জাতীয়
জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাতের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সব দল ঐক্যবদ্ধ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অবহিত করে রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেছেন, এই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার সকল প্রচেষ্টা রুখে দিতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে।
শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্ব-পরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ; এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটি না হতে দেওয়া। এই আক্রমণটি খুবই সিম্বলিক। তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়, নির্বাচনের সব আয়োজন ভেস্তে দিতে চায়। এগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তারা প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে।”
বৈঠকে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে ওসমান হাদীর ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সভার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। আগামী দু-একদিনের মধ্যে সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্যে যাতে ফাটল না ধরে সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিএনপি, জামায়াত ইসলামী ও এনসিপি নেতৃবৃন্দ। এ ব্যাপারে দলগুলো সুদৃঢ় অবস্থান নেবে বলে জানান তারা।
এছাড়া, নির্বাচনের আগে কঠোরভাবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পরস্পরের দোষারোপ থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, “ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে হবে। কোনো ধরনের অপশক্তিকে আমরা বরদাস্ত করব না।”
তিনি আরো বলেন, আমাদের মধ্যে যতই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা থাকুক না কেন, জাতির স্বার্থে এবং জুলাইয়ের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।
জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের নানা বক্তব্য একে অন্যকে দোষারোপ করার প্রবণতা বাড়িয়েছে, যার ফলে আমাদের বিরোধীরা সুযোগ পেয়েছে। আমাদের পূর্বের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে আমরা একে অন্যকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছি। জাতিকে বিভক্ত করে এমন কথা আমরা কেন বলব? সব দলকে তাদের কমিটমেন্ট ঠিক করতে হবে।
এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই কিছু লোক এই অভ্যুত্থানকে খাটো করার জন্য নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, “সুসংগঠিতভাবে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন চলছে। মিডিয়া ও প্রশাসনের নানা স্তরে এই কাজ হচ্ছে। নির্বাচনের পর যারা ক্ষমতায় আসবে, তারাও এর ভুক্তভোগী হবে। কেউই একা সরকার চালাতে পারবে না।”
তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে যাতে মনে হয় যারা অভ্যুত্থান করেছে তারা অপরাধ করেছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নরমালাইজ করতে নানা চেষ্টা চলছে। টিভি টকশোতে তারা নিয়মিত অংশ নিচ্ছে, প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক করছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মিলিত হচ্ছে এবং আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দিচ্ছে।
‘আমাদের বিশেষ কোনো নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। আমরা এটা নেব না। জুলাইকে সবাই মিলে ওউন করতে হবে। জুলাইকে কে কী বলবে—এই টানাপোড়েনে আমরা জুলাইকে শেষ করে দিচ্ছি। ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের অনৈক্যকে আমাদের পরাজয় হিসেবে দেখছে। তারা ভারতে বসে যা ইচ্ছা তা-ই করছে, আর আমরা কিছুই করতে পারছি না,’ বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী বেশে, সাংস্কৃতিক কর্মী বেশে আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকারীদের থামাতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারলে কোনো নিরাপত্তাই আমাদের কাজে আসবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে দলগুলো আওয়ামী লীগকে নানা রকম সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের চিন্তা করতে হবে—ভবিষ্যতের জন্য আমরা কী করতে পারি।
তিনি বলেন, শুধু সরকার নয়, সবাইকে শক্ত থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে যেন দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবে, কিন্তু কাউকে শত্রু ভাবা বা আক্রমণ করার সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে।
‘নির্বাচনের সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তবে মাথায় রাখতে হবে—এটি যেন একটি নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে থাকে,’ বলেন তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি শুরু হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের শুধু দলীয় স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থের বিষয়েও সজাগ থাকতে হবে।”
এমকে
জাতীয়
১২ পুলিশ সুপারসহ ৩৯ কর্মকর্তাকে রদবদল
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। ১২টি জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগসহ মোট ৩৯ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ রদবদলের আদেশ জারি করা হয়। আদেশটি জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী-পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামকে নৌ পুলিশে, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এপিবিএন-২ এর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে পঞ্চগড়ে, বান্দরবানের পুলিশ সুপার আবদুর রহমানকে আরএমপির উপপুলিশ কমিশনার, এসবির (ঢাকা) পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকারকে বান্দরবানে, জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদাকে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগমকে জয়পুরহাটে, পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদকে এসবিতে, এসবির (ঢাকা) পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহকে পাবনার পুলিশ সুপার, নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলামকে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার, শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খাঁনকে নীলফামারীতে এবং নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদারকে ট্যুরিস্ট পুলিশে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীকে নড়াইলে, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েলকে এপিবিএনের পুলিশ সুপার, রাজশাহীর সারদার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমকে সাতক্ষীরায়, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল হাসানকে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার, ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারকে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনকে নৌ পুলিশ সুপার, আরএমপির উপপুলিশ কমিশনার রিয়াজুল ইসলামকে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনকে এপিবিএনের পুলিশ সুপার, ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মাসুদ আলমকে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, ফেনীর পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলামকে পুলিশ সদরদফতরের এআইজি এবং সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর পুলিশ সুপার করা হয়েছে।
এদিকে আরেক প্রজ্ঞাপনে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মুশফেকুর রহমানকে পুলিশ অধিদফতরের ডিআইজি, আরএমপির পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) জিল্লুর রহমানকে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, এসবির (ঢাকা) ডিআইজি মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরকে আরএমপির কমিশনার (ডিআইজি), বরিশালের পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামকে ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি, পুলিশ অধিদফতরের (ঢাকা) ডিআইজি আশিক সাঈদকে বরিশালের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি), ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) এস এন মো. নজরুল ইসলামকে সিআইডির ডিআইজি, সিআইডির (ঢাকা) ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদারকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি), ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (বর্তমানে ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সানা শামীনুর রহমানকে সিআইডির ডিআইজি, সিআইডির ডিআইজি মোহাম্মদ শামসুল হককে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি), উপসচিব পদ থেকে প্রত্যাগত ড. শাহেদুল আকবর খানকে এসবির (ঢাকা) বিশেষ পুলিশ সুপার, ১৩ এপিবিএনের পুলিশ সুপার ড. এলিজা শারমীনকে পুলিশ অধিদফতরের পুলিশ সুপার (টিআর পদে), ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমানকে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার, এপিবিএনের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমকে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার, ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমকে কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার, ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়াকে কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার এবং এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সাজেদুর রহমানকে ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার) পদে বদলি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রশাসনিক ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এই ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে।
জাতীয়
চট্টগ্রামের নতুন পুলিশ সুপার হলেন ডিসি মাসুদ
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের আলোচিত উপকমিশনার মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
জানা যায়, তিনি বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার স্থায়ী ঠিকানা বগুড়া জেলায়। রমনা বিভাগের উপকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন কারণে তিনি আলোচনায় আসেন এবং একই সঙ্গে দক্ষতার স্বীকৃতিও পান।
বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যমুনা, সচিবালয়, হাইকোর্ট ও টিএসসি এলাকায় বিভিন্ন দাবি-দাওয়া কেন্দ্রিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়।
রমনা বিভাগে যোগদানের আগে তিনি পাবনা জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ছয়-এর ঝিনাইদহ ক্যাম্পেও কর্মরত ছিলেন।
মাসুদ আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।
জাতীয়
পশ্চিমবঙ্গে যে সরকারই আসুক, পরিবর্তন হবে না বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি
পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালিত হবে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন, ভারতের নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বাংলাদেশের ফরেন পলিসি অ্যাক্রস দ্য বোর্ড একই থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের ‘বাংলাদেশ প্রথম’ বা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে আমাদের ফরেন পলিসি। সেটা যে সরকারই আসুক না কেন, আমাদের ফরেন পলিসি পরিবর্তন হবে না। আমরা আমাদের ফরেন পলিসি নিয়েই সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এগোবো।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দু’দফায় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সোমবার (৪ মে) সেই নির্বাচনের ফল ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন। তাতে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা।
এমএন
জাতীয়
এক বছরের মধ্যেই সব ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মন্ত্রী মির্জা ফখরুল
আগামী এক বছরের মধ্যেই সব ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের ষষ্ঠ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলছি—আমরা চাই এবং চেষ্টা করবো, এক বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে।’
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলে রাষ্ট্রও শক্তিশালী হবে। ডিসি সম্মেলনে আমরা তাদের সামনে এই বিষয়টি তুলে ধরেছি।’
উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।’
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার তাগিদ দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমরা ডিসিদের বলেছি জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। কারণ জনগণই এই দেশের মালিক। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষই সবকিছু নির্ধারণ করেন।’
ডিসি সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল জানান, সরকারের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের এমন মতবিনিময় অত্যন্ত ফলপ্রসূ। ভবিষ্যতে এ ধরনের মতবিনিময় ও যোগাযোগ আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
জাতীয়
ঈদ যাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি ১৩ মে থেকে শুরু
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেন যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রির তারিখ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৩ মে থেকে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
এদিন যাত্রীরা ২৩ মে’র ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে ২৪ মে’র টিকিট ১৪ মে, ২৫ মে’র টিকিট ১৫ মে, ২৬ মে’র টিকিট ১৬ মে এবং ২৭ মে যাত্রার টিকিট ১৭ মে বিক্রি করা হবে।
এবার ঈদযাত্রা রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাত্রী সাধারণের টিকিট ক্রয় সহজলভ্য করার জন্য পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলরত সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা এবং পূর্বাঞ্চলে চলাচলরত সকল আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে বিক্রি শুরু হবে।
এসব টিকিটের শতভাগই অনলাইনে বিক্রি হবে। একজন যাত্রী ঈদে অগ্রিম এবং ফেরত যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার করে টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন।
এছাড়া রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের অগ্রিম এবং ফেরত যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না।




