার দুর্নীতি করছে বিচার করুক, আমার সমস্যা নাই তো।”
তিনি বলেন, “আমার বাবা যদি কোনো অন্যায় করে, সেটার বিচার হবে- আমার সমস্যা নাই তো। সে আমাকে জায়গা দিছে, এটার জন্য কি আমি জেল খাটব? আর ৩৫ লাখ টাকার সম্পত্তি কার নাই?”
পরে তাকে নিয়ে প্রিজনভ্যানটি কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয়।
সিয়ামের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এমএন
আইন-আদালত
স্ত্রী-সন্তান হারানো সেই ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের হাইকোর্টে জামিন
সদ্য স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী সন্তান হারানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মানবিক বিবেচনায় এই জামিন আদেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। তিনি বলেন, আদালত মানবিক বিবেচনায় সাদ্দামকে জামিন দিয়েছেন।
বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাগারে বন্দি। গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে তাকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী শিশুপুত্রকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্যারোল না পাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
কারা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারাগারের সামনে পৌঁছায়। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সসহ পরিবারের ছয়জন নিকটাত্মীয়কে জেলগেটের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিট অবস্থানের পর তাদের বের করে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি মাইক্রোবাসে করে ১২ থেকে ১৫ জন স্বজন কারাগারের সামনে এসেছিলেন। বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের কান্নায় তখন এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় অনেক সংবাদকর্মীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। এরপর থেকে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন। এর আগে শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই পাওয়া যায় তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের মরদেহ।
পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, বিষণ্নতা থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেছেন। প্যারোলে সাদ্দামকে মুক্তি না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এমকে



