অর্থনীতি
সৌদি স্ক্যানার স্থাপনের পর বেড়েছে পতেঙ্গার কার্গো হ্যান্ডলিং
মাসের পর মাস প্রত্যাশার তুলনায় কম পারফরম্যান্সের পর পতেঙ্গার কনটেইনার টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং জাহাজ আগমনে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। আগামী বছরের জুন নাগাদ টার্মিনালটির কার্যক্রম পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একটি আমদানি স্ক্যানার—যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর বিদেশি অপারেটর রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই) নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে গত মে মাসে এনে স্থাপন করে। এই স্ক্যানার টার্মিনালের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ অন্যান্য নতুন সরঞ্জাম এখনও আনা হচ্ছে।
চলতি বছরের মে পর্যন্ত টার্মিনালটি শুধু রপ্তানি কনটেইনারই পরিচালনা করতে পারত। মে থেকে অক্টোবর—এই পাঁচ মাসে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ১ লাখ ৮ হাজার ২২৮ টিইইউএস কনটেইনার পরিচালনা করেছে; যা এর প্রথম ১৬ মাসের মোট কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান।
মাসওয়ারি কার্গো হ্যান্ডলিংও স্থিরভাবে বেড়েছে—মে মাসে ১৩,৩১৪ টিইইউএস, জুনে ১৪,৫২৭ টিইইউএস এবং জুলাইয়ে ১৫,৩৯৬ টিইইউএস হ্যান্ডলিংয়ের পর আগস্টে তা অনেকটা বেড়ে ২২,৬৩৬ টিইইউএসে পৌঁছায়—যা টার্মিনালটির সর্বোচ্চ মাসিক কার্গো হ্যান্ডলিং। সেপ্টেম্বর মাসে এ কার্যক্রম কমে ১৭,৩৩৭ টিইইউএসে নামলেও— অক্টোবরে আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন রেকর্ড ২৫,০১৮ টিইইউএস স্পর্শ করে।
সৌদি প্রতিষ্ঠান আরএসজিটিআইয়ের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুন থেকে ২২ বছরের কনসেশন চুক্তিতে পরিচালিত এই টার্মিনাল এখনো বড় ধরনের কনটেইনার দক্ষভাবে হ্যান্ডল করার জন্য আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যাতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ বা কনটেইনারের জট কমানো যায়।
এই প্রবৃদ্ধি টার্মিনালে জাহাজ আগমন বেড়ে যাওয়াও এ প্রবৃদ্ধিকে তুলে ধরে। ফলে রপ্তানি কার্গোর প্রবাহ আরও পূর্বানুমানযোগ্য হয়ে উঠেছে। শুধু আগস্ট মাসেই সাতটি জাহাজ ভিড়েছে। আর ছয় মাসে রপ্তানি কনটেইনারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩,৩৩২ টিইইউএস, যার তুলনায় আমদানি কার্গো ৫৪,৮৯৬ টিইইউএস সামান্য বেশি।
সাম্প্রতিক সময়ের প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল এখনও এর নকশাগত সক্ষমতার অনেক নিচে চলছে। আগস্টের সর্বোচ্চ পর্যায়ে টার্মিনালটি মাসিক ৪১,৭০০ টিইইউএস তাত্ত্বিক সক্ষমতার মাত্র ৫৪ শতাংশই ব্যবহার করতে পেরেছে। সেপ্টেম্বর তা নেমে আসে প্রায় ৪২ শতাংশে এবং অক্টোবর আবার ৪৯ শতাংশে পৌঁছায়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন টার্মিনালে অনেক শিপিং লাইন এখনো নিয়মিত জাহাজ শিডিউল করছে না—এ ধরনের সীমাবদ্ধতা এই প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য স্বাভাবিক ঘটনা।
আরএসজিটিআই জানিয়েছে, ধীরে ধীরে কার্যক্রম বাড়ার বিষয়টি চলমান সরঞ্জাম স্থাপন ও কনসেশন চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দুই বছরের উন্নয়ন পর্যায়েরই অংশ।
ইতোমধ্যে ১৪টি রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন এসে পৌঁছেছে। সেগুলো এখন কমিশনিংয়ের কাজ চলছে, আর চারটি শিপ-টু-শোর (এসটিএস) গ্যান্ট্রি ক্রেন ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে চালু হওয়ার কথা। অপারেটর বলছে, ২০২৬ সালের মধ্যভাগে টার্মিনাল পুরো সক্ষমতায় পৌঁছাবে।
কার্গো হ্যান্ডলিং এখনো কেন সক্ষমতার নিচে রয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তরে আরএসজিটি চট্টগ্রামের কমার্শিয়াল ও পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান সৈয়দ আরেফ সরওয়ার বলেন, প্রথম নয় মাস আমরা শুধু রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডল করেছি। স্ক্যানার না থাকায় আমদানি কার্গো নিতে পারিনি, তাই সংখ্যা কম ছিল।
তিনি বলেন, এনবিআরকে বারবার অনুরোধ করেও স্ক্যানার না পাওয়ায় আমরা নিজেদের অর্থে স্ক্যানার স্থাপন করি এবং মে মাসে আমদানি কার্যক্রম শুরু করি। এরপর থেকেই আমাদের হ্যান্ডলিং গতি পেয়েছে। অক্টোবরে ১৪টি আরটিজি এসেছে, এর মধ্যে চারটি ইতোমধ্যে কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছরের এপ্রিল মাসে আমরা এসটিএস গ্যান্ট্রি ক্রেন পাব এবং জুনের মধ্যে সেগুলো চালু হবে। আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। ২০২৬ সালের জুনে ফুল অপারেশনে যেতে পারব, এই পূর্ণ সক্ষমতাকেই আমরা কাজে লাগাতে চাই। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে, ২০২৬ সালে আমরা সাড়ে ৪ লাখ টিইইউএস পরিচালনার প্রত্যাশা করছি, তিনি যোগ করেন।
তবে সেই লক্ষ্যের পথে কিছু বাধার বিষয়ও তুলে ধরে আরেফ সরওয়ার বলেন, একটি ট্রেইলারের ডেলিভারি অর্ডার নিয়ে কনটেইনার লোড করে স্ক্যানারে পৌঁছাতে মাত্র ১৫ মিনিট লাগে। কিন্তু স্ক্যানিংয়ের পর কাস্টমস কর্মকর্তারা ট্রেইলার ছাড়তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নেন—এতে লিড টাইম বেড়ে যায়।
তিনি জানান, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সিপিএ-পরিচালিত টার্মিনালগুলোর তুলনায় দ্রুতগতিতে কাজ করছে, সিপিএ ঘণ্টায় ২৭ মুভস করলেও পতেঙ্গায় হচ্ছে ৪৭ মুভস। তবে যানবাহন ছাড়তে বিলম্ব হওয়ায় সামগ্রিক পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ছে।
সরওয়ার আরও বলেন, টার্মিনালটি শুরুতে এলসিএল (লেস দ্যান কনটেইনার লোড) কনটেইনার নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল সীমিত স্টোরেজ সক্ষমতার কারণে। “আমাদের মাত্র ১০০ টিইইউএস সক্ষমতার একটি শেড ছিল, যা সম্প্রতি ৩০০ টিইইউএসে সম্প্রসারণ করেছি। কাস্টমস এজেন্ট এবং পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ফ্যাসিলিটিও যোগ করেছি। তবে আমাদের কঠোর কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া নিয়ে লোকজন অভিযোগ করে।
তিনি বলেন, আমরা ব্যবসা করতে এসেছি, আর আমাদের ব্যবসা কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। যত বেশি কনটেইনার হ্যান্ডল করব, ব্যবসাও তত বাড়বে। আগামী বছর আমরা সক্ষমতার বেশি হ্যান্ডল করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি।
অর্থনীতিবিদ মইনুল ইসলাম বলেন, সব সরঞ্জাম স্থাপনের পর সৌদি অপারেটর টার্মিনালকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে। তারা যদি সেটা করতে পারে, তাহলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমবে। এটি একটি আশাব্যঞ্জক প্রকল্প, তবে আগামী বছরগুলোতে এটি কেমন পারফর্ম করে—তাও দেখার বিষয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপকমিশনার এবং মুখপাত্র এইচ এম কবির বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। তবে খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাতে পারব।
অর্থনীতি
বিশ্ববাজারে তেলের দাম দিগুণ হলেও সরকার সামান্য বাড়িয়েছে: জ্বালানি মন্ত্রী
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেলেও সরকার জনগণের কষ্ট বিবেচনা করে দেশে তেলের দাম সামান্যই বাড়িয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের যে দাম ছিল, বর্তমানে তা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তবুও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সরকার সমানুপাতে দাম না বাড়িয়ে সীমিত সমন্বয় করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ভর্তুকি দিয়ে হলেও বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা সরকার নিজেই বহন করছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ, রোববার থেকে দেশব্যাপী নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১৯ টাকা ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। সেইসঙ্গে ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা।
এর ফলে, বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেনের দাম দাঁড়িয়েছে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম হয়েছে ১৩৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম হয়ে গেছে ১১৫ টাকা।
নতুন সিদ্ধান্তে দাম বাড়ানো হয়েছে কেরোসিনেরও। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার কেরোসিন এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।
শনিবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের আগে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেনের মূল্য ছিল ১২০ টাকা এবং পেট্রোলের মূল্য ছিল ১১৬ টাকা। এছাড়া কেরোসিনের দাম ছিল প্রতি লিটার ১১২ টাকা এবং ডিজেলের মূল্য ছিল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা।
এমএন
অর্থনীতি
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ও এর প্রয়োজনীয়তা।
লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার রবিবার (১৯ এপ্রিল, ২০২৬) বিনিময় হার—
মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৭০ পয়সা
ইউরো : ১৪৪ টাকা ৩২ পয়সা
পাউন্ড : ১৬৫ টাকা ৮১ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ৩২ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩১ টাকা ০৯ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৬ টাকা ৫৬ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৭৭ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ৬৮ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৭ টাকা ৯২ পয়সা
*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন।
অর্থনীতি
ডিজেল-পেট্রোল-অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে বাড়ল কত?
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) থেকে ভোক্তা পর্যায়ে তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিজেল লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হবে ১১৫ টাকায়, প্রতি লিটার পেট্রল ১৯ টাকা বেড়ে বিক্রি হবে ১৩৫ টাকায়, প্রতি লিটার অকটেন ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হবে ১৪০ টাকা ও প্রতি লিটার কেরোসিন ১৮ টাকা বেড়ে বিক্রি হবে ১৩০ টাকায়।
এদিকে, দাম বৃদ্ধির পর রাত থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। শনিবার রাতে তেজগাঁও ও মহাখালী এলাকার বেশ কিছু পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে অনেক পাম্পে তেল নেই জানিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। অল্প কিছু পাম্পে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল যানবাহনের সারি।
এদিকে, শনিবার রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত পাম্পগুলোর কোনো কোনোটিতে ডিজেল সরবরাহ করা হলেও অকটেন বা পেট্রোল সরবারহ ছিল বন্ধ।
জ্বালানি তেলের জন্য সুমাত্রা পাম্পে অপেক্ষারত বেসরকারি চাকরিজীবী ফুয়াদ হাসান বলেন, ‘তেল নিয়ে সমস্যা কাটছে না। চাকরি করে এভাবে নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করা সম্ভব না। মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে কিন্তু কিছু পাম্প বাদে বেশির ভাগ পাম্পেই তেল দেওয়া হচ্ছে না।’
তেল নিতে আসা সাধারণ চালক ও ভোক্তারা বলছেন, দাম বৃদ্ধি পেলেও সংকট কাটবে কি না, তা নিয়ে তারা সংশয়ে রয়েছেন। পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার এই ভোগান্তি থেকে তারা মুক্তি চান। বাজারে তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ে সরকারের কঠোর তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করেন।
এমএন
অর্থনীতি
মার্কিন বাণিজ্যিক চুক্তি জ্বালানি আমদানিতে বড় বাধা: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চুক্তি জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির চেয়েও বড় প্রতিবন্ধক বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতার সমালোচনা করে বলেন, দেশে নতুন জ্বালানি অনুসন্ধান হয়নি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা হয়নি। ফলে আমদানি নির্ভরতা বেড়েছে, যদিও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় গ্রীন এনার্জির দিকে ধীরে ধীরে এগোনোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এর প্রতিফলন আগামী জাতীয় বাজেটে থাকতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পরিকল্পনার ওপর জোর দেন তিনি।
ড. ভট্টাচার্য আরও বলেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন অর্থনীতির পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও বড় প্রভাব ফেলছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভবিষ্যতে ঋণ সহায়তা নাও দিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কর ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, করের হার কমিয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং করের বিপরীতে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এ ছাড়া জ্বালানি খাতে গঠিত কেবিনেট সাব-কমিটির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, এসব কমিটির কার্যক্রম ও উদ্যোগ জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।
আগামী বাজেটে জ্বালানি খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে কাঠামোগত পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাপেক্সকে আরও সক্রিয় করতে হবে এবং সমুদ্র এলাকায় জ্বালানি অনুসন্ধান শুরু করা জরুরি। পাশাপাশি জ্বালানি ভর্তুকি পুনর্বিবেচনা ও সাশ্রয়ী দামে আমদানির দিকেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অর্থনীতি
আজকের স্বর্ণ ও রুপার বাজারদর
সবশেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সর্বশেষ সমন্বয়ের পর শনিবার (১৮ এপ্রিল) নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে এই দুই মূল্যবান ধাতু।
সবশেষ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুটির দাম যথাক্রমে ২ হাজার ২১৬ ও ৩৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এর আগে, সবশেষ গত ৯ এপ্রিল সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।



