রাজনীতি
খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে এনসিপির ৩ নেতা
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ১০টার পরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান তারা।
পরে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং চলমান চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপি নেতারা। এনসিপি প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার (২৩ নভেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার থেকে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি।
সংকটাপন্ন বেগম জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন দলের নেতারা। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
রাজনীতি
খালেদা জিয়ার অবস্থা ক্রিটিক্যাল তবে স্থিতিশীল: তাসনিম জারা
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ক্রিটিকাল তবে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখে এসে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে আছেন, নিবিড় পরিচর্যায় আছেন। উনি সজ্ঞানে আছেন, সজাগ আছেন। শারীরিক অবস্থা ক্রিটিকাল তবে ফাইট করছেন। উনি অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট (উন্নত চিকিৎসা) পাচ্ছেন।
এনসিপির এই নেত্রী আরও বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) দলমত সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সবসময় ফাইট করেছেন। আমরা দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে উনার জন্য দোয়া করবো।
এমকে
রাজনীতি
জামায়াতকে ভোট দিলে আমার মৃতদেহ পাবেন: ফজলুর রহমান
“আপনাদের জন্য আমি একটা টাইটেল এনেছি। এই টাইটেলটা হলো আমি হইলাম ‘ফজা পাগলা’। যে হারামজাদারা আমাকে এই টাইটেলটা দিয়েছে, তাদের নাম হলো স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াত। তাদেরকে যদি ভোট দেন, তাইলে আমার মৃতদেহ পাবেন। তাদেরকে ভোট দেবেন আপনারা? দিবেন? আমি আমি ইচ্ছে করলে অনেক কিছু করতে পারি।”
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফজলুর রহমান সাহেব।
তিনি বলেন, কালকেও আমাকে অত্যন্ত ১০০ বকা দেওয়া হয়েছে। কি বকা দেয় বুঝবেন না আপনারা। কি বকা দেয় সহ্য করা যায় না। আমার অপরাধ কি? আমিতো জামায়াতে ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদেরকে বকি নাই। তারা যখন ৫ আগস্ট এরপরে বলতে শুরু করলো ৪৭ সনে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল আর ২৪ সনে শেষ মুক্তিযুদ্ধ হইছে। একাত্তর সনে একটা গন্ডগোল হইছিল। এই গন্ডগোলটা ইন্ডিয়া লাগাইয়া দিসিলো একাত্তর সনে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই। তিন দিন আমি অপেক্ষা করলাম, আমার নাম ফজলুর রহমান। আমি সাধারণ মানুষের ছেলে। কিন্তু যারা যুদ্ধ করে এই বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে আমি তাদের মধ্যে অন্যতম বন্ধুরা। কাজেই যখন দেখলাম কেউ কথা বলে না।
তিনি আরও বলেন, আমার দল যখন চুপ করে থাকে, তখন জীবন-মৃত্যুর রিক্স নিয়ে বাম হাতের আঙ্গুলটা তুলে আমি বললাম এই রাজাকারের বাচ্চারা এখনো কিন্তু জীবিত আছি রে। মুক্তিযুদ্ধ আছে, মুক্তিযুদ্ধ থাকবে। তোমরা যদি মুক্তিযুদ্ধকে শেষ করে দিতে চাও তোমাদের সঙ্গে আরেকটা রাজনৈতিক যুদ্ধ আমাদের হবে।
অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস. এম. কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান স্বপন ঠাকুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
রাজনীতি
কাঁদতে কাঁদতে আমীর পদে শপথ নিলেন ডা. শফিকুর
কাঁদতে কাঁদতে আমীর পদে শপথ নিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে নতুন কার্যকাল ২০২৬–২০২৮-এর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
আমিরকে শপথ বাক্য পাঠ করান জামায়াতের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম। এতে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ এবং নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দলটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন কার্যকাল শুরুর অংশ হিসেবে শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
গত ২ নভেম্বর প্রকাশিত আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ডা. শফিকুর রহমানের তৃতীয়বারের মতো আমির নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে তিনি ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর প্রথমবার এবং ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর দ্বিতীয়বার আমির নির্বাচিত হন। দলের ইতিহাসে টানা তিন মেয়াদে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নেতাদের তালিকায় এর আগে ছিলেন কেবল অধ্যাপক গোলাম আযম ও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।
এমকে
রাজনীতি
জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের মাটিতে চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না: শাহজাহান মিয়া
জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের মাটিতে কোন চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর জেলার সেক্রেটারী ও জামায়াত মনোনীত চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এ দেশে ন্যায় বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কোরআনের শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একই সাথে জনগণের অধিকার, দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে চায়। এই কাজে অবশ্যই সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে তালতলা বাজারে সদর উপজেলার মৈশাদি ইউনিয়ন জামায়াতের নতুন কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে আপনারা দেখেছেন চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট, দখলবাজ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে বারবার জনগণ প্রতারিত হয়েছে। বারবার জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে।
এই নেতা বলেন, কোন দখলবাজা ও সন্ত্রাস বাংলার মাটিতে থাকবে না। আমরা নিজেরা দুর্নীতি করবো না, কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশে আপনারা আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খবর শুনবেন না।
তিনি ইউনিয়নবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের জন্য আপনারা একটু মেহনত করেন। এর সুফল আপনারা পাবেন। আগামীর নির্বাচনে সুন্দর বাংলাদেশ, মানবিক বাংলাদেশ উপহার পাবেন। যে রাষ্ট্রে সকল মানুষ সুখে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
বক্তব্যে পূর্বে প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া ফিতা কেটে ইউনিয়ন জামায়াতের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল হোসেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক নাছির উদ্দিন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির আফসার উদ্দিন মিয়াজী।
আরো বক্তব্য দেন সদর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য পিএম গিয়াস উদ্দিন, ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুল্লাহ মো. শাকুর, ইউনিয়ন জামায়াতের সিনিয়র সহ সভাপতি মাওলানা জাকির হোসেন তপদার, কাওসার নিহান, সহ-সভাপতি মাওলানা হেলাল উদ্দিন।
দোয়া ও মোনজাতা পরিচালনা করেন তালতলা মসজিদের ইমাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের সমর্থনে তালতলা বাজারে একটি মিছিল বের হয়।
এমকে
রাজনীতি
জনগণের ওয়াদা পূরণই বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য: ইশরাক
ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিএনপি জনগণের কাছে যে ওয়াদা করেছে, তা বাস্তবায়ন করাই এখন একমাত্র লক্ষ্য। এ কারণে আমাদের নেতাকর্মীরা রাজপথে ও নির্বাচনী মাঠে রয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে মিলব্যারাক জিরো পয়েন্টে নবনির্মিত ফোয়ারা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশে কোনো সংস্কারই বাস্তবায়ন সম্ভব নয় জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া হতে পারে, কিন্তু নির্বাচন থামিয়ে রাখা যায় না। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে। সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে।
অভিযোগ তুলে ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত এই প্রার্থী বলেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ’ বলে জাতিকে ভাগ করে শোষণ চালানো হয়েছে। এই বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এক মাসে দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে এবং এই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত নির্বাচনের সময় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র এখনও চলছে, তবে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকলে জনগণ তাদের পাশে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে দাবি তোলা হচ্ছে তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কারণ এতে এলাকার জনগণ তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ হারাবে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর সংঘটিত গুম-খুন ও নির্যাতনের বিচার প্রসঙ্গে সাদেক হোসেন খোকাপুত্র বলেন, আমরা ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য নেতাকর্মীর গুম ও হত্যার বিচার চাই। তবে সেই বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থার মাধ্যমে, প্রতিহিংসার মাধ্যমে নয়।
দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিসিইউতে রয়েছেন। দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।”
দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ইশরাক হোসেন বলেন, তার অবিচল নেতৃত্বের কারণেই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতন সম্ভব হয়েছে।



