আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের বিশেষ অনুমতি পেল যেসব দেশ
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার ১৬তম দিনে বিশ্ব তেলের বাজারের ভূ-রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’। ইরান এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলেও, নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ’ বা নিরাপদ যাতায়াতের বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে। তবে এই সংকটের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল রয়েছে।
যাদের নিরাপদ পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে :
পাকিস্তান : রোববার পাকিস্তানের পতাকাবাহী ‘করাচি’ নামক আফরাম্যাক্স ট্যাঙ্কার সফলভাবে প্রণালিটি পার হয়েছে। ওমান উপকূলে জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর এটি ছিল অবরোধের পর প্রথম অ-ইরানি জাহাজের সফল যাত্রা।
ভারত : ভারতের জন্য বিশেষ ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা রেখেছে ইরান। গত শনিবার ভারতের দুটি এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কার নিরাপদে এই পথ অতিক্রম করেছে। ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ফাতাহি জানিয়েছেন, বিশেষ বিবেচনায় ভারতীয় জাহাজগুলোকে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তুরস্ক : তুর্কি পরিবহন মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি তুর্কি মালিকানাধীন জাহাজ সেখানে অপেক্ষায় ছিল। এরমধ্যে একটি জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই ইরানের বন্দর ব্যবহার করেছিল।
নিরাপদ যাতায়াতের জন্য দরকষাকষি করছে যারা :
চীন : বেইজিং ইরানের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালাচ্ছে। চীনের তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে আসে। রয়টার্স জানিয়েছে, কাতার থেকে এলএনজি এবং অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপারের জন্য বেইজিং তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।
ফ্রান্স ও ইতালি : ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপের এই দুই দেশ তাদের জাহাজের সুরক্ষার জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে মিত্র দেশ ছাড়া অন্যদের জন্য শর্ত বেশ কঠিন রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব :
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার। কিন্তু ২ মার্চ আইআরজিসি প্রধানের উপদেষ্টা ইব্রাহীম জাবেরি প্রণালিটি বন্ধ ঘোষণা করার পর দাম দ্রুত বেড়ে যায়। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৫% বেড়ে ১০৫.৭০ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় প্রায় ৪০% বেশি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি জানিয়েছেন, কোন দেশ পার হতে পারবে তা সম্পূর্ণ তাদের সামরিক বাহিনীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মূলত যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে বা নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে, তাদের জন্য এই পথ শর্তসাপেক্ষে খোলা রাখা হচ্ছে।
সূত্র : আল জাজিরা।
আন্তর্জাতিক
আমিরাতের প্রধান বন্দরের কাছে ট্যাঙ্কার জাহাজে হামলা
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান সমুদ্রবন্দর ফুজাইরাহ-এর কাছে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজে হামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোরের দিকে এ হামলা ঘটেছে বলে এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন (ইউকেএমটো)।
ফুজাইরাহ ওমান উপসাগরের তীরবর্তী বন্দর। ট্যাংকার জাহাজটি ওমান উপসাগরের যে এলাকায় হামলার শিকার হয়েছে, সেটি ফুজাইরা থেকে ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে এবং সেটি নোঙ্গর করা অবস্থায় ছিলো।
ইউকেএমটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজটিতে বিস্ফোরক কোনো বস্তু আঘাত হেনেছে। সেটি ড্রোন, না ক্ষেপণাস্ত্র না-কি অন্যকিছু— তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই হামলায় জাহাজটির বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, কোনো নিহত কিংবা আহতের ঘটনাও ঘটেনি।
হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত ফুজাইরা সমুদ্রবন্দর আমিরাতের জ্বলানি বাণিজ্যর একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। আমিরাতের অধিকাংশ জ্বালানি তেলে এই বন্দর দিয়েই বহির্বিশ্বে যায়। তবে ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই বন্দরটি বন্ধ আছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
হামলার আশঙ্কা কমায় আকাশসীমা খুলল আমিরাত
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। এটিকে চলমান সংঘাতের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র হামলাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় আকাশসীমা বন্ধ করার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত আবারও তা খুলে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ইরান ইস্যুতে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়াতে না চাওয়ায় তিনি যুক্তরাজ্যের অবস্থানে সন্তুষ্ট নন।
তিনি আবারও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাটোসহ অন্যান্য দেশের সহযোগিতা চান। তবে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, এই যুদ্ধ ন্যাটোর বিষয় নয়।
ন্যাটো জানিয়েছে, তাদের মিত্ররা ইতোমধ্যে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে পদক্ষেপ নিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে বড় ধরনের ইসরায়েলি স্থল অভিযান শুরু হলে তা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরান, শিরাজ ও তাবরিজ শহরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সূত্র : বিবিসি
আন্তর্জাতিক
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাহায্য না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ খুব খারাপ হবে: ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন মিত্ররা যদি হরমুজ প্রণালী খুলতে সাহায্য করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ন্যাটো ‘খুব খারাপ’ ভবিষ্যতের মুখোমুখি হবে।
হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করতে সাহায্য করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সপ্তাহান্তে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।
রোববার দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেমন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সহায়তা করেছে, তেমনি তিনি আশা করেন, ইউরোপ হরমুজ প্রণালীতে সহায়তা করবে যার বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
‘যদি কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া যায় বা যদি কেউ সহায়তা পাঠাতে অস্বীকার করে তাহলে আমি মনে করি এটি ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুব খারাপ হবে।’ ট্রাম্প বলেন, যিনি বছরের পর বছর ধরে এই জোটকে মার্কিন অনুদানের উপর ভিত্তি করে মুক্তভাবে কাজ করার সমালোচনা করে আসছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, এটা কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা, হরমুজ প্রণালীর সুবিধাভোগী। তারা যাতে সেখানে খারাপ কিছু না ঘটে তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবেন।’
তিনি কি ধরনের সহায়তার কথা বলছেন সে সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি মাইন সুইপারদের পাশাপাশি এমন লোকদেরও চান যারা (ইরানের) উপকূলে থাকা কিছু খারাপ পক্ষকে হটাবেন।
ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করার বিষয়ে তিনি সাতটি দেশের সাথে আলোচনা করছেন। ওয়াশিংটন ইরানের সাথে যোগাযোগ করছে কিন্তু সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তেহরান সংঘাতের অবসান ঘটাতে গুরুতর আলোচনার জন্য প্রস্তুত কিনা।
এদিকে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তেল বাজারকে নাড়া দিয়েছে, যেখানে সরবরাহ ঝুঁকির কারণে গত দুই সপ্তাহ ধরে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধের ভালো খবর দেখাও, নয়তো লাইসেন্স বাতিল, ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে। যুদ্ধের নেতিবাচক বা সমালোচনামূলক সংবাদ প্রচার করলে সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। বর্তমান প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, সম্প্রচারকারী মাধ্যমগুলোকে অবশ্যই ‘জনস্বার্থে’ কাজ করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, যেসব সংবাদমাধ্যম ‘ভুয়া খবর’ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াবে, লাইসেন্স নবায়নের সময় তাদের কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।
কারের এই বক্তব্যকে সংবাদমাধ্যমের ওপর সরাসরি চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে কৌতুক অভিনেতা জিমি কিমেলের শো নিয়ে এবিসি চ্যানেলকে দেওয়া তার হুমকি এবং পরবর্তীতে শো সাময়িক বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি এই উদ্বেগকে আরও উসকে দিয়েছে।
সম্প্রতি সৌদিতে ইরানি হামলায় মার্কিন তেলের বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর গণমাধ্যমে আসার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি দাবি করেন, মিডিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে বলছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘বাজে মিডিয়া’ চায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে হেরে যাক।
অন্যদিকে, প্রশাসনের নীতি নির্ধারকরা সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘দেশপ্রেমিক’ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের যুদ্ধের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পরামর্শ দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের উচিত ইরানের ‘দুর্বলতা’র খবর প্রচার করা, যুদ্ধের ভয়াবহতার নয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মার্কিন রাজনীতিবিদ এবং মানবাধিকার কর্মীরা। হাওয়াইয়ের সিনেটর ব্রায়ান শাটজ একে সরাসরি সেন্সরশিপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি পরিষ্কার বার্তা— হয় সরকারের গুণগান গাও, নয়তো বন্ধ হয়ে যাও।”
ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন (ফায়ার)-এর অ্যারন টের বলেন, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী সরকার যুদ্ধের কোনো তথ্য সেন্সর করতে পারে না।
ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধে জয়ের দাবি করলেও কুইনিপিয়াকের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানের বিরোধী। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই যুদ্ধকে বিনা উস্কানিতে আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর অব্যাহত হামলার মধ্যেও ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সব ঠিক আছে’ দাবি মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যুদ্ধের মাঠ, অন্যদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা— দুই ফ্রন্টেই এখন উত্তাল আমেরিকা।
এমএন
আন্তর্জাতিক
সম্ভব হলে এখনই সৌদি আরব ছাড়ুন, মার্কিন নাগরিকদের জরুরি বার্তা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দ্রুত দেশটি ছাড়ার জরুরি নির্দেশ দিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
রোববার (১৫ মার্চ) এক জরুরি নিরাপত্তা সতর্ক বার্তায় দূতাবাস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে দূতাবাস।
বার্তায় আরও বলা হয়, মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তাই এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন প্রশাসন।
দূতাবাস ফ্লাইটের সবশেষ আপডেটের জন্য বিমান সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মাম বিমানবন্দর চালু রয়েছে। তবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে আকাশসীমা বার বার বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। ফলে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যাত্রীদের বিমান সংস্থাগুলোর সাথে যোগযোগ অব্যাহত রাখতে হয়।
এদিকে যারা এখনই সৌদি আরব ছাড়তে পারবেন না, তাদের জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাড়তি সতর্কতা অবলম্বর করতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানি, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।




