আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশের সঙ্গে বিরোধ, আন্তর্জাতিক সালিশে যাচ্ছে আদানি
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত অর্থপ্রদানের বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ব্যবসায়ী গৌতম আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার। সোমবার আদানি গ্রুপের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অর্থ প্রদানের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়া বেছে নিয়েছে আদানি পাওয়ার। ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি নেতৃত্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বকেয়া অর্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) আওতায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।
বিবৃতিতে আদানি পাওয়ার বলেছে, কিছু নির্দিষ্ট খাতের ব্যয়ের হিসেব ও বিল করার পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এমন অবস্থায় উভয় অংশীদারই বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এতে দ্রুত, মসৃণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক সমাধানের বিষয়ে উভয়পক্ষই আশাবাদী।
তবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান রয়টার্সকে বলেছেন, আলোচনা এখনো চলছে। আলোচনা শেষ হলে প্রয়োজনে আমরা আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় যাব।
২০১৭ সালে ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানি আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় অবস্থিত কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে ২৫ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
আদানি পাওয়ার গড্ডা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎচাহিদার প্রায় এক-দশমাংশ পূরণ করে এই কোম্পানিটি।
গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলেছিল, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করেছে। কোম্পানিটি ভারতের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া কর-সুবিধার ছাড় বাংলাদেশকে না দেওয়ায় এই অভিযোগ করা হয়।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ আদানিকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১৪.৮৭ টাকা (০.১২২ মার্কিন ডলার) হারে মূল্য পরিশোধ করেছে; যা অন্যান্য ভারতীয় কোম্পানির সরবরাহকৃত বিদ্যুতের গড় ৯.৫৭ টাকার তুলনায় অনেক বেশি।
গত সপ্তাহে আদানি পাওয়ার বলেছিল, বাংলাদেশের কাছ থেকে পাওনা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে এসেছে। গত মে মাসে আদানি পাওয়ারের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে; যা চলতি বছরের শুরুতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। বর্তমানে বাংলাদেশের কাছে আদানির বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ১৫ দিনের শুল্কের সমান।
সোমবারের বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, আদানি পাওয়ার বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখবে।
আদানি পাওয়ারের গড্ডা প্ল্যান্টটি আমদানি করা কয়লা দিয়ে চলে এবং এই কেন্দ্রে উৎপাদিত পুরো বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানি করার কথা। কোম্পানিটি বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিটি ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির উদ্দেশ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে আরও সহায়তা করছে। ২০১৯ সালে নয়াদিল্লি গড্ডার প্ল্যান্টটিকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অংশ হিসাবে ঘোষণা করে। এর ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আয়কর এবং অন্যান্য শুল্ক ছাড়ের মতো প্রণোদনা পায়।
গত ডিসেম্বরে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আদানি পাওয়ার ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মাঝে ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর স্বাক্ষরিত চুক্তি ও বাস্তবায়ন চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের করহার পরিবর্তন হলে সেই বিষয়ে বাংলাদেশকে দ্রুত অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভারত সরকারের কাছ থেকে ‘‘কর ছাড় সুবিধাও’’ দেওয়ার কথা আদানির।
কিন্তু আদানি পাওয়ার তা করেনি। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ও ২২ অক্টোবর বিপিডিবির পক্ষ থেকে আদানির কাছে দুই দফায় চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে ভারত সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশে সরবরাহ করা বিদ্যুতের দামে সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়। এসব চুক্তি এবং চিঠি সবার জন্য উন্মুক্ত না হলেও রয়টার্স দেখেছে বলে সেই সময় জানায়।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিপিডিবির দু’জন কর্মকর্তা বলেছিলেন, দুই দফায় চিঠি দেওয়া হলেও তারা আদানি পাওয়ারের কোনও সাড়া পাননি।
কর্মকর্তারা বলেছেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে যে করছাড় পেয়েছে আদানি পাওয়ার, সে অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম ধরা হলে বাংলাদেশের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে প্রায় শূন্য দশমিক ৩৫ সেন্ট সাশ্রয় হবে বলে বিপিডিবির ধারণা।
গড্ডা প্ল্যান্ট থেকে কেনা বিদ্যুতের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একটি সারসংক্ষেপ দেখেছে রয়টার্স। সারসংক্ষেপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গড্ডা প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে ৮ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। কর ছাড়ের বিষয়টি সমন্বয় করা হলে এই বিদ্যুতে বাংলাদেশের প্রায় ২৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতো।
আন্তর্জাতিক
লোকসভায় ভোটে বড় পরাজয় মোদির
ভারতের লোকসভায় পাস হতে ব্যর্থ হলো নারী আসন সংরক্ষণ ও লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির সংশোধনী বিল। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) লোকসভায় বিলটির পক্ষে পর্যাপ্ত ভোট না পড়ায় এটি বাতিল হয়ে যায়। দেশটির সংসদীয় ইতিহাসে একে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এ খবর জানিয়েছে।
জানা গেছে, বিলের পক্ষে ২৯৮ জন সদস্য ভোট দিলেও বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩০টি। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিলটি বাতিল হয়। বিলটি ২০২৯ সাল থেকে আইনসভায় নারী কোটা কার্যকর করা এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই বিলটির পরাজয়ের পর সংশ্লিষ্ট আরও দুটি বিল থেকেও সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, তারা এই সংক্রান্ত অন্য দুটি বিল নিয়েও আর এগোবে না। সরকারের মতে, বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করা সম্ভব নয়।
বিলটি খারিজ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, তারা এই সংক্রান্ত অন্য দুটি বিল নিয়েও আর এগোবে না। সরকারের মতে, বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করা সম্ভব নয়। বিলটি পাস না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্কারে ঐকমত্য গড়ে তোলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিতর্কের জবাবে জানান, ভোটার ও সংসদ সদস্যদের অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ থেকে বঞ্চিত করেছিল এবং এখনও একই অবস্থান বজায় রেখেছে।
বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী লোকসভায় তার বক্তব্যে সরকারের এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, এই বিলটির সঙ্গে নারী সংরক্ষণের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এটি দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলের একটি প্রচেষ্টা।
রাহুল গান্ধী বলেন, দক্ষিণ ভারত, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ছোট রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কেড়ে নেওয়ার এই চেষ্টা একটি ‘দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
আন্তর্জাতিক
সোমবার পাকিস্তানে আবারো বৈঠকে বসতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
শান্তি আলোচনায় আগামী সোমবার আবারো পাকিস্তানে বৈঠকে বসতে পারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এখনও আমেরিকার তরফে দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনায় অংশ নিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদল সম্ভবত রবিবারই পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছাবে। এটি চলমান উত্তেজনা কমাতে নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক সমাধান এগিয়ে নেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেন। মধ্যস্থতাকারী হিসাবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান যা ভূমিকা নিয়েছে, তার প্রশংসা করেছে কাতার ও তুরস্ক। পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফায় আমেরিকা-ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে গত বুধবার তেহরানে যান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার তার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে।
এর আগে ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ‘পিস টকস’ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, যা ঐতিহাসিক হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
আন্তর্জাতিক
চুক্তি না হলে ইরানে আবারো হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি না হলে আবারও সামরিক হামলা শুরু হতে পারে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নাও হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবো না। অবরোধ চলবে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে আবার বোমা হামলা শুরু করতে হতে পারে।’
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের প্রতিনিধিদল রোববার (১৯ এপ্রিল) ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন।
এর আগে টানা যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে।
আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলকে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা
লেবাননে হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইসরায়েল লেবাননে আর কোনো বোমা হামলা করতে পারবে না, যা কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, আর একটাও বোমা নয়, যথেষ্ট হয়েছে। গেল শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে কড়া ভাষায় লেখা পোস্টে এই মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর নিউ ইয়র্ক পোস্টের
ট্রাম্প আরো জানিয়েছেন, ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই চালকের আসনে রয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি আলোচনায় পানি ঢেলে দিয়েছেন। ইরান যদি তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম হস্তান্তর করে, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দুই হাজার কোটি ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ের কথা বিবেচনা করবেন বলে এমন তথ্য দিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এও অঙ্গীকার করেছেন, কোনোভাবেই হাতে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন হবে না।
ট্রাম্প আরো লিখেছেন, এই চুক্তি কোনোভাবেই লেবাননের ওপর নির্ভরশীল নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে লেবাননের সঙ্গে কাজ করবে।
সেই সঙ্গে হিজবুল্লাহর কার্যক্রম যথাযথভাবে মোকাবেলা করা হবে।
আন্তর্জাতিক
মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে: ইরান
লেবাননে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর শুক্রবার হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে খুলে দিয়েছে ইরান আর এতে শান্তি চুক্তি নিয়ে আশাবাদ বেড়েছে, কিন্তু তেহরান সতর্ক করে বলেছে যে যদি ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকে তাহলে তারা আবার এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক ঘোষণায় বলেছেন, “লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়কালের জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত হরমুজ প্রণালির সমন্বিত পথ দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল পুরোপুরি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হল।”
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু এ প্রণালিটি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এ পথে বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের এক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয় আর তা শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেইনি নিহত হওয়ার পর লেবাননের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহ যুদ্ধে যোগ দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার অ্যারিজোনায় এক জনসভায় সমর্থকদের বলেছেন যে আরাকচির ঘোষণা ‘বিশ্বের জন্য একটি মহান ও উজ্জ্বল দিন হিসেবে’ চিহ্নিত হয়েছে।
কিন্তু এরপর উভয়পক্ষ থেকে আসা বিবৃতি ও ব্যাখ্যাগুলোর কারণে কতো দ্রুত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শুক্রবার কিছু জাহাজকে প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে দেখা গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন’ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
এতে ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও জ্যেষ্ঠ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কলিবফ সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, “মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে প্রণালিটিও খোলা থাকবে না।”
তিনি বলেছেন, শান্তি আলোচনার বিষয়ে শুক্রবার ট্রাম্প অনেকগুলো মিথ্যা দাবি করেছেন।
ইরান বলেছে, হরমুজ প্রণালি পার হতে চাওয়া সব জাহাজকে অবশ্যই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েল বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘শত্রুর বাহিনীগুলোর’ সঙ্গে সম্পর্কিত সামরিক জাহাজাগুলোকে (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) প্রণালিটি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
জাহাজ চলাচলের তথ্য থেকে দেখা গেছে, কন্টেইনার, বাল্ক ক্যারিয়ার, ট্যাঙ্কারসহ প্রায় ২০টি জাহাজ শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে পারস্য উপসাগর হয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এগুলোর অধিকাংশকেই আবার ফিরে আসতে হয়েছে; কিন্তু কেন তা পরিষ্কার হয়নি।
এই দলটিতে ফরাসি শিপিং গোষ্ঠী সিএমএ সিজিএম এর তিনটি কন্টেইনার জাহাজ ছিল। এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজের সবচেয়ে বড় দল।
এর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পর বিরোধী ভাষ্য পাওয়া গেছে। ট্রাম্প রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে নেবে। অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে বলেছেন, ইরানের পরিশোধিত ইউরেনিয়াম কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।



