জাতীয়
তেলের কোনো সংকট নেই, দাম বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেই: সেতুমন্ত্রী
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং তেলের দাম বাড়ানোরও কোনো পরিকল্পনা নেই।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন এবং নারীদের জন্য একটি শৌচাগার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গত রাত থেকেই দেশের সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো সংকট নেই। তাই তেলের দাম বাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি বলেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে এবার যাত্রীদের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ বেশি ভাড়া আদায় করলে অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, অনেক স্থানে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এবং কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন কোনো যানবাহন সড়কে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও মালিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয়
র্যাব, এসবি ও সিআইডির প্রধান পদে পরিবর্তন
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান পদে পরিবর্তন এনেছে সরকার।
সোমবার (১৬ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ এর উপসচিব তৌছিফ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে পরিবর্তনের এ আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) সরদার নুরুল আমিনকে বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
একইসঙ্গে অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে সিআইডি প্রধান করা হয়েছে।
এছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি (সিআইডি) মো. ছিবগাত উল্লাহকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি পদমর্যাদা) মো. শওকত আলীকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার এবং এসবির ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টায় একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সৈয়দপুর পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কর্মসূচিস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী।
এরপর সাহাপাড়ায় নিজে কোদাল হাতে খাল খননে নামেন প্রধানমন্ত্রী। খাল খনন কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এতে পানির সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে খাল খনন উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। পরে তিনি দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে যাবেন। সেখানে তিনি তাঁর নানা মরহুম মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানি মরহুমা তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হকসহ (চকলেট) নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেবেন।
উল্লেখ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে ১৯৭৭ সালে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বর্ষকালের অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা লক্ষ্য ছিল। সে সময় সারা দেশে ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করেন তিনি।
এমএন
জাতীয়
আজ দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
দেশজুড়ে নদী-নালা, খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধারে বড় কর্মসূচির সূচনা করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের ঘোষিত আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুর সফরে যাচ্ছেন তিনি।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা-এ এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়-এর পরিকল্পনা-৩ শাখা থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে খাল খনন ও পুনঃখনন কাজ শুরু হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক বলরামপুর–সাহাপাড়া খাল থেকে মাটি কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সময়ে দেশের বাকি ৫৩টি জেলায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন।
উল্লেখ্য, এই সাহাপাড়া খালটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক স্মৃতি। ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে ঝুড়ি-কোদাল হাতে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ গ্রামবাসীদের সঙ্গে করে ১২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি খনন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর সেই খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচির প্রস্তুতি সশরীরে তদারকি করছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও খাল খনন কর্মসূচি ঘিরে কাহারোলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ হোসেন বলেন, এই খনন কাজের ফলে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, যা খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এমএন
জাতীয়
ঈদের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের আজ শেষ কর্মদিবস
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্মদিবস আজ (সোমবার ১৬ মার্চ)। আজকের পর থেকেই টানা সাত দিনের ঈদ ছুটিতে যাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সরকারের পূর্বঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব গত ৫ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন করা হয়। ফলে এবার ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সব সরকারি দপ্তরে টানা সাত দিনের ছুটি থাকবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরে আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটির সময়সূচি নির্ধারণ করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এর আগে ১৭ মার্চ পবিত্র শবে কদরের ছুটি। এর পরদিন ১৮ মার্চ ছুটি হওয়ার ফলে এবার ঈদ উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৭ মার্চ জারি করা ছুটির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কার্যবণ্টন (কার্যপ্রণালী বিধিমালা, ১৯৯৬)-এর তফসিল অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতাবলে এ ছুটি নির্বাহী আদেশে ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘোষিত ছুটির দিনে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।
তবে জরুরি সেবাগুলো এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসা সেবা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনও এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোও খোলা থাকবে।
এমএন
জাতীয়
আবেগ দিয়ে নয়, সংবিধান ও আইন অনুযায়ীই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হতে হবে সংবিধান ও আইন—কোনো আবেগ বা খেয়ালি সিদ্ধান্ত নয় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে এমনই এক নীতিগত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র কোনো আবেগীয় তাড়নায় পরিচালিত হয় না; বরং এটি চলে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী। বিরোধী দলের সাম্প্রতিক কিছু দাবি এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতার বিভিন্ন বক্তব্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে যে ‘আরোপিত আদেশের’ কথা বলা হচ্ছে, সেটিকে তিনি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিহিত করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা একটি সাংবিধানিক কাঠামোতে কাজ করছি। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করলে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন করার কোনো সুযোগ বা এখতিয়ার নেই। যারা একে আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করতে চাইছেন, তারা কি আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ, নাকি জেনেবুঝেই সংবিধান লঙ্ঘনের উসকানি দিচ্ছেন?’
তিনি আরও যোগ করেন, জনরায়ের প্রতি সরকারের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু সেই রায়কে বাস্তবে রূপ দিতে হলে অবশ্যই সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে। কোনো ‘অবৈধ আদেশের’ মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে আঘাত হানা সম্ভব নয়।
অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণের সময় বিরোধী দলের অনুপস্থিতিকে তিনি দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলীয় বন্ধুরা রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে চাননি, তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছেন।
এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে, কিন্তু সংসদীয় শিষ্টাচারের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা ভাবার বিষয়। মজার ব্যাপার হলো, তারা ভাষণ শুনতে চাননি ঠিকই, কিন্তু আবার সেই ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন।’
সরকার পক্ষ এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একে এপ্রিশিয়েট করি। যদি ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হয়, তবে সংখ্যানুপাতে আমরা পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করব যাতে দেশবাসী সত্য জানতে পারে।’
বর্তমান অধিবেশনের ব্যস্ততা এবং আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে সংবিধান সংশোধনী বিল আনা টেকনিক্যালি চ্যালেঞ্জিং।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান অধিবেশনে আমাদের ওপর ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির একটি বিশাল আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ কাজ হাতে নিয়ে সংবিধান সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিল উত্থাপন করা এই মুহূর্তে কঠিন। তবে আমরা আলোচনার পথ বন্ধ করছি না।’
তিনি প্রস্তাব করেন যে, আগামী বাজেট অধিবেশনে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই বিল উত্থাপন করা হবে যা আইনিভাবে হবে ত্রুটিমুক্ত।
জুলাই জাতীয় সনদকে একটি ‘ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সরকার এই সনদের প্রতিটি শব্দের প্রতি দায়বদ্ধ। তবে এই দায়বদ্ধতা পালন করতে হবে সংবিধানকে অক্ষুণ্ণ রেখে।
তিনি একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন: “কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা কি সংবিধানের ওপরে স্থান পেতে পারে?” তার মতে, যেকোনো বড় পরিবর্তন হতে হবে সংসদের মাধ্যমে এবং আইনি বিধিবিধান মেনে। তিনি বিরোধী দলকে আহ্বান জানান, যেন তারা রাজপথের আবেগ নিয়ে সংসদে এসে সংবিধান বহির্ভূত দাবি না তোলেন। বরং কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধান বের করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দীর্ঘ বক্তব্যে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে, সরকার সংস্কারের পক্ষে থাকলেও তা কোনোভাবেই সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে করতে রাজি নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘ইমোশন’ বা আবেগ সাময়িকভাবে জনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল রাখতে আইনি কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদের এই আহ্বান মূলত বিরোধী দলের প্রতি একটি বার্তা যেখানে তিনি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে এবং সংসদীয় আইন অনুসরণ করে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এমএন




