খেলাধুলা
৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেকেআরে মুস্তাফিজ
একে একে দামি ক্রিকেটার কিনে আইপিএল নিলামে তোলপাড় ফেলে দিচ্ছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ক্যামেরান গ্রিনকে ২৫ কোটি ২০ লাখ এবং মাথিশা পাথিরানাকে ১৮ কোটি রুপিতে কেনার পর এবার বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি (প্রায় ১২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা) দিয়ে কিনে নিলো শাহরুখ খানের দল।
মোস্তাফিজুর রহমানের ভিত্তিমূল্য ছিল ২ কোটি রুপি। নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে লড়াই করে বাংলাদেশের কাটার মাস্টারকে জিতে নিলো কলকাতা নাইট রাইডার্স।
২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দিয়ে আইপিএল ক্যারিয়ার শুরু করেন মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম আসরেই হায়দরাবাদকে চ্যাম্পিয়ন করেন। এরপরের মৌসুমেও ছিলেন হায়দরাবাদে। এরপর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, চেন্নাই সুপার কিংস এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে বিভিন্ন মৌসুমে খেলেছেন আইপিএলে।
গত মৌসুমেও শেষ মুহূর্তে দিল্লি ক্যাপিটালস মোস্তাফিজকে দলভূক্ত করেছিলো তার ভিত্তিমূল্যে। এবার নিলামে নাম ওঠার পর শুরুতেই মোস্তাফিজের ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় দিল্লির ফ্রাঞ্চাইজিটি। চেন্নাই সুপার কিংসের একজন ডেথ ওভারের পেসার প্রয়োজন। মাথিসা পাথিরানাকে পায়নি। এ কারণে মোস্তাফিজের ব্যাপারে আগ্রহী ছিল তারাও।
দিল্লি এবং চেন্নাইয়ের লড়াইয়ে ধীরে ধীরে দাম বাড়তে থাকে মোস্তাফিজের। দু’দলের পাল্টাপাল্টি প্যাডল আপে ৫ কোটি রুপি পর্যন্ত উঠে যায় মোস্তাফিজের দাম। এ সময় রণে ক্ষান্ত দিয়ে সরে দাঁড়ায় দিল্লি। চেন্নাই ৫ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে প্রায় জিতেই যাচ্ছিল মোস্তাফিজকে।
কিন্তু খেলা তখনও বাকি। হঠাৎই লড়াইয়ের ময়দানে হাজির হলো কলকাতা নাইট রাইডার্স। চেন্নাইও হারতে রাজি নয়। তারা এক লাফে উঠে যায় ৭ কোটি রুপিতে। কেকেআরও কম যায় না। দাম বাড়াতে থাকে। শেষ পর্যন্ত স্টিফেন ফ্লেমিং চেন্নাই কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে প্যাডল তুলে দেন ৯ কোটি রুপিতে। তারা ভেবেছিল, কেকেআর এবার ক্ষান্ত দেবে।
কিন্তু কলকাতার দলটি নাছোড়বান্দা। তারা প্যাডল আপ করে জানিয়ে দিলো, মোস্তাফিজের জন্য আরও বেশি দিতে চায়, ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি। চেন্নাই বুঝে গেছে, আর বাড়াতে পারছে না তারা।
সুতরাং, সিদ্ধান্ত নিলো লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর। শেষ পর্যন্ত ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতেই মোস্তাফিজকে কিনে নিলো কেকেআর।
খেলাধুলা
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেলেন না নেইমার
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচের জন্য শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এই স্কোয়াডে জায়গা হয়নি দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের।
অন্যদিকে, ফর্মের তুঙ্গে থাকা তরুণ ফরোয়ার্ড এনড্রিককে প্রথমবারের মতো নিজের অধীনে ডেকেছেন ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড।
যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে এটিই আনচেলত্তির শেষ পরীক্ষা।
নেইমারের বাদ পড়া প্রসঙ্গে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘নেইমার বর্তমানে ১০০ ভাগ ফিট নয়, তাই সে এই তালিকায় নেই। যদি সে শারীরিকভাবে পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পায়, তবেই সে বিশ্বকাপে থাকতে পারবে। নেইমারকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, নিয়মিত খেলতে হবে এবং নিজের সামর্থ্য ও শারীরিক কন্ডিশন বজায় রাখতে হবে।’
এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ার পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে আছেন এই সান্তোস তারকা। রোববার করিন্থিয়ানসের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলে নেইমার বিশ্বকাপে ফেরার আকুতি জানালেও, আনচেলত্তির সহকারী মিনো ফুলকো এবং ফ্রান্সেস্কো মাউরি গ্যালারিতে বসে নেইমারের মধ্যে সেই কাঙ্ক্ষিত ফিটনেস খুঁজে পাননি।
ব্রাজিলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড
গোলরক্ষক : অ্যালিসন (লিভারপুল), বেন্টো (আল নাসর), এদেরসন (ফেনারবাচে)।
ডিফেন্ডার : অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), ব্রেমার (জুভেন্টাস), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), দগলাস সান্তোস (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল মাগালেস (আর্সেনাল), ইবানেজ (আল-আহলি), লিও পেরেইরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), মার্কিনহোস (পিএসজি), ওয়েসলি (রোমা)।
মিডফিল্ডার : আন্দ্রে সান্তোস (চেলসি), ক্যাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানিলো (বোটাফোগো), ফাবিনহো (আল-ইতিহাদ), গ্যাব্রিয়েল সারা (গালাতাসারে)।
ফরোয়ার্ড : এনড্রিক (লিওঁ), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), লুইজ হেনরিখ (জেনিত), মাথেউস কুনহা (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), রাফিনহা (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ), ভিনিসিউস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), জোয়াও পেদ্রো (চেলসি)।
আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও হাইতি।
খেলাধুলা
ইরান যদি বিশ্বকাপে খেলতে যায়, জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল অংশগ্রহণ করে, তাহলে খেলোয়াড়দের জীবন ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে অংশ নিলে স্বাগত জানাবেন। তবে তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় সেখানে থাকা উপযুক্ত হবে বলে আমি মনে করি না।’
মাত্র দুই দিন আগেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ন্নি ইনফান্তিনোকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে অংশ নিলে তিনি তাদের স্বাগত জানাবেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। সেই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েও। এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো এবং টুর্নামেন্ট শুরু হবে আগামী ১১ জুন।
এদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবারের সেই বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে ইরান দল অবশ্যই অংশ নিতে স্বাগত।’
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ইনফান্তিনো ফিফার একটি শান্তি পুরস্কার চালু করেন এবং সেই পুরস্কার পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ায় সফররত ইরানের নারী ফুটবল দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিষয়েও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এশিয়ান কাপের একটি ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় দেশে ফিরে প্রতিশোধের আশঙ্কা করছিলেন তারা।
পরে অস্ট্রেলিয়া সিদ্ধান্ত নেয়, সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া পাঁচজন খেলোয়াড়কে আশ্রয় দেওয়া হবে।
খেলাধুলা
পাঁচ বছর পর ফিরছে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার, জানালেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল
দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিরতি কাটিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’ আবারও চালু করতে যাচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আগামী জুন অথবা জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনোনীত ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে যারা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এই পুরস্কারের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন, তাদের সবাইকে একসাথে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মানিত করা হবে। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রবর্তিত এই রাষ্ট্রীয় খেতাবটি সবশেষ ২০২০ সালে প্রদান করা হয়েছিল এবং এরপর থেকে এটি অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের এই নতুন উদ্যোগে কেবল পুরস্কার প্রদানই নয়, বরং এর বাছাই প্রক্রিয়ার নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অতীতে এই পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে প্রায়ই রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠত, যা বর্তমান সরকার আর হতে দিতে চায় না।
স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে একটি সর্বজনস্বীকৃত জাতীয় কমিটি গঠন করা হবে, যারা প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করবেন। প্রতি বছরের পুরস্কার প্রতি বছর দিয়ে ক্রীড়াবিদদের যথাসময়ে যথাযথ সম্মান জানানোর সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন প্রতিভা অন্বেষণে সরকার ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ইভেন্টে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ মোট সাতটি খেলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যেখানে মূলত ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করা হবে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে গত ছয় মাসে ব্যক্তিগত ও দলীয় পর্যায়ে যারা দেশের জন্য পদক জিতেছেন, তাদেরও আগামী ২৯ মার্চ বড় ধরনের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
ক্রীড়াবিদদের জীবনমান উন্নয়নেও সরকার কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উল্লেখ করেছেন। ইতিমধ্যে ৫০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়কে একটি স্থায়ী বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি পেশাদার পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ইভেন্টে পদকজয়ীদের উৎসাহিত করা এবং তৃণমূলের প্রতিভাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার এই সমন্বিত পরিকল্পনা দেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন প্রাণ দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।
খেলাধুলা
ইরান না খেললে বিশ্বকাপে যাবে কোন দেশ, আলোচনায় এশিয়ার দুই দেশ
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেবে কি না তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। এর মাঝেই ফুটবলের বৈশ্বিক এই আসরে ইরানকে সাদরে আমন্ত্রণের জানানোর কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প। কিন্তু তার সেই আমন্ত্রণে আপাতত সাড়া দিচ্ছে না ইরান। চলমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পরিস্থিতিতে নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল।
ফলে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল না হলে ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে না ইরান। যে কারণে আমেরিকা, মেক্সিকো, কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টটিতে একটি দেশ কমে যাচ্ছে। সেই জায়গায় কাদের নেওয়া হবে তা নিয়েও ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে আলোচনায়।
সাধারণত যে মহাদেশের দল নাম তুলে নেয়, সেই মহাদেশ থেকেই বিকল্প দল বেছে নেওয়া হয়। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে ফিফার নিয়মে। সেই অনুযায়ী:
যে দেশ নাম প্রত্যাহার করেছে সেই গ্রুপের রানার-আপ দল বা সংশ্লিষ্ট মহাদেশ থেকে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন না করা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের দল প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পাবে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, বিশ্বকাপে খেলতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এশিয়ায় তারাই সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা দল যারা বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না।
এ ছাড়া সরাসরি বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হতে পারে ইরাককে। এই মাসে ইরাক আন্তঃমহাদেশীয় যোগ্যতা অর্জন পর্বে খেলবে বলিভিয়া বা সুরিনামের বিরুদ্ধে। ইরাককে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিতে পারে ফিফা। সে ক্ষেত্রে আন্তঃমহাদেশীয় যোগ্যতা অর্জন পর্বে আমিরাতকে খেলতে হবে।
ইরাক যদি প্লে-অফ পর্ব জিতে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে যায়, তাহলে এশিয়ায় সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দল আমিরাতকে নেওয়া হতে পারে ইরানের জায়গায়। সে ক্ষেত্রে আমিরাতকে আলাদা করে প্লে-অফেও খেলতে হবে না।
এশিয়া থেকে কোনও দল না নিয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে কোনও দেশকে নিতে পারে ফিফা। সে ক্ষেত্রে, সরাসরি বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন না করা দেশগুলোর মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে ওপরে রয়েছে ইতালি। এমনিতে তাদের প্লে-অফে খেলতে হবে। কিন্তু ইতালিকে সরাসরি বিশ্বকাপে নেওয়া হলে প্লে-অফে অন্য দেশকে আনতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং বিতর্কিত। তাই বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ফিফা এই নিয়ম কাজে লাগাবে না।
এমএন
খেলাধুলা
পাকিস্তানকে সর্বনিম্ন রানে অলআউট করল বাংলাদেশ
মিরপুরের স্লো উইকেটে বরাবরই বাড়তি সুবিধা পান স্পিনাররা। স্পিন স্বর্গেই এবার রীতিমতো আগুন ঝরালেন নাহিদ রানা। তরুণ এই পেসারের গতি আর বাউন্সে চোখে সর্ষে ফুল দেখেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান-সালমান আগারা! ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়ানডেতে ফাইফার পেয়েছেন। তাতে কোনোরকমে একশ ছুঁয়ে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভার সবকটি উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান করেছে পাকিস্তান। যা বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেছেন ফাহিম আশরাফ। বাংলাদেশের হয়ে রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ।
নতুন বলে মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। তবে উইকেট এনে দিতে পারেননি এই দুই অভিজ্ঞ পেসারের কেউই। ফলে ইনিংসের সপ্তম ওভারেই স্পিন আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ নিজে বোলিংয়ে আসেন। কিন্তু তাতেও উইকেটের দেখা মেলেনি।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তাসকিনকে সরিয়ে নাহিদের হাতে বল দেন মিরাজ। আক্রমণে এসেই দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন এই তরুণ পেসার। ওভারের শেষ বলে তাকে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ধরা পড়েন সাহিবজাদা ফারহান। ২৭ রান করে এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি।
নিজের পরের চার ওভারের সবকটিতেই উইকেট পেয়েছেন নাহিদ। যথাক্রমে শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগাকে সাজঘরে ফেরান এই ডানহাতি পেসার। পাকিস্তানের টপ অর্ডার ভেঙে ফাইফার পূরণ করেন তিনি। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার।
১৯তম ওভারে নাহিদের সঙ্গে উইকেট পার্টিতে যোগ দেন মিরাজও। ওভারের শেষ বলে আব্দুল সামাদকে লিটনের গ্লাভস বন্দি করে ফেরান তিনি। এরপর হোসাইন তালাতকেও ফিরিয়েছেন মিরাজ। ২৩তম ওভারের প্রথম বলে এই ব্যাটারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। একই ওভারের শেষ বলে শাহিন আফ্রিদিকেও ফেরান মিরাজ।
দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে উইকেট পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ২৪তম ওভারের পঞ্চম বলে প্রথম স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়েন মোহাম্মদ ওয়াসিম।
৮২ রানে নবম উইকেট হারানোর পর একশর আগেই অলআউটের শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। তবে ফাহিম আশরাফ একাই কিছুটা লড়াই করেন। আবরার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে শেষ উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়েন। ফাহিমের ৩৭ রানের ইনিংসে ভর করে কোনোরকমে একশ পেরিয়ে অলআউট হয় পাকিস্তান।
এমএন




