অর্থনীতি
চট্টগ্রাম বন্দরে ড্যানিশ কোম্পানির ৬৭০০ কোটি বিনিয়োগ
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং ৩০ বছরের জন্য এটি পরিচালনার দায়িত্ব পেলো ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। এ প্রতিষ্ঠানটি এপি মোলার মার্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় এ টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে কোম্পানিটি।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে এপিএম টার্মিনালস এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
চুক্তিতে সই করেন এপিএম টার্মিনালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টেইন ভ্যান ডোঙ্গেন এবং চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির (পিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিপিং উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক স্টেট সেক্রেটারি লিনা গ্যান্ডলোসে হ্যানসেন, বাংলাদেশে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার এবং মার্স্ক বোর্ড চেয়ারম্যান রবার্ট মার্স্ক উগলা।
তিনি বলেন, লালদিয়া টার্মিনাল ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, এপিএম টার্মিনালসই টার্মিনালটির নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ এবং পরবর্তী ৩০ বছর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। পার্টিকুলারলি তাদের জন্য যারা ৪ আগস্ট রক্ত দিয়েছে। যারা জীবন দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য,এটা তাদের জন্য। এই প্রকল্প যখন শেষ হবে তখন অনেক তরুণের কর্মসংস্থান হবে।
এই উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম পোর্ট ছাড়াও মংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো কাজ চলছে। মংলাতেও বিনিয়োগ আসছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা মেরিটাইম পোর্ট স্ট্রেটেজি নিয়ে কাজ করছি। যা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। আমরা আশা করছি এটা আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান করবে।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইও আশিক চৌধুরী বলেন, আগামী কয়েক বছরে চারটি নতুন সমুদ্রবন্দর, যার মধ্যে রয়েছে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর, একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল এবং একটি ডেডিকেটেড ফ্রি ট্রেড জোন।
ভিডিও বার্তায় ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার শুরুর দিকেই ডেনমার্ক সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং গত পাঁচ দশকে দুই দেশের উন্নয়ন সহযোগিতা সফলভাবে এগিয়েছে। আজ আমাদের সম্পর্ক সহায়তা থেকে ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। মাথাপিছু ভিত্তিতে ডেনমার্ক বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি গন্তব্য।
অর্থনীতি
গ্রিনহাউস গ্যাস ৮৪.৯৭ মিলিয়ন টন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ
বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ৮৪ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন টন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, এর মধ্যে নিজস্ব সক্ষমতায় ২৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার শর্তে অতিরিক্ত ৫৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন টন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ ব্যাপারে অনুমোদন দেওয়া হয়।
তিনি জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ছিল ২০২ দশমিক শূন্য ৪ মিলিয়ন টন। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালে তা বেড়ে ৪১৮ দশমিক ৪০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে তৃতীয় ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি-৩) অনুযায়ী নিঃসরণ কমানোর রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়েছে।
এনডিসি-৩–এ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এনার্জি খাতে, যেখানে ৬৯ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন টন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য ধরা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প খাতে শূন্য দশমিক ৬৪ মিলিয়ন টন, কৃষি খাতে ৮ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন টন, বন ও ভূমি ব্যবহার খাতে ৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন টন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ১ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন টন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতিসংঘের বিভিন্ন কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে ইউএনএফসিসিসি সচিবালয়ে তার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে আসছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৃতীয় এনডিসি বাংলাদেশের জলবায়ু দায়বদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বকে নতুন করে তুলে ধরেছে।
অর্থনীতি
চালের দাম বাড়তি, সরবরাহ বাড়লেও সবজিতে অস্বস্তি
শীত মৌসুমের সব সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম নিয়ে অস্বস্তি কাটছে না ক্রেতাদের। এ ছাড়া খুচরা বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দাম বাড়তি দেখা গেছে।
রাজধানীর খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রচণ্ড শীতে সবজি তুলতে পারছেন না কৃষকরা। তাপমাত্রা বাড়লে কমবে সবজির দাম।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি পিস মাঝারি আকারের ফুল কপি মিলেছে ১৫-২৫ টাকায়। ১০-১৫ টাকা বেড়ে তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। এ ছাড়া ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি মুলা ৪০ টাকায়, বেগুন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকায়। কিছুটা বেড়ে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। প্রতিকেজি শালগম, পেঁপে, ব্রকলি মিলছে ৩০-৫০ টাকায়। বছরের এই সময়ে টমেটোর দাম থাকে ক্রেতার নাগালের মধ্যে। তবে বাজারে পাকা, কাচাঁ ও আধাপাকা তিন ধরনের টমেটোর দাম ১০০-১২০ টাকা। গত সপ্তাহে ৮০ টাকায় মিলেছে পাকা টমেটো। প্রতিকেজি ঢ্যাঁড়শ, পটল বিক্রি হচ্ছে ৯০-১২০ টাকায়।
গত সপ্তাহের মতো প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি রঙের ডিম ১০৫-১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লারের কেজি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা আর সোনালি জাতের মুরগির কেজি কেনা যাচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। প্রতিকেজি গরুর মাংস মিলছে ৭৫০-৮০০ টাকায়।
প্রতিকেজি পাঙাশ ১৭০-২০০ টাকায়, পাবদা ৪০০-৫৩০ টাকায়, কৈ মাচ ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি রুই ৩২০-৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৮০ টাকা, কাতলা ৩৪০-৪৪০ টাকা, শিং ৩৪০-৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে খুচরা বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুই ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। এ ছাড়া বেড়েছে মুগ ডাল, ছোট মসুর ডাল ও চা-এর দাম। অবশ্য বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ডিম ও মুরগির দাম স্থিতিশীল আছে।
বিক্রেতারা জানান, রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম ছিল ৬৫ টাকার আশপাশে, সেটি বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা। আর দামি মিনিকেট মোজাম্মেলের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৮৫-৮৬ টাকা হয়েছে।
গতকাল ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহখানেক আগে যা ৩-৪ টাকা কম ছিল। আর আমদানি করা নাজিরশাইলের কেজি রাখা হচ্ছে ৭৫-৭৮ টাকা। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল কেজিতে ৭২-৭৫ টাকা।
অর্থনীতি
আকুর বিল পরিশোধের পর ৩২ বিলিয়নে নামলো রিজার্ভ
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের ৩২ বিলিয়ন ডলারের নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫৩ কোটি ৫২ লাখ ডলার ডলারের সমপরিমাণ অর্থ আকুকে পরিশোধ করার পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের ইতিহাসে ২০২২ সালের আগস্টে রিজার্ভ উঠেছিল সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারে। এর পর আওয়ামী সরকারের সহায়তায় কয়েকটি ব্যক্তি ও গোষ্ঠি ব্যাপকভাবে অর্থ পাচার করতে থাকে। যার কারণে রিজার্ভে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। প্রতি মাসে রিজার্ভ কমতে–কমতে সরকার পতনের আগে ২০২৪ সালের জুলাই শেষে তা ২০ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করে অর্থ পাচার রোধে কঠোর হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে হুন্ডি বন্ধ হওয়ায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যায়। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাড়তে থাকে। যার ফলে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের মেয়াদোত্তীর্ণ বকেয়া পরিশোধ করার পরও গ্রহণযোগ্য অবস্থায় রয়েছে রিজার্ভ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। এরপর সর্বশেষ ৭ জানুয়ারি দিন শেষে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩৩ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার।
এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা সবসময় প্রকাশ করা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য নিট রিজার্ভ ২৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।
প্রতি মাসে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার করে এ রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে ৪ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম সূচক হলো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ।
অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের শুল্ক কমানোর প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। এ ছাড়া তিনি সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রকে পারস্পরিক শুল্ক ২০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দেন খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে।
এ প্রেক্ষাপটে খলিলুর রহমান বর্তমান ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কহার কমানোর প্রস্তাব দেন। রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার এ প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি পোশাক পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমানো বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবও তিনি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার কথা জানান।
উভয় পক্ষ বাকি থাকা কয়েকটি বিষয় দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি করে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি চূড়ান্ত ও কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়।
খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী দিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করতে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের সহায়তা কামনা করেন।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি (ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন) তহবিলে প্রবেশাধিকারের অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার এ বিষয়ে তার প্রচেষ্টার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। ইউএসটিআরের পক্ষে সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডান লিঞ্চসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ড. খলিলুর রহমান আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
অর্থনীতি
স্বর্ণের দাম আরও কমলো
টানা দুই দফা বাড়ানোর পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমানো হয়। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং সনাতনপদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ টাকা।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই দিন ভরিতে এক লাফে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা।
সব মিলিয়ে নতুন বছরে মোট ৩ দফায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এর মধ্যে এক দফায় বাড়ানো হলেও ২ দফায় কমেছে স্বর্ণের দাম।
এর আগে সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর মাত্র ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
এমকে




