সারাদেশ
একতা এক্সপ্রেস ঢাকা ছাড়বে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে, নীলসাগর অজানা!
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে বগুড়ার সান্তাহারে দুর্ঘটনায় পড়া নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য ওই রুটে ট্রেন চলাতে বিলম্বে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফলে বড়সড় ভোগান্তিতে আছেন ওই রুটের যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে দেশের প্রধান ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পঞ্চগড় রুটের একতা এক্সপ্রেস সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটির সময় দেওয়া হয়েছে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে। অন্যদিকে শিডিউলে থাকা সেই নীলসাগর এক্সপ্রেস ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটিকে পিছিয়ে সকাল ১০টা ১০ মিনিট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সেটির সময় তুলে নেওয়া হয়। অর্থাৎ এই ট্রেন কখন ছাড়বে সেটি এখন অজানায় রয়েছে।
৪ নম্বর প্লাটফর্মের নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহপুর এলাকায় একটি গার্মেন্টে কাজ করি। আজ থেকে ৯ দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। আমি যাবো সৈয়দপুর। গত ১৪ তারিখেই টিকিট কেটে রেখেছি।
অনিশ্চয়তা নিয়ে তিনি বলেন, আমি সেই পৌনে ৬টার দিকে স্টেশনে এসেছি। এখন সাড়ে ১০টা বাজে। কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে, জানি না। দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে অন্য কোনো চিন্তা করবো। যদি আগামীকাল ঈদ হয়, তাহলে ঈদ তো রাস্তায়ই কেটে যাবে।
শুধু মাহফুজার রহমান নন, এমন অসংখ্য যাত্রী রয়েছেন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, নীলসাগর এক্সপ্রেস গতকাল ৪ ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকায় এসেছে। এবং এই ট্রেনে কোচ শর্ট হয়েছে। ঢাকায় নতুন কোচ সংযোজন করে সেটি ছাড়া হবে।
সারাদেশ
বাস-ট্রেন-লঞ্চে ঘরমুখো মানুষের ঢল, ঈদযাত্রায় বাড়ছে ভোগান্তি
ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর থেকেই রেল, সড়ক ও নৌপথে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নির্ধারিত সময়েই দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এতে অনেক যাত্রীর মুখে স্বস্তির ছাপ থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তবে বারতি ভাড়ার চাপে ও যাত্রীদের চাপের তুলনায় যানবাহন কম থাকায় ট্রাক-পিক আপে করে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে অনেককে। আবার গণপরিবহন সংকটে কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।
গাজীপুরের চন্দ্রা মোড়কেন্দ্রিক কয়েক কিলোমিটারের গাড়ির জটলা, পথে পথে যাত্রী তোলায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছেনা।
এদিকে, ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে এবারের ঈদে শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে রেলখাত। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ছেড়ে যাওয়া কোনো ট্রেনেই তিল ধারণের জায়গা ছিল না। অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠে যাত্রা করেছেন।
অন্যদিকে, সদরঘাটেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। লঞ্চে জায়গা পেতে ভোর রাত থেকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেককে। গতকালের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরও, পন্টুনে লঞ্চ থামা মাত্রই ঘরমুখো যাত্রীরা হুড়মুড়িয়ে নৌযানে ওঠেন। যাত্রীদের মধ্যে দেখা যায়নি কোনো সতর্কতা বা সচেতনতার ছাপ।
সারাদেশ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধীনস্ত শ্যামকুড় বিওপির মেইন পিলার থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ফটিককারী নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
আহত উজ্জ্বল হোসেন (৩৫) মহেশপুর উপজেলার মাইলবাড়িয়া বসতিপাড়া গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে উজ্জ্বল। এসময় ১৯৪ বিএসএফ ব্যাটেলিয়নের অধীন ফটিকারি ক্যাম্পের টহল দল তাকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
গুলিবিদ্ধ উজ্জ্বল হোসেন সীমান্তে মাদক চোরাচালান ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বুধবার দুপুরে উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহবুর রহমান বলেন, সীমান্তে মাদক ও মানব পাচারের সঙ্গে উজ্জ্বল হোসেন জড়িত ছিল বলে আমরা জানি। ঘটনার দিন সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পারাপারের সময় সে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, উজ্জল হোসেন নামে একজন চোরাকারবারি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পরেছে। বর্তমানে আহত যুবক যশোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হলেও আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সারাদেশ
ভোলায় লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোটডুবি, পুলিশ সদস্য নিখোঁজ
ভোলার লালমোহন উপজেলার মেঘনা নদীতে ঘাটে অবস্থানরত কর্নফুলী-১২ নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মৎস্য বিভাগের একটি স্পিডবোটডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মো. ফখরুল নামে এক পুলিশ সদস্য নদীতে নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া স্পিডবোটে থাকা পুলিশ সদস্যসহ আরও ৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) দিনগত রাত ৮টার দিকে উপজেলার মঙ্গল সিকদার লঞ্চঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ ফখরুল লালমোহনের মঙ্গলবার সিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় বলে জানা গেছে।
এছাড়া আহতরা হলেন- লালমোহন উপজেলা মৎস্য বিভাগের অফিস সহকারী আব্বাছ উদ্দিন, ক্ষেত্র সহকারী মনোয়ার হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সোহাগ ও আরও ৩ পুলিশ কনস্টেবল।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত ভোলার মেঘনা তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরার উপর ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মঙ্গলসিকদার ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মৎস্য বিভাগের সাথে নদীতে অভিযান পরিচালনা করছিল পুলিশ সদস্যরা। এ সময় হঠাৎ অভিযানকারী দলের স্পিডবোট বিকল হয়ে নদীতে ভাসতে থাকে। অন্যদিকে এসময় ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চটি মঙ্গল সিকদার ঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। একপর্যায়ে স্পিডবোটটি স্রোতের ঢেউয়ের সাথে ভাসতে ভাসতে লঞ্চের পেছনে থাকা প্রফেলারের কাছে চলে এসে বোটটি লঞ্চের তলায় ঢুকে যাওয়ার মুহূর্তে বোটে থাকা পুলিশ সদস্যরা ও মৎস্য বিভাগের লোকজন বোটের একপাশে এসে বোটটিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে লঞ্চের প্রফেলারের পানির ঘূর্ণিতে স্পিডবোট উল্টে ডুবে যায়। পরবর্তীতে বোটে থাকা পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অন্যান্য লোকজন সাতরে তীরে উঠলেও নিখোঁজ হন ফখরুল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন লালমোহন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, এটি দুর্ঘটনা। নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবল ফখরুলের সন্ধানে নদীতে উদ্ধার অভিযান চলছে। আমরা মূলত এখন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে রাত পৌনে ১২টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নদীতে নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবল ফখরুলের কোনো খোঁজ মেলেনি।
সারাদেশ
ফাঁকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঈদযাত্রায় স্বস্তি
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর দুই দিন বাকি। এতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়লেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এবার দেখা মিলেছে স্বস্তিদায়ক যাত্রার। দীর্ঘদিনের চিরচেনা যানজটের দুর্ভোগ পেছনে ফেলে অনেকটাই নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা।
বুধবার (১৮ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল, চিটাগাং রোড, কাঁচপুর মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়লেও কোথাও দীর্ঘ যানজট বা স্থবিরতা নেই। সড়ক অনেকটাই ফাঁকা থাকায় যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। সরকার ঘোষিত টানা সাত দিনের ছুটির দ্বিতীয় দিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসঙ্গে চাপ না পড়ে ধাপে ধাপে মানুষ ঢাকা ছাড়ায় সড়কে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়নি। অন্যদিকে শিমরাইল মোড়ের বাস কাউন্টারগুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
অন্যান্য বছরের মতো উপচে পড়া ভিড় নেই। ফলে অনেকটা অলস সময় পার করছেন টিকিট কাউন্টারের কর্মীরা। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে র্যাব, পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি কমাতে এই রুটে ১২৪ জন পুলিশ সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।
যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি নেই। আশা করছি, পুরো ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নই থাকবে।
সারাদেশ
বগুড়ায় ট্রেনের বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় আহত অর্ধশতাধিক
ঢাকা থেকে নীলফামারী যাওয়ার পথে বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস আন্ত নগর ট্রেনের ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামের বাগবাড়ী এলাকায় ট্রেনের ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে চলন্ত ট্রেনটি হঠাৎ বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়।মুহূর্তেই কয়েকটি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে। এতে যাত্রীদের মধ্যে চরম ভীতির সৃষ্টি হয় এবং অনেকে আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকেন। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ছাদেও বিপুলসংখ্যক যাত্রী অবস্থান করছিলেন, ফলে হতাহতের আশঙ্কা আরো বেড়ে গেছে। স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের টিম তাদের উদ্ধার করে আদমদীঘি ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেয়।
এ ঘটনায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।




