আন্তর্জাতিক
ইমরান খান সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন, কারাগার থেকে বেরিয়ে বোন উজমা
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের বোন উসমা খানম মঙ্গলবার আদিয়ালা জেলে কারাবন্দী ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। এরপর তিনি জানিয়েছেন, ইমরান খান সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা ও মৃত্যুর গুজব নিয়ে চলা কয়েক দিনের নাটকীয়তার অবসান হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার কয়েক সপ্তাহ পর উজমা খানমকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়। উজমা খানম কারাগারের ভেতরে যাওয়ার সময়ও বাইরে বিপুল সংখ্যক পিটিআই সমর্থক কারাগারের জড়ো হয়েছিলেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে উজমা খানম বলেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ ঠিক আছে। তবে তিনি খুব রাগান্বিত ছিলেন এবং বলেছেন তাকে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, তার ভাইকে দিনের বেলায় সারাক্ষণ তার কক্ষেই রাখা হয়, বাইরে যাওয়ার জন্য সামান্য সময় দেওয়া হয় এবং কারও সাথে কোনো যোগাযোগের সুযোগ নেই। উজমা খানম জানান, তিনি ইমরান খানের সাথে ৩০ মিনিট ছিলেন।
আন্তর্জাতিক
৭৮ লাখ আউন্স সোনার বিশাল মজুতের সন্ধান পেলো সৌদি আরব
সৌদি আরব চারটি ভিন্ন স্থানে মোট ৭৮ লাখ আউন্স সোনার বিশাল মজুতের সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি ‘মাদেন’ এই সোনার সন্ধান পেয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা খনি এবং নতুন ও পুরোনো বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক খনন কার্যক্রম চালানোর পরই এই সাফল্য এসেছে।
গত ১২ জানুয়ারি এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। মাদেন জানিয়েছে, কোনো একটি দেশের ভেতরে চালানো খনিজ অনুসন্ধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বৃহত্তম প্রচেষ্টা।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক খননকাজে ৯০ লাখ (৯ মিলিয়ন) আউন্সের বেশি সোনার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তবে খনন ব্যয়, পণ্যের দামসহ বার্ষিক সাধারণ হিসাব-নিকাশ সমন্বয়ের পর প্রকৃত নতুন সোনার মজুতের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে ৭৮ লাখ আউন্স।
সবচেয়ে বেশি সোনা পাওয়া গেছে মাদেনের প্রধান প্রকল্প ‘মানসুরা মাসারাহ’ থেকে। গত এক বছরে এই প্রকল্পে নতুন করে ৩০ লাখ আউন্স সোনা যোগ হয়েছে। এ ছাড়া ‘উরুক ২০/২১’ ও ‘উম আস সালাম’ এলাকা থেকে মোট ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স সোনার সন্ধান পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ‘ওয়াদি আল জাও’ এলাকায় প্রথমবারের মতো আনুমানিক ৩৮ লাখ আউন্স খনিজ সম্পদের খোঁজ মিলেছে।
মাদেন জানিয়েছে, ‘সেন্ট্রাল অ্যারাবিয়ান গোল্ড রিজিওন’-এ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খননকাজ চালানোর ফলে বেশ কয়েকটি নতুন খনিজ অঞ্চল চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ঐতিহাসিক ‘মাহদ’ স্বর্ণখনির আশপাশে অনুসন্ধান চালিয়েও নতুন খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর ফলে খনিটির কার্যকাল আরও বাড়ানো সম্ভব কি না, তা যাচাই করা হবে।
মাদেনের প্রধান নির্বাহী বব উইল্ট জানিয়েছেন, এসব ফলাফল কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধান কৌশল যে সঠিক পথে রয়েছে, তা প্রমাণ করে। তিনি বলেন, ‘চারটি এলাকায় ৭০ লাখ আউন্সেরও বেশি সোনা যুক্ত হওয়া আমাদের স্বর্ণভাণ্ডারের বিশালতা ও সম্ভাবনাকেই তুলে ধরে।’
তিনি আরও বলেন, এই প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে কোম্পানির আয় বাড়াতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি দেখায় যে ‘অ্যারাবিয়ান শিল্ড’-এ স্বর্ণের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে কোম্পানি এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য খনিজের ক্ষেত্রেও অগ্রগতির কথা জানিয়েছে মাদেন। ‘জাবাল শায়বান’ ও ‘জাবাল আল ওয়াকিল’ এলাকায় প্রাথমিক খননকাজে তামা, নিকেল এবং প্ল্যাটিনাম গ্রুপের ধাতুর সন্ধান পাওয়া গেছে।
মানসুরা মাসারাহ প্রকল্পে বর্তমানে মোট খনিজ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৬০ লাখ টন। এখানে প্রতি টনে গড়ে ২ দশমিক ৮ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ (১০.৪ মিলিয়ন) আউন্স।
মাদেন জানিয়েছে, গভীর স্তরে আরও খনিজ সম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সেখানে খননকাজ চালানো হবে।
এই আবিষ্কারকে সৌদি আরবের খনি খাতের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে খনি খাতকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
পাকিস্তানে জানাজায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে ট্রাক উল্টে নিহত ১৪
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সরগোধায় ঘন কুয়াশায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক উল্টে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। খবর জিও টিভির।
কর্মকর্তারা জানান, ট্রাকের আরোহীরা একটি জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন।
শনিবার ভোরে সরগোধা শহরের কোট মোমিন এলাকার ঘালাপুর বাংলা খালের পাশে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি খাদে পড়ে যায়। এসময় ট্রাকটিতে মোট ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ৭ জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে উদ্ধারকারীরা।
হতাহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী টিএইচকিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ৭ জন মারা যান।
উল্লেখ্য, পুরো পাঞ্জাব প্রদেশ এখন ঘন কুয়াশায় ছেয়ে আছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে কুয়াশার কারণে খাইবার পাখতুনখোয়ার ডেরা ইসমাইল খানেও একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে ইন্দাস মহাসড়কের তাউন্সা শরিফ সীমান্তবর্তী বাস্তি দাওয়ানা এলাকায় চিনিবাহী একটি ট্রেইলার ও যাত্রীবাহী ভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হন।
আন্তর্জাতিক
কোনো দেশ গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করলেই নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনায় যারা বাধা দেবে, সেই দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, দেশগুলো গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত না হলে তিনি তাদের ওপর শুল্ক বসাতে পারেন।’ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের শাসনাধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
তবে কোন কোন দেশের ওপর এই নতুন শুল্কারোপ করা হতে পারে অথবা নিজের লক্ষ্য অর্জনে আমদানির ওপর এমন কর বসাতে কোন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ছাড়াও আরও অনেক দেশ ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। এমনকি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও অনেকে এই অধিগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প যখন এই মন্তব্য করছিলেন, তখন মার্কিন কংগ্রেসের একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধি দল গ্রিনল্যান্ড সফরে ছিলেন। মূলত অঞ্চলটির প্রতি সংহতি জানাতেই তাদের এই সফর।
১১ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে রিপাবলিকান সদস্যরাও ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে প্রেসিডেন্টের আহ্বানে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সফরকালে তারা গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) ছাড়াও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন ও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রতিনিধি দলের নেতা ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস জানান, তাদের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয়দের কথা শোনা এবং তাদের মতামত ওয়াশিংটনে পৌঁছে দিয়ে বিদ্যমান ‘উত্তেজনা প্রশমন’ করা।
ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন অঞ্চলটি হয় ‘সহজ উপায়ে’ নাহয় ‘কঠিন উপায়ে’ দখল করবে। তার এই মন্তব্যকে দ্বীপটি কিনে নেওয়া অথবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দখলের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘দেশগুলো যদি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আমাদের সঙ্গে না আসে, তবে আমি তাদের ওপর শুল্ক বসাতে পারি; কারণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন।’
গ্রিনল্যান্ডে জনবসতি খুব কম হলেও দ্বীপটি প্রাকৃতিক সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মাঝামাঝি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অঞ্চলটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তা প্রদান এবং এই অঞ্চলের জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকেই গ্রিনল্যান্ডে ১০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক নামক একটি ক্ষেপণাস্ত্র পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছে মার্কিন বাহিনী।
ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে গ্রিনল্যান্ডে যেকোনো সংখ্যক সেনা মোতায়েন করতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প মনে করেন, রাশিয়া বা চীনের সম্ভাব্য হামলা থেকে অঞ্চলটিকে যথাযথভাবে রক্ষা করতে হলে এর ‘মালিকানা’ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা প্রয়োজন।
ডেনমার্ক অবশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হবে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর অবসানের সংকেত। উল্লেখ্য, ন্যাটো জোটে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে প্রভাবশালী অংশীদার।
ন্যাটোর মূল নীতি হলো, কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য মিত্ররা তাকে সহায়তা করবে। কিন্তু কোনো সদস্য রাষ্ট্র যদি অন্য কোনো সদস্যের বিরুদ্ধেই শক্তি প্রয়োগ করে, তবে কী হবে—সে বিষয়ে জোটে কোনো নজির নেই।
ইতিমধ্যেই ডেনমার্কের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো। তারা বলেছে, আর্কটিক অঞ্চল তাদের কাছেও সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং এর নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব ন্যাটোর যৌথভাবে নেওয়া উচিত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রেরও অংশগ্রহণ থাকবে।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ গ্রিনল্যান্ডে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী মিশনে ক্ষুদ্র আকারের একটি সামরিক দল পাঠিয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডে শীঘ্রই ‘স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথের সামরিক সরঞ্জাম’ পাঠানো হবে।
ট্রাম্পকে তার এই পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখতে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কয়েকদিন পরই মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল গ্রিনল্যান্ড সফরে যায়। এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ন্যাটোর কট্টর সমর্থক মার্কিন সিনেটর ও হাউস অভ রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যরা।
প্রতিনিধি দলের প্রধান ক্রিস কুনস ও অধিকাংশ সদস্য ট্রাম্পের ঘোর বিরোধী ডেমোক্র্যাট হলেও, এই দলে থম টিলিস ও লিসা মুরকোস্কির মতো মধ্যপন্থি রিপাবলিকান সিনেটররাও রয়েছেন।
গ্রিনল্যান্ডের এমপি আয়া চেমনিৎজ বলেন, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এই বৈঠক তাকে ‘আশাবাদী’ করেছে। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের বন্ধু প্রয়োজন, আমাদের মিত্র প্রয়োজন।’
হোয়াইট হাউসের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের অবস্থানের বিশাল পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ম্যারাথন, কোনো স্বল্প দূরত্বের দৌড় নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০১৯ সাল থেকেই আমরা মার্কিন পক্ষের এই চাপ দেখে আসছি। সবকিছু এখনই শেষ হয়ে গেছে—এমনটা ভাবা বোকামি হবে। পরিস্থিতি প্রায় প্রতি ঘণ্টায় বদলাচ্ছে। তাই আমরা যত বেশি সমর্থন পাব, ততই ভালো।’
লিসা মুরকোস্কি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের যেকোনো প্রচেষ্টা রুখে দেওয়ার লক্ষ্যে আনা একটি দ্বিদলীয় বিলের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। অন্যদিকে একজন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য এই দ্বীপ অধিগ্রহণের সমর্থনে পাল্টা বিল উত্থাপন করেছেন।
গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি গত শুক্রবার ফক্স নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ডেনমার্কের সঙ্গে নয়, বরং গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা।
তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। আমার মনে হয় তিনি তার লক্ষ্য পরিষ্কার করে দিয়েছেন।’
গত বুধবার হোয়াইট হাউসে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ বৈঠকের বিষয়ে একজন ডেনিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে জানান, মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট এমন একটি ‘মধ্যপন্থা’ খোঁজার প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে ট্রাম্প, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সব পক্ষই সন্তুষ্ট থাকে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, হোয়াইট হাউসের বৈঠকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রসঙ্গ ওঠেনি।
তা সত্ত্বেও গ্রিনল্যান্ড দখলের ব্যাপারে ট্রাম্পের প্রকাশ্য ঘোষণাকে ডেনমার্ক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে বলে জানান ওই ডেনিশ কর্মকর্তা।
আন্তর্জাতিক
ইয়েমেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন শায়া মোহসেন জিনদানি
ইয়েমেনের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শায়া মোহসেন জিনদানি। তিনি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী সালেম বিন ব্রেইকের স্থলাভিষিক্ত হলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে শায়া মোহসেন জিনদানি ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) কাছে সালেম বিন ব্রেইক তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিলে কাউন্সিল তা গ্রহণ করে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জিনদানির নাম ঘোষণা করা হয়। ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘সাবা’ এক প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করেছে।
ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এই পরিবর্তন এলো। উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী রাজধানী সানা দখল করলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদী দেশ ছেড়ে সৌদিতে আশ্রয় নেন।
হুথিদের দমন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাতে ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত প্রতিরক্ষা জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। প্রায় ১১ বছর ধরে চলা এই দীর্ঘ সংঘাতের ফলে বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল।
সম্প্রতি দক্ষিণ ইয়েমেনের পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসার পরই প্রধানমন্ত্রী পদে এই রদবদল করা হলো। দীর্ঘ দিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ (এসটিসি) এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল। তবে সম্প্রতি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের নতুন সামরিক কৌশলের মুখে এসটিসি’র তৎপরতা কার্যত স্তিমিত হয়ে পড়ে এবং দলটির প্রধান এইদারুস আল জুবাইদি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয় নেন। দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার এই সন্ধিক্ষণেই শায়া মোহসেন জিনদানিকে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জিনদানির এই নিয়োগ মূলত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংস্কারকে গতিশীল করার অংশ। ইয়েমেন বর্তমানে ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা কাটিয়ে ওঠা নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত পিএলসি’র উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে জিনদানিকে সাংবিধানিক বিধি মোতাবেক দ্রুত নতুন সরকার গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ইয়েমেনে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিত করল ইরান
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার এই ৮০০ জনের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর প্রবল চাপের মুখে ইরান পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে। গত ২০ দিন ধরে চলা তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা যে নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের ইতিহাসে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ৪৭ বছরের শাসনামলে এবারের মতো এত বড় ও ব্যাপক গণআন্দোলন আগে কখনো দেখা যায়নি। মূলত দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং মুদ্রার চরম অবমূল্যায়নই এই বিক্ষোভের প্রধান কারণ।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে; যেখানে এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ রিয়াল। এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক পতনের ফলে ইরানে খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানো সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট থেকে। জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়ের প্রতিবাদে শুরু হওয়া সেই ধর্মঘট মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দাবানলের মতো ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় প্রতিটি শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সশস্ত্র সংঘাত ও দমনে এ পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর একাধিক হুমকি দিয়েছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিতের মাধ্যমে ইরান কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা সরাসরি মার্কিন হামলার আশঙ্কাকে আপাতত কমিয়ে আনতে পারে।
যদিও ইরানের অভ্যন্তরীণ অবস্থা এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং বিক্ষোভকারীরা পুরো দেশকে অচল করে রেখেছেন, তবুও এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন রক্ষা পাওয়াকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এমকে



