আন্তর্জাতিক
পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণার পর সব দেশের ওপর নতুন ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি পাল্টা শুল্কের বদলে নতুন করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট তার আরোপ করা বেশিরভাগ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তিনি ওভাল অফিসে বসে এই নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। তিনি আরও জানান, এই আদেশ ‘প্রায় তাৎক্ষণিকভাবেই’ কার্যকর হবে।
এর আগে শুক্রবারই ট্রাম্প ভিন্ন একটি আইনি ক্ষমতাবলে শুল্কারোপের বিকল্প পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ ও ‘ভয়ংকর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আদালত ভুলবশত যেসব সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে, সেগুলোর জায়গায় এখন অন্যান্য বিকল্প ব্যবহার করা হবে। আমাদের কাছে বিকল্প আছে—দারুণ সব বিকল্প। এর মাধ্যমে হয়তো আরও বেশি অর্থ আয় হতে পারে। আমরা আরও বেশি অর্থ আদায় করব এবং আরও অনেক শক্তিশালী হব।’
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতোমধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে ফেলা দেশগুলোর ওপরও এই নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ হবে। এসব দেশ এখন নিজেদের চুক্তিতে নির্ধারিত শুল্ক হারের বদলে সেকশন ১২২-এর অধীনে বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্ক দেবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ১০ শতাংশ শুল্ক হারের আওতাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রয়েছে। তবে তালিকাটি এখানেই শেষ নয়।
এর ফলে ট্রাম্পের করা অনেক চুক্তিতে শুল্কের হার আগের চেয়ে কমে যাবে। যেমন, আগের বাণিজ্য চুক্তিগুলোতে জাপানের ওপর ১৫ শতাংশ ও ভারতের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ওই দেশগুলো যেসব ছাড় দিতে রাজি হয়েছিল, তারা সেটি মেনে চলবে।
সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন বিচারপতির মধ্যে ৬ জন ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণার পক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
এই সিদ্ধান্তটি ওইসব এই শুল্কবিরোধী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য বড় বিজয়। এর ফলে ইতিমধ্যে শুল্ক বাবদ দেওয়া শত শত কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে একইসঙ্গে এই রায় বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তারও জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আইনি লড়াই ছাড়া এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। তিনি আশা করছেন, বিষয়টি নিয়ে বছরের পর বছর আদালতে আইনি লড়াই চলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, নিজের শুল্কনীতি এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি অন্য আইনের আশ্রয় নেবেন। তার মতে, এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।
মূলত বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপ করা আমদানি শুল্ক নিয়ে ছিল আদালতের এই লড়াই।
শুরুতে এই শুল্ক মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর আরোপ করা হয়। পরে গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর পরিধি বাড়িয়ে আরও ডজনখানেক বাণিজ্য অংশীদারের ওপর তা প্রয়োগ করা হয়।
হোয়াইট হাউস ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট-এর (আইইইপিএ) বরাত দিয়ে দাবি করেছিল, এই আইন প্রেসিডেন্টকে জরুরি অবস্থায় বাণিজ্য ‘নিয়ন্ত্রণের’ ক্ষমতা দেয়।
কিন্তু এ পদক্ষেপের ফলে দেশে-বিদেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে হুট করে বাড়তি করের মুখে পড়েছিল, তারা প্রতিবাদ জানায়। এ শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে বলেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
গত বছর আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রতিবাদকারী অঙ্গরাজ্য ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনজীবীরা বলেন, ট্রাম্প শুল্কারোপের জন্য যে আইন ব্যবহার করেছেন, সেখানে ‘শুল্ক (ট্যারিফ)’ শব্দটির কোনো উল্লেখই নেই।
তারা বলেন, কংগ্রেস তাদের কর আদায়ের ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়নি। এমনকি বিদ্যমান অন্যান্য বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক বিধিগুলোকে ‘বাতিল করার জন্য প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন ক্ষমতা’ দেওয়ার উদ্দেশ্যও কংগ্রেসের ছিল না।
রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার মতামতে এই যুক্তির পক্ষেই অবস্থান নেন।
শুল্ক বাতিলের এই সিদ্ধান্তে আদালতের তিনজন উদারপন্থি বিচারপতির সঙ্গে যোগ দেন ট্রাম্পের মনোনীত দুই বিচারপতি—অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গোরসাচ। আর তিন রক্ষণশীল বিচারপতি—ক্ল্যারেন্স টমাস, ব্রেট কাভানাফ ও স্যামুয়েল আলিটো এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, আদালতে রিপাবলিকান দলের মনোনীত যেসব বিচারপতি তার বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তাদের নিয়ে তিনি ‘ভীষণ লজ্জিত’।
তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য সঠিক কাজটি করার সাহস দেখাতে না পারায় আদালতের নির্দিষ্ট কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে আমি লজ্জিত, ভীষণ লজ্জিত।’
ট্রাম্প আরও বলেন, এ রায়ের কারণে ‘যেসব বিদেশি রাষ্ট্র বছরের পর বছর আমাদের ঠকিয়ে আসছিল, তারা এখন উচ্ছ্বসিত। তারা এতটাই খুশি যে রাস্তায় নেচে বেড়াচ্ছে। তবে তারা বেশিদিন এই নাচ নাচতে পারবে না, এটুকু আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে দিনের লেনদেন শেষ করে।
তবে শুল্কের খরচ থেকে মুক্তি ও অর্থ ফেরতের যে আশা করা হচ্ছে, তা হয়তো শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যেতে পারে।
শুক্রবার ট্রাম্প সেকশন ১২২ নামক এক অব্যবহৃত আইনের আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণাপত্রে সই করেছেন। এ আইন ব্যবহার করে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপের ক্ষমতা পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হয়।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।
এ আদেশে নানা ধরনের পণ্যে শুল্কছাড়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু খনিজ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও সার; কমলা ও গরুর মাংসের মতো কিছু কৃষিজাত পণ্য; ওষুধসামগ্রী; কিছু ইলেকট্রনিক পণ্য ও নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন। ঠিক কোন কোন নির্দিষ্ট পণ্য এই ছাড় পাবে, আদেশে তা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি।
উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএ-র আওতায় কানাডা ও মেক্সিকো তাদের সিংহভাগ পণ্যের ওপর শুল্কছাড়ের সুবিধা অব্যাহত রাখবে।
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, হোয়াইট হাউস হয়তো সেকশন ২৩২ ও সেকশন ৩০১-এর মতো অন্যান্য হাতিয়ারও ব্যবহারের চিন্তা করবে। এসব আইনের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি ও অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা মোকাবিলায় আমদানি শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে।
ট্রাম্প এর আগেও শুল্ক আরোপের জন্য এসব হাতিয়ার ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে গত বছর ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির মতো খাতগুলোর ওপর আরোপ করা শুল্ক উল্লেখযোগ্য। আদালতের এই রায়ে সেই শুল্কগুলোর ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।
আন্তর্জাতিক
আরও বাড়ল স্বর্ণের দাম
বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম মঙ্গলবার সামান্য বেড়েছে। তবে শক্তিশালী ডলার ও উচ্চ তেলের দামের কারণে এই ঊর্ধ্বগতি সীমিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৬৫৫.৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে দাম প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও পরে কিছুটা কমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪,৬৮০.৫০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে টানছে। তবে একই সঙ্গে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং তেলের উচ্চ মূল্য স্বর্ণের দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন বিনিয়োগকারীদের নজর, যা স্বর্ণবাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আন্তর্জাতিক
ডলারের বিপরীতে আরও শক্তিশালী হলো চীনা ইউয়ান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ডলারের বিপরীতে অফশোর ইউয়ানের মান বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৮৫ অতিক্রম করেছে। ট্রেডিং ইকোনমিক্সের খবর জানায়, এটি গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং টানা তৃতীয় সেশনের মতো চীনা মুদ্রার মান বৃদ্ধির রেকর্ড।
মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, মঙ্গলবার ইস্টার্ন টাইম রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াসহ তার শর্তগুলো তেহরান পূরণ না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুগুলোতে হামলা চালানো হবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে বাহরাইন। তবে রাশিয়া বা চীনের সম্ভাব্য ভেটো এড়াতে এই প্রস্তাবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবেই বাদ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই মুহূর্তে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে প্রকাশিত হতে যাওয়া মূল মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর চীনা বিনিয়োগকারীদের। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, দেশটিতে ভোক্তা পর্যায়ে মুদ্রাস্ফীতি সামান্য কমতে পারে। তবে উৎপাদক মূল্য সূচক (পিপিআই) ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।
আন্তর্জাতিক
তেহরানে রেড অ্যালার্ট, মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের শঙ্কা
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সামরিক হামলার আশঙ্কায় ইরানের রাজধানী তেহরানে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই সতর্কতা জারি করে তেহরানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষ করে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কৌশলগত অবকাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংঘাতের মূলে রয়েছে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে (গ্রিনিচ মান সময় বুধবার রাত ১২টা) এই প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে সময় বেঁধে দিয়েছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, তারা কোনোভাবেই শত্রুপক্ষের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে না।
এদিকে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা আংশিক কোনো সমাধান চায় না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি ‘সমন্বিত ও স্থায়ী শান্তিচুক্তি’র পক্ষে তাদের অবস্থান।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আল্টিমেটামের সময়সীমা পেরিয়ে গেলে এই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে। তেহরানে রেড অ্যালার্ট জারির পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সজাগ রেখেছে।
আন্তর্জাতিক
হুমকিতে পশ্চিম এশিয়ায় অপমান ঢাকতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র : ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ভ্রান্ত’ ও ‘ভিত্তিহীন’ হুমকি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অপমান ঢাকতে পারবে না বলে দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র ভিডিও বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি অচলাবস্থায় আটকে পড়েছে এবং সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই ট্রাম্প এমন হুমকি দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমেরিকা পশ্চিম এশিয়ায় অপমানিত হয়েছে। হুমকি দিয়ে সেই অপমান মুছে ফেলা যাবে না।
মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ইরানের পাল্টা সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপের জবাব আরও শক্তভাবে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক হামলায় কুয়েতে অবস্থিত আল-আদিরি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনা ও হেলিকপ্টার সংরক্ষণ অবকাঠামো ছিল।
এছাড়া ইরান দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে সি-১৩০ পরিবহন বিমান ও ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলমান সংঘাতে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। এ ধরনের হুমকিকে ইরান ‘যুদ্ধাপরাধের শামিল’ বলে উল্লেখ করেছে এবং পাল্টা কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সূত্র : প্রেস টিভি
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতি নয়, আঞ্চলিক শান্তিচুক্তি চায় ইরান
চলমান সংঘাত নিরসনে শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না, বরং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি ‘সমন্বিত ও স্থায়ী শান্তিচুক্তি’ চায়। আলজাজিরা মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
তেহরান থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, ইরানের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন বর্তমান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি শুধু ইসরায়েল ও আমেরিকার জন্য পুনরায় শক্তি সঞ্চয় এবং যুদ্ধের আরো ধ্বংসাত্মক ধাপের প্রস্তুতির একটি কৌশল মাত্র।
ইরান এমন একটি শান্তিচুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে, যা শুধু তাদের একার জন্য নয়, বরং এই অঞ্চলের সঙ্গে জড়িত লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরাককেও অন্তর্ভুক্ত করবে। তাদের প্রধান শর্ত হলো—ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হবে না, এমন স্থায়ী গ্যারান্টি থাকতে হবে। ইরান মনে করে, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধকালীন ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা একটি নতুন প্রস্তাব সামনে এনেছে। ইরান চায় ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা বা ‘রেজিম’ চালু করতে। এই ব্যবস্থার আওতায় ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ট্যাক্স বা কর আরোপ করতে পারবে, যা দিয়ে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে।
ইরানি বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িক যুদ্ধবিরতি যুদ্ধের মূল সমস্যার সমাধান করবে না। বরং এটি ইসরায়েল ও আমেরিকাকে মহড়া দেওয়ার এবং পরবর্তী ভয়াবহ আক্রমণের প্রস্তুতির জন্য সময় দেবে। তাই ইরান কোনো ‘যুদ্ধবিরতি’ নয়, বরং যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পক্ষেই অনড় অবস্থান নিয়েছে।



