আন্তর্জাতিক
পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণার পর সব দেশের ওপর নতুন ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি পাল্টা শুল্কের বদলে নতুন করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট তার আরোপ করা বেশিরভাগ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তিনি ওভাল অফিসে বসে এই নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। তিনি আরও জানান, এই আদেশ ‘প্রায় তাৎক্ষণিকভাবেই’ কার্যকর হবে।
এর আগে শুক্রবারই ট্রাম্প ভিন্ন একটি আইনি ক্ষমতাবলে শুল্কারোপের বিকল্প পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ ও ‘ভয়ংকর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আদালত ভুলবশত যেসব সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে, সেগুলোর জায়গায় এখন অন্যান্য বিকল্প ব্যবহার করা হবে। আমাদের কাছে বিকল্প আছে—দারুণ সব বিকল্প। এর মাধ্যমে হয়তো আরও বেশি অর্থ আয় হতে পারে। আমরা আরও বেশি অর্থ আদায় করব এবং আরও অনেক শক্তিশালী হব।’
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতোমধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে ফেলা দেশগুলোর ওপরও এই নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ হবে। এসব দেশ এখন নিজেদের চুক্তিতে নির্ধারিত শুল্ক হারের বদলে সেকশন ১২২-এর অধীনে বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্ক দেবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ১০ শতাংশ শুল্ক হারের আওতাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রয়েছে। তবে তালিকাটি এখানেই শেষ নয়।
এর ফলে ট্রাম্পের করা অনেক চুক্তিতে শুল্কের হার আগের চেয়ে কমে যাবে। যেমন, আগের বাণিজ্য চুক্তিগুলোতে জাপানের ওপর ১৫ শতাংশ ও ভারতের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ওই দেশগুলো যেসব ছাড় দিতে রাজি হয়েছিল, তারা সেটি মেনে চলবে।
সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন বিচারপতির মধ্যে ৬ জন ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণার পক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
এই সিদ্ধান্তটি ওইসব এই শুল্কবিরোধী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য বড় বিজয়। এর ফলে ইতিমধ্যে শুল্ক বাবদ দেওয়া শত শত কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে একইসঙ্গে এই রায় বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তারও জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আইনি লড়াই ছাড়া এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। তিনি আশা করছেন, বিষয়টি নিয়ে বছরের পর বছর আদালতে আইনি লড়াই চলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, নিজের শুল্কনীতি এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি অন্য আইনের আশ্রয় নেবেন। তার মতে, এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।
মূলত বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপ করা আমদানি শুল্ক নিয়ে ছিল আদালতের এই লড়াই।
শুরুতে এই শুল্ক মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর আরোপ করা হয়। পরে গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর পরিধি বাড়িয়ে আরও ডজনখানেক বাণিজ্য অংশীদারের ওপর তা প্রয়োগ করা হয়।
হোয়াইট হাউস ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট-এর (আইইইপিএ) বরাত দিয়ে দাবি করেছিল, এই আইন প্রেসিডেন্টকে জরুরি অবস্থায় বাণিজ্য ‘নিয়ন্ত্রণের’ ক্ষমতা দেয়।
কিন্তু এ পদক্ষেপের ফলে দেশে-বিদেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে হুট করে বাড়তি করের মুখে পড়েছিল, তারা প্রতিবাদ জানায়। এ শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে বলেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
গত বছর আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রতিবাদকারী অঙ্গরাজ্য ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনজীবীরা বলেন, ট্রাম্প শুল্কারোপের জন্য যে আইন ব্যবহার করেছেন, সেখানে ‘শুল্ক (ট্যারিফ)’ শব্দটির কোনো উল্লেখই নেই।
তারা বলেন, কংগ্রেস তাদের কর আদায়ের ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়নি। এমনকি বিদ্যমান অন্যান্য বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক বিধিগুলোকে ‘বাতিল করার জন্য প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন ক্ষমতা’ দেওয়ার উদ্দেশ্যও কংগ্রেসের ছিল না।
রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার মতামতে এই যুক্তির পক্ষেই অবস্থান নেন।
শুল্ক বাতিলের এই সিদ্ধান্তে আদালতের তিনজন উদারপন্থি বিচারপতির সঙ্গে যোগ দেন ট্রাম্পের মনোনীত দুই বিচারপতি—অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গোরসাচ। আর তিন রক্ষণশীল বিচারপতি—ক্ল্যারেন্স টমাস, ব্রেট কাভানাফ ও স্যামুয়েল আলিটো এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, আদালতে রিপাবলিকান দলের মনোনীত যেসব বিচারপতি তার বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তাদের নিয়ে তিনি ‘ভীষণ লজ্জিত’।
তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য সঠিক কাজটি করার সাহস দেখাতে না পারায় আদালতের নির্দিষ্ট কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে আমি লজ্জিত, ভীষণ লজ্জিত।’
ট্রাম্প আরও বলেন, এ রায়ের কারণে ‘যেসব বিদেশি রাষ্ট্র বছরের পর বছর আমাদের ঠকিয়ে আসছিল, তারা এখন উচ্ছ্বসিত। তারা এতটাই খুশি যে রাস্তায় নেচে বেড়াচ্ছে। তবে তারা বেশিদিন এই নাচ নাচতে পারবে না, এটুকু আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে দিনের লেনদেন শেষ করে।
তবে শুল্কের খরচ থেকে মুক্তি ও অর্থ ফেরতের যে আশা করা হচ্ছে, তা হয়তো শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যেতে পারে।
শুক্রবার ট্রাম্প সেকশন ১২২ নামক এক অব্যবহৃত আইনের আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণাপত্রে সই করেছেন। এ আইন ব্যবহার করে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপের ক্ষমতা পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হয়।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।
এ আদেশে নানা ধরনের পণ্যে শুল্কছাড়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু খনিজ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও সার; কমলা ও গরুর মাংসের মতো কিছু কৃষিজাত পণ্য; ওষুধসামগ্রী; কিছু ইলেকট্রনিক পণ্য ও নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন। ঠিক কোন কোন নির্দিষ্ট পণ্য এই ছাড় পাবে, আদেশে তা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি।
উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএ-র আওতায় কানাডা ও মেক্সিকো তাদের সিংহভাগ পণ্যের ওপর শুল্কছাড়ের সুবিধা অব্যাহত রাখবে।
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, হোয়াইট হাউস হয়তো সেকশন ২৩২ ও সেকশন ৩০১-এর মতো অন্যান্য হাতিয়ারও ব্যবহারের চিন্তা করবে। এসব আইনের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি ও অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা মোকাবিলায় আমদানি শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে।
ট্রাম্প এর আগেও শুল্ক আরোপের জন্য এসব হাতিয়ার ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে গত বছর ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির মতো খাতগুলোর ওপর আরোপ করা শুল্ক উল্লেখযোগ্য। আদালতের এই রায়ে সেই শুল্কগুলোর ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।
আন্তর্জাতিক
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে সিরিয়া ছাড়ছে মার্কিন সেনারা!
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়ায় থাকা অবশিষ্ট সেনাদের প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, সিরিয়ার ভেতরে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্ব এখন দেশটির সরকারই দেবে এবং ‘বৃহৎ পরিসরে’ মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর প্রয়োজন নেই।
২০১৫ সাল থেকে মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছে। মূলত ইসলামিক স্টেটের (আইএসআইএস) প্রভাব মোকাবিলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটিতে অবস্থান করছে মার্কিন সেনারা।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যখন বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এলে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা আরও জানান, সিরিয়ায় থাকা প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি শর্তসাপেক্ষ রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনো অঞ্চলটির যেকোনো হুমকির জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে।
এদিকে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার সময়সূচি নিয়ে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহান্তেই অর্থাৎ শনিবারের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য সামরিক বাহিনী প্রস্তুত বলে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সূত্রগুলো বলছে, এ বিষয়ে আলোচনা এখনো চলমান এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়া—এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউস সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছে।
সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও কর্মীকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিচ্ছে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরানে হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে এমন খবর জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বিভিন্ন উদ্ধার-সংস্থা ও হোম ফ্রন্ট কমান্ডকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থায় ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, ইরান ইস্যু নিয়ে গত বৃহস্পতিবারের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকটি হঠাৎ স্থগিত করে আগামী রবিবার নেওয়া হয়েছে। তবে এর কারণ জানানো হয়নি।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানে খুব শিগগিরই যেকোনো সময় বড় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধকে মার্কিনিরা যেমন ধারণা করছেন তার চেয়ে বড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে আছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এ যুদ্ধ খুব দ্রুতই শুরু হতে পারে।
সংবাদমাধ্যমটি আরো জানায়, এবারের হামলা হবে অনেক বড়। যা কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলবে। গত মাসে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যে নির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছিল, ইরানের হামলা এমন হবে না। এটি হবে ব্যাপক ও বিস্তৃত।
আন্তর্জাতিক
কঠিন বাস্তবতায় রোজা শুরু করেছে ফিলিস্তিনিরা
নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যে পবিত্র রমজান মাস শুরু করেছে গাজার ফিলিস্তিনিরা। তবে দীর্ঘ যুদ্ধ, ধ্বংস ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেকের কাছেই রমজানের স্বাভাবিক আনন্দ হারিয়ে গেছে।
রমজান মুসলিমদের জন্য ইবাদত, আত্মসমালোচনা ও দানের মাস। সাধারণ সময়ে পরিবার ও বন্ধুরা একসঙ্গে ইফতার করেন। কিন্তু এবার গাজায় পরিস্থিতি ভিন্ন। বহু মানুষ প্রিয়জন হারিয়েছেন এবং প্রতিদিনের জীবনযাপনই হয়ে উঠেছে কঠিন।
২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পর হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধ গাজায় ব্যাপক ধ্বংস ডেকে আনে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে, এ যুদ্ধে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং অধিকাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বাজারে গিয়ে অনেকেই বলছেন, মানুষের হাতে টাকা নেই এবং কাজও নেই। ফলে রমজানের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে রমজানে রাস্তা আলোকসজ্জায় সাজানো থাকত, শিশুদের মুখে থাকত আনন্দ, এবার সেই পরিবেশ নেই বললেই চলে।
গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা চালু হলেও গাজায় এখনো প্রায় প্রতিদিনই গোলাগুলি ও হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে নতুন করে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
তবু কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও কিছু মানুষ রমজানের আনন্দ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। খান ইউনিসে ধ্বংসস্তূপের মাঝে শিল্পী হানি দাহমান দেয়ালে আরবিতে লিখেছেন ‘রমজান মোবারক’। শিশুদের জন্য ছোট ছোট আলোকসজ্জাও ঝুলানো হয়েছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
মাইন বিস্ফোরণে পশ্চিম তীরে ১৩ বছরের ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু
ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির কাছে মাইন বিস্ফোরণে এক ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট। মঙ্গলবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে এই ঘটনা ঘটে।
সংস্থাটি জানায়, উত্তর জর্দান উপত্যকার জিফতলিক এলাকায় পুরোনো একটি সামরিক শিবিরে মাইন বিস্ফোরণে ১৩ বছর বয়সী এক ছেলে মারা যায়। সিওজিএটি–এর একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, নিহত শিশুটির নাম মোহাম্মদ আবু দালাহ।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ওই এলাকা তিরজাহ নামে একটি সামরিক শিবিরের অংশ এবং গুলিবর্ষণের সক্রিয় এলাকা হওয়ায় সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন শিশু ঘাঁটির কাছে শাক তুলতে গিয়ে মাইনে পা দেয়। তাদের মধ্যে একজন মারা যায়। জিফতলিক ও তিরজাহ এলাকা ‘এরিয়া সি’তে পড়ে, যা সরাসরি ইসরায়েলর নিয়ন্ত্রণে।
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখলে রেখেছে। জর্দান সীমান্তের কাছাকাছি অনেক এলাকায় এখনো মাইন পাতা রয়েছে।
সূত্র : আলঅ্যারাবিয়া।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালির কিছু অংশ বন্ধ করল ইরান
বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালির কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জেনেভাতে পারমাণবিক আলোচনা চলছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। মহড়ার অংশ হিসেবেই নৌযান চলাচলের একটি নির্দিষ্ট এলাকা কয়েক ঘণ্টার জন্য সীমিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। ইরান বলেছে, এর লক্ষ্য জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিশ্ববাজারে যায়। ২০২৫ সালে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়েছে, যা সমুদ্রপথে পরিবাহিত বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রথমবার নয় যে উত্তেজনার মধ্যে ইরান এমন পদক্ষেপ নিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হুমকি দেওয়ার পরও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
জেনেভায় আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, দুই দেশ কিছু নির্দেশনামূলক নীতিতে একমত হয়েছে। তবে এখনই চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনা নেই।
এদিকে আলোচনার খবরে তেলের বাজারে বড় ধাক্কা লাগেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িক এই নিষেধাজ্ঞায় বড় ধরনের সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা নেই, শুধু কিছু জাহাজ চলাচলে সামান্য বিলম্ব হতে পারে।
এমএন



