আন্তর্জাতিক
বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় বিমান হামলার খবর ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১০ ডলার (৮২.৭৮ পাউন্ড) ছাড়িয়ে যায়।
ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন সাউথ পার্স বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র। এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস এবং কাতারের আন্তর্জাতিক এলএনজি রপ্তানির মূল কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে তাদের একাধিক এলএনজি স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে বড় ধরনের আগুন লেগেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজার খোলার শুরুতেই ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের সূচক মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছায়, যা মঙ্গলবারের তুলনায় ৫ শতাংশেরও বেশি। তবে পরে দাম কিছুটা কমে আসে। একইভাবে যুক্তরাজ্যের গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্যও ৬ শতাংশ বেড়ে ১৪৩.৫৩ পেন্সে উঠেছিল, পরে তা কমে প্রায় ১৪০ পেন্সের কাছাকাছি নেমে আসে। কাঁচামাল বা পণ্যের আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় বাজারে আমদানির ক্ষেত্রে বা রপ্তানির সময় বেঞ্চমার্ক মূল্যকে প্রধান বিবেচ্য হিসেবে ধরা হয়।
ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলার খবর প্রকাশের পরই এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর কাতার জানায়, ইরানের হুমকির প্রেক্ষিতে রাস লাফান শিল্প এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে এজে বেল-এর আর্থিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ড্যানি হিউসন বলেছেন, ‘ইরানের হামলা পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত করেছে, ফলে তেলের দাম নতুন করে বেড়েছে।’ তিনি আরা বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির অবরোধের কোনো সমাধান এই মুহূর্তে বেশ সুদূরপ্রসারী বলে মনে হচ্ছে এবং যতক্ষণ না এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে, জ্বালানি বাজার সম্ভবত অস্থিতিশীল থাকবে।’
বুধবার হোয়াইট হাউস ক্রমবর্ধমান তেলের দামের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, তারা জোনস অ্যাক্ট স্থগিত করছে। এটি ১৯২০ সালের একটি আইন। এই আইনের অধীনে মার্কিন বন্দরগুলোর মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য শুধুমাত্র আমেরিকায় তৈরি জাহাজ ব্যবহার করা যাবে।
মার্কিন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, ‘জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে উৎসাহিত করার উদ্দেশে প্রণীত এই নিয়মের ৬০ দিনের এই শিথিলতা তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কয়লার মতো অত্যাবশ্যকীয় সম্পদের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করবে। কারণ এখন থেকে আমেরিকায় তৈরি নয় এমন জাহাজও ব্যবহার করা যাবে ‘
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকরা বলেছে, এর প্রভাব হবে নগণ্য এবং তারা উল্লেখ করেছে, পাম্পে তেলের দাম বাড়ার পেছনে জাহাজীকরণ খরচ নয়, বরং তেলের দাম বৃদ্ধিই দায়ী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দামের চাপ কমাতে বিশ্বনেতাদের আগের প্রচেষ্টাগুলো তেলের দাম কমাতে তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। যার মধ্যে অভূতপূর্ব পরিমাণে তেলের মজুদ ছাড়াও ছিল।
এদিকে, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ইরান ইরাকে গ্যাস সরবরাহ স্থগিত করেছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইরাকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের গ্যাস সরবরাহের সিংহভাগ, প্রায় ৯৪ শতাংশ দেশের ভেতরেই ব্যবহৃত হয়।
সূত্র : বিবিসি
আন্তর্জাতিক
মার্কিন হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরব আমিরাতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের
ইরানের ওপর মার্কিন হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। এ বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি, জাতিসংঘের মহাসচিবকে একটি চিঠি লিখে এই ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।
ইরানের নুরনিউজের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, চিঠিতে ইরাভানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ‘একটি আন্তর্জাতিকভাবে অন্যায় কাজ করেছে, যার জন্য তাদের রাষ্ট্র দায়ী’।
তিনি আরও দাবি করেন যে, হামলার ঘটনায় সংঘটিত সকল বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণসহ প্রতিকার প্রদানের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে একযোগে হামলা চালায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শতাধিক মানুষ নিহত হন।
এরপর থেকে বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় রাষ্ট্রে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলের স্থাপনা লক্ষ্য করে তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই হামলাগুলোর প্রধান শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আন্তর্জাতিক
ইউরোপ ট্রাম্পকে জানিয়ে দিয়েছে, ইরান ‘আমাদের যুদ্ধ নয়’
নিজেকে প্রায়ই ট্রান্সআটলান্টিকপন্থি বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস। ট্রান্সআটলান্টিকপন্থি বলতে যিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো-সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতা ও সমন্বয়কে গুরুত্ব দেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে তার বক্তব্য অস্বাভাবিকভাবে স্পষ্ট।
যখন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দেশগুলিকে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক উদ্যোগে যোগ দিতে এবং হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানালেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ঘনিষ্ঠ মিত্র তাকে প্রত্যাখ্যান করল। যার মধ্যে জার্মানি অন্যতম।
ম্যার্ৎস গত বুধবার বার্লিনে জার্মান আইনপ্রণেতাদের বলেন, তিনি মনে করেন ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য হুমকি হতে দেয়া যাবে না। কিন্তু পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত কোনো সন্তোষজনক পরিকল্পনা নেই যে কিভাবে এই অভিযান সফল হবে। ওয়াশিংটন আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি এবং বলেনি যে, ইউরোপের সাহায্য প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিতাম না। তাই আমরা ঘোষণা করেছি, যতদিন যুদ্ধ চলবে, আমরা হরমুজ প্রণালীতে কার্গো জাহাজ সুরক্ষার মতো কাজে, যেমন সামরিকভাবে, অংশগ্রহণ করব না।’
শুধু ম্যার্ৎসই নয়, বেশিরভাগ ইউরোপীয় নেতাই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা এমন এক অনিশ্চিত সংঘর্ষে জড়াতে চান না, যার উদ্দেশ্য পুরোপুরি বোঝা যায় না এবং যা তাদের নাগরিকদের কাছে জনপ্রিয় নয়।
এর মাধ্যমে তারা হিসাব কষছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে শুল্ক বিরোধের মতো বিভিন্ন কারণে ইতোমধ্যেই মারাত্মক চাপের মধ্যে থাকা ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে বহুবিধ ঝুঁকি রয়েছে, তার চেয়ে নিষ্ক্রিয় থাকার সুবিধাই বেশি।
ম্যার্ৎসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস গত সোমবার (১৬ মার্চ) তার মতোই সরাসরি মন্তব্য করেছেন: ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, আমরা এটা শুরু করিনি।’ জার্মানির সঙ্গে সংহতি জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রো। বলেন, ‘আমরা এই সংঘাতের পক্ষ নই।’
ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে ইউরোপীয়রা
ইউরোপীয়রা দীর্ঘদিন ধরেই শঙ্কিত যে, ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করলে তিনি ইউক্রেন বিষয়ে তাদের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে নিতে পারেন অথবা মস্কোর অনুকূলে কোনো চুক্তি মেনে নিতে কিয়েভকে বাধ্য করার চেষ্টা করতে পারেন।
এছাড়া এরই মধ্যে ন্যাটো জোটের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ন্যাটোর সদস্য ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের ট্রাম্পের পরিকল্পনায় দেশগুলো বিচলিত হয়ে পড়ে।
ইরান যুদ্ধে যোগ না দেয়ায় ন্যাটো মিত্রদের ওপর বেজায় ক্ষেপেছেন ট্রাম্প। শাস্তি দেয়ার কোনো পরিকল্পনার ইঙ্গিত না দিলেও তিনি বলেছেন যে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে যোগ না দিয়ে তারা একটি ‘অত্যন্ত বোকামিপূর্ণ ভুল’ করেছে।
ট্রাম্প বিশেষ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেছেন, যাকে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের নেতা উইনস্টন চার্চিলের মতো ‘নন’ বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু স্টারমার এবং অন্য নেতাদের পক্ষে ইউরোপীয় জনমত রয়েছে। ইউগভ-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইরান আগ্রাসনের বিরোধী।
এর ফলে নাইজেল ফারাজের জনতুষ্টিবাদী রিফর্ম ইউকে পার্টি এবং বিরোধী কনজারভেটিভরা মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার প্রতি তাদের প্রাথমিক সমর্থন সংযত করতে এবং এমনকি কিছুটা সমর্থন জানাতেও বাধ্য হয়েছে।
কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেন, ‘আমি কিয়ার স্টারমারের সবচেয়ে বড় সমালোচক, কিন্তু হোয়াইট হাউস থেকে আসা এই কথার লড়াই ছেলেমানুষি।’ রিফর্ম ইউকে-র রবার্ট জেনরিক বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশি নেতাদের দ্বারা তিরস্কৃত হতে দেখাটা আমার ভালো লাগে না।’
স্পেনে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ইরানের ওপর হামলাকে ‘বেপরোয়া ও অবৈধ’ বলে দ্রুত নিন্দা জানান। এমনকি যুদ্ধের জন্য যৌথভাবে পরিচালিত ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে না দিলে স্পেনের সাথে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়ার ট্রাম্পের যে হুমকি তাও উড়িয়ে দেন তিনি।
ইরানে ইসরাইল ও আমেরিকার আগ্রাসনের পরই মার্চ মাসের শুরুর দিকেই স্পেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী মারিয়া হোসে মন্তেরো বলেন, ‘আমরা অবশ্যই কারোর অনুচর হতে যাচ্ছি না, আমরা কোনো হুমকি সহ্য করব না এবং আমরা আমাদের মূল্যবোধ রক্ষা করব।’
সানচেজ সরকারের এই অবস্থান স্প্যানিশদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে সমর্থন পেয়েছে। স্প্যানিশ সংস্থা ৪০ডিবি-র একটি জরিপ মতে, স্পেনের ৬৮ শতাংশ মানুষই ইরান যুদ্ধের বিরোধী।
জার্মানরাও এই যুদ্ধ চান না। এআরডি ডয়েচলান্ডট্রেন্ড-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ জার্মান এই যুদ্ধের বিরোধী এবং মাত্র ২৫ শতাংশ যুদ্ধের পক্ষে। এমনকি উগ্র-ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি থেকেও সমালোচনা এসেছে, যে দলটি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
দলটির সহ-নেতা টিনো ক্রুপাল্লা বলেছেন, ‘ডনাল্ড ট্রাম্প একজন শান্তিকামী প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শুরু করেছিলেন। কিন্তু তিনি একজন যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ করবেন।’
ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত আচরণ সামাল দিতে ইউরোপীয়দের প্রচেষ্টা
ইউরোপীয় সরকারগুলো বলছে, তারা এমন কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না, যে বিষয়ে তাদের কোনো মতামত দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি এবং যার পরিণাম তারা দেখতে পাচ্ছে না।
একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা, যিনি সংবেদনশীলতার কারণে নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন, তিনি বলেছেন যে আমেরিকার যুদ্ধের উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট বা স্পষ্ট নয় এবং সম্ভবত তা ইসরাইলের যুদ্ধের উদ্দেশ্য থেকে ভিন্ন, বিশেষ করে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে।
সম্পর্কের টানাপোড়েনের আরেকটি লক্ষণ হিসেবে জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস এবং অন্যরা বিশ্বব্যাপী তেলের আকাশছোঁয়া দাম কমানোর চেষ্টায় রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে।
ইউরোপীয় শক্তিগুলো ইরানের যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তবে তা তাদের নিজস্ব শর্তে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেছেন, ব্রিটেন হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার একটি পরিকল্পনা নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে, যে পথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহন করা হয়।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক অভিযানে যোগ দিচ্ছে না। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে প্রণালীটি সুরক্ষিত করার জন্য ফ্রান্স একটি জোট গঠনের চেষ্টা করবে – এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকবে না।
প্যারিস গত সপ্তাহ ধরে ইউরোপীয়, এশীয় (ভারতসহ) এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সাথে এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে, যার আওতায় যুদ্ধজাহাজগুলো ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজকে এসকর্ট করবে তথা পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, এই ধরনের পরিকল্পনার মধ্যে সামুদ্রিক শিল্প, বীমাকারী এবং অন্যান্যদের সাথে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে: ‘এই কাজের জন্য ইরানের সাথে আলোচনা এবং উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়োজন হবে।’
পরিশেষে ইউরোপীয় নেতারা সর্বোপরি ঐক্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন এবং ট্রাম্পের খামখেয়ালী নেতৃত্ব বলে যা তারা মনে করেন, তা সামলাতে শিখেছেন।
ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস চলতি সপ্তাহে রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ন্যাটো সামরিক জোট ‘এখন আরও শান্ত, কারণ আমরা… সব সময় অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটার প্রত্যাশা করি এবং সেটিকে সেভাবেই গ্রহণ করি, কিছুটা সতর্ক থাকি এবং শান্ত থেকে মনোযোগী থাকি।’
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজেট চায় পেন্টাগন
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের (১৫১ বিলিয়ন পাউন্ড) বেশি অর্থায়নের অনুমোদন দিতে হোয়াইট হাউসকে অনুরোধ করেছে। তবে এটি এখনও কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছে।
ডিসেম্বরে আইনপ্রণেতারা এই বছর মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের জন্য রেকর্ড ৯০১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন করেছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো বেশি অর্থ চেয়ে আসছেন। ট্রাম্পের ভাষায় অত্যন্ত সংকটময় ও বিপজ্জনক সময় মোকাবেলার জন্য ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে অর্থায়ন অবশ্যই ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে হবে।
জানুয়ারিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, এই বৃহত্তর বাজেট যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘স্বপ্নের সামরিক বাহিনী’ গড়তে সাহায্য করবে এবং দেশকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখবে। এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধের ব্যয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইরানের ওপর হামলার প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।
সূত্র : বিবিসি
আন্তর্জাতিক
ঈদের আগে ইরানের বিরুদ্ধে বড় সিদ্ধান্ত নিল কাতার
কাতারের প্রধান গ্যাস স্থাপনা রাস লাফানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার পর বেশ ক্ষুব্ধ কাতার। এ ব্যাপারে দোহা বলেছে, ‘এ ধরনের হামলা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।’ শুধু তাই নয়, ইরানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক অবস্থানও কঠোর করেছে কাতার।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটি ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক ‘অ্যাটাশে’দের অবিলম্বে কাতার ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। কূটনৈতিক ভাষায় ‘অ্যাটাশে’ বলতে সাধারণত দূতাবাসে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ বা প্রতিনিধিকে বোঝায়। একে ‘সামরিক বা নিরাপত্তা প্রতিনিধি’ বা ‘সংযুক্ত কর্মকর্তা’ বলা যেতে পারে। অপরদিকে রিয়াদ বলছে, ‘ইরানের প্রতি যে সামান্য আস্থা অবশিষ্ট ছিল, তা সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে।’
এদিকে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি হত্যার পর দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি হামলাকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে দায়ীদের ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) তিনি এ বিবৃতি দেন। এর আগে গত সোমবার রাতে তেহরানে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি তার পুত্রসহ নিহত হন। একই দিন পৃথক হামলায় দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হন। এরপর বিভিন্ন পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি এলেও নীরব ছিলেন খামেনি।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। তাতে মোজতবা খামেনি বলেন, লারিজানি একজন ‘বুদ্ধিমান ও অঙ্গীকারবদ্ধ ব্যক্তি’। ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। এই ধরনের একজন ব্যক্তিত্বের হত্যাকাণ্ড থেকে বোঝা যায়, তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং ইসলামের শত্রুদের কাছে কতটা ঘৃণ্য ছিলেন। প্রতিটি রক্তের মূল্য রয়েছে, যা এই শহীদদের খুনিদের অচিরেই পরিশোধ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক
কাতারের সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চলে ইরানের হামলা
ইরানের হামলার কারণে শিল্পাঞ্চলে আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, রাস লাফফান শিল্পাঞ্চলে লাগা আগুন নেভাতে কাজ করছে জরুরি পরিষেবা সংস্থার সদস্যরা।
তবে ইরানের এ হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে কাতার বলেছিল লাস রাফফানের গ্যাস অবকাঠামোতে হামলার ফলে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পরে দেশটি জানিয়েছে, ওই শিল্পাঞ্চলে আগুন লেগেছে। যা নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।
সূত্র: আলজাজিরা




