রাজনীতি
প্রয়োজনে আরেকটা ৫ আগস্ট সংঘটিত হবে: জামায়াত আমির
দিশেহারা হয়ে হতাশ, ক্ষুব্ধ হয়ে চোরাবালিতে কেউ যদি হাঁটার চিন্তা করেন, তাহলে প্রয়োজনে আরেকটা ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, কোনো দেশপ্রেমিক দল চাঁদাবাজ হয়ে ৫ তারিখের পর আবির্ভূত হয়নি। যারা আবির্ভূত হয়েছিলেন, দায় ও দরদ নিয়ে তাদের সঙ্গে বসেছিলাম। এটি শহীদদের রক্তের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা, এটা বন্ধ করতে হবে। যদি বন্ধ করা না হয়, বিপ্লবী জনগণ, তরুণ জনতা, কোলে বাচ্চা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসা ওই মায়েরা আমাদেরকে ক্ষমা করবেন না। বন্ধ করা হয়নি, চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে। ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন। প্রশাসনিক ক্যু করার চেষ্টা করছেন।
আজ সোমবার (০১ ডিসেম্বর) বিকেলে খুলনা নগরের ঐতিহাসিক শিববাড়ী মোড়ে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া, দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটসংখ্যার ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন, গণভোট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আলাদাভাবে করাসহ পাঁচ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে আট দল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সমাবেশে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ছলে-বলে-কৌশলে কেউ কেউ আমরা শুনতে পাই, বিভিন্ন জায়গায় বসে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন—জনগণ ভোট দিক বা না দিক ক্ষমতায় তাঁদের যেতে হবে। বেলা শেষ, দিনও শেষ। সূর্যও ডুবে গেছে। বাংলাদেশে এটা হবে না, এটা আমরা হতে দেব না, ইনশা আল্লাহ।’
আগের চেয়ে চাঁদার রেট বেড়ে গেছে মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, একটা দেশকে সভ্য দেশ হতে হলে সেই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত হতে হয়। কিছু দল ও ব্যক্তি বাংলাদেশকে দফায় দফায় দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করে বিশ্ব দরবারে অপমানিত করেছে। এদের সকলের অতীত রেকর্ড বাংলাদেশের জনগণের হাতে আছে। দুঃখের বিষয়, সকল ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, বৈষম্য, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের বিপ্লব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বিপ্লবের পরের দিন থেকে একটা গোষ্ঠী নিজেদের কপাল-কিসমত গড়ার জন্য বাংলাদেশের জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আজ চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে সমাজজীবন অতিষ্ঠ-তটস্থ। ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বিনিয়োগকারী, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—কেউ শান্তিতে নেই। আগের চেয়ে চাঁদার রেট বেড়ে গেছে বলে তারা সকলে বিষাক্ত নিশ্বাস ফেলে। তারা বলে, আগেও ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ। কিন্তু কোনো ইসলামী দলের নামে চাঁদাবাজের তকমা জুড়ে দেওয়া যায়নি।
দেশের বিচারব্যবস্থার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হয়েছে, এই সময়ের স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের লালিত স্বপ্ন অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি। দৃশ্যমান কিছু উন্নয়ন সাধন হয়েছে, আমরা তা অস্বীকার করি না। তবে এই উন্নয়ন একটি জাতির আসল উন্নয়ন নয়; একটি জাতির আসল উন্নয়ন হচ্ছে—এই দেশ ও জাতির মধ্যে ন্যায়বিচার এবং সামাজিক সুবিচার আছে কি নেই। বাংলাদেশের গ্রাম আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত আজকে যার প্রভাব-প্রতিপত্তি নেই, অ্যাকাউন্টভর্তি যার টাকা নেই, বাংলাদেশে তার জন্য কোনো বিচার নেই।
জামায়াতের আমির বলেন, দিশেহারা হয়ে হতাশ, ক্ষুব্ধ হয়ে চোরাবালিতে কেউ যদি হাঁটার চিন্তা করেন, তাহলে প্রয়োজনে আরেকটা ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এখন থেকে ঐক্য আমাদের গড়ে তুলতে হবে। ঐক্য আগামী দিনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে যাবে বিজয়ীর বেশে। এই বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। আগামীর ভোট ঐক্যের পক্ষে, বিভক্তির বিপক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, কোরআনের পক্ষে, জনগণের পক্ষে। আমরা এই আট দলের বিজয় চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমরা কোনো দলবিশেষের বিজয় চাই না। আমরা মজলুম জনগণের বিজয় চাই। আমরা আল্লাহর কোরআনের বিজয় চাই। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত—এক ভাগ ’৭২ সালের বাকশালপন্থী, আর এক ভাগ ২০২৪ সালের বিপ্লবপন্থী শক্তি। রক্তের সাগর পেরিয়ে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর যেই ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত করা হয়েছে, সেই ফ্যাসিবাদ বাংলার মাটিতে আসবে না। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি কার্যকরে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। জুলাই সনদকে চূড়ান্ত আইনি ভিত্তি দিতে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। একসঙ্গে তালগোল পাকিয়ে এই মাহাত্ম্যকে নষ্ট করবেন না। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন করা হোক। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
সমাবেশে খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ৮ দল ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজ থাকবে না। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, এটাকে কেউ ভাঙতে পারবে না, ইনশা আল্লাহ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা—এই তিনটা স্লোগানের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু গত ৫৩ বছর যাদের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয়েছে, তারা তিনটা উদ্দেশ্যের একটাও কিঞ্চিৎ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তারা বারবার ধোঁকা দিয়ে চোরের দিক থেকে দুর্নীতির দিক থেকে বারবার ফার্স্ট বানিয়েছে। আমাদের সন্তানগুলো মায়ের কোলহারা করেছে, লাখ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে তাদের সংসারকে বিরান করেছে, ক্ষমতার চেয়ারে বসে আমাদের দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে; বেগমপাড়া তৈরি করেছে।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আরও বলেন, ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ব্যাপারে আপনারা হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে দেখেছেন, আপনাদের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। এখন নির্বাচনকে পিছিয়ে নেওয়ার জন্য আপনারা ষড়যন্ত্র করছেন। ভালো করে জেনে রাখেন, জনগণ আপনাদের পক্ষে মতামত, রায় দেওয়ার মতো পরিবেশ নেই। এখন আপনারা গুন্ডামি, সেন্টার দখল, বিভিন্ন সন্ত্রাসীর মাধ্যমে আপনারা ক্ষমতার চেয়ারে বসবেন—সেদিন ভুলে যান। এখন দেশের মানুষ সজাগ রয়েছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদেক হক্কানী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আবদুল আউয়াল ও মহাসচিব ইউনুস আহমাদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন প্রমুখ।
রাজনীতি
অপরাধীরা ছাড়া ছাত্রলীগ করলেও এনসিপিতে যোগ দেওয়া যাবে : নাহিদ
অতীতে ছাত্রলীগ করলেও জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া যাবে, তবে অপরাধে জড়িতদের জন্য দলটির দরজা বন্ধ— এমনটাই জানিয়েছেন দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত, গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত অপরাধীরা কখনোই এনসিপিতে যোগ দিতে পারবেন না।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতাদের যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ।
তিনি বলেন, অতীতে কেউ ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা ছাত্রলীগ— যে সংগঠনই করুক না কেন, তা এনসিপির কাছে মুখ্য নয়। বরং কেউ যখন এনসিপিতে যোগ দেবেন, তখন থেকেই তিনি দলের আদর্শ ধারণ করে একজন সংগঠক ও নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করবেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দায়িত্বশীল রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আগ্রহী, তাদের নিয়েই দল সামনে এগোতে চায়। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আগামীর রাজনীতি বিনির্মাণই এনসিপির লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, আজ যারা দলে যোগ দিচ্ছেন, তারা এতদিনও একই আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, শুধু প্ল্যাটফর্ম ভিন্ন ছিল। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সবাই একত্রিত হচ্ছেন। তিনি সারাদেশের তরুণসহ সব বয়সী মানুষকে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশে নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণ যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনীতি
সংসদে মন্ত্রীদের কথা শুনলে মনে হয় দেশে কোনো সমস্যা নেই: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা যখন সংসদে কথা বলেন, তখন তাদের কথায় দেশে কোনো সমস্যা খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু আমরা যখন সমাজের কাছে যাই, তখন দেখি সমস্যার পাহাড় জমে আছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত শিশুদের পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, দেশে সবচেয়ে প্রাধান্য পাওয়ার কথা দুটি খাত হলো শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাত। কিন্তু আমাদের দেশে এই দুই খাতই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। আমরা সংসদে প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছিলাম, দেশে পর্যাপ্ত আইসিইউ আছে কিনা। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আছে। অথচ আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে সাক্ষ্য দিচ্ছি, বাংলাদেশের বেশিরভাগ হাসপাতালে আইসিইউ-এর অস্তিত্বই নেই।
আইসিইউ মেইনটেইন করতে হলে আগে আইসিইউ রিসোর্স পারসনকে প্রশিক্ষিত করতে হবে, যাদের ক্রিটিক্যাল কেয়ার স্পেশালিস্ট বলা হয়। সেই ব্যবস্থাটাই বাংলাদেশে গড়ে তোলা হয়নি।
শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সর্বদা নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আমরা সব রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারাও মানুষের জন্য কাজ করুন। এই হাসপাতালটিতে সারা দেশ থেকে শিশুরা চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু এখানে পর্যাপ্ত সেবা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা নেই।
আগে সরকার এ হাসপাতালের জন্য ৩০ কোটি টাকা বাজেট প্রদান করতো, কিন্তু গত বছর থেকে তা কমিয়ে ২৮ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। যুগের সঙ্গে ও চাহিদা অনুযায়ী বাজেট বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, কিন্তু তা কেন কমানো হয়েছে? আমরা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই, আপনারা এ শিশু হাসপাতালটির দিকে বিশেষ নজর দিন। কারণ শিশুরাই আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।
শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এখানে ৬৪ জন হামের রোগী ভর্তি আছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হাম সন্দেহে ১০ জন শিশু মারা গেছে এখানে।
রাজনীতি
জাতীয় নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন হিসেবে জাতীয় নারীশক্তির ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে নারীশক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা আলম মিতুর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের অনুমোদনে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মনিরা শারমিন এবং সদস্যসচিব হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মাহমুদা আলম মিতু। এছাড়া সংগঠনের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করবেন নুসরাত তাবাসসুম।
কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে আরো রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে সাগুফতা বুশরা মিশমা এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব পদে মনজিলা ঝুমা। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন হাফসা জাহান, নাবিলা তাসনিদ, খন্দকার খালেদা আক্তার, আশরেফা খাতুন ও মুনা হাফসা।
এছাড়া যুগ্ম সদস্যসচিব পদে দ্ব্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতি, নাহিদা বুশরা, কাজী আয়েশা আহমেদ, নীলা আফরোজ, মাহমুদা রিমি ও ইসরাত জাহান বিন্দুসহ মোট ছয়জন দায়িত্ব পালন করবেন।
সংগঠনটিকে গতিশীল করতে আটজন যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও ১৬ জন সংগঠককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যুগ্ম মুখ্য সংগঠক হয়েছেন ইশরাত জাহান, উরসী মাহফিলা, সাদিয়া আফরিন, জয়ন্তী বিশ্বাস, সোনিয়া লুবনা, নাফিসা মুশতারী ও নাদিয়া ইসলাম মিম।
সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রেহনুমা রুমা, ফারজানা আক্তার, মনি মুক্তা, সেজুতি আক্তার, ঐশি আলম পৃথ্বী, নির্মী আক্তার নিপা, শাহিন সুলতানা ইতি, সাদিয়া আলম স্নিগ্ধা, বেনজির আক্তার, সাবরিনা রহিম প্রিয়া, ফালানি রবিদাস, ঋদিতা হৃদি, ফারহা এমদাদ ও সুরাইয়া ইয়াসমীন।
কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ফারিবা হায়দার, সালওয়া শামস, ইয়াসমিন তামান্না, সামিনা নাসরিন স্বপ্নীল, আকলিমা আক্তার, তোফাইয়া তুন নাসা শিমু, কানিজ ফাতেমা, মাহমুদা আকতার দুলারি, মোছা. শারমিন আক্তার, ফারজানা আক্তার নুপুর, তাসনিম তিশা, সাবিকুন নাহার, তাহমিদুন্নাহার তামান্না, আজরীন আরবী, শামসুন্নাহার ও মারিয়াম ইসলাম।
রাজনীতি
এনসিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন, মুখ খুললেন রুমিন ফারহানা
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার গুঞ্জন নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা। তিনি এই গুঞ্জন নাকচ করে দিয়ে বলেন, এর কোনো ভিত্তি নেই, এটা গুজব।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের (বাংলা) টক শোতে অংশ নিয়ে এ কথা জানান তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, এটা একেবারেই গুঞ্জন, একেবারেই গুজব।
এটার সঙ্গে ন্যূনতম কোনো সত্যতা নেই। তিনি জানান, এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যে আলোচনা বা প্রচার হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। তার বক্তব্য, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। এনসিপির পক্ষ থেকেও তাকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপি ছেড়ে দেওয়া বা বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়ে যাওয়ার পরে অবশ্যই অন্য অনেক দল এপ্রোচ করবে। সেই ধারাবাহিকতায় এনসিপিও কিছুটা করেছে। ওরা বারবারই বলেছে আপা চলে আসেন আমাদের সাথে। আসেন আমরা একসাথে কাজ করি।
আপনি জুলাই মাঠে ছিলেন। আপনার বাসা ভাঙচুর হয়েছে। আপনি একজন ফ্রন্টলাইনার। সো আপনি আমাদের সঙ্গে যুক্ত হন। আমি তাদের এপ্রোচে হেসেছি। এটা নিয়ে কথা বাড়াইনি।’
এনসিপিতে যোগ দিলে সংসদে কথা বলার আরও স্পেস তৈরি হবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, শুধু কথা বলার সুযোগের জন্য আমি কোনো জোটে যোগ দেব না। কথা বলার জন্য অসংখ্য প্ল্যাটফর্ম আছে’ সেখানে আমি কথা বলতে পারি।
কিন্তু আমার নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ, চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা বিসর্জন দিয়ে কেবল সংসদে দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ পাওয়ার জন্য কোনো দলে যোগ দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
রাজনীতি
হামে আক্রান্ত শিশুদের দেখতে শিশু হাসপাতালে জামায়াত আমির
হামে আক্রান্ত শিশুদের দেখতে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত শিশু হাসপাতালে গেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় তিনি শিশুদের দেখতে যান।
এসময় বিরোধীদলীয় নেতা হাসপাতালের ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও পরিচালকসহ চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে জানতে চান এবং সমস্যাগুলো শোনেন।
পরে জামায়াত আমির হাসপাতালের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।
মতবিনিময় সভায় আমীরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।



