জাতীয়
পদত্যাগ করা দুই উপদেষ্টা কে কোন দল থেকে নিবার্চন করছেন
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের প্রতিনিধি উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সরকারি এবং রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পদত্যাগে রাজি ছিলেন না তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মাহফুজ আলম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ পরিচিতি পাওয়া এই ছাত্রনেতা নির্বাচন না করে সরকারে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্বাচনকালীন দায়িত্বে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নমুক্ত রাখতে পদত্যাগ করতে হবে।
একাধিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার মধ্যরাতেও মাহফুজ আলম পদত্যাগ না করে আগামী সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর পর্যন্ত উপদেষ্টা পদে থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। কিন্তু বিভিন্ন পক্ষের পরামর্শ এবং সরকার থেকে সরিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় বুধবার সকালে পদত্যাগে সম্মত হন।
কে কোন দল থেকে নিবার্চন করছেন
পদত্যাগপত্র দেওয়া আসিফ মাহমুদ মঙ্গলবারই নিজ অবস্থান স্পষ্ট করেন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। তবে কোন দল থেকে প্রার্থী হবেন, তা এখনও ঠিক করেননি। আর মাহফুজ আলম গতকাল বিকেলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাঁর হেয়ার রোডের বাসায় ডেকে নিয়ে বিদায় জানান।
গতরাতে এনসিপির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, নবগঠিত দলটিতেই যাবেন অভ্যুত্থানের শীর্ষস্থানীয় ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ। তিনি ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। এ জন্য দল গোছানোর কাজ শুরু করেছেন। ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ ও কলাবাগান থানা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী আসনের এলাকাগুলোর এনসিপির কমিটিতে নিজ অনুসারীদের জায়গা করে দিতে কাজ শুরু করেছেন।
তবে মাহফুজ আলম নিশ্চিত করেননি– তিনি নির্বাচন করবেন কিনা। তাঁর জন্য লক্ষ্মীপুর-১ আসন খালি রেখেছে এনসিপি। দলটির সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, মাহফুজও এনসিপিতে যোগ দেবেন।
গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের সূত্রের খবর, এনসিপিকে বিএনপির জোটে নিতে চেয়েছিলেন দুই উপদেষ্টা। এ শর্ত পূরণ হলে তারা এনসিপিতে যাবেন, অন্যথায় বিএনপিতে যোগ দেওয়ার যে সমীকরণ ছিল, তা আর নেই। আসন সমঝোতা না হওয়ায় বিএনপির জোটে এনসিপির যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তা মেনে নিয়েই উপদেষ্টাদের এনসিপিতে যেতে হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর-১ এবং ঢাকা-১০ আসনে ইতোমধ্যে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। দুই উপদেষ্টার মধ্যে মাহফুজ আলম জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির যে কোনো সমঝোতার বিরোধী।
দায়িত্বে আসছেন কারা
মাহফুজ আলমের পদত্যাগে তাঁর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান। একজন উপদেষ্টা এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, দুই-এক দিনের মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
আসিফ মাহমুদের পদত্যাগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। অবকাঠামো বিষয়ক দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে সড়ক পরিবহনসহ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা ছিল। তবে তিনি রাজি হননি বলে জানিয়েছেন একাধিক উপদেষ্টা। দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় বাড়তি কাজে রাজি ছিলেন না আদিলুর রহমানও। তবে তিনি প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে সম্মত হয়েছেন।
আসিফ মাহমুদের পদত্যাগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও খালি হচ্ছে। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন, তা গতকাল রাত পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ড. আসিফ নজরুলকে এ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
পদত্যাগ কার্যকর কিনা
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা মন্ত্রী পদমর্যাদার। প্রধান উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করছেন। সংবিধানের ৫৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী যদি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেন, তাহলে পদ শূন্য হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের জন্য একই বিধান প্রযোজ্য হলে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ আর পদে নেই। তবে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিদায়ী সংবর্ধনা দিতেই দুই উপদেষ্টাকে পরিষদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অতীতের চারটি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের কারও পদত্যাগ করে নির্বাচন করার নজির নেই। পদত্যাগ জমা দেওয়ার পর বৈঠকে যোগ দেওয়ারও নজির নেই।
গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এই দুই ছাত্রনেতার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের মঙ্গল কামনা করেন। ড. ইউনূস বলেন, ‘অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তোমরা যেভাবে জাতিকে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পথে অবদান রেখেছ, তা জাতি মনে রাখবে। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও বিকাশে তোমরা একইভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।’
গতকাল সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সংবাদ সম্মেলনে একই কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। পাশাপাশি তিনি বলেন, দুই উপদেষ্টা যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তা তপশিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে।
এর আগে বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, তিনি বলেন, সম্পদের হিসাব বিবরণী বুধবার সকালে দাখিল করেছি। কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করিয়েছি। নির্বাচন করব, এটা স্পষ্টভাবে বলা যায়। কিন্তু কোথা থেকে করব, কোন দল থেকে করব, সেটা পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর তিন দিন পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টা হন নাহিদ ইসলাম এবং আসিফ মাহমুদ। এনসিপির দায়িত্ব নিতে নাহিদ গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার থেকে পদত্যাগ করেন।
মাহফুজ আলম শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ছিলেন। গত বছরের ১০ নভেম্বর তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। নাহিদ পদত্যাগ করার পর তাঁকে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আসিফ মাহমুদ শুরুতে ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। এ এফ হাসান আরিফকে (প্রয়াত) সরিয়ে গত বছরের নভেম্বরে আসিফ মাহমুদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জাতীয়
বিএনপির আমলে শেয়ারবাজারে লুটের সুযোগ ছিল না, এবারও হবে না: অর্থমন্ত্রী
বিএনপি সরকারের সময়ে শেয়ারবাজারে কোনো ধরনের লুটপাটের সুযোগ ছিল না এবং বর্তমান সময়েও কেউ এমন সুযোগ পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইন সংশোধন বিল-২০২৬ নিয়ে আলোচনার সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, “নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এবারও কেউ লুটপাটের সুযোগ পাবে না।”
এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা লুট হয়েছে এবং দায়ীদের এখনো বিচারের আওতায় আনা হয়নি।
শেয়ারবাজার লুটপাটে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে দেয়া বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে যে কটি স্তম্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তার অন্যতম একটি হচ্ছে পুঁজিবাজার।
তিনি বলেন, আজকের বিশ্বে যেসব দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক, তাদের শক্তির অন্যতম উৎস শেয়ারবাজার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ১৯৯৬ সালে একবার এবং ২০১০ সালে আরেকবার ভয়াবহ রকম পতনের শিকার হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকাশিত শ্বেতপত্রের উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার থেকে লুট হয়েছে ১ লাখ কোটি টাকার উপরে। এই ১ লাখ কোটি টাকা, সাধারণ মানুষের টাকা। যে মানুষগুলো তাদের সব সঞ্চয়গুলো হয়তো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন- সেই মানুষগুলোর টাকা। এগুলো লুটপাট করা হয়েছে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মাধ্যমে। বিশেষ কিছু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে। যাদের কখনোই বিচারের আওতায় আনা হয়নি।
দেশের অর্থনীতি নানা সমস্যার মুখে আছে উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘এই সার্বিক পরিস্থিতিতে আমি আমি আশা করব, অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজার লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের যেমন জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন, একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে দক্ষ ও যোগ্য মানুষের সম্মিলন ঘটিয়ে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে আবারও একটি আস্থার জায়গায় নিয়ে যাবেন।’
জবাবে রুমিন ফারহানার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু বিশেষ কমিটি এই বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে, তারপর বিলটি এখানে এসেছে। সুতরাং আর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দেয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।’
এ সময় বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিয়োগ ও বিদায়সহ যেসব পরিবর্তন এসেছে কোনোটাই দেশের জনগণ ও গণতন্ত্র সাপোর্ট করে না উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যোগ্য লোকদের যোগ্য জায়গায় বসানো দরকার। খেলার মাঠটা পর্যন্ত আমরা উন্মুক্ত রাখতে পারলাম না। ওখানেও গিয়ে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়লাম। এভাবে চললে দেশ আগাবে কীভাবে? দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এমন কোনো কিছু দৃশ্যমান কিছু হচ্ছে না।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের পারফরম্যান্স আগের যেকোনো গভর্নরের চেয়ে ভালো। ফিনানশিয়ালি সেক্টরে কোনো পলিটিকাল নিয়োগ হবে না- এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আপনারাও দেখুন আগামীতে এমন কোনো নিয়োগ হয় কি না।
এরপর বিরোধী দলীয় উপনেতা ও কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিল বর্তমান গভর্নর, তাহলে তাকে পরিবর্তন করে নতুন করে নিয়োগ দেয়া হবে কি না?
বিরোধী দলীয় উপনেতার এমন বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দলকে সমর্থন করা মানে দলের লোক নয়।
এরপর বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সংশোধন বিল-২০২৬ সংসদে কণ্ঠ ভোটে পাস হয়। তবে দুটি বিলেই বিরোধী দলের আপত্তি ছিল। আলোচনার জন্য সময় চাওয়া হলে বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।
এমএন
জাতীয়
শেয়ারবাজারের টাকা লুটকারীদের বিচার হয়নি : রুমিন ফারহানা
দেশের শেয়ারবাজার থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ লুট হলেও এখনো দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার থেকে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি লুট হয়েছে, যা মূলত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রুমিন ফারহানা বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই লুটপাট চালিয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো বিচারের আওতায় আনা হয়নি।
তিনি বলেন, এই টাকা সাধারণ মানুষের টাকা। যে মানুষগুলো তাদের সব সঞ্চয় শেয়ারবাজারে ইনভেস্ট করেছেন। একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মাধ্যমে এই টাকাগুলো লুট হয়েছে। যাদের কখনো বিচারের আওতায় আনা হয়নি।
অর্থমন্ত্রীর কাছে রুমিন ফারহানা শেয়ারবাজার লুটকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি পুঁজিবাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে যোগ্য লোক নিয়োগ দিয়ে পুঁজিবাজারের আস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
এমএন
জাতীয়
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সংশোধন আইন পাস
বাংলাদেশে পুঁজিবাজারের তদারকি, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সিকিউরিটিজ বাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত আকারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে বিলটি পাস হয়।
বিলটি আজকে পাস না করে স্থগিত করার দাবি জানান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। কিন্তু কণ্ঠ ভোটে সেটি নাকচ হয়ে যায়।
এমএন
জাতীয়
সব ক্ষেত্রে কর ছাড় সম্ভব নয়, ব্যবসায়ের সুবিধা দেবে সরকার: অর্থমন্ত্রী
অর্থনীতির বর্তমান কঠিন সময়ে সব খাতে কর সুবিধা দিতে পারবে না সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে ব্যবসা সহজীকরণে প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিগত সরকার বিদ্যুতের ৪০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জন্য জ্বালানি খাতে ৪ বিলিয়ন ডলার বেশি খরচ করেছে সরকার।
মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণাতেই সরকার পরিচালিত হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিখাতের উন্নয়নের মাধ্যমেই অর্থনীতিকে টেনে তোলা হবে। এছাড়া যেকোনো সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতে তৈরি পোশাক শিল্পের মতো সহায়তা দেবে সরকার।
তিনি বলেন, শুধু বড় নয়, গুণগত মানসম্পন্ন বাজেট প্রণয়নে জোর দিচ্ছে সরকার।
অতীতের মতো বড় বাজেটের নামে বড় প্রকল্পে লুটপাটে বিশ্বাসী নয় বর্তমান সরকার। আগের সরকারের রেখে যাওয়া ঋণ পরিশোধে সরকার এখনো চাপে আছে। সভায় আসছে বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা এবং নারীদের সাড়ে ৫ লাখ টাকা সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই।
এমএন
জাতীয়
সংসদে অসুস্থ বিরোধীদলীয় এমপি বাশার, খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি হাফেজ রবিউল বাশার।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের প্রথম পর্ব চলার সময় দুপুর প্রায় ১টা ৪০ মিনিটে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরে অন্যান্য সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মীদের সহায়তায় তাকে অধিবেশনকক্ষ থেকে সংসদ লবিতে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
জোহরের নামাজের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ লবিতে গিয়ে অসুস্থ বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্যের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
এ সময় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপসহ অন্যান্য হুইপ উপস্থিত ছিলেন।




