আন্তর্জাতিক
ইরানের প্রধান গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েল আর হামলা চালাবে না
ইরানের প্রধান গ্যাস ফিল্ড সাউথ পার্স লক্ষ্য করে ইসরায়েল আর হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরশুদিন ইরানের গ্যাস ফিল্ডে একক সিদ্ধান্তে তারা হামলা চালিয়েছেন বলেও জানান নেতানিয়াহু।
এছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন এ দখলদার। কিন্তু এটি কাজে দেবে না।
নেতানিয়াহু গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ইরানের শাসকগোষ্ঠী হরমুজ প্রণালীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ বন্ধ করে দিয়ে বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের এই চেষ্টা সফল হবে না।”
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েল এ যুদ্ধে টেনে আনেনি বলে দাবি করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ট্রাম্পই তাকে এক বছর আগে বলেছিলেন ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্র: আলজাজিরা
আন্তর্জাতিক
ইরানে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা
ইরানে পবিত্র রমজান মাসের শেষ দিন শুক্রবার (২০ মার্চ) হবে। ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে শনিবার। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কার্যালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চাঁদ দেখার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে শুক্রবার রমজান মাসের ৩০তম দিন হবে। এরপর থেকে শুরু হবে ঈদুল ফিতরের ছুটি। অর্থাৎ, শনিবার দেশটিতে ঈদের উৎসব উদযাপিত হবে।
একই ঘোষণা দিয়েছেন ইরাকের শিয়া সম্প্রদায়ের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানিও। ইরাক ও ইরান উভয় দেশেই শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ।
উল্লেখ্য, মোজতবা খামেনি এ মাসেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন। ইরান এই সংঘাতকে ‘রমজান যুদ্ধ’ নামে অভিহিত করেছে।
ইরানে রমজানের শেষ দিন ও ঈদের ঘোষণা সাধারণত চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। এবারের ঘোষণা অনুসারে দেশটিতে ঈদের দিনও সশস্ত্র বাহিনীগুলো যুদ্ধাবস্থায় থাকবে।
আন্তর্জাতিক
ইরানের বিরুদ্ধে একজোট জাপানসহ ৬ দেশ
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার পর বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। এর মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও জাপান যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপানের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, তারা হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পদক্ষেপে অংশ নিতে প্রস্তুত। যদিও কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। খবর আলজাজিরার।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেসামরিক অবকাঠামো বিশেষ করে তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা বন্ধে অবিলম্বে একটি সর্বাত্মক স্থগিতাদেশ প্রয়োজন।
এদিকে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) ইতোমধ্যে সদস্য দেশগুলোর কৌশলগত তেলের মজুত থেকে সমন্বিতভাবে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ।
যৌথ বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে, আর সেই প্রেক্ষাপটেই এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ সামনে এসেছে।
আন্তর্জাতিক
ইরানকে দ্রুত হামলা বন্ধের আহ্বান ইউরোপীয় ইউনিয়নের
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরান ও তার মিত্রদের প্রতি দ্রুত আঞ্চলিক হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে।
এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা ইরানের বাছবিচারহীন হামলার নিন্দা জানান এবং উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার আহ্বান জানান।
তারা বিশেষভাবে জ্বালানি ও পানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার জন্য একটি সাময়িক বিরতির কথাও বলেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ইরানকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানায়।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করার জন্যও সতর্ক করা হয়। কারণ এই পথ দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়।
এর আগে ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর ইরান পাল্টা আক্রমণ চালায়, যার ফলে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আন্তর্জাতিক
ইরানের তেলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল হতে পারে : মার্কিন অর্থমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করতে সাগরে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ খবর জানিয়েছেন।
বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে তাদের নিজস্ব তেলের মজুত থেকেও তেল বাজারে ছাড়তে পারে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবগতিতেই ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি ছাড়তে শুরু করেছে। এটা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করছে।
বেসেন্টের মন্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
আন্তর্জাতিক
জ্বালানি পরিবহনে নতুন রুটের পরিকল্পনা করছেন নেতানিয়াহু
ইরান যুদ্ধ শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য নতুন রুট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি আশা করেন, এ যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর হরমুজ প্রণালির বদলে নতুন রুট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর সেটি হবে ইসরায়েলের মধ্য দিয়ে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন নেতানিয়াহু।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা করলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াত সীমিত করে তেহরান। এতে সারাবিশ্বে তেল ও গ্যাসের বাজারের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
নেতানিয়াহুর মতে, আরব উপদ্বীপ হয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি ইসরায়েলের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর পর্যন্ত নিয়ে আসা হলে হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তেল ও গ্যাস পাইপলাইন পশ্চিমমুখী করে আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে সরাসরি ইসরায়েলে নিয়ে আসা গেলে হরমুজের মতো সংকীর্ণ পথের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে।
প্রসঙ্গত, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানকে পরাজিত করতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ইরানে শিগগির কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতি পুরোপুরি দেশের ভেতরের অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েলি বাহিনী দিনরাত ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এসব হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।




