সারাদেশ
শিডিউল বিপর্যয়ে পঞ্চগড় থেকে ৩ ট্রেনের যাত্রা বাতিল
বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর জেরে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী একটি এবং রাজশাহী ও পার্বতীপুরগামী আরও দুটিসহ মোট তিনটি ট্রেনের ডাউন যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বাতিল হওয়া ট্রেনগুলো হলো- সকাল ৯টার বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এবং বিকেল সাড়ে ৩টার কাঞ্চন আন্তঃনগর কমিউটার ট্রেন।
স্টেশন মাস্টার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, ‘দুর্ঘটনার কারণে বড় ধরনের এই শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। আপ শিডিউলে কোনো প্রভাব না থাকলেও, ডাউনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তাই বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিনটি ট্রেনের ডাউন শিডিউল বাতিল করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, বাতিল হওয়া ট্রেনগুলোর যেসব যাত্রী এরই মধ্যে টিকিট ক্রয় করেছেন, তাদের টিকিটের মূল্য ফেরত দেয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসার পর শুক্রবার (২০ মার্চ) থেকে ট্রেনগুলো পুনরায় যথাসময়ে পঞ্চগড় থেকে যাত্রা শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারাদেশ
ঈদে ঘরমুখো লাখো মানুষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৩০ কিমি দীর্ঘ যানজট
ঈদের আনন্দ প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগ করে নিতে নাড়ির টানে ঘরমুখো লাখো মানুষ। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা থেকে করটিয়া বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের ধীরগতি চলছে। অতিরিক্ত গাড়ির চাপে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) আশেকপুর বাইপাস, রাবনা বাইপাস ও এলেঙ্গা এলাকায় মহাসড়কে মানুষের ঢল দেখা গেছে। পরিবহন সংকট ও দ্বিগুণ ভাড়ার কারণে বেশির ভাগ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক-পিকআপে যাচ্ছেন, আর ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা কষ্ট পাচ্ছেন বেশি।
ট্রাকের যাত্রী আসিফ বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জ থেকে টাঙ্গাইলে আসলাম, ১২ ঘণ্টা সময় লেগেছে। চন্দ্রা এলাকায় যানজটে আটকে ছিলাম। মহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতি আছে। গাড়িগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলছে না। দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে আসলাম।
ট্রাকের আরেক যাত্রী তানিশা বলেন, বছরে দুই ঈদে বাড়িতে যেতে পারি। ট্রাকে যেতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। কষ্ট হলেও পরিবারের সাথে ঈদ করব, এটাই শান্তি। অনেকেই আমার মতো ট্রাকে করে যাচ্ছে। ট্রাকেও এসেছি ভাড়া বেশি দিয়ে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও মাঝে মাঝে গাড়ি বিকল হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। যমুনা সেতু থেকে পৌলি পর্যন্ত যানবাহনের ধীরগতি রয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
এমএন
সারাদেশ
খুলনায় ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের ৪ জনকে গুলি
খুলনায় ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের চার সদস্যকে গুলি করে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। সাবেক স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার লবণচরা ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর শাহজালাল নগরের রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন: কাজী আনিসুর রহমান, তার স্ত্রী রঞ্জুয়ারা বেগম, ছেলে গাজী রাইসুল ইসলাম এবং পুত্রবধূ ফাহিমা খাতুন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. লক্ষিন্দার কুমার দে বলেন, ‘গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রঞ্জুয়ারা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তার পুত্রবধূ গুলিবিদ্ধ ফাহিমা খাতুনকেও তার নিজের ইচ্ছায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, আনিসুর রহমানের ঘাড়ে তিনটি ও রাইসুল ইসলামের পায়ে একটি গুলি লেগেছে। এছাড়া রঞ্জুয়ারা বেগমের বুকে দুটি এবং ফাহিমা খাতুনের পায়ে একটি গুলি লেগেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফাহিমা খাতুনের সাবেক স্বামী ইমরানের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। প্রায় আট মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর গত ডিসেম্বর মাসে রাশেদুলের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন ফাহিমা। এ নিয়ে ইমরান আগে থেকেই হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
আহত ফাহিমা খাতুন দাবি করেন, ‘সকালে দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা ছয়জন দুর্বৃত্ত বাসায় ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে আমার সাবেক স্বামীও ছিল।’
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘হামলাকারীদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’
সারাদেশ
চট্টগ্রামের টেরিবাজারে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২
চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা টেরিবাজারে একটি ১০তলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আরো একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে কে বি অর্কিড প্লাজা নামের ওই ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা হলেন- চট্টগ্রামের পটিয়ার বধুপুর মির্জাবাড়ি এলাকার মোহাম্মদ ইয়াসিন খালিফার ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস (৫২)। চট্টগ্রামের পটিয়া থানাধীন বোয়ালখালী ইউনিয়নের পাচুরিয়া এলাকার মামুনুল কাদেরের ছেলে মো. সোলাইমান। এছাড়া, মোহাম্মদ মামুন (২৮) নামে একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কে বি অর্কিড প্লাজার চতুর্থ তলায় অবস্থিত একটি টেইলার্স দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাফিয়াল ফারুক জানান, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সংবাদ পাওয়ার পরপরই তাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার প্রাণপণ চেষ্টায় সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সাহরির পর থেকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না; সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ আসার পরপরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতি জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যে টেইলার্সের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত, সেখানে কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দেওয়ার জন্য আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নগদ গচ্ছিত ছিল, যা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১০ তলা বিশিষ্ট কে বি অর্কিড প্লাজার নিচের পাঁচতলায় শপিংমল, ব্যাংকের শাখা, জুয়েলারি ও টেইলার্স দোকান রয়েছে এবং ওপরের পাঁচতলায় আবাসিক ফ্ল্যাট অবস্থিত।
সারাদেশ
বাস-ট্রেন-লঞ্চে ঘরমুখো মানুষের ঢল, ঈদযাত্রায় বাড়ছে ভোগান্তি
ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর থেকেই রেল, সড়ক ও নৌপথে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নির্ধারিত সময়েই দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এতে অনেক যাত্রীর মুখে স্বস্তির ছাপ থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তবে বারতি ভাড়ার চাপে ও যাত্রীদের চাপের তুলনায় যানবাহন কম থাকায় ট্রাক-পিক আপে করে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে অনেককে। আবার গণপরিবহন সংকটে কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।
গাজীপুরের চন্দ্রা মোড়কেন্দ্রিক কয়েক কিলোমিটারের গাড়ির জটলা, পথে পথে যাত্রী তোলায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছেনা।
এদিকে, ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে এবারের ঈদে শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে রেলখাত। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ছেড়ে যাওয়া কোনো ট্রেনেই তিল ধারণের জায়গা ছিল না। অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠে যাত্রা করেছেন।
অন্যদিকে, সদরঘাটেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। লঞ্চে জায়গা পেতে ভোর রাত থেকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেককে। গতকালের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরও, পন্টুনে লঞ্চ থামা মাত্রই ঘরমুখো যাত্রীরা হুড়মুড়িয়ে নৌযানে ওঠেন। যাত্রীদের মধ্যে দেখা যায়নি কোনো সতর্কতা বা সচেতনতার ছাপ।
সারাদেশ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধীনস্ত শ্যামকুড় বিওপির মেইন পিলার থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ফটিককারী নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
আহত উজ্জ্বল হোসেন (৩৫) মহেশপুর উপজেলার মাইলবাড়িয়া বসতিপাড়া গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে উজ্জ্বল। এসময় ১৯৪ বিএসএফ ব্যাটেলিয়নের অধীন ফটিকারি ক্যাম্পের টহল দল তাকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
গুলিবিদ্ধ উজ্জ্বল হোসেন সীমান্তে মাদক চোরাচালান ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বুধবার দুপুরে উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহবুর রহমান বলেন, সীমান্তে মাদক ও মানব পাচারের সঙ্গে উজ্জ্বল হোসেন জড়িত ছিল বলে আমরা জানি। ঘটনার দিন সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পারাপারের সময় সে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, উজ্জল হোসেন নামে একজন চোরাকারবারি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পরেছে। বর্তমানে আহত যুবক যশোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হলেও আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




