আন্তর্জাতিক
সুমুদ ফ্লোটিলায় আটক কর্মীদের নেওয়া হচ্ছে ইসরায়েলে
গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় জলযানগুলোতে থাকা সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ অন্যান্য অ্যাক্টিভিস্টদের আটক করা হয়। তাদের ইসরায়েলের একটি বন্দরে নিয়ে যাচ্ছে দখলদার বাহিনী। খবর আলজাজিরার।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নৌবহর থেকে আটক গাজার কর্মীরা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। নৌবাহিনীর কমান্ডোরা সমুদ্রে তাদের আটক করার পর কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। আটক গাজা কর্মীরা ২ ঘণ্টার মধ্যে আশোদ বন্দরে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এখন আটককৃতদের ইসরায়েল থেকে ইউরোপে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
গত রাত থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার উপর ভয়াবহ অবরোধ ভাঙার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় ইসরায়েল ৪৪টি মানবিক ত্রাণ বহনকারী নৌকার মধ্যে কমপক্ষে ২১টি আটক করে। এ নিয়ে বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠলেও ইসরায়েল পাত্তা দিচ্ছে না।
ঘটনার আগে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজে এবং কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ফ্লোটিলাটিকে বাধাহীনভাবে যেতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ফ্লোটিলার সরবরাহকৃত সহায়তা মানবিক আইনের আওতায় বৈধ। তবে ইসরায়েল বলছে, ফ্লোটিলার স্বেচ্ছাসেবীরা ‘আইনসংগত নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা’ করছে। তবে আন্তর্জাতিক আইন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি দেয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে হাজারো মানুষের মৃত্যু ও অবরোধ চলমান থাকায় এই ফ্লোটিলা মানবিক সহায়তা ও সংহতির অংশ হিসেবে রওনা হয়েছিল।
আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে স্পেনের ৩০ জন, ইতালির ২২ জন, তুরকির ২১ জন এবং মালয়েশিয়ার ১২ জন রয়েছেন। কর্মীরা বলছেন, গ্রেপ্তার অভিযান চললেও ফ্লোটিলার মিশন থেমে যায়নি। এখনো কয়েকটি জাহাজ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে গাজার উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ আশ্বাস দিয়েছে দূতাবাসটি।
একইসঙ্গে দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসকদের দ্বারা শুরু হওয়া যুদ্ধ, ইরানের বিরুদ্ধে বেআইনি আগ্রাসনের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানিতে আন্তরিক শোক প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান এবং বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শেয়ার্ড মূল্যবোধের ভিত্তিতে দীর্ঘস্থায়ী, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করে। ইরান অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে।
চলতি সপ্তাহে তুরস্কে আন্তালিয়া ফোরামের সাইডলাইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহের বৈঠককে স্বাগত জানিয়ে দূতাবাস আন্তরিকভাবে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গঠনমূলক এবং ফলপ্রসূ সম্পৃক্ততা এবং উদ্যোগগুলো অনুসরণ করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থের সমস্ত ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর জোর দেবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরান আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করে, যা এই অঞ্চল এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অপরিহার্য।
দূতাবাস ইরানের মহান নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত শোক বার্তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য বিশেষ প্রশংসার যোগ্য, যা একটি উল্লেখযোগ্য এবং ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গির বার্তা দেয়।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকেও দূতাবাস সাধুবাদ জানায়।
ইরান বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সমর্থনের প্রশংসার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসকদের দ্বারা শুরু করা যুদ্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বেআইনি আগ্রাসনের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষতির জন্য আন্তরিক শোক প্রকাশ করে এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে।
ইরানের দূতাবাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধার্থে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং আজারবাইজান হয়ে ইরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুবিধাও দিয়েছে।
ইরানের দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়ন সম্পর্কিত সাম্প্রতিক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকার থেকে উদ্ধৃত অংশের নির্বাচিত কিছু অংশ প্রচারের জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, যা কিছু মিডিয়া আউটলেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম দ্বারা পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
দূতাবাস দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার জন্য তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো কাজ বা বিবৃতি থেকে বিরত থাকার জন্য এবং দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে স্থায়ী সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধার চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানায়।
আন্তর্জাতিক
সৌদির আপত্তিতে দেড় বিলিয়নের অস্ত্র চুক্তি আটকে দিল পাকিস্তান
সৌদি আরবের আপত্তিতে দেড় বিলিয়নের অস্ত্র চুক্তি আটকে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নিরাপত্তা সূত্র ও একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব দেড় বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি নিয়ে আপত্তি এবং অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে সুদানের কাছে অস্ত্র ও যুদ্ধবিমান সরবরাহের একটি চুক্তি স্থগিত করেছে পাকিস্তান।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে চলমান সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সংঘাত বিশ্বে সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি বিদেশি স্বার্থের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং লোহিত সাগর তীরবর্তী এই সোনাসমৃদ্ধ দেশটির ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
চলতি বছরের শুরুতে রয়টার্স জানায়, চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সে সময় রিয়াদের অর্থায়নের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ও অস্ত্রব্যবস্থার গুরুত্ব বেড়ে যায়। এ সময়ে আরও কয়েকটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই চুক্তিও সেই আলোচনার অংশ ছিল।
সৌদি আরব পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির দুর্বল অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঋণ ও অর্থায়নের উৎস। গত বছর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। এ চুক্তিতে এক পক্ষের ওপর আক্রমণকে উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব অর্থায়নের পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পাকিস্তানকে এই চুক্তি বাতিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সুদানের সশস্ত্র বাহিনীও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও রয়টার্সের অনুরোধের জবাব দেয়নি। এর আগে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি নিয়ে কোনো মন্তব্যও করেনি।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, কিছু পশ্চিমা দেশ রিয়াদকে আফ্রিকায় প্রক্সি যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।
সুদানসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ দেশে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিন্ন ভিন্ন পক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে। দুই পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বললেও, সৌদি আরব সুদানের সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে আরএসএফকে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ অভিযোগ তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে।
সূত্র জানায়, মার্চে রিয়াদে সুদানের সেনা নেতাদের সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষের বৈঠকের পরই এই চুক্তির অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, ডিসেম্বর মাসে রয়টার্সে প্রকাশিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি চুক্তিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আরেকটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব এখন এই দুই দেশ নিয়ে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে।
আন্তর্জাতিক
চুক্তি না হলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে ইরানে ফের অভিযান : ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি চলছে, শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে তার মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা ‘খুবই কম’ বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
উপরন্তু, চুক্তি না হলে ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় ২২ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যা, অর্থাৎ বাংলাদেশের স্থানীয় সময় ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের ইরানে অভিযান শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
গত ৮ এপ্রিল (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা) থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে, যা শেষ হবে ২২ এপ্রিল বুধবার। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার তিন দিন পর শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা; কিন্তু ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও কোনো প্রকার চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই বৈঠক।
গতকাল সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যদি ২২ এপ্রিলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, “এমন সম্ভাবনা খুবই কম।”
সেক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী ইরানে ফের অভিযান শুরু করতে পারে কি-না— ব্লুমবার্গের এমন এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “যদি যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে কোনো চুক্তিস্বাক্ষর না হয়— সেক্ষেত্রে অবশ্যই অভিযান শুরু হবে; বুধবার সন্ধ্যা থেকেই শুরু হবে।”
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে তিনি একটি ‘ভালো’ চুক্তি করতে চান এবং এক্ষেত্রে সময় যতই লাগুক— তার কোনো সমস্যা নেই।
“আমি ইরানের সঙ্গে কোনো বাজে চুক্তি করার ব্যস্ত হয়ে উঠিনি। আমরা একটি ভালো চুক্তি চাই এবং এজন্য যত সময় লাগে— লাগুক। আমাদের হাত প্রচুর সময় আছে”, ব্লুমবার্গকে বলেছেন ট্রাম্প।
সূত্র : সিএনএন
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননের ৩৯ গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরাইল
গত সপ্তাহে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের অন্তত ৩৯টি গ্রামে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী এমন অভিযোগ উঠেছে।
হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির জ্যেষ্ঠ সহযোগী আলী হাসান খলিল এ তথ্য জানিয়েছেন।
আলী হাসান খলিল বলেন, ইসরাইলি বাহিনীর শক্তিশালী বিস্ফোরণে দক্ষিণ লেবাননের অসংখ্য বেসামরিক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। এই কর্মকাণ্ডকে ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালাচ্ছে। যদিও ১০ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে, তবে এর মধ্যেই ধ্বংসলীলা অব্যাহত থাকায় ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই পরিস্থিতিকে যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধের কারণে এশিয়ায় মিত্রদের হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
ইরান যুদ্ধের জেরে এশিয়ায় নিজ বলয় হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, টালমাটাল জ্বালানি পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন মিত্ররা ঝুঁকছে তেহরান ও মস্কোর দিকে। সাত বছরে প্রথমবার ইরানের কাছ থেকে তেল কিনেছে ভারত। ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্সের মতো দেশ জ্বালানির চাহিদা মেটাচ্ছে রাশিয়ার কাছ থেকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি অনেক মিত্র দেশকে তাদের থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য করেছে।
ইরানে মার্কিন হামলার পর থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নানা দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার বেশিরভাগ বার্তাই ছিল অস্পষ্ট। অনেকের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্র ও জ্বালানি সংকট নিয়ে ট্রাম্পের দেয়া বক্তব্য কিংবা সামাজিক মাধ্যমে দেয়া পোস্টে আসল চিত্র ফুটে ওঠেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেয়া বার্তায় ভরসা না পেয়ে এশিয়ার অনেক নেতা নিজ দেশের তেলের চাহিদা মেটাতে ঝুঁকছে ইরান ও রাশিয়ার দিকে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন তথ্য।
গেল সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার এক বিশেষ দূত পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোর বিষয়ে আলোচনা করেন ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে। একইদিন তেল কিনতে মস্কো পৌঁছান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো।
এছাড়া পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কিনেছে ফিলিপিন্স। আর, সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ভারতেও আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের অপরিশোধিত তেল পৌঁছেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, এই লেনদেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের কোনো ইঙ্গিত না দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিদেরই সহায়তা করছে।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি অনেক দেশকে মার্কিন বলয় থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করছে। আর এই সংকটে নতুন করে সামনে এসেছে রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব।
গত বছর পর্যন্তও এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও কৌশলগত সহযোগী দেশগুলো পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মেনে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এড়িয়ে চলত। জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ আরেক দেশ ইরানের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ ছিল খুব সামান্য। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা বদলে দিয়েছে পুরো দৃশ্যপট।



