সারাদেশ
‘যতদিন এমপি আছি অপসাংবাদিকতা করতে দেবো না’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেছেন, যারা বিভিন্ন দপ্তরে সরকারি চাকরি করতে আসেন, তারা অপসাংবাদিকদের যন্ত্রণায় ও তাদের নানা অপকর্মের কারণে রীতিমত অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তাদের কারণে ঠিকমতো কাজ করতেও পারেন না তারা। কারণ, হলুদ সাংবাদিকরা একটি ‘সাংবাদিক কার্ড’ দেখিয়ে ছবি তুলে ভয় দেখায়, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেসব ছবি ছড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেয়। আমি যতদিন এমপি আছি, ততদিন এসব অপকর্ম কোনভাবেই আর নবীনগরে চলতে দেয়া হবে না।
সাংবাদিকতার নামে নবীনগরে আর কাউকে অপসাংবাদিকতা করতে দেবো না।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেনম, হলুদ সাংবাদিকদের যন্ত্রণায় জনগণ এখন অতিষ্ঠ। ইতিমধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকায় নবীনগরে ব্যাঙের ছাতার মত অনেকেই নিজেকে ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করছেন।
কিন্তু এভাবে আর চলতে দেয়া হবে না। একটু অপেক্ষা করুন- প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য সুসংবাদ আর অপসাংবাদিকদের জন্য শিগগীরই দুঃসংবাদ আসছে।
তিনি বলেন, রাজনীতির মধ্যে যেমন গ্রুপিং রয়েছে, তেমনি সাংবাদিকদের মধ্যেও গ্রুপিং দেখতে পাচ্ছি। সেজন্য তিনি সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে থাকা সব দ্বন্দ্ব ও বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নবীনগরের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তির সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদুল আলম সোরাফের সঞ্চালনায় এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আবু কামাল খন্দকার, সাবেক পৌর প্রশাসক মো. মলাই মিয়া, নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু মুছা, সাবেক ভিপি গোলাম হোসেন খান টিটু, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহাবুব আলম লিটনসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
সারাদেশ
বিজিবির অভিযানে ৬৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য উদ্ধার
হবিগঞ্জে সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) জেলার মাধবপুর এলাকায় চালানো এসব অভিযানে আনুমানিক ৬৬ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় ফুচকা, কসমেটিকস এবং জিরা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে মাধবপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় সন্দেহভাজন একটি ট্রাকে তল্লাশি চালায় বিজিবির একটি দল। এ সময় ট্রাকটিতে থাকা পাথরের স্তূপের নিচ থেকে বস্তাভর্তি ভারতীয় জিরা ও ফুচকা উদ্ধার করা হয়।
একই দিন সকালে অপর এক অভিযানে ওই এলাকা থেকেই আরেকটি সন্দেহভাজন ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। দ্বিতীয় ট্রাকটি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় কসমেটিকস ও জিরা জব্দ করে বিজিবি সদস্যরা।
৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জব্দ এসব চোরাচালানি পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৬ লাখ টাকা। অবৈধভাবে আনা এই পণ্যগুলো বর্তমানে কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান দমনে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত করতে এবং চোরাচালান নির্মূল করতে হবিগঞ্জ জেলার সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
সারাদেশ
শেরপুরে অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত, ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা
শেরপুরে আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে ১৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না রাখার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে মজুত তেল নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং আবাসিক ভবনে জ্বালানি তেল বিক্রি স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের গোয়ালপট্টি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. মাহমুদুল হাসান এর নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শিমলা ট্রেডার্সের মালিক তাপস নন্দীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে আগামী ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মজুত রাখা ডিজেল ও কেরোসিন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি আবাসিক ভবনে স্থায়ীভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, তাপস নন্দী ও শফিকুল ইসলাম হেলালের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে প্রান্তিক কৃষক ও দোকানদারদের কাছে ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি করে আসছিলো। তাদের খুচরা তেল বিক্রির লাইসেন্স থাকলেও পরবর্তীতে আবাসিক ভবনের নিচতলায় প্রায় ২৭ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি বড় ট্যাংক নির্মাণ করা হয়। সেখানে অভিযানকালে প্রায় ১৮ হাজার লিটার ডিজেল মজুত পাওয়া যায়। এছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও তাদের কাছে পাওয়া যায়নি।
অভিযানের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সেলিম রেজা এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, খুচরা দোকানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুতের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ কারণে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬-এর ২০ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ বিষয়ে ব্যবসায়ী তাপস নন্দী ও শফিকুল ইসলাম হেলালের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।
এমএন
সারাদেশ
সীতাকুণ্ডে চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একজন কর্মকর্তা বলেন, চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ার কার ও পরবর্তীতে তার সঙ্গে লাগোয়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি বগিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কুমিরা স্টেশনে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে।
রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আগুন লাগছে মূলত পাওয়ার কারে। সেখান থেকে আরেকটা বগিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু তার আগে ওই বগিতে লোকজন বের হয়ে পড়ে এবং লাগেজগুলোও বের করে ফেলা হয়। আগুনে কেউ হতাহত হয়নি। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলো আলাদা করে ফেলা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে পাওয়ার কার পাঠানো হচ্ছে। এটি জোড়া লাগিয়ে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা করবে।
তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী লেনে ট্রেন চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়। তবে কোনো ট্রেনের শিডিউল বাতিল হয়নি। বর্তমানে মোটামুটি স্বাভাবিক হচ্ছে।
সারাদেশ
পদ্মায় বাসডুবি আরো ৫ লাশ উদ্ধার, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৩
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা আক্তার এ তথ্য জানিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জন নারী, পুরুষ ৪ ও শিশু ৮ জন।
তিনি বলেন, ‘আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অধিকাংশ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।’
গতকাল বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। সেসময় তাৎক্ষণিক দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার মাধ্যমে ডুবে যাওয়া বাসটি টেনে তোলা হয়।
সারাদেশ
ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে যাত্রীবাহী বাস, বহু হতাহতের শঙ্কা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ এর একটি যাত্রীবাহী বাস।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা কয়েকজনকে উদ্ধার করলেও বহু হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে,রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে উঠার সময় যাত্রী নিয়ে একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম কাজ করছে। ঢাকা সদর দপ্তর থেকে আরও ডুবুরি টিম যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসটিতে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। নদীতে পড়ে যাওয়ার কিছু সময় পর পাঁচ থেকে সাতজন যাত্রী পাড়ে উঠতে সক্ষম হন। অন্যদিকে দুইজনকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।
এদিকে, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন। উৎসুক জনতাদের জটলাও বেড়েছে।



