জাতীয়
আগের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ব্যয় হবে নতুন দুই মেট্রো রেলে
রাজধানীর উত্তরা-মতিঝিল মেট্রো রেল নির্মাণে ব্যয় যা হয়েছিলো নতুন দুটি পথে মেট্রো রেল নির্মাণে ব্যয় হবে তার দ্বিগুণের বেশি। রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিলো। কিন্তু নতুন দুই পথে খরচ দাঁড়াচ্ছে কিলোমিটারে ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। নতুন দুই মেট্রো রেল পথে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
এই বিপুল ব্যয় মেট্রো রেল নির্মাণকেই অনিশ্চয়তায় ফেলছে। বিপুল ব্যয়ে মেট্রো রেল নির্মাণের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেয়নি। নির্বাচিত বিএনপি সরকারের ওপর সিদ্ধান্তের ভার পড়েছে।
নির্মাণকাজ শুরুর অপেক্ষায় থাকা মেট্রো রেলের দুটি পথের একটি হলো কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এবং নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত, নাম এমআরটি লাইন-১ (৩১ কিলোমিটারের বেশি)। অন্যটি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে মিরপুর এবং গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর)। এটির দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটারের মতো। দুটি মেট্রো রেল লাইনেরই কিছু অংশ উড়াল ও কিছু অংশ পাতালপথে হবে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মেট্রো রেল নির্মাণে এত বেশি ব্যয়ের কারণ দরপত্রে প্রতিযোগিতার সুযোগ কম থাকা। এখন প্রতিযোগিতা হচ্ছে শুধু জাপানি ঠিকাদারদের মধ্যে। প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারলেই খরচ কমবে। ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, দুটি প্রকল্পের অর্থায়নে জাপানি ঋণদাতা সংস্থা জাইকা বেশ কিছু প্রকৌশলগত শর্ত জুড়ে দিয়েছে। ফলে ঠিকাদার নিয়োগে প্রতিযোগিতা কমে গেছে।
এ জন্যই ব্যয় অত্যন্ত বেশি।
উল্লেখ্য, মেট্রো রেল নির্মাণে ঋণ দিচ্ছে জাপান। দেশটির উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার ঋণে এমন শর্ত দেওয়া হয়, যেখানে জাপানি কোম্পানিগুলোই ঠিকাদারি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে।
ঢাকার উত্তরা-মতিঝিল পথে মেট্রো রেলের সম্প্রসারিত অংশ যাবে কমলাপুর পর্যন্ত। পুরো পথের দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার। মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের কাজ এখনো চলছে। পুরো পথে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।
নতুন এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। সরকারি প্রাক্কলনে ব্যয় ধরা হয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ১২টি প্যাকেজের মধ্যে ৮টিতে ঠিকাদারের প্রস্তাবিত ব্যয় পাওয়া গেছে। এর ওপর ভিত্তি করে ব্যয় বিশ্লেষণ করেছে ডিএমটিসিএল। সংস্থাটির বিশ্লেষণ বলছে, ঠিকাদারেরা গড়ে যে দর চাইছে, তাতে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়াবে ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৯ সালের অক্টোবরে। এর জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত ৫টি প্যাকেজে ঠিকাদারদের পাওয়া দর প্রস্তাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যয় দাঁড়াবে ৮৮ হাজার কোটি টাকা।
উত্তরা-মতিঝিল পথের চেয়ে নতুন দুই পথে সরকার ব্যয় অনেকটা বাড়িয়ে ধরেছিল। কিলোমিটারপ্রতি ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। মোট অনুমোদিত ব্যয় ৯৩ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। কিন্তু ঠিকাদারের দরপত্র প্রস্তাব অনুযায়ী কাজ দিলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাস্তবায়নাধীন মেট্রো রেল প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, জমি অধিগ্রহণ ও বেতন-ভাতা বাদ দিয়ে শুধু প্রতি কিলোমিটার মেট্রো রেল নির্মাণে ভারতে ব্যয় হয় ১৫০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা। ভারতও বিদেশি ঋণে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। কিন্তু ঋণে এমন কোনো শর্ত তারা মানে না, যা ঠিকাদার নিয়োগের প্রতিযোগিতা ক্ষুণ্ন করে।
বিষয়টি নিয়ে জাইকার কাছে ই-মেইলে বক্তব্য চাওয়া হয়েছিল। জবাবে সংস্থাটি জানায়, দুটি প্রকল্পের বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি তারা অবগত। তবে জাইকার ক্রয়সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী দরপত্র খোলার পর থেকে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্য বাইরে কারও কাছে প্রকাশ করা যায় না। তাই এই মুহূর্তে দরপত্র মূল্যায়নের নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে চলাচলকারী মেট্রো রেল থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে ৪০০ কোটি টাকার মতো (অনিরীক্ষিত)। যদিও ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত বছরে ঋণের কিস্তি হিসেবে ৪৬৫ কোটি থেকে ৭৪০ কোটি টাকা দিতে হবে।
ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, এর আগে গত বছরের ১৮ জুন কচুক্ষেত থেকে ভাটারা পর্যন্ত মেট্রোরেলের পথ ও স্টেশন নির্মাণে (মাটির নিচ দিয়ে) আরেকটি দরপত্র খোলা হয়। এতে দেখা যায়, ১৫ হাজার ৫২৭ কোটি টাকায় সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে জাপানের তাইসি ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং (যৌথ)। এই অংশের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারিত আছে ৩ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় ঠিকাদারের দর ৩৯১ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি। টাকার অঙ্কে ঠিকাদারের পেছনে বাড়তি ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা।
জাইকার শর্তানুযায়ী, ঠিকাদারের প্রস্তাবিত দরে কোনো ভুল না থাকলে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে শিমুজি করপোরেশন এবং তাইসি-স্যামসাং (যৌথ) নিয়োগ পাবে। কিন্তু ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ তাইসি-স্যামসাংয়ের দর প্রস্তাব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিমুজিকে নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা বলছেন, দুটি প্যাকেজে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাবের পেছনে ‘যোগসাজশের’ সন্দেহ করা হচ্ছে। মিরপুর থেকে কচুক্ষেত অংশের কাজের দরপত্র আহ্বান করলে ১৩টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক দরপত্র কেনে। জমা দেয় ছয়টি প্রতিষ্ঠান। মূল দরপত্র কেনে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান এবং তারাই চূড়ান্ত দর প্রস্তাব করে। কচুক্ষেত থেকে ভাটারা অংশের কাজের দরপত্র আহ্বান করলে ১৫টি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক দরপত্র সংগ্রহ করে। জমা দেয় চারটি প্রতিষ্ঠান। চূড়ান্ত দরপত্র কেনে তিনটি প্রতিষ্ঠান। জমা দেয় দুটি প্রতিষ্ঠান।
দরপত্র প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দুটি প্যাকেজেই চূড়ান্তভাবে দরপত্র কেনে এবং জমা দেয় শিমুজি করপোরেশনের নেতৃত্বে কনসোর্টিয়াম এবং তাইসি-স্যামসাং। এর মধ্যে একটিতে শিমুজি করপোরেশন সর্বনিম্ন দরদাতা হয় এবং দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হয় তাইসি-স্যামসাং। অন্যটিতে ঠিক উল্টো তাইসি-স্যামসাং সর্বনিম্ন দরদাতা হয়। শিমুজি হয় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা।
ব্যয় কমানোর জন্য ঋণদাতা সংস্থা ও ঠিকাদারকে তাগিদ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সাড়া না পেয়ে এত বিপুল ব্যয়ে মেট্রো রেল নির্মাণে আগ্রহ দেখায়নি।
মেট্রোরেলের লাইন-১ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরে। আর লাইন-৫ (উত্তর) মেয়াদ আছে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে এখনো ঠিকাদারই নিয়োগ সম্পন্ন করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রকল্প দুটির ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানাতে গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি দেয় ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ। দুটি চিঠিতে তারা প্রকল্প দুটির বিপুল ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে জানায়, প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করতে হবে। প্রকল্প দুটির ব্যয় কমানোর নানা পন্থা উল্লেখ করে। এর মধ্যে রয়েছে ঠিকাদার নিয়োগে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা আনতে জাইকার চাপিয়ে দেওয়া প্রকৌশলগত শর্ত পরিবর্তন। নতুন সরকার এখনো বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, মেট্রো রেল নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এটা নিশ্চিত, সেখানে প্রতিযোগিতা হচ্ছে না। এ জন্যই বিপুল ব্যয়ের বোঝা চাপছে। এই ব্যয়ে মেগা প্রকল্প করলে বাংলাদেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে।
সামছুল হক বলেন, নতুন সরকারের মূল কাজ হওয়া উচিত ব্যয় কমাতে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। এর জন্য ঋণের শর্ত পরিবর্তন করতে হবে।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ২০ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মেট্রো রেলের পাশাপাশি ঢাকায় মনোরেল চালু করা হবে। মোহাম্মদপুর, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মনোরেলকে মেট্রোরেলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়েছেন তিনি। এখন দেখার বিষয় নতুন সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়।
এমএন
জাতীয়
পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ পেলেন সৌদি রাষ্ট্রদূত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।
বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে সৌদি রাষ্ট্রদূতই প্রথম এই দুই মন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের সুযোগ পেলেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন রাষ্ট্রদূত জাফর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন। উভয় সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই দিনে সৌদি রাষ্ট্রদূত সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী ও সৌদি রাষ্ট্রদূত দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জনশক্তি রপ্তানি এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের ওপর এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
এমএন
জাতীয়
বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, যা জানাল আবহাওয়া অফিস
ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অফিস জানায়, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে ভারতের বিহার এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশের আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে প্রধানত সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অর্থাৎ শীত বা গরমের বর্তমান তীব্রতায় বড় কোনো পরিবর্তনের আভাস নেই।
আগামীকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আগামী বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া আগামী পাঁচদিনের মধ্যে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানান। এ সময়ে উভয়ের মধ্যে ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আসন্ন হজ নিয়ে আলোচনা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে অফিস করতে আসেন। এ সময় মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
এমএন
জাতীয়
কৃষি কার্ডে সরাসরি সহায়তা পাবে কৃষক: তথ্যমন্ত্রী
কৃষি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে ‘কৃষি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন। দেশের অর্থনীতিকে টেকসই করতে হলে কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বরিশালের গৌরনদীতে ‘কাপলাতলী খাল পুনঃখনন’ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নিম্নমানের বীজ কৃষি উৎপাদনের বড় অন্তরায়। পরিকল্পিতভাবে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ করা গেলে একই জমিতে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখনো দেশের অনেক কৃষক পুরোনো পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। আধুনিক যন্ত্র সহজলভ্য হলে শ্রম ও সময় দুটোই কমবে, উৎপাদন আরও দক্ষ হবে। সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ, সেচ ব্যবস্থাপনা ও ফসল সংরক্ষণের জ্ঞান না থাকলে উৎপাদনের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় না। সে কারণে কৃষি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে পারলেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও সামগ্রিক অর্থনীতি আরও দৃঢ় হবে।
জাতীয়
সচিবালয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার পরপরই তিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে উপস্থিত হন।
সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ড. খলিলুর রহমান। বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
এছাড়া বেলা ১২টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সংক্রান্ত একটি সভা শেষে সাড়ে ১২টায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানানো হয়েছে।
এমএন



