আইন-আদালত
মানবতাবিরোধী অপরাধ: ট্রাইব্যুনালে ১৩ সেনা কর্মকর্তা
শেখ হাসিনার টানা ক্ষমতায় টিএফআই-জেআইসি সেলে বিরোধী মতাদর্শের লোকদের তুলে নিয়ে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলায় সেনাবাহিনীর ১৩ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আসামি রয়েছেন ৩০ জন।
রোববার (২৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনে পুলিশ। এরপর প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে একে একে সেনা কর্মকর্তাদের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
এদিন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের শুনানি হবে। সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ফেরত সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
ট্রাইব্যুনালে আনা ১৩ সেনা কর্মকর্তা হলেন- র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
এদিকে, সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ঘিরে নিরাপত্তায় রয়েছেন পুলিশ, বিজিবি-র্যাব সদস্যরা। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন দায়িত্বরতরা।
গত ২০ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের এ দুই মামলার শুনানি দিন ধার্য ছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন ঠিক করা হয়। ২৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
এর আগে, ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১৩ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য সাতদিনের মধ্যে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। যার এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর পৃথক দুই মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশনের (টিএফআই) গোপন সেলে বন্দি রেখে নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।
অন্যরা হলেন- শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, র্যাব কর্মকর্তা কেএম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, মাহবুব আলম, আবদুল্লাহ আল মোমেন, সারোয়ার বিন কাশেম, খায়রুল ইসলাম, মশিউর রহমান জুয়েল ও সাইফুল ইসলাম সুমন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ১০ সেনা কর্মকর্তা।
এছাড়া জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা আয়নাঘরে গুমের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায়ও শেখ হাসিনা-তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নাম রয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) লে. জেনারেল (অব) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী ও লে. কর্নেল (অব) মখসুরুল হক। এ মামলায় তিনজন কারাগারে থাকলেও বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
এমকে
আইন-আদালত
তিন ধরনের আদালত-ট্রাইব্যুনালকে বিশেষ আদালত ঘোষণা
সরকার সারাদেশের পারিবারিক আপিল আদালত, শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালকে বিশেষ আদালত হিসেবে ঘোষণা করেছে। ‘বিশেষ আদালত (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আইন, ২০০৩’ -এ দেওয়া ক্ষমতাবলে এ ঘোষণা দিয়ে ১২ জানুয়ারি আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেওয়ানি মামলা বিচারের জন্য এসব আদালত ও ট্রাইব্যুনালকে জেলা জজ আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব আদালতকে বিশেষ জেলা জজ আদালত হিসেবে অভিহিত করা হবে।
একই সঙ্গে ফৌজদারি মামলা বিচারের ক্ষেত্রে এগুলো দায়রা জজ আদালত হিসেবে গণ্য হবে এবং বিশেষ দায়রা জজ আদালত হিসেবে পরিচিত হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সারাদেশে অবস্থিত সব পারিবারিক আপিল আদালত, সব শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং সব ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল এ ঘোষণার আওতায় পড়বে।
আইন-আদালত
শতাধিক গুম-খুনের মামলায় জিয়াউলের বিচার শুরু
শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রথমে জিয়াউলের অব্যাহতি চেয়ে করা আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পড়েন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। অভিযোগ পড়া শেষে কাঠগড়ায় থাকা জিয়াউলকে নিজের দোষ স্বীকার করবেন কি না জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। তখন দাঁড়িয়ে জিয়াউল বলেন, ‘নট গিল্টি’।
পরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্যরা। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন নাহার।
এদিন সকালে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন তিনি।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনা প্রসিকিউশনের তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করেন তার আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য-উপাত্ত মতে এসব ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করা হয়। এজন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে তার অব্যাহতি প্রার্থনা করেন তারা। ৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। এতে জিয়াউলের অপরাধমূলক সব কর্মকাণ্ডের বিবরণ দেওয়া হয়। তথ্যপ্রমাণাদি বিবেচনায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর।
এ মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথমটি হলো— ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিন হত্যা।
দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময়কাল হলো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়টায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা।
তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ হত্যার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। অর্থাৎ দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লিখিত সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনের প্রাণ নেওয়া।
এসব হত্যাকাণ্ডের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। একই দিন সকালে ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
এমকে
আইন-আদালত
মমতাজের প্রায় ১২ কোটি টাকার সম্পদ জব্দের নির্দেশ
দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে এবার তার মালিকানাধীন বিপুল স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের (জব্দ) আদেশ দিয়েছেন আদালত। তার পৈতৃক বাড়ি বাদে জব্দকৃত এসব স্থাবর সম্পদের দলিলে প্রদর্শিত মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
গতকাল মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশ দেন।
আদালতের নথিপত্র ও দুদকের আবেদন সূত্রে জানা যায়, জব্দের নির্দেশ দেওয়া সম্পদের মধ্যে রাজধানীর পাশাপাশি মানিকগঞ্জের একাধিক দালান ও জমি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকার একটি পাঁচতলা ভবন এবং পূর্বাচলে থাকা ৯ কাঠার একটি প্লট। এ ছাড়া নিজ জেলা মানিকগঞ্জ সদরে একটি চারতলা বাড়ি এবং সিংগাইর উপজেলায় দুটি দোতলা বাসভবনও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এর বাইরে সিংগাইরের জয়নগরসহ বিভিন্ন মৌজায় প্রায় ৪২০ শতাংশ জমি ক্রোক করার আদেশ হয়েছে। তবে মমতাজের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া মানিকগঞ্জের একটি দোতলা বাড়িকে আপাতত এই আদেশের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার আদালতে দুদকের পক্ষে এই জব্দের আবেদনটি পেশ করেন সংস্থাটির উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। শুনানিতে দুদকের পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরা হয় যে, মমতাজ বেগম এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত চলাকালীন এসব সম্পদ অন্য কোথাও হস্তান্তর বা বিক্রি করে ফেলার শক্তিশালী আশঙ্কা রয়েছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব সম্পদ অবরুদ্ধ করা জরুরি। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পৈতৃক বাড়ি বাদে জব্দকৃত এসব স্থাবর সম্পদের দলিলে প্রদর্শিত মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৩ মে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হন মমতাজ। এরপর থেকে হত্যাচেষ্টা ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় তিনি কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
এমকে
আইন-আদালত
হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের ৪৫৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেন। ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ রায়ে উঠে এসেছে ভয়ংকর সব নৃশংসতা এবং রাষ্ট্রীয় মদদে হত্যার নীল নকশা।
গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রধান দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দুটি পৃথক অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মামলার অন্যতম আসামি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত তার ৪৫৭ পৃষ্ঠার রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বিশ্লেষণ করেছেন এবং অপরাধগুলোকে দুটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। প্রথম শ্রেণিতে উসকানি ও প্ররোচনার বিষয়টি উঠে এসেছে।
রায়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে সম্বোধন করেন। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত উসকানি।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের রেকর্ড থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি আন্দোলনকারীদের কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই উসকানি ও প্ররোচনার সরাসরি ফল হিসেবে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে সরাসরি হত্যার নির্দেশ ও নৃশংসতার বিষয়টি উঠে এসেছে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের সবচেয়ে ভয়ংকর অংশটি হলো ১৮ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত জানিয়েছেন, তৎকালীন মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে কথোপকথনে শেখ হাসিনা ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয় করে হেলিকপ্টার থেকে মারণাস্ত্র ব্যবহারের সরাসরি নির্দেশ দেন।
এই নির্দেশের নিষ্ঠুর প্রতিফলন দেখা যায় ৫ আগস্ট ঢাকার চানখারপুলে, যেখানে ছয়জন এবং আশুলিয়ায় আরও ছয়জনকে গুলি করে হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই পাশবিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসি প্রদানের রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে আদালত একটি নজিরবিহীন নির্দেশনা দিয়েছেন। দণ্ডিত ব্যক্তিদের নামে দেশে বিদ্যমান সকল স্থাবর যেমন জমি ও বাড়ি এবং অস্থাবর যেমন ব্যাংক ব্যালেন্স ও শেয়ার সম্পত্তি রাষ্ট্রকে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই বাজেয়াপ্ত করা অর্থ ও সম্পদ যেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া এক চূড়ান্ত ধাপে উপনীত হলো। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই রায়টি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ এবং পরবর্তীকালে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধের বিচারিক দলিল হিসেবে এটি সংরক্ষিত থাকবে।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হওয়ার পর জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই রায়ের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হলো যে, জনগণের ওপর গুলি চালিয়ে কেউ পার পায় না। তারা এখন এই রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে এনে এই দণ্ড কার্যকরের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছেন বিশিষ্টজনরা।
শহীদ আবু সাঈদ থেকে শুরু করে আশুলিয়ার পুড়ে যাওয়া সেই দেহগুলো, সবার রক্তের যে ঋণ, এই ৪৫৭ পৃষ্ঠার রায়ে তার আংশিক বিচার প্রতিফলিত হয়েছে। বিচার বিভাগ তার দায়িত্ব পালন করেছে; এখন দেখার বিষয় সরকার কত দ্রুত দণ্ডিতদের ফিরিয়ে এনে এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে।
এমকে
আইন-আদালত
শেখ হাসিনা, টিউলিপ ও আজমিনার মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার যুক্তিতর্কের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানি শেষে এ মামলার রায়ের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক রবিউল আলমের আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজুর রহমান।
গত ৫ জানুয়ারি একই আদালত মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। ওইদিন আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া সাক্ষ্য দেন। পরে আসামি মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে তার আইনজীবী শাহিন উর রহমান তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করেন। জেরা শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ৩১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে ৮ জানুয়ারি আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুজনকে যুক্ত করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
অন্য আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী আনিছুর রহমান মিঞা, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), রাজউকের সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম এবং উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ।
পরবর্তীতে মামলায় যুক্ত হওয়া দুই আসামি হলেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
এমকে



