জাতীয়
সিঙ্গাপুর পৌঁছেছে হাদিকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুরে অবতরণ করেছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরে ল্যান্ড করে।
এর আগে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি।
এর আগে দুপুর ১টা ১০ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় হাদিকে বহন করা অ্যাম্বুলেন্সটি। অ্যাম্বুলেন্সটি বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে দেড়টার দিকে তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়।
এর আগে বেলা ১১টা ২২ মিনিটের দিকে সিঙ্গাপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় এসে পৌঁছায়। ওসমান হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন তার ভাই ওমর বিন হাদি ও ওসমান হাদির বন্ধু আমিনুল হাসান ফয়সাল। তিনি হাদির রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন।
জানা গেছে, চার ঘণ্টা উড্ডয়নের পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেখান থেকে ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হবে। ঢাকার এয়ারকেয়ার হাসপাতাল ও সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তার দীর্ঘ এই সফরে সম্মত হয়েছেন।
গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন ওসমান হাদি।
গতকাল রোববার (১৪ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর, ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির মধ্যে এক জরুরি কল কনফারেন্সে হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
গত দুদিন ধরে ওসমান হাদির চিকিৎসার জন্য সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করে। গতকাল এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের পরামর্শে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, বর্তমানে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত।
ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছেন তিনি।
জাতীয়
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে পাবলিক পরিবহনে পর্যাপ্ত তেল নিশ্চিত: সেতুমন্ত্রী
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, পাবলিক পরিবহনে এই ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে আগে যে রেশনিং পদ্ধতিটা ছিল সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত তেল দেওয়া হচ্ছে। আমার ধারণা হচ্ছে, সরকার পর্যায়ক্রমে এই তেল সরবরাহটা নিশ্চিত করতে তৎপর আছে। এটা শুধু জাতীয় সমস্যা নয়, আন্তর্জাতিক সংকট। এ সংকটটা শুধু আমাদের না সব জায়গায় আছে। জ্বালানি তেলে আমাদের থেকেও বিপজ্জনক জায়গায় আছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালীর গলাচিপায় লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া সড়কের ৭০ কিলোমিটার এলাকায় রাবনাবাদ নদীর ওপর ‘রাবনাবাদ সেতু’র নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের কর্মতৎপরতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেখবেন মাত্র ২৫ দিনের একটি সরকার সবাই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করছে। যার যে দায়িত্ব আছে সেটা পালন করার জন্য চেষ্টা করছে, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে, জনগণের প্রত্যাশা ও দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে। এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
রাবনাবাদ সেতু নির্মাণ হলে জনভোগান্তি লাঘব হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার অর্থনীতিতে গতি আসবে, কর্মজীবী মানুষ তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে পরিবহন করতে পারবে এবং উপজেলা থেকে জেলা ও রাজধানীর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে— যা একটি উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, সরকার মনে করেছে রাবনাবাদ সেতুটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি আমূল পরিবর্তন ঘটাবে। আমরা মনে করছি এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সেটি পূরণ হতে চলেছে এবং এটিই হচ্ছে একটি জনবান্ধব সরকারের কাজ এবং দায়িত্ব।
আসনটির সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানকার যিনি সংসদ সদস্য তিনিও এই অঞ্চলের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। নির্বাচিত সরকারেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে, জবাবদিহিতা রয়েছে জনকল্যাণ জনআকাঙ্ক্ষা প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব রয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
এ সময় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
জাতীয়
ঈদ যাত্রায় বেশি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : আইজিপি
ঈদ যাত্রায় বেশি ভাড়া নিলে সরাসরি পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, ‘ঈদ যাত্রায় বেশি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ঈদকে ঘিরে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।’
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে গাবতলী বাসটার্মিনাল পরিদর্শনে এসে এ কথা বলেন তিনি।
আলী হোসেন জানান, ঈদে মহাসড়কে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং এবং অযাচিত কারণে যানজট রুখতে ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন অতিরিক্ত যানজট তৈরি না হয়। লোকাল পর্যায়েও যানজট নিরসনে কাজ করছেন পুলিশ।
যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং যাত্রী নামানোর কারণে যানজট বাড়ে বলেও এসময় মন্তব্য করেন তিনি।
সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন থাকলে ঈদযাত্রা আরো ভালো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এমএন
জাতীয়
ছুটির দিনেও সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী
পবিত্র শবে কদরের সরকারি ছুটির দিনেও সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে তিনি সচিবালয়ে যান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ২টায় সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন তিনি।
মন্ত্রিসভার এ বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ সময় আবর্জনা পরিষ্কারে দেশীয় পদ্ধতিতে আধুনিক ভ্যাকুয়াম তৈরির বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আরও একটি বৈঠক করবেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।
উল্লেখ্য, আজ পবিত্র শবে কদরের সরকারি ছুটি। এ ছাড়া আগামীকাল বুধবার (১৮ মার্চ) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এর ফলে মঙ্গলবার থেকেই মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা সাতদিনের ছুটি শুরু হয়েছে। তবে ছুটির এই আমেজের মধ্যেও দাফতরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
এমএন
জাতীয়
ঈদযাত্রায় প্রথমদিনে কমলাপুরে উপচেপড়া ভিড়, সময়মতো ছাড়ছে ট্রেন
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুরু হওয়া টানা ছুটির প্রথমদিনেই রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। তবে ভিড়ের মধ্যেও অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ দেখা গেছে। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন আসামাত্রই যাত্রীরা আসন দখলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সকালের ট্রেনগুলোতে গাদাগাদি করেই যাত্রা করেছে মানুষ। যেন তীল ধারণের ঠাঁই নেই। ছাদেও চেপে বসেছেন অসংখ্য যাত্রী।
তবে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলো ছিল তুলনামূলম ফাঁকা। তবে প্রতিটি ট্রেনেই স্বস্তির কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা। উত্তরবঙ্গের ট্রেন নীলসাগর এক্সপ্রেস ছাড়া মঙ্গলবার প্রতিটি ট্রেনই কমলাপুর স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে গেছে৷ শিডিউল বিপর্যয় না থাকায় রেলপথের যাত্রীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
রংপুরের এক যাত্রী বলেন, ‘কমলাপুর স্টেশনে এসেই দেখি হাজার হাজার যাত্রী।
সবাই স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করার জন্য বাড়ি যাচ্ছে। মানুষ বেশি হলেও আনন্দ লাগছে। আশা করি ট্রেনে উঠতে পারব।’
এক সরকারি চাকরিজীবী বলেন, ‘বউ-বাচ্চাকে আগেই পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন আমি যাচ্ছি বাড়ি। তবে এতে মানুষ দেখে শঙ্কায় আছি ঠিকভাবে ট্রেনে উঠতে পারব কি না। তবে ট্রেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ছেড়ে যাচ্ছে দেখলাম।’
কমলাপুর স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এবার শতভাগ অনলাইনে টিকিট দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি ১০০টি আসনের বিপরীতে ২৫ জন যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে পারবেন। বিভিন্ন রুটের ট্রেন মাঝপথে কয়েকটি স্টেশনে থামে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের কারণে কখনো কখনো দেরি হতে পারে। তবে আমরা চেষ্টা করছি ট্রেনগুলো সঠিক সময়ে ছাড়তে এবং যাত্রীদের সর্বোত্তম সেবা দিতে।’
এমএন
জাতীয়
২৮ দিনে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ কর্মসূচির কথা জানালেন তাঁর উপদেষ্টা
দায়িত্ব নেওয়ার ২৮ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৮টি কর্মসূচির তথ্য তুলে ধরেছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ফেসবুকে ‘প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ : এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কর্মসূচিগুলো তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ : এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ
আজ ১৭ মার্চ। ঠিক এক মাস আগে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। মাত্র ২৮ দিনে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি মুহূর্তে তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রতিফলন।
এখানে ২৮ দিনে নেওয়া প্রধান পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হলো, যা সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের প্রতিটি অঙ্গনকে আলোকিত করেছে।সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা:
১. ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি : ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে, প্রতিটি কার্ডে মাসিক ২,৫০০ টাকা সহায়তা। মাত্র ২১ দিনে বাস্তবায়ন, সরকারের মানবিক অগ্রাধিকারের উদাহরণ।
২. ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী : ৪,৯০৮ মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০ মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪ বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬ গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন।
৩. ঈদে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ : নির্বাচনী এলাকার অসহায় ও গরিবদের জন্য শাড়ি, থ্রিপিস ও হাজি রুমাল বরাদ্দ। সকল পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ঈদ উপহার।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা : দরিদ্রদের কাছে সম্পদ পৌঁছানো ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য আলেম মাশায়েখদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি:
৫. কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ : প্রায় ২৭,০০০ কৃষককে বহুলপ্রত্যাশিত কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে শীঘ্রই কার্যক্রম শুরু, প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, নতুন উদ্যমে চাষাবাদে সহায়তা। ৬. দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি : ২০,০০০ কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন, ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় শুরু। সেচ উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।
প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন
৭. সাপ্তাহিক অফিস ও অফিস সময় : প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন; কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
৮. ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস : প্রধানমন্ত্রীর অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন, জনগণও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত।
৯. বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত : উপস্থিত থাকবেন একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
১০. এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল : শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যার ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে, জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপিত হবে।
অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতা
১১. বাজার মনিটরিং ও জ্বালানি স্থিতিশীলতা : রমজান ও ঈদে মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিতিশীলতার মাঝেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে স্পট এলএনজি ক্রয়।
১২. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ : ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া।
১৩. শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নিশ্চিতকরণ : সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস সময়মতো পরিশোধ। পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।
১৪. রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু : পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।
১৫. স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি : স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইকোসিস্টেম তৈরী শুরু।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
১৬. পুনর্ভর্তি ফি বাতিল ও লটারি বাতিল : প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল; লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ।
১৭. বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা : রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি।
১৮. ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ : ৯,০০০ শিক্ষক নিয়োগ, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জোরদার। ১৯. ক্রীড়া উন্নয়ন ও নতুন কুঁড়ি কর্মসূচি : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত; নতুন কুঁড়ি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত উদ্যোগ; উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু।
স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ
২০. ই-হেলথ কার্ড ও চিকিৎসাকেন্দ্র : স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে ই-হেলথ কার্ড চালু; ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ শুরু যার ৮০ ভাগ হবেন নারী।
২১. ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান : সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান; স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সমন্বয়ে কার্যক্রম।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা
২২. চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
২৩. নারীর নিরাপত্তা ও পিংক বাস : সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত পিংক বাস চালুর নির্দেশ; সাইবার বুলিং প্রতিরোধ।
রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ
২৪. রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় : সরকারি অফিসে অর্ধেক ফ্যান ও এসি; অপচয় রোধে ইফতার সীমিত।
২৫. অবৈধ দোকান উচ্ছেদ : কক্সবাজার সুগন্ধা সি বিচে ২০ বছর পরে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ এবং দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ।
২৬. শহীদ সেনা দিবস : ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা ও পালনের পাশাপাশি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারে গুরুত্বারোপ।
২৭. ঢাকা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল : উচ্চপর্যায়ের সভার মাধ্যমে এবং বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল ঠিক করে দ্রুত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ।
২৮. বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট : ঢাকা, চট্রগ্রাম ও সিলেটে শাহজালাল, শাহ আমানত ও এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থার নির্দেশ ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উদ্বোধন।
সবশেষ মাহদী আমিন লেখেন, সরকার গঠনের প্রথম ২৮ দিনে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তারেক রহমানের দৃঢ় নেতৃত্ব, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তার নেতৃত্ব এভাবেই সাধারণ মানুষের আশা ও অনুভূতিকে ধারণ করছে, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করছে। অভূতপূর্ব এ পথযাত্রা নতুন প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে, ইনশাআল্লাহ।
তাই তো তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
এমএন




