সাহিত্য
বইমেলায় সাংবাদিক আবু আলীর নতুন বই ‘সহজ ভাষায় বীমা পাঠ’
অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিক আবু আলীর বীমাবিষয়ক বই ‘সহজ ভাষায় বীমা পাঠ’। বইটিতে বীমা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে সহজভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। বইটি প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ‘জ্যোতিপ্রকাশ’।
বইমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিন্দু প্রকাশ-এর ২৩৭ এবং বাংলা একাডেমি চত্বরের ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৫৫৭ নম্বর স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে । মূল্য : ২৮৫ টাকা। তবে মেলা উপলক্ষ্যে থাকছে ২৫ শতাংশ ছাড়।
‘সহজ ভাষায় বীমা পাঠ’ বইটিতে বীমা কী? কেন করবেন, বীমার প্রভারভেদ, বিভিন্ন বীমায় যেসব সুবিধা পাওয়া যায়, কীভাবে করবেন বীমা, গ্রুপ বীমা কীভাবে কাজ করে, তামাদি, কেন বীমা পলিসি তামাদি হয়, পলিসি তামাদির ফল, তামাদি হওয়া থেকে বাঁচার উপায়, বীমাশিল্পের উন্নয়নে করণীয়, বীমা কোম্পানি সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও সেবা ও কাজে পিছিয়ে বাংলাদেশ, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রক সংস্থা : বীমা খাতে দুর্গতি, বীমা করার মৌলিক শর্ত, যেভাবে নির্ধারিত হয় জীবন বীমার প্রিমিয়াম, কীভাবে চিনবেন ভালো বীমা কোম্পানি, ভূমিকম্পের সতর্কতা হিসেবে নিতে পারেন বীমা, বীমায়ও মিলবে পেনশন সুবিধা, বীমা গ্রাহক পাবেন কর রেয়াত সুবিধা, এফডিআর-এর মতো জীবনবীমায়ও টাকা রাখা যায়, বীমার ইতিহাস, বাংলাদেশ ও বীমাশিল্প, ইসলামী বীমা, ইসলামী জীবন বীমার প্রধান বৈশিষ্ট্য, প্রচলিত বীমার মধ্যে পার্থক্য, ইসলামী বীমার উৎস ও প্রেক্ষাপট, গল্পে গল্পে বীমা, বীমা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং পরিভাষা সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেছেন তিনি।
বইটি শিক্ষানবিশ রিপোর্টার, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের কাজে আসবে। এছাড়া বিজনেস ফ্যাকাল্টির শিক্ষার্থীদের উপকারে আসবে।
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে রিপোর্টিংয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন লেখক। বর্তমানে তিনি দৈনিক আমাদের সময়ে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত। এটি লেখকের অষ্টম গ্রন্থ।
এর আগে ২০২৫ সালের গ্রন্থমেলায় ‘অর্থনৈতিক পরিভাষা’, ২০২৪ সালের গ্রন্থমেলায় ভ্রমণসংক্রান্ত ‘প্যারিস থেকে হামবুর্গ’, ২০২৩ সালের বইমেলায় ভ্রমণসংক্রান্ত ‘টেমস থেকে নীলনদ’, ২০২২ সালে শেয়ারবাজার নিয়ে লেখা ‘শেয়ারবাজারের সহজপাঠ’, ২০২১ সালের মেলায় ভ্রমণসংক্রান্ত ‘আকাশ থেকে জলে’, ২০২০ সালে ‘মেঘ পাহাড়ের আলিঙ্গন’ এবং ২০১৮ সালে প্রথম গ্রন্থ ‘শেয়ারবাজারের প্রাথমিক ধারণা’ প্রকাশ হয়।
এমএন
সাহিত্য
ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া মারা গেছেন
বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া মারা গেছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরায় জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
তাঁর মেয়ে অঞ্জনা বড়ুয়া গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘বাবা গত এক সপ্তাহ চট্টগ্রামের একটি মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার তাঁকে জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর ফুসফুসে পানি জমে গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।’
১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন ছন্দের জাদুকর সুকুমার বড়ুয়া।ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে ছয় টাকায় বেড়ার ঘর ভাড়া করে লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসরে যান।
প্রায় ৬০ বছর ধরে ছড়া লিখে সুকুমার বড়ুয়া ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’, ‘ছড়াসম্রাট’ প্রভৃতি নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন। ব্যঙ্গাত্মক, হাস্যরসাত্মক, নৈতিক শিক্ষামূলক রচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর রাজনৈতিক বার্তাও তার লেখায় উঠে এসেছে।
‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’, ‘এলোপাতাড়ি’, ‘নানা রঙের দিন’, ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘নদীর খেলা’, ‘ছোটদের হাট’, ‘মজার পড়া ১০০ ছড়া’, ‘যুক্তবর্ণ‘, ‘চন্দনার পাঠশালা’, ‘জীবনের ভেতরে বাইরে’ তার উল্লেখযোগ্য ছড়ার বই।
ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সরকার ২০১৭ সালে সুকুমার বড়ুয়াকে একুশে পদকে ভূষিত করে। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা, চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।
ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়ার মৃত্যুতে দেশের সাহিত্যাঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর সৃষ্টিশীল ছড়াগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাংলা শিশুসাহিত্যে আলো ছড়িয়ে যাবে।



