টেলিকম ও প্রযুক্তি
শিশুদের সামাজিক মাধ্যমে আসক্তি: মেটা-গুগলকে ৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা ও গুগলকে ৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালত এক তরুণীর দায়ের করা মামলার রায়ে এ সিদ্ধান্ত দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মেটার ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ এবং গুগলের ইউটিউব এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের—বিশেষ করে তরুণদের—আসক্ত করে তোলে এবং এতে ওই তরুণীর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কেলি’ নামে পরিচিত ২০ বছর বয়সী ওই তরুণীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৬০ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিচারাধীন একই ধরনের শত শত মামলার ক্ষেত্রে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছে মেটা ও গুগল। মেটা বলেছে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি জটিল বিষয়, যা কোনো একটি অ্যাপের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা যায় না। অন্যদিকে গুগলের দাবি, এই মামলায় ইউটিউবকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটি একটি দায়িত্বশীল ভিডিওভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম।
জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেলিকে ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং আরও ৩০ লাখ ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মোট জরিমানার ৭০ শতাংশ বহন করবে মেটা এবং বাকি ৩০ শতাংশ গুগল। আদালতের মতে, প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় প্রতিষ্ঠান দুটি ‘বিদ্বেষ, দমনমূলক মনোভাব বা জালিয়াতি’র আশ্রয় নিয়েছে।
পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই বিচারের শেষ দিনে আদালতের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। রায় ঘোষণার পর অনেক অভিভাবক উল্লাস প্রকাশ করেন।
এর এক দিন আগে নিউ মেক্সিকোর একটি আদালতও মেটাকে দোষী সাব্যস্ত করে জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্ম শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট ও যৌন শিকারিদের সংস্পর্শে নিয়ে যাচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেস্টারের গবেষণা পরিচালক মাইক প্রুলক্স বলেন, ধারাবাহিক এসব রায় প্রমাণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর প্রতি জনগণের সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্যও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়েছে।
শুনানিতে মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী ১৩ বছরের কম বয়সীদের এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অনুমতি নেই। তবে অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, কম বয়সীরাও এসব অ্যাপ ব্যবহার করছে। তিনি দাবি করেন, বয়স শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে।
এই মামলায় শুরুতে স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকও আসামি ছিল, তবে বিচারের আগেই তারা সমঝোতায় পৌঁছায়।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এসব প্ল্যাটফর্ম আসক্তি তৈরির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং শিশুদের প্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। কেলি জানান, তিনি অল্প বয়স থেকেই এসব ব্যবহার শুরু করেন, যা তার মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আইনজীবীদের মতে, এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা—শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। আগামী জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে একই ধরনের আরেকটি মামলার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
টেলিকম ও প্রযুক্তি
কনটেন্ট নজরদারিতে এআই বাড়াচ্ছে মেটা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কনটেন্ট মডারেশন বা নজরদারি পদ্ধতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। এখন থেকে সন্ত্রাসবাদ, শিশু নির্যাতন কিংবা প্রতারণামূলক কনটেন্ট শনাক্তে মানুষের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে বেশি প্রধান্য দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে থার্ড-পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মেটা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করতে উন্নত এআই সিস্টেম ধাপে ধাপে চালু করা হবে। যখনই এই এআই বিদ্যমান পদ্ধতির চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখাবে, তখনই তা স্থায়ীভাবে কার্যকর হবে।
মেটার দাবি, গ্রাফিক কনটেন্ট বা বীভৎস দৃশ্য এবং প্রতারকদের প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া কৌশলগুলো শনাক্ত করা মানুষের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ। এসব কাজে এআই ব্যবহার করলে নির্ভুলতা বাড়বে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, মেটার নতুন এআই সিস্টেম মানুষের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ যৌন প্রস্তাবসংক্রান্ত কনটেন্ট শনাক্ত করতে পেরেছে। একই সঙ্গে ভুলের হার কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।
বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার প্রতারণার চেষ্টা রুখে দিচ্ছে মেটার এই নতুন প্রযুক্তি। বিশেষ করে সেলিব্রিটিদের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা, অ্যাকাউন্ট হ্যাকের উদ্দেশ্যে নতুন লোকেশন থেকে লগইন করা কিংবা অস্বাভাবিকভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের চেষ্টাগুলো এআই আগেভাগেই ধরে ফেলছে। এতে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি অনেক কমেছে।
পুরোপুরি নয়। মেটা স্পষ্ট করেছে যে, বিশেষজ্ঞরা এআই-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও তদারকির কাজ করবেন। বিশেষ করে অ্যাকাউন্ট বন্ধের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো তথ্য দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তে মানুষের অংশগ্রহণই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
গত এক বছরে মেটা তাদের কনটেন্ট নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থার্ড-পার্টি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রাম বন্ধ করে ‘কমিউনিটি নোটস’ মডেল চালু করেছে মেটা। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক কনটেন্টের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব পছন্দের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে ২৪ ঘণ্টা সচল একটি ‘এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বা সহকারী চালু করছে মেটা। এটি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাপের পাশাপাশি ডেস্কটপের হেল্প সেন্টারেও পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশ্বজুড়ে মামলা ও চাপের মুখে থাকা মেটার এই নতুন পদক্ষেপ প্ল্যাটফর্মটিকে কতটা নিরাপদ করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
টেলিকম ও প্রযুক্তি
এআই চ্যাটবটের সামাজিক মাধ্যম ‘মোল্টবুক’ কিনে নিল মেটা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর চ্যাটবটদের জন্য তৈরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘মোল্টবুক’ কিনে নিয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। এ অধিগ্রহণের ফলে মোল্টবুকের পুরো দল এখন থেকে মেটার সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবে কাজ করবে। খবর বিবিসি।
মেটা জানিয়েছে, এআই এজেন্ট বা স্বয়ংক্রিয় বট যেন মানুষ ও ব্যবসার জন্য আরো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির এমন সময়ে মোল্টবুকের কাজের ধরনকে তারা নতুন ও আধুনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। তবে এ চুক্তির আর্থিক পরিমাণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই কিছু জানায়নি।
মোল্টবুক মূলত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতোই একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।
মোল্টবুকের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো এটি তার ব্যবহারকারীদের নিয়ে আলোচনা বা গল্পগুজব করতে সক্ষম। প্রযুক্তি বিশ্বে এআই-চালিত এ নতুন ধরনের কথোপকথন বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করলেও এর নিরাপত্তা নিয়ে অনেকের মনে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
মোল্টবুক তৈরি করা হয়েছে ওপেনক্ল নামে একটি প্রযুক্তি সরঞ্জামের মাধ্যমে। এটি একটি ডিজিটাল ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করে। ইমেইল লেখা থেকে শুরু করে নতুন অ্যাপ তৈরি করা পর্যন্ত নানা ধরনের জটিল কাজ এই প্রযুক্তির মাধ্যমে করা সম্ভব।
ব্যবহারকারীরা ওপেনক্ল ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। একই সঙ্গে মোল্টবুকের মাধ্যমে তারা দেখতে পারেন তাদের এআই এজেন্ট অন্য বটের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করছে।
ওপেনক্ল-এর নির্মাতা পিটার স্টেইনবার্গার সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ে যোগ দিয়েছেন। ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান মনে করেন, স্টেইনবার্গারের দক্ষতা মানুষের কাজে উপযোগী এআই এজেন্ট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২০১৫ সালের শেষের দিকে ওপেন সোর্স হিসেবে উন্মুক্ত হওয়ার পর অনেক ডেভেলপার এ প্রযুক্তির দিকে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত ডিভাইসের সঙ্গে এআই সরঞ্জাম যুক্ত করার ঝুঁকি নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এরই মধ্যে চীনের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ওপেনক্ল ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছে। তবু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই এজেন্ট বা স্বয়ংক্রিয় বটের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
টেলিকম ও প্রযুক্তি
ঈদে অনলাইন কেনাকাটায় সাবধান থাকবেন যেসব বিষয়ে
পবিত্র রমজান মাস এলেই সিয়াম সাধনার পাশাপাশি ঈদের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার ব্যস্ততায় বাজারগুলো ধীরে ধীরে জমজমাট হয়ে ওঠে। তবে সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ভিড় ঠেলে বাজার করা অনেকের জন্যই কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইন কেনাকাটার প্রতি মানুষের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অনলাইনে কেনাকাটা সময় ও পরিশ্রম বাঁচালেও এর সঙ্গে কিছু ঝুঁকিও জড়িত। অনেক সময় প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে কেউ কেউ নকল পণ্য পাওয়া, অর্থ হাতিয়ে নেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য হারানোর মতো সমস্যার সম্মুখীন হন। ঈদকে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনাও বাড়তে দেখা যায়। তাই অনলাইন শপিং করার সময় কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা জরুরি।
ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা যাচাই করুন
কোনো ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা করার আগে ঠিকানার শুরুতে https আছে কি না এবং ব্রাউজারে লক চিহ্ন দেখা যাচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করুন। সাধারণত নিরাপদ ওয়েবসাইটে এই নিরাপত্তা চিহ্ন থাকে।
বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন
অপরিচিত বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে অর্ডার দেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন। পরিচিত ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল সাইট বা নির্ভরযোগ্য মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করাই নিরাপদ। পাশাপাশি ক্রেতাদের রিভিউ ও রেটিং দেখেও সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
অতিরিক্ত ছাড়ের প্রলোভনে সতর্ক থাকুন
অনেক সময় ‘৫০ শতাংশ ছাড়’ বা ‘সীমিত সময়ের অফার’–এর মতো বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হয়। কিন্তু এসব অফারের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদও থাকতে পারে। তাই অফারের সত্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য সুরক্ষিত রাখুন
ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য দেওয়ার আগে নিশ্চিত হোন যে ওয়েবসাইটটি নিরাপদ। অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
ডেলিভারি ও রিটার্ন নীতি জেনে নিন
পণ্য অর্ডার করার আগে ডেলিভারি সময়, রিটার্ন বা রিফান্ড নীতিমালা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া উচিত। অনেক সময় প্রতারক সাইটগুলো পণ্য ঠিকমতো সরবরাহ করে না বা ফেরত নেওয়ার সুযোগ দেয় না।
অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবেন না
এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ বা ই-মেইলে পাঠানো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সরাসরি ব্রাউজারে গিয়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেই কেনাকাটা করা নিরাপদ।
এ ছাড়া নিয়মিত ই-মেইলের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা, ডেবিট কার্ডের মোবাইল পিন আপডেট রাখা এবং লেনদেনের সময় ওটিপি যাচাই করা নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক।
সচেতনতা ও সতর্কতার সঙ্গে অনলাইন কেনাকাটা করলে ঈদের কেনাকাটা যেমন সহজ হবে, তেমনি প্রতারণার ঝুঁকিও অনেকটাই কমে যাবে।
আন্তর্জাতিক
এআইয়ে বিনিয়োগ বাড়াতে ৪০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে সফটব্যাংক
চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগের জন্য প্রায় ৪ হাজার কোটি ডলার (৪০ বিলিয়ন) ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করছে জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেপি মরগানসহ চারটি প্রধান ব্যাংকের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। মূলত এআই খাতে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতেই এ বড় অংকের ঋণ নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন সফটব্যাংকের প্রধান মাসায়োশি সন। বর্তমানে ওপেনএআইয়ে সফটব্যাংকের প্রায় ১১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। নতুন এ বিনিয়োগের ফলে প্রযুক্তি বিশ্বে জাপানি এ প্রতিষ্ঠানের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টেলিকম ও প্রযুক্তি
এনইআইআর পরীক্ষার জন্য সাময়িক বন্ধ হতে পারে মোবাইল সংযোগ
মার্চ থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যকরের লক্ষ্যে আজ চলবে টেস্ট রান। এ কারণে আজ সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কিছু মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব।
সংগঠনটি বলছে, ‘আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিটিআরসি কর্তৃক এনইআইআর সিস্টেমের পরীক্ষামূলক টেস্ট রানের কারণে ডিরেজিস্ট্রেশন ব্যতীত সিম ব্যবহার করলে কিছু গ্রাহকের মোবাইল সংযোগ সাময়িকভাবে হ্যান্ডসেট থেকে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হতে পারে। তবে পরীক্ষা শেষে বিচ্ছিন্ন হওয়া সংযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবার চালু হয়ে যাবে। এই অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
গত ১ জানুয়ারি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্ট্রার বা এনইআইআর পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। তবে ইতোমধ্যে অবৈধ পথে আমদানি হওয়া মোবাইল ফোনগুলো ১৫ মার্চ পর্যন্ত বিক্রির সুযোগ পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে পুরোদমে কার্যকর হচ্ছে এই পদ্ধতি।
এই ব্যবস্থা কার্যকরের ফলে দেশের নেটওয়ার্কে অনুমোদন ছাড়া অর্থাৎ ‘আনঅফিসিয়াল’ বলে বিক্রি হয়ে আসা ফোনগুলো আর যুক্ত হতে পারবে না।



