অর্থনীতি
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করলো আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর পর এই সিদ্ধান্ত দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১৯ সালে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক মহলে নিকোলাস মাদুরো নাকি হুয়ান গুয়াইদো কাকে প্রকৃত নেতা হিসেবে সমর্থন করা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে ওয়াশিংটনভিত্তিক এই দুই আর্থিক প্রতিষ্ঠান কারাকাসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে।
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, প্রতিষ্ঠানটি ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রশাসনের অধীনে কাজ শুরু করেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক পোস্টে বলেন, আমাদের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি আইএমএফকে এমনভাবে আবারও সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেবে যা শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার জনগণের উপকারে আসবে।
আইএমএফ-এর এই ঘোষণার কিছু পরেই বিশ্বব্যাংক জানায় যে তারাও একই পথ অনুসরণ করবেন। বিশ্বব্যাংক জানায় তারা ২০০৫ সালে শেষবার কারাকাসকে ঋণ দিয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন রদ্রিগেজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই এই ঘোষণাগুলো এলো। এগুলোকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টকে বৈধতা দেওয়ার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
মাদক পাচার ও অস্ত্র রাখার অভিযোগ এনে বিচারের মুখোমুখি করতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্টকে গেল জানুয়ারিতে তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ক্ষমতায় আসেন রদ্রিগেজ।
তিনি আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এবং এই সম্পর্ক পুনঃস্থাপনকে ভেনেজুয়েলার কূটনীতির এক বিরাট অর্জন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এর ফলে ভেনেজুয়েলা যদি মনে দেশের সংকটাপন্ন অর্থব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য তাদের ঋণ প্রয়োজন, তবে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার পথ সুগম হলো।
লাতিন আমেরিকার এই দেশটি বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ঋণের বোঝায় জর্জরিত, যার মোট বৈদেশিক দেনার পরিমাণ ১৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে অনুমান করা হয়।
সূত্র : আলজাজিরা।
অর্থনীতি
সংস্কারে ব্যর্থতা: ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে আইএমএফ
রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। জুনের মধ্যে এই কিস্তি ছাড় করার কথা থাকলেও সংস্থাটি এখন অতিরিক্ত শর্তসহ একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের এক সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ওই কর্মকর্তা বলেন, গত দু’দিনের বৈঠকে এমন কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এ অবস্থায় চলমান ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে ১.৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার যে আশা করছে বাংলাদেশ, তা জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে না বলে বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
বর্তমান কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এখনো মোট ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার পাবে, যার মেয়াদ আগামী জানুয়ারিতে শেষ হবে।
”আইএমএফ আমাদের বলেছে, ঋণ চুক্তির আওতায় রাজস্বখাত সংস্কার, ব্যাংকখাত সংস্কার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি প্রত্যাহার, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত করাসহ যেসব শর্ত ছিল, বাংলাদেশ সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি। এ অবস্থায়, চলমান ঋণচুক্তির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি রিভিউ (পর্যালোচনা) না করে ঋণের কিস্তি ছাড় করার ব্যাপারে তারা আগ্রহী নয়। আর রিভিউ করার ক্ষেত্রেও সংস্থাটি অনেক সময়ক্ষেপণ করবে বলে আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে” –বলেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ যদি সব শর্ত পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়, তবুও কোনো অর্থ ছাড় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। আইএমএফ বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তে সংশোধিত শর্তে নতুন ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী বলে মনে হয়েছে।”
এছাড়া সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন বিলে সরকার ১৮ক ধারা যুক্ত করে রেজ্যুলেশনের জন্য তালিকাভুক্ত করা ব্যাংকগুলো পুরনো মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ।
সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাজেটের অর্থ ব্যবহারের সরকারি পরিকল্পনারও সমালোচনা করেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, আমানতকারীদের পাওনা মেটাতে বাজেট থেকে অর্থ খরচ না করে—ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স স্কিম বা অন্য কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে, জ্বালানি আমদানির উচ্চ ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশ আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা চেয়েছে।
তবে বর্তমান কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের কঠোর অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটনে অবস্থানরত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল তুলনামূলক সহজ শর্তে অতিরিক্ত অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গেও আলোচনা করছে।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত গত শেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০২৩ সালে আইএমএফ এর সঙ্গে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি সই করে বাংলাদেশ। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় ঋণের পরিমাণ আরও ৮০০ মিলিয়ন ডলার বাড়ানো হয়। ফলে ঋণ কর্মসূচির মোট আকার দাঁড়ায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্য থেকে বাংলাদেশকে মোট ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের অর্থ ছাড় করেছে আইএমএফ।
গত ডিসেম্বরে আরেকটি কিস্তি পাওয়ার কথা থাকলেও—নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে ঋণের অর্থ ছাড় করার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে তা আটকে রাখে সংস্থাটি। ডিসেম্বরের বকেয়া কিস্তির সঙ্গে আগামী জুনের একটি কিস্তি মিলিয়ে জুন মাসেই ১.৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করেছিল বাংলাদেশ।
তবে গত মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করে আইএমএফ-এর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল জুনে কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।
গতকাল ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, তিনি সাম্প্রতিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর সঙ্গে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, “দেশটি যে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে তা নিয়ে আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা উল্লেখ করেছি, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় থাকায় এখনই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণের উপযুক্ত সময়। তারা আমাদের কথা শুনেছেন, এখন আমরা দেখব তারা কীভাবে সাড়া দেন।”
শ্রীনিবাসন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং দেশটির অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণে যেটুকু প্রয়োজন তার চেয়েও অনেক নিচের স্তরে রয়েছে।
তিনি বলেন, “রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ভালো নয়। এটি কম এবং গত তিন বছরে আরও কমেছে। রাজস্ব খাত, আর্থিক খাতের পুনর্বাসন এবং বিনিময় হার সংস্কারসহ আর্থিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।”
তিনি আরও জানান, আইএমএফ সমর্থিত ঋণ কর্মসূচির তিনটি মূল ভিত্তিতেই এখনো উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে।
শ্রীনিবাসন বলেন, আইএমএফ-এর টিম বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, ঋণ কর্মসূচি অনুমোদনের সময় আইএমএফ বাংলাদেশকে কর অব্যাহতি সুবিধা কমানোসহ বিস্তৃত সংস্কারের মাধ্যমে জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর শর্ত দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাতই উল্টো কমেছে।
তারা আরও বলেন, ব্যাংকিংখাতে কাগজে-কলমে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি। এমনকী মুদ্রার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার কথা বলা হলেও—বর্তমানে বাংলাদেশে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার কার্যকর নয় বলে মনে করে আইএমএফ।
ঋণচুক্তি করার সময় ২০২৬ সালের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকি পুরোপুরি প্রত্যাহার করার অঙ্গীকার করেছিল বাংলাদেশ। এ শর্ত বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ সরকার কয়েকদফা গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পর, প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে অন্তবর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদে গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন টিবিএসকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, “ব্যাংক খাতে কিছু সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। রাজস্ব খাতে কোনো সংস্কার হয়নি এবং পর্যায়ক্রমে ভর্তুকি কমানোরও কোনো প্রচেষ্টা ছিল না। এ কারণেই আইএমএফ বর্তমান ঋণ কর্মসূচিতে অসন্তুষ্ট এবং এখন এটি থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে।”
ড. ফাহমিদার মতে, আইএমএফ কর্মসূচির শেষ কিস্তিগুলো পর্যালোচনার আগে সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। “হয় সরকার আইএমএফের সব শর্ত মেনে কর্মসূচি চালিয়ে যাবে, অথবা শর্ত প্রত্যাখ্যান করে চুক্তি থেকে সরে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় মেটানো এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের জরুরি অর্থ প্রয়োজন, তবে জানুয়ারির মধ্যে সব শর্ত পূরণ করা কঠিন হবে।
তার মতে, সরকার চাইলে প্রধান শর্তগুলো বাস্তবায়ন শুরু করে ভবিষ্যতে সংস্কার চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে বাকি অর্থ ছাড়ের জন্য আলোচনা করতে পারে।
অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, আইএমএফ কর্মসূচির পুরো অর্থ তুলতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিস্থিতিতে আইএমএফের সব শর্ত পূরণ করা সরকারের জন্য কঠিন হবে।
মাহবুবের মতে, অতীতে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে করা একাধিক চুক্তির চূড়ান্ত কিস্তিগুলোও বাংলাদেশ পায়নি, কারণ প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে আইএমএফের মাত্র একটি কর্মসূচির পুরো অর্থ বাংলাদেশ তুলতে পেরেছিল—২০১২ সালে স্বাক্ষরিত ১ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির।
অর্থনীতি
এপ্রিলের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ৯২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৭৯৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ।
এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।
গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
অর্থনীতি
নিলামে আরও ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক,
দেশে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিলামে আরও ৫ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি মাসে এ নিয়ে মোট ১২ কোটি ডলার কেনা হল।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
আরিফ হোসেন খান বলেন, ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কাটঅফ মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়েক দফায় নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন পর্যন্ত মোট কেনা হয়েছে ৫৬১ কোটি ৩৫ লাখ বা ৫.৬১ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বাজারে ডলার বিক্রির পরিবর্তে ডলার কেনার দিকেই মনোযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এমএন
অর্থনীতি
উন্নয়ন প্রকল্পে আমূল সংস্কারের পথে নতুন সরকার: তিতুমীর
নতুন সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় মৌলিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, অতীতে প্রকল্প গ্রহণে স্বজনতোষী প্রবণতা ছিল, তবে এখন থেকে পরিকল্পনার মূল দর্শন হবে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন এবং সর্বস্তরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গঠিত অ্যাডভাইজারি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
তিতুমীর জানান, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে এই বিশ্লেষণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তর করতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া হবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও সরকারের নতুন কৌশল তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় খাদ্যের পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং বিদ্যুৎ–জ্বালানির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই থাকবে অগ্রাধিকার।
এদিকে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন জানিয়েছেন, নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে শেষ হতে পারে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, চলমান প্রকল্পগুলো পুরোপুরি বাতিল না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্গঠন করা হবে, যাতে বাস্তবায়নে গতি আসে।
উল্লেখ্য, কমিটির প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক পরিকল্পনা উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, যদিও তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।
অর্থনীতি
রুপার দামে বড় লাফ
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এ দফায় রুপার দাম ভরিতে এক লাফে ৩৫০ টাকা বেড়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়বে ৬ হাজার ৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবশেষ গত ৯ এপ্রিল সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। সেবার ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম।



