জাতীয়
জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট, অধ্যাদেশ জারি
উপদেষ্টা পরিষদের নীতিগত অনুমোদনের পর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীকে জোটে গেলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) জারি করা অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন করা হয়। এরপর জোট মনোনীত প্রার্থীকে নিজ দলের প্রতীকে ভোট করা নিয়ে বিএনপি আপত্তি তুললেও জামায়াত ও এনসিপি ২০ ধারার এ সংশোধন বহাল রাখার দাবি জানায়।
এ নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই সেই বিধান রেখেই অধ্যাদেশ জারি করা হল। ফলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একাধিক নিবন্ধিত দল জোট করলেও জোট মনোনীত প্রার্থী বড় দলের বা অন্য দলের প্রতীকে ভোট করতে পারবে না, নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একগুচ্ছ সংশোধন আনা হয়েছে আরপিওতে। আরপিও সংশোধন অধ্যোদেশ জারির মধ্যে নির্বাচনি আইনের সব ধরনের সংস্কার কাজ শেষ হলো।
ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা আইন সংশোধন, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন সংশোধন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন সংংশোধন, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, দেশি-বিদেশি পযবেক্ষণ নীতিমালা, সাংবাদিক নীতিমালাসহ সব ধরনের আিইন-বিধি সংস্কার করেছে ইসি। আরপিও সংশোধন হওয়ায় এর আলোকে দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা শিগগির জারি করবে ইসি।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে স্বাধীন দেশের সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় নানা পরিবর্তন আনা হয়েছে এ আইনে। এর আগে ২০২৩ সালে সংসদে পাস হয় গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন ২০২৩।
নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষের গণঅধিকার কোনগুলো এবং এ অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশন কী করবে সে সবই আরপিওতে উল্লেখ আছে। কীভাবে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে- তাও এর মধ্যে বলা আছে।
জাতীয়
চিকিৎসক হিসেবে আমি প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
দুই দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার : গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তার এ সফর।
মঙ্গল ও বুধবার (২৪ ও ২৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চল্লিশের অধিক ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন, যা বিশ্বব্যাপী শিশুদের কল্যাণ ও সম্ভাবনা উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। সম্মেলনে চিকিৎসক হিসেবে প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতির কথা জানান ডা. জুবাইদা রহমান।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে সম্মেলনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন এবং উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের প্রতি যত্ন নেওয়া ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তন ও সমৃদ্ধি আনয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রয়োগ উপস্থাপন করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমান এবং তার প্রতিনিধিদল প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান অংশগ্রহণ করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ওয়ার্কিং সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের উন্নয়ন বিষয়ে বৈশ্বিক অঙ্গীকারে বিশ্বনেতা ও অংশীদারদের একত্রিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ তাদের শিশুদের যত্ন, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, আজ এই ঐতিহাসিক ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার : গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষ সম্মেলনে আপনাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারাটা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয়। আমি ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি সারা বিশ্ব থেকে আমাদের এমন একটি মহৎ উদ্দেশ্যে একত্রিত করেছেন যা প্রতিটি জাতিকে স্পর্শ করে— আমাদের শিশুদের প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনা। আমরা উপলব্ধি করি যে, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের জীবনেই লেখা থাকে। আজ আমরা যে যত্ন প্রদান করি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি, তা-ই আগামী দিনে তাদের গড়া জাতিকে রূপ দেবে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আমি আমার দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এখানে এসেছি। আমার স্বামী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, আমাদের সদ্য নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো উদ্যোগ চালু করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে শক্তিশালী করে এবং শিশুদের নিরাপদ ও যত্নশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠাও নিশ্চিত করে। একজন চিকিৎসক হিসেবে, আমি প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; যেখানে শুধু চিকিৎসার উপরই নয়, জীবনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রতিরোধের উপরও জোর দেওয়া হয়।
অন্তর্ভুক্তি ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-জেডআরএফ’ এবং ‘সুরভী’র সামাজিক এবং অলাভজনক সংগঠনের সঙ্গে আমার কাজ শিক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের প্রসারে আমার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং উপকরণের সহজলভ্যতা এখনো অধরা। আমাদের সরকার ডিজিটাল যুগে উন্নতি করার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করছে। আমাদের সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ করছে, শিক্ষণ উপকরণ হালনাগাদ করছে, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু করছে। শ্রেণিকক্ষগুলো মাল্টিমিডিয়া বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিকশিত হচ্ছে, যা দলবদ্ধ কাজ, সৃজনশীলতা এবং আদর্শ স্থাপনে উৎসাহিত করছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রযুক্তি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রযুক্তি (এডটেক), শহুরে ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য কমাতে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। একইসঙ্গে, আমরা এই সরঞ্জামগুলোর নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে শিশুরা একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে ওঠে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী অধিকারকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমাদের সরকার স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারি খাতের ভিত্তি স্থাপন করে লাখ লাখ নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এই প্রচেষ্টাগুলো প্রমাণ করে, যখন নারীরা ক্ষমতায়িত হন, তখন পরিবারগুলো শক্তিশালী হয় এবং শিশুরা সমৃদ্ধি লাভ করে। আমরা অংশীদারত্বের গুরুত্বও স্বীকার করি। বেসরকারি খাত এবং আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমরা নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর প্রসারিত করতে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন করতে এবং সকলের জন্য শিক্ষার মান উন্নত করতে চাই। শক্তিশালী প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা প্রতিটি অঞ্চলকে সংযুক্ত করতে, প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত করতে এবং প্রতিটি শিক্ষণ যাত্রাকে ব্যক্তিগতকৃত করতে চাই। একসঙ্গে, আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি যা হবে সহনশীল, সহানুভূতিশীল এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, জ্ঞান বিনিময়, একে অপরের কাছ থেকে শেখা এবং সীমানা পেরিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা কেবল আমাদের দেশগুলোকেই শক্তিশালী করি না, বরং আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎকেও শক্তিশালী করি এবং বিশ্ব এর উত্তরাধিকারী হবে।
জাতীয়
সিনিয়র সহকারী সচিব হলেন ২৬৪ কর্মকর্তা
সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ২৬৪ জন সহকারী সচিব। তাদের এ পদোন্নতি দিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২৬৪ জন কর্মকর্তাকে ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১’ এর বিধি ৫(বি) অনুযায়ী সিনিয়র স্কেল (সিনিয়র সহকারী সচিব) পদে (জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫-এর ষষ্ঠ গ্রেড : টাকা ৩৫,৫০০-৬৭,০১০/-) পদোন্নতি প্রদান করা হলো।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠাবেন (e-mail-iapp@mopa.gov.bd) এবং পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মস্থলে স্ব স্ব পদে কর্মরত থাকবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয়
রাষ্ট্রপতির উপপ্রেস সচিব ও সহকারী প্রেস সচিব নিয়োগ
রাষ্ট্রপতির উপপ্রেস সচিব এবং সহকারী প্রেস সচিব পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তথ্য ক্যাডারের দুজন কর্মকর্তাকে এ দুই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোল্লা আহমদ কুতুবুদ-দ্বীনকে প্রেষণে রাষ্ট্রপতির উপপ্রেস সচিব নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে ন্যস্ত করে মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
একই আদেশে তথ্য অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা এস এম রাহাত হাসনাতকে প্রেষণে রাষ্ট্রপতির সহকারী প্রেস সচিব নিয়োগ দিয়ে তার চাকরিও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
মো. সরওয়ার আলম সচিব পদ মর্যাদায় রাষ্ট্রপতির সচিবের দায়িত্বে আছেন। নতুন করে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ে দুজন কর্মকর্তাকে যুক্ত করল সরকার।
গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের সব কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিএনপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আগের প্রেস সচিব সরওয়ার আলমকে একই পদে নিয়োগ দেয়।
অপর আদেশে কমডোর মো. আসাদুজ্জামানকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস পদে নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি সংসদ সচিবালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। আর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস কমডোর মো. রাশেদ সাত্তারকে নৌবাহিনীতে ফিরিয়ে নিতে তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জাতীয়
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের কাছে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি ভারতীয় দূতের কাছে মৌখিকভাবে তোলা হলেও, এখন পর্যন্ত দেশটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়নি বর্তমান সরকার।
ঈদ পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারে আসার পর এক মাস হয়েছে। সেই এক মাসে ভারতের হাই কমিশনারে সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে; ওই মিটিংয়ে ওই কথা বলা হয়েছে। গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলা আছে, কোনটার সাজা হয়েছে; আরও যারা আছে। তাদের ব্যাপারেও আমরা কথা বলেছি।
এ সরকার আসার পর শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আনুষ্ঠানিক চিঠি যায়নি এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা তো কথাই বলেছি। এটাতো অলরেডি চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার অভিযোগে ভারতে গ্রেপ্তারদের ফেরত আনার বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কিছু কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চলমান। তারা (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) আমাদের আপডেট দেওয়ার পর তাদের (ভারতের) সঙ্গে কথা বলবো।
তিনি বলেন, আর কনস্যুলার অ্যাক্সেস নিয়েও আলোচনা চলছে। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই তা পেয়ে যাব।
কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেতে এত দেরি কেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা ভারত বলতে পারবে। আমরা তো পুশ করছি। হাদি হত্যার আসামি যদি ভারতে গ্রেপ্তার হয়ে থাকে, তাদের ফিরিয়ে এনে সাজা দেওয়াটা আমাদের অগ্রাধিকার। সেটার বিচার আমরা নিশ্চিত করবো।
ভারত থেকে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জ্বালানি মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। আমরা যতদূর জানি একটা সবুজ সংকেত আমরা পেয়েছি।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে ভারতের কাছে চিঠি দেয় বাংলাদেশ। গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত সে দেশেই অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা।
জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি চুক্তিই স্বার্থ রক্ষা করে বাস্তবায়ন হবে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া প্রতিটি চুক্তিই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এসব চুক্তি নিয়ে জাতীয় সংসদ ও সংসদের বাইরেও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হবে কি না– জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে এখন যুদ্ধাবস্থা চলছে, যার বড় একটি বিশাল অংশীজন যুক্তরাষ্ট্র। আর একদিকে হলো– চুক্তিটা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। আর শুধু এই চুক্তি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের আরও অনেক চুক্তিই আছে। এই সকল চুক্তিই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া প্রতিটা চুক্তিই বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে আমরা বাস্তবায়নে যাব। এসব চুক্তি নিয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরেও আলোচনা হবে।’
২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যার স্বীকৃতির জন্য সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না– জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসে সরকার থেকে ইতোমধ্যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার মাত্র কিছুদিন ক্ষমতায় এসেছে। গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিয়ে সরকার নিশ্চয়ই এ বিষয়ে সম্পৃক্ত হবে।’



