রাজনীতি
কলকাতা থেকে পালাতে পারছে না আ.লীগের সহস্রাধিক নেতা
৫ আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী এবং পুলিশ কর্মকর্তার একটি বড় অংশ বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন প্রদেশে অবস্থান করছেন।
তাদের মধ্যে অনেকে আবার তৃতীয় দেশে যেতে চাইলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ নিয়ে পলাতকদের মাঝে শঙ্কা বেড়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
ফেনীর এক বিতর্কিত নেতা, যিনি দীর্ঘদিন স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার পরপরই পরিবারসহ কলকাতা গিয়ে উঠেছেন।
সম্প্রতি লন্ডনমুখী হতে চাইলেও কলকাতা বিমানবন্দর থেকে অনুমতি না থাকায় তাকে ফেরত পাঠানো হয়। পুলিশের এক অতিরিক্ত ডিআইজিও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।
বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সর্বশেষ অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলা বেশ কয়েকজন পলাতক নেতা ও পুলিশ কর্পোরেটও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সাবেক মন্ত্রী, এমপি, দলীয় নেতা–কর্মী এবং বহু পুলিশ কর্মকর্তা আত্মগোপন করেন। এদের বড় অংশ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন- ত্রিপুরা, আগরতলা, কলকাতা, আসাম থেকে মেঘালয় পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে আছেন তারা। কেউ কেউ হোটেল ভাড়া নিয়েছেন, অনেকে শহরতলিতে সস্তা বাসায় থাকছেন।
ভারতে থাকা নেতাদের অনেকের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ, কারো কাছে বৈধ কাগজপত্র নেই- ফলে ভারত ছাড়াও সম্ভব হচ্ছে না।
আবার সেখানে অবস্থান করলেও পুলিশি নজরদারি এড়াতে তারা দিনের বেলা ঘরে থাকেন, রাতেই বাইরে বের হন।
আসাদুজ্জামান খানের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা
ভারত থেকে কথা বলা এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। রায় ঘোষণার আগের দিন নিউ মার্কেটে দেখা মিললেও এরপর আর তার অবস্থান কারও জানা নেই। তবে তিনি ভারতেই আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও এসব নেতা দাবি করছেন তারা রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয়, তবুও অভিযোগ আছে—কলকাতায় বসে তারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা অন্যান্য মাধ্যমে দেশে থাকা অনুসারীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সহস্রাধিক নেতা ভারতে
আওয়ামী লীগের একটি অভ্যন্তরীণ খসড়া তালিকা অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজারের মতো নেতা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে সহস্রাধিক নেতা রয়েছেন ভারতে- বিশেষত কলকাতায়। হোয়াটসঅ্যাপ বা অনলাইন মিটিংয়ের মাধ্যমে দল পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে বলেও কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের একটি ইউনিট সম্প্রতি কলকাতায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তারা সপ্তাহখানেক অবস্থান করে পলাতকদের ঠিকানা, চলাফেরা ও যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য নিয়ে সদর দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।
কলকাতার কয়েকটি হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের আগস্ট থেকে বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতাদের আগমন বাড়তে থাকে।
নিউ মার্কেট, নিউটাউন, মারকুস স্ট্রিট ও গড়িয়া এলাকায় তাদের উপস্থিতি বেশি। কলকাতা পুলিশের দল প্রায় প্রতিদিনই হোটেলে গিয়ে বাংলাদেশি অতিথিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়, তবে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনায় কেউকে হয়রানি করা হচ্ছে না।
এমকে
রাজনীতি
সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে সরকার: নাহিদ ইসলাম
জাতির কাছে দেওয়া সংস্কারসংক্রান্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, জাতির কাছে দেওয়া সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচনি পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিরা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বর্তমান অগ্রগতি জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম সরকারের ধীরগতি ও আন্তরিকতার অভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের সামনে যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
এ সময় ইইউ প্রতিনিধিদল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন নাহিদ ইসলামের হাতে তুলে দেয়।
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে, সেই প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে এনসিপি সংসদের ভেতরে ও বাইরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে ইইউ নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভারস আইজবস-এর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন উপ-প্রধান বাইবা জারিনা, ডেপুটি চিফ অবজারভার ইন্টা লেইস, লিগ্যাল অ্যানালিস্ট ইরিনি মারিয়া গুওনারি এবং রায়ান ইসলাম।
এনসিপির পক্ষে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ।
এমএন
রাজনীতি
জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ( ২৮ এপ্রিল) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ইভারস আইজবসের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা, ডেপুটি চিফ অবজারভার ইন্টা লেইস, লিগাল অ্যানালিস্ট ইরিনি মারিয়া গোওনারি এবং রায়ান ইসলাম।
বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে ইভারস আইজবস বিরোধীদলীয় নেতার ইতিবাচক ভূমিকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ডা. শফিকুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সফররত প্রতিনিধি দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কেও সর্বশেষ তথ্য জানতে চায়। জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, গণভোটসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি বিভিন্ন সংস্কারের বিষয়ে একমত হলেও পরবর্তীতে সেগুলোর বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে, যা অব্যাহত থাকলে জনগণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারাতে পারে।
তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের সহিংসতা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিতিশীলতা এবং জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে ইইউ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ, রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। পাশাপাশি, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে কিছু সুপারিশও উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা দলের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।
রাজনীতি
পুলিশের জ্বালানি রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান জানিয়েছেন, পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর পয়েন্ট অব অর্ডারে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কুমিল্লায় এক কাস্টমস কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্য যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিষয়টি আমরা এরই মধ্যে অ্যাড্রেস করেছি। পুলিশসহ ইমার্জেন্সি বাহিনী যারা আছে, পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার ব্রিগেড, তাদের ওপর যে এমবার্গো (নিষেধাজ্ঞা) ছিল, তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি এবং বিষয়টি ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি এই সমস্যা আর হবে না।
এর আগে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেলের রেশনিংয়ের অজুহাতে পুলিশ রাতে টহল কমিয়ে দিয়েছে। যার ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
রাজনীতি
মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্যকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে দেশ: ইশরাক
মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ও চেতনাকে ধারণ করে আগামী দিনে দেশ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, “তারেক রহমান কমিটির এক নম্বর সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।”
মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে প্রতিষ্ঠার জন্য এবং যে কারণে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সেটিকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুনতে পেয়েছি এবং আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে জেনেছি একাত্তরের পর একটা ভয়াবহ দুঃশাসন এবং একদলীয় শাসন জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। এরপর বিগত ৫৪ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের যে মূল লক্ষ্য ছিল সেটি থেকে বারবার দেশ বিচ্যুত হয়েছে।’
অবশেষে দীর্ঘ দেড় যুগের ফ্যাসিবাদী আন্দোলন শেষে আবারও গণতন্ত্রকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছেন জানিয়ে ইশরাক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য চেতনাকে আমরা বাস্তবায়ন করবো। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধকে বুকে ধারণ করে আগামী দিনে এগিয়ে যাব।’
এ সময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা বললে অবশ্যই সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকতে হবে। তবে প্রতিবাদ হতে পারে। কারণ প্রতিবাদও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিরই একটি অংশ। কিন্তু এর সাথে আলোচনাও থাকতে হবে।
আলোচনার মধ্য দিয়েই তৈরি বিভিন্ন ধরনের বিতর্কের অবসান হওয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘বিতর্ক ও আলোচনার মধ্য দিয়ে উদ্ভূত প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে যাবে। তাতেই আমাদের গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। আর গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে অর্থনীতির পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাও শক্তিশালী হবে।’
রাজনীতি
কার্ড দিতে গিয়ে বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে : নাহিদ
বিএনপি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণের মন ভোলানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘এসব কার্ড দিতে গিয়ে বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে, জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। অথচ মন্ত্রীরা সংসদে বলছেন, জ্বালানির সংকট নেই। তারা বাস্তব সমস্যাকে অস্বীকার করছেন, অর্থনৈতিক সমস্যাকে অস্বীকার করছেন।
দেশের আইন-শৃঙ্খলার যে ক্রমান্বয়ে অবনতি হচ্ছে, সেটাকেও অস্বীকার করছে বর্তমান সরকার।’
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেশের ও জনগণের স্বার্থে এই সরকারকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু বিএনপি সরকার সহযোগিতার সব দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।
আমার জানা নেই, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে, মাত্র দুই মাসে, এত অজনপ্রিয় কোনো সরকার হয়েছিল কি না। এই সরকার গত দুই মাসে যে পরিমাণ অজনপ্রিয় হয়েছে, আমরা জানি না আগামী ছয় মাস পর এই সরকারের কী হবে।’
বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, ‘আমরা দেশে কোনো অস্থিতিশীলতা চাই না। আমাদের দাবি একটাই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে প্রকৃত সম্মান দেওয়া।
এ দাবি আদায়ের জন্য আমরা সংসদে যেমন থাকব, রাজপথেও থাকব, ইনশাআল্লাহ।’
এনসিপির এই আহ্বায়ক বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছে। বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ প্রতিজ্ঞা নিয়েছিল, দেশে আর নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। সেই প্রতিজ্ঞা থেকেই দেশে সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হয়।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কিন্তু বিএনপি প্রতি পদে পদে সংস্কার কার্যক্রমে বাধা দিয়ে আসছিল।
এক পর্যায়ে তারা বাধ্য হয়ে ঐকমত্য কমিশনে আসে এবং সেখানে এসেও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমে নোট অব ডিসেন্ট দিতে থাকে। সবশেষে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের চাপে তারা গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পরপরই গণভোটকে অস্বীকার করা শুরু করেছে। যে বিএনপির জন্ম হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে, সেই বিএনপি আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের গণভোটকে অস্বীকার করছে। কার্যত বিএনপি তার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করতে শুরু করেছে।’
নাহিদ আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপি যেভাবে আওয়ামী লীগের মতো দলীয়করণ শুরু করেছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে তারা একই পথে এগোচ্ছে। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো দেশকে পুরোনো স্বৈরাচারের পথে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে আবারও দেশের জনগণ তাদের প্রতিহত করবে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’




