আন্তর্জাতিক
আমিরাতের প্রধান বন্দরের কাছে ট্যাঙ্কার জাহাজে হামলা
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান সমুদ্রবন্দর ফুজাইরাহ-এর কাছে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজে হামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোরের দিকে এ হামলা ঘটেছে বলে এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন (ইউকেএমটো)।
ফুজাইরাহ ওমান উপসাগরের তীরবর্তী বন্দর। ট্যাংকার জাহাজটি ওমান উপসাগরের যে এলাকায় হামলার শিকার হয়েছে, সেটি ফুজাইরা থেকে ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে এবং সেটি নোঙ্গর করা অবস্থায় ছিলো।
ইউকেএমটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজটিতে বিস্ফোরক কোনো বস্তু আঘাত হেনেছে। সেটি ড্রোন, না ক্ষেপণাস্ত্র না-কি অন্যকিছু— তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই হামলায় জাহাজটির বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, কোনো নিহত কিংবা আহতের ঘটনাও ঘটেনি।
হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত ফুজাইরা সমুদ্রবন্দর আমিরাতের জ্বলানি বাণিজ্যর একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। আমিরাতের অধিকাংশ জ্বালানি তেলে এই বন্দর দিয়েই বহির্বিশ্বে যায়। তবে ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই বন্দরটি বন্ধ আছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরানের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়ের প্রত্যাশা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয়লাভ করেছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই বিজয়কে আরও বড় ব্যবধানে নিশ্চিত করতে চান।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার এবং নেতৃত্ব কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয়ী, তবে তিনি আরও বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে চান। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রায় সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে, এমনকি তাদের নেতৃত্ব কাঠামোও ভেঙে পড়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, এই সংঘাতে ইরান ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং দেশটির পুনর্গঠনে অন্তত দুই দশক সময় লাগতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখন সরে দাঁড়ায়, তবুও ইরানের পুনরুদ্ধার করতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগবে-যদি তারা তা আদৌ করতে সক্ষম হয়।
তবে তার মতে, এই অর্জন যথেষ্ট নয়। ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত গ্যারান্টি প্রয়োজন বলেও জোর দেন তিনি।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরান তীব্র অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির অর্থনীতি বর্তমানে ভেঙে পড়ছে এবং মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, কঠোর অবরোধের ফলে ইরান তেল রপ্তানি করতে পারছে না।
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধে প্রাথমিক হিসেবের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগন এ অভিযানে সম্ভাব্য ব্যয়ের যে হিসেব দিয়েছিল— তার তুলনায় ইতোমধ্যে দ্বিগুণ ব্যয় হয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস।
পেন্টাগনের ইরানে অভিযানের বাজেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জুলস হার্স্টের বরাত দিয়ে সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর আগে পেন্টাগনের প্রাথমিক হিসাব বলছিল যে এ অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে ২৫০ কোটি ডলার।
জানিয়েছেন, তবে বাস্তবে গত দু’মাসে এই সামরিক অভিযানের পেছনে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়ে গেছে ৫০০ কোটি ডলার। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। যদি বিরতি শেষ হয়ে যায় এবং ফের যুদ্ধ শুরু হয়— তাহলে এ অভিযানের ব্যয় আরও বাড়বে।
হার্স্ট বলেন, “এমনকি এখন যদি যুদ্ধ থেমেও যায়— তাহলেও ব্যয় বাড়বে। কারণ গত প্রায় দু’মাসে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যত সেনা-ঘাঁটি আছে— সবগুলোতে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সেসব ঘাঁটি ফের মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। এটা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ।”
সেনাঘাঁটিগুলোর পাশাপাশি যুদ্ধাস্ত্রের ক্ষয়ক্ষতিও ব্যয়বৃদ্ধির আরেকটি কারণ। সিবিএসকে হার্স্ট বলেন, “যুদ্ধে এ পর্যন্ত আমরা শুধু এমকিউ-৯ ড্রোন হারিয়েছি ২৪টি। এক একটি ড্রোনের দাম ৩ কোটি ডলার। এছাড়া বিমান, হেলিকপ্টার ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র ও সামরিক যান তো আছেই।”
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এখনও তা মেনে চলছে দুই দেশ।
সূত্র : সিবিএস, আনাদোলু এজেন্সি
আন্তর্জাতিক
১১ দেশকে নিয়ে বিশাল সামরিক মহড়ার ঘোষণা ভারতের
প্রতিবেশী ১১টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে বৃহৎ আকারের বহুজাতিক সামরিক মহড়া আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে ভারত। ‘প্রগতি’ নামের এই মহড়া চলতি মে মাসে প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী মেঘালয়ের উমরোইতে অবস্থিত ফরেন ট্রেনিং নোডে প্রথমবারের মতো বহুজাতিক সামরিক মহড়া ‘প্রগতি’ আয়োজন করতে যাচ্ছে। আগামী ১৮ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এ মহড়া চলবে। এতে ১১টি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সামরিক প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এই মহড়ার লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা, পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে আস্থা গড়ে তোলা।
ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই উদ্যোগ যৌথ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি সবার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (জনসংযোগ) বিভাগ জানিয়েছে, এই মহড়া আঞ্চলিক বাহিনীগুলোর মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই মহড়ায় লাওস, মিয়ানমার, সিশেলস, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভুটান অংশ নিচ্ছে। মহড়ার মূল লক্ষ্য বিদ্রোহ দমন এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম। এতে যৌথ প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা কূটনীতির ওপর জোর দেওয়া হবে। এটি প্রতিবেশী দেশ ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির অংশ, যেখানে সক্ষমতা উন্নয়ন ও যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মহড়ার মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্বিপাক্ষিক প্রশিক্ষণ থেকে সরে এসে বহুপাক্ষিক বা কনসোর্টিয়ামভিত্তিক অংশগ্রহণের দিকে এগোচ্ছে। ওয়ারগেমের পাশাপাশি এই আয়োজনে দুই দিনের শিল্প প্রদর্শনী করা হবে। এতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা তুলে ধরা হবে এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে শিল্প খাতে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
আন্তর্জাতিক
নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ২৮৭ মনোনয়ন, আলোচনায় ট্রাম্প সহ নতুন প্রার্থীরা
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। চলতি বছরে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংস্থা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি নতুন প্রার্থী রয়েছে।
বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছেন ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন, যিনি নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার নতুন প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
হার্পভিকেন জানান, চলতি বছরের মনোনয়নের তালিকায় ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংস্থা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি নতুন প্রার্থী রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প এমন এক সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, যে বাহিনী ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে ১৬৫ শিশুকে হত্যা করেছে। এমনকি কেবল ২০২৫ সালেই অন্তত ছয়টি দেশে বোমা হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিকদেরকে হত্যা করেছে- এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের আলোচনায় তার নামও উচ্চারিত হচ্ছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নরওয়ের নোবেল কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন হার্পভিকেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘আমি এই কাজে নতুন হওয়ায় একটি বিষয় আমাকে কিছুটা অবাক করেছে—তা হল বছর বছর তালিকায় কতটা নতুনত্ব আসছে।’’
বিশ্বজুড়ে সংঘাতের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাপের মুখে থাকলেও শান্তিতে এই নোবেল পুরস্কার এখনও অর্থবহ বলেই মনে করেন তিনি। হার্পভিকেন বলেন, “আমরা যে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তাতে শান্তি পুরস্কার আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগের চেয়ে এখন বেশি ভাল কাজ হচ্ছে।”
কম্বোডিয়া, ইসরায়েল এবং পাকিস্তানের নেতারা জানিয়েছেন, তারা চলতি বছরের পুরস্কারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মনোনীত করেছেন।
তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়ে থাকলে তা ২০২৫ সালের বসন্ত ও গ্রীষ্মকালেই দিয়ে দেওয়ার কথা। আর যেহেতু মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩১ জানুয়ারি, তাই তাদের এ মনোনয়ন অনুমোদন পেয়ে থাকবে।
তবে দেশগুলোর নেতারা যা বলছেন, সে অনুযায়ী কাজ হয়েছে কিনা তা যাচাই করে দেখার কোনও উপায় নেই। কারণ, মনোনয়নের বিষয়টি ৫০ বছর ধরে গোপন রাখা হয়। ট্রাম্প মনোনয়ন পেয়েছেন কিনা সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সেক্রেটারি হার্পভিকেনও। কাউকে মনোনীত করার মানেই যে পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থার অনুমোদন পাওয়া তা নয়।
নোবেল কমিটির সদস্যরা ছাড়াও বিশ্বের হাজার হাজার মানুষ পুরস্কারের জন্য কারো নাম প্রস্তাব করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও পার্লামেন্ট সদস্য, বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, আইন ও দর্শনের অধ্যাপক এবং অন্যান্যদের মধ্যে সাবেক নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীরা।
এ বছরের সম্ভাব্য নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকায় বাজি ধরার ওয়েবসাইটগুলোতে বেশ কিছু নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন, প্রয়াত রুশ বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া, পোপ লিও এবং অন্যান্যদের মধ্যে সুদানের স্বেচ্ছাসেবী ত্রাণ সংস্থা ইমারজেন্সি রেসপন্স রুমস।
আন্তর্জাতিক
অবরোধ-যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম ১২০ ডলার ছাড়াল, বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার শঙ্কা
বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বিশাল প্রকম্পন সৃষ্টি করে অপরিশোধিত তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ইরানের ওপর মার্কিন প্রশাসনের ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধ আরোপের অনড় অবস্থানের খবরে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
বুধবার লেনদেনের একপর্যায়ে এটি ১২২ ডলারে উঠে গিয়েছিল, যা ২০২২ সালের পর বিশ্ব দেখেনি। বৃহস্পতিবার সকালেও এই দাম ১২০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে।
গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জ্বালানি খাতের দানব প্রতিষ্ঠান শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের উদ্দেশ্য মার্কিন ভোক্তাদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব কমানো বলা হলেও, বাজারের বিশ্লেষকরা একে অন্য চোখে দেখছেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের পর একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে, ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চেয়ে ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান অবরোধকে আরও দীর্ঘায়িত করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ট্রাম্প সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন যেন ইরানের তেল রপ্তানি এবং বন্দর কেন্দ্রিক কার্যক্রম পুরোপুরি অচল করে রাখা হয়। এর জবাবে তেহরানও তাদের ‘পাল্টা কামড়’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখন এক অনিশ্চিত ভাগ্যের মুখে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ যে জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালি এখন কার্যত একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর ইরান এই প্রণালিতে কড়াকড়ি আরোপ করে। তেহরানের সাফ কথা, তাদের জলসীমার কাছে কোনো জাহাজ এলে তা হামলার শিকার হতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ঘোষণা দিয়েছে যে ইরানের দিকে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা যেকোনো জাহাজ তারা রুখে দেবে। যদিও বিবিসি ভেরিফাইয়ের তথ্যমতে, অন্তত চারটি ইরানি জাহাজ মার্কিন কঠোর নজরদারি এড়িয়ে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, তবে সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম। ১৭ এপ্রিল ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির সময় তেলের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে নামলেও, গত ১২ দিনের মার্কিন কঠোরতায় তা আবার আকাশচুম্বী হয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরানের জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। দেশটির পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বার্ষিক মূল্যস্ফীতি এখন ৫৩.৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
যুদ্ধ এবং অবরোধের প্রত্যক্ষ প্রভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তেল রপ্তানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার রিক্ত হচ্ছে। যদিও তেহরান দাবি করছে তারা বিকল্প পথে বাণিজ্য চালিয়ে যাবে, তবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা সেই দাবিকে ফিকে করে দিচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানকে ‘বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার কৌশলী অবস্থান হলো, সরাসরি বোমা হামলা না চালিয়ে অবরোধের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিকে শ্বাসরোধ করা, যাতে তারা দ্রুত সমঝোতার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়।
বিশ্বব্যাংক এক ভয়াবহ পূর্বাভাসে জানিয়েছে, মে মাসে যদি এই সংঘাতের কোনো সমাধানও আসে, তবুও ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম অন্তত ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর এটিই হবে জ্বালানি বাজারের বৃহত্তম ধাক্কা।
এর নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে বিশ্ব শেয়ারবাজারে পড়তে শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক: ১.২ শতাংশ পতন।
ফ্রান্সের এসএসি সূচক: ০.৩৯ শতাংশ হ্রাস।
জার্মানির ডিএএক্স সূচক: ০.২৭ শতাংশ কমেছে।
ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে এই রক্তক্ষরণ প্রমাণ করে যে, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি একটি অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা করছেন। এক্সটিবির গবেষণা পরিচালক ক্যাথলিন ব্রুকসের মতে, বাজার এখন এই সত্যটি মেনে নিয়েছে যে ইরানের ওপর অবরোধ স্বল্পমেয়াদি কোনো বিষয় নয়।
তেলের দাম ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক অশনিসংকেত। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অর্থ হলো পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, যা সরাসরি খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজের মজুত বাড়াতে ব্যস্ত এবং ইরান যখন তার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে হরমুজকে জিম্মি করছে, তখন মাঝপথে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ। মে মাসের সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, বিশ্ব তাকিয়ে আছে হোয়াইট হাউস আর তেহরানের পরবর্তী চালের দিকে। কূটনৈতিক কোনো অলৌকিক সমাধান ছাড়া এই ১২০ ডলারের বোঝা থেকে বিশ্বের মুক্তি মিলবে বলে মনে হচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: বিবিসি




