জাতীয়
সরকারি জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে অংশ নিতে পারবে বেসরকারি উদ্যোক্তারাও
দেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি জমি ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পগুলোতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। এর আগে বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় সরকারি জমি ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি বেসরকারি উদ্যোক্তারা অংশ নিতে পারবেন। এ লক্ষ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সচিব জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু সৌরবিদ্যুৎ খাত থেকেই ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি জৈবগ্যাস ও বায়ুশক্তি নিয়েও কাজ চলছে।
জ্বালানি খাতের লক্ষ্যমাত্রা ও ব্যয় প্রসঙ্গে সচিব জানান, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু সৌরবিদ্যুৎ খাত থেকেই ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি জৈবগ্যাস ও বায়ুশক্তি ব্যবহারের বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ খাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪ থেকে ৮ টাকা ব্যয় হতে পারে।
নীতিমালা সহজীকরণ প্রসঙ্গে ড. নাসিমুল গনি বলেন, ‘বিদ্যমান নীতিমালা সহজ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল-সংলগ্ন জায়গা ব্যবহার করে ছোট ও বড় আকারের বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
তবে অতীতে কিছু সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায়, এবার নতুন করে নীতিমালা ও বাস্তবায়ন কাঠামো সংস্কার করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি সরবরাহ ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বাজারে অস্থিরতা ও ব্যবসায়িক প্রবণতার কারণে জ্বালানি বিতরণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ খাতের বড় প্রকল্পগুলোতে বেসরকারি খাতকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা হবে এবং সরকারি সহায়তায় বিনিয়োগের পরিবেশ সহজতর করা হবে।
৭ নভেম্বর ও অন্যান্য দিবস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রতি বছর ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে ৭ নভেম্বরকে পূর্বের মতো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা। এটা একটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হবে। ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হওয়ার কারণে ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি থাকবে।’
সচিব আরও যোগ করেন, ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আগে ছিল, এখন আবার ফেরত আনা হয়েছে। গত ১৬ বছর এটি করা হয়নি।’
এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৬ জুলাইকে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি একটি ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হবে। তবে এ দিন কোনো সরকারি ছুটি থাকবে না, কেবল দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপন করা হবে।
জাতীয়
রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র
রাশিয়ার পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য বা তেল কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ১১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছ।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার জানান, ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই ছাড়ের মেয়াদ আগামী ৯ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত ১১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বলে টিবিএসকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এর আগে গত ১২ মার্চ মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ রুশ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য-সংক্রান্ত লেনদেনে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ১১ এপ্রিল।
তবে সেই লাইসেন্সটি শুধু ১২ মার্চ বা তার আগে জাহাজে তোলা পণ্যবাহী কার্গোর জন্য প্রযোজ্য ছিল। মূলত ট্রানজিটে থাকা বা পথে থাকা চালানগুলো খালাস করতেই সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, আগের নিষেধাজ্ঞার ছাড়টি দেশের জন্য তেমন কোনো সুফল বয়ে আনেনি। কারণ সেই সময় সমুদ্রপথে রাশিয়ার কোনো তেলবাহী জাহাজ বাংলাদেশের পথে ছিল না।
নতুন আমদানির সুযোগ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই ৬০ দিনের ছাড় বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। কারণ প্রথাগত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যখন অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি—বিশেষ করে ডিজেল—সংগ্রহ করা যাবে।
জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দুই মাসের ছাড় দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে আমরা এখনও অফিশিয়াল ডকুমেন্ট হাতে পাইনি।’
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও জোগানের সীমাবদ্ধতার কারণে সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে চাইছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবেই রুশ উৎস থেকে অন্তত ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানির সুবিধার্থে এই ছাড়ের আবেদন করা হয়েছিল।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, একটি যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক কোম্পানির মাধ্যমে রুশ জ্বালানি সরবরাহের একটি চলমান চুক্তির অধীনে প্রথম ধাপে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায়, বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ মূলত আমদানিকৃত পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু দামের অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথাগত সরবরাহকারীদের থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি পেতে হিমশিম খাচ্ছে দেশ।
কূটনৈতিক তৎপরতা
৩০ মার্চ মার্কিন সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে জ্বালানি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে সীমিত সময়ের জন্য এই নিষেধাজ্ঞায় ছাড় চেয়েছিল। ওই চিঠিতে বিশ্ববাজারে ‘জ্বালানি তেলের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি’ এবং ‘মধ্যপ্রাচ্যের প্রথাগত উৎসগুলো থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চ্যালেঞ্জগুলো’ উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, জ্বালানি সম্পদের সহজলভ্যতা এবং দ্রুত সরবরাহের সক্ষমতার কারণে রাশিয়া এখন একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে সামনে এসেছে।
বাংলাদেশ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক দফা উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই ছাড়ের আবেদনটি করা হয়েছিল। গত ১৮ মার্চ একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের পর ২০ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে চিঠি দেয় বিপিসি।
ওই বৈঠকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস ও জ্বালানি বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
জ্বালানি বিভাগ তাদের চিঠিতে রুশ উৎস থেকে অন্তত ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানির সুবিধার্থে সর্বনিম্ন দুই মাসের জন্য এই ছাড়ের একটি প্রস্তাবনা তুলে ধরে। এতে আরও বলা হয়, আমদানির পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে সম্পন্ন করতে বিপিসি একটি মার্কিন কোম্পানির সাথে কাজ করছে।
জ্বালানি বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, এই উদ্যোগটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ ও ভূমিকা আরও বাড়বে।
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন গতকাল ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন।
আগের লাইসেন্সের সীমাবদ্ধতা
কর্মকর্তারা জানান, এর আগে জেনারেল লাইসেন্স ১৩৪-সহ যেসব মার্কিন বিধান ছিল, তা বাংলাদেশের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। কারণ ১২ মার্চ যখন ওই অনুমোদন দেওয়া হয়, তখন রাশিয়ার কোনো কার্গো বাংলাদেশের অভিমুখে ছিল না।
সেই লাইসেন্সটি কেবল ১২ মার্চ বা তার আগে জাহাজে তোলা হয়েছে, এমন রুশ তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রি, সরবরাহ বা খালাস করার অনুমতি দিয়েছিল। ফলে এর মাধ্যমে নতুন করে জ্বালানি সংগ্রহের কোনো সুযোগ ছিল না।
তবে ওই লাইসেন্সের আওতায় নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য নিরাপদ ডকিং, ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জরুরি মেরামত, বাঙ্কারিং, বিমা ও জাহাজের অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের অনুমতি ছিল।
বর্তমানে নতুন করে দেওয়া এই ছাড় আগের সেই সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করেছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের জন্য বাংলাদেশ এখন রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি করতে নতুন চুক্তি করার সুযোগ পাবে।
নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি নিরাপত্তার ভারসাম্য
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ জ্বালানি রপ্তানি-সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ লেনদেন এখনো কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছে।
তবে সহযোগী দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এই ছাড় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বল্পমেয়াদি সমাধান। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং জ্বালানি খাতের ওপর তৈরি হওয়া বাড়তি চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ছাড়ের মেয়াদ থাকাকালীন আমদানির পরিকল্পনাগুলো সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এটি করতে পারলে দেশের বাজারে জ্বালানির সম্ভাব্য ঘাটতি মেটানো এবং অস্থিরতা রোধ করা যাবে।
ছাড় পাওয়ার পর বিপিসি এখন দ্রুততম সময়ে রুশ ডিজেল আমদানির জন্য ক্রয়প্রক্রিয়া ও লজিস্টিক-সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করবে।
কর্মকর্তারা বলছেন, জুনের শুরুতে এই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা তৎকালীন বাজার পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে।
তারা বলেন, আপাতত এই সিদ্ধান্তটি বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার একটি সীমিত কিন্তু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
জাতীয়
টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিউইয়র্ক ভিত্তিক বিখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’ ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই তালিকায় তারেক রহমানের সাথে আরও রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পোপ লিও চতুর্দশ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রকাশিত এই সম্মানজনক তালিকায় বিশ্বের বিভিন্ন খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে তৈরি করা এই তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে আরও রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পোপ লিও চতুর্দশ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের মধ্যে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির নামও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের বর্ণনা দিতে গিয়ে টাইম ম্যাগাজিন একটি বিশেষ প্রোফাইল প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘মাত্র কয়েক মাস পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, তারেক রহমান লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ৫৭ বছর বয়সী এই নেতার ভাগ্য বদলে যায়। দীর্ঘ ১৭ বছর নিজ দেশ থেকে দূরে থাকার পর গত ফেব্রুয়ারিতে এক নজিরবিহীন নির্বাচনি জয়ের মাধ্যমে তিনি জাতীয় নেতায় পরিণত হন।’
প্রতিবেদনে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত শোকের বিষয়টিকেও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, তারেক রহমান বাংলাদেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরেই তার মা এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। গত জানুয়ারিতে টাইমের সঙ্গে আলাপকালে তার সেই শোকাতুর অবস্থার কথা উল্লেখ করে সাময়িকীটি লেখে, সেই গভীর শোকের মধ্যেও তারেক রহমান ১৭ কোটি মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে আবারও গতিশীল করার অঙ্গীকার করেছিলেন।
টাইম-এর প্রোফাইল অনুযায়ী, বর্তমানে তারেক রহমানের সামনে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং তরুণদের বেকারত্ব সমস্যায় জর্জরিত। পাশাপাশি আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিম্নবিন্দুতে পৌঁছেছে। এ সবকিছুরই দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।’
বিগত ২০০০-এর দশকের দুর্নীতির অভিযোগ (যা পরবর্তীতে আদালত কর্তৃক খারিজ হয়েছে) নিয়ে টাইম মন্তব্য করেছে যে, এর ফলে তার জন্য রাজনৈতিক প্রস্তুতির সময় হয়তো অন্যদের চেয়ে কম হবে। তবে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ফেরা তারেক রহমান আর সময় নষ্ট করতে নারাজ।
তারেক রহমান টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, ‘আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে—যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার পায়।’
জাতীয়
১.০৯ লাখ টন ডিজেল, ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে আজ বন্দরে পৌঁছাবে চার জাহাজ
দেশে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বড় ধরনের আমদানি চালান নিয়ে শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে চারটি জাহাজ। এসব জাহাজে মোট ১ লাখ ৯ হাজার টন ডিজেল এবং ২৭ হাজার টন অকটেন রয়েছে। দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা সাড়ে ১২ হাজার টন ও অকটেনের চাহিদা এক হাজার ২০০ টন। সেই হিসাবে, নতুন আসা এই ডিজেল দিয়ে ৯ দিন ও অকটেন দিয়ে ২২ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে মার্চের প্রথম সপ্তাহে দেশে জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে সবচাইতে বড় ডিজেল ও অকটেনের চালান নিয়ে আজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে চারটি জাহাজ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বন্দরে ১ লাখ ৯ হাজার টন ডিজেল নিয়ে তিনটি ও ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজের আসার কথা রয়েছে।
জাহাজগুলোর লোকাল এজেন্ট প্রাইড শিপিং জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ওকট্রি নামের জাহাজটি দুপুর ১২টার দিকে বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌছাবে।
এরপর, ভারত থেকে ৪১ হাজার টন ডিজেল নিয়ে লিয়ান সোং হু নামের জাহাজ বহির্নোঙরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বিকেল ৫টায়। সন্ধ্যা ৮টার দিকে মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে নাভে চিয়েলো নামের একটি জাহাজ এসে ভিড়বে বহির্নোঙরে।
সবশেষ, রাত ১১টায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা কেপ বনি নামের জাহাজটি বহির্নোঙরে এসে পৌঁছাবে।
প্রাইড শিপিংয়ের ম্যানেজিং পার্টনার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এবার জ্বালানি তেল নিয়ে আসা জাহাজগুলো আকারে বড় হওয়াতে তাদের সরাসরি ডলফিন জেটিতে আনা যাবে না। দুটি তুলনামূলক ছোট আকারের মাদার ভেসেলে শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার করে সেই মাদার ভেসেলগুলোকে ডলফিন জেটিতে আনা হবে।
তিনি বলেন, শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাদার ভেসেল বহির্নোঙরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জাহাজগুলো আসা মাত্রই কাজ শুরু করা হবে। এরপর কাল থেকে একের পর এক জাহাজ ডলফিন জেটিতে নিয়ে আসা হবে।
জাতীয়
তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব ব্যাপার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, প্রত্যেকে দায়িত্বশীল আচরণ করলে গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। তবে বর্তমানে ‘তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা! অস্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করা আসলে একটি অসম্ভব ব্যাপার’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনারা সকলে বোঝেন, এটা অস্বাভাবিক চাহিদা। অস্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করা আসলে একটি অসম্ভব ব্যাপার।” তিনি আরও জানান, প্রতিনিয়ত হাজার হাজার লিটার তেল অবৈধ মজুতদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ফুয়েল পাসের পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করেছি, আমাদের আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আমি ভীষণভাবে আশাবাদী, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই (জ্বালানির জন্য) লম্বা লাইন সংক্ষিপ্ত হবে।’
লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের পিক আওয়ার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় আমাদের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। এই চাহিদার বিপরীতে আমাদের উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৮৪৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ লোডশেডিং ছিল ৪৮১ মেগাওয়াট। এই লোডশেডিং আমাদেরকে ডিস্ট্রিবিউট করতে হয়েছে। চট্টগ্রামে লোডশিডিং ছিল মাত্র ৩৫ মেগাওয়াট।’
এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা দাবি করেন, চট্টগ্রামে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার তথ্য আপনার কাছে থাকুক, আমি অফিশিয়াল চ্যানেল থেকে তথ্য পেয়েছি। আপনার কাছে কী তথ্য আছে সেটা আপনার কাছে…আর যখন আমার চেয়ার থেকে কথা বলছি, আমার প্রতিটি অংক, প্রতিটি শব্দের পেছনে দায়িত্বশীলতা আছে। আপনি আপনারটা নিয়ে আরগু করতে পারেন, আই অ্যাম সরি ফর দ্যাট।’
অমিত আরও বলেন, এলএনজির মূল সোর্স ছিল কাতার এনার্জি। আজকে যে বাস্তবতা, আগামী পাঁচ বছর লাগবে এটা পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে। যে কারণে বিকল্পভাবে সোর্সিং করতে হচ্ছে। এই সংকটগুলো তো কারও অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই।
এই পরিস্থিতিতে সরকার কৃষি ও শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা বোরো মৌসুম। সেচ পাম্প চালাতে কৃষকের যেন কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, তার পিক আওয়ারে সে যেন বিদ্যুৎ পায়, সে যেন ডিজেল পায়—এটাকে যেমন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একইসঙ্গে শিল্প উৎপাদন যেন কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয়; কারণ এর সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যাপার রয়েছে।
‘কিছু ক্ষেত্রে আমাদেরকে হাউস হোল্ডে লোড শেডিংয়ের মাত্রা বাড়াতে হচ্ছে। কারণ আমাদের ওই দুটি জায়গায় ফোকাস করতে হচ্ছে। মে মাসের প্রথম থেকে ফসল ওঠা শুরু করবে। তখন কৃষির (বিদ্যুৎ) চাহিদা কমে যাবে। স্বাভাবিকভাবে এটা (বিদ্যুৎ) তখন আবার আমরা বাসাবাড়িতে সরবরাহ করতে পারবো,’ জানান তিনি।
জাতীয়
মধ্যরাতে শুরু হজ ফ্লাইট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
সৌদি সরকার ঘোষিত হজ ব্যবস্থাপনার রোডম্যাপ অনুসারে আজ (শুক্রবার) মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ থেকে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন তিনি। উদ্বোধনী ফ্লাইটে থাকবেন ৪১৯ জন হজযাত্রী।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এদিন মোট ১৪টি ফ্লাইট রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, চারটি সৌদি আরবের সাউদিয়া ও চারটি ফ্লাইনাস পরিবহন করবে।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করবেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের জন্য যাবেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হজচুক্তি অনুসারে মোট হজযাত্রীর শতকরা ৫০ ভাগ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ ভাগের মধ্যে সৌদি আরবের সাউদিয়া শতকরা ৩৫ ভাগ ও ফ্লাইনাস ১৫ ভাগ হজযাত্রী পরিবহন করবে।
২১ মে প্রি-হজ ফ্লাইট শেষ হবে। প্রি-হজ ফ্লাইট ২০৭টি, যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়ার ৭৫টি ও ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা ১ জুলাই শেষ হবে।



