অর্থনীতি
ইউরোপের বাজারে কমছে বাংলাদেশি পোশাকের দাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দাম কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে বছর ব্যবধানে বাংলাদেশি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। শুধু ডিসেম্বর মাসেই দাম কমেছে ১২ শতাংশ। চাহিদা কমে যাওয়া এবং মার্কিন শুল্কের প্রভাব মিলিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
চলতি অর্থবছর জুলাই মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দিয়ে শুরু হলেও জানুয়ারি পর্যন্ত পরবর্তী ছয় মাসে রফতানি আয় আর বাড়েনি। এর পেছনে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি বাজারে ধাক্কা খাওয়াকেই কারণ হিসেবে দেখছেন পোশাক শিল্প মালিকরা।
এর মধ্যেই আবার মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে সামনে আসছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পোশাকের ইউনিট প্রাইস কমার ক্ষতচিহ্ন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান দফতর ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, বছর ব্যবধানে বাংলাদেশি পোশাকের গড় দাম কমেছে ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আর সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসেই দাম কমেছে ১২ শতাংশ।
বিজিএমইএর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, চীন ও ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাপে পড়ে এখন ইউরোপের বাজারে ঝুঁকছে। তাদের কাঁচামাল ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শক্তিশালী হওয়ায় তারা কম দামে পণ্য দিতে পারছে। আমরা যে পণ্য পাঁচ ডলারে দিতাম, চীন সেটি চার ডলারে দিচ্ছে। ক্রেতারা তো কম দামে কিনতেই চাইবে। তাই তারা ভারত ও চীন ইউরোপে কম দামে অর্ডার নিচ্ছে, যাতে নিজেদের শিল্প টিকিয়ে রাখতে পারে।
ইউরোপে পোশাকের চাহিদা কমলেও মার্কিন শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্র বিমুখ দেশগুলো এখন ইউরোপের বাজার দখলে নেমেছে। এতে বাংলাদেশি রফতানিকারকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
রশিদ আহমেদ হোসাইনী আরও বলেন, ইউরোপের বাজার আমরা অনেকটাই হারাচ্ছি। এটা পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা সরকারের কাছে ভর্তুকির আবেদন করছি। ভর্তুকি শিল্প মালিকদের জন্য নয়, শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য। যদি আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারি এবং ভারত-চীন বাজার দখল করে নেয়, তাহলে দেশের কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে।
বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করতে ছয় থেকে ১৯ বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে। তবে আমাদের বাণিজ্য সচিব জানিয়েছেন, বাংলাদেশ তিন বছরের মধ্যে তা করতে পারবে। এটা করতে পারলে তো ভালো। ২০২৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করা যায়, তাহলে তা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য বাণিজ্য ব্লকের সঙ্গেও চুক্তি করতে পারলে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও বাড়বে।
ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপে বাংলাদেশের চাপ আরও বাড়বে; এমন আশঙ্কা থেকে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ, ট্রাম্পের যে কড়া নীতি; ইউরোপের বাণিজ্য সম্প্রসারণের তাগিদকে উস্কে দিয়েছে; সেই সুযোগ লুফে নিতে হবে বাংলাদেশকেও।
র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ববাজারে গার্মেন্টস খাত এখন তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী হতে পারে। সেই সুযোগ বাংলাদেশকে কাজে লাগাতে হবে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। এর প্রায় অর্ধেকই গেছে ইউরোপের বাজারে।
অর্থনীতি
শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে: অর্থমন্ত্রী
আগামীতে দেশের শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের সরকারের নানা পরিকল্পনার রয়েছে। দেশে আর পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি চলবে না। আগামী বাজেট কোনো গতানুগতিক বাজেট হবে না। অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনের পথে হাঁটবে দেশ। দেশের শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।
নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী করার। বিনিয়োগের মাধ্যমেই চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা হবে। এখানে বিনিয়োগের অনেক বড় ব্যাপার আছে, সেদিকে আমাদের যেতে হবে। বন্দরের কার্যক্রম আরও উন্নততর করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে; কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, অনেক পরিকল্পনা আছে। এগুলো এক কথায় বলা যাবে না। তবে দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কর্মসংস্থান। জনগণ যেভাবে অর্থনীতি সুফল পাবে; সরকার সেই পথেই হাঁটবে। অর্থনীতিকে আমরা মুক্ত করতে চাই।
এমএন
অর্থনীতি
রমজান মাসে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের নতুন সময় নির্ধারণ
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধে নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রমজান মাসে বিদ্যুৎ শ্রেণিতে গ্যাসের চাহিদা ও ইফতারের সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে ও গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্কে স্বল্পচাপ পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে প্রথম রমজান থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত সিএনজি স্টেশনগুলো বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষ্যে মহাসড়কে যাত্রী সাধারণের যাতায়াতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য জ্বালানি সরবরাহের সুবিধার্থে ১৫ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো সার্বক্ষণিক খোলা রাখতে হবে।
২৬ মার্চ থেকে আগের মতোই সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে।
এমএন
অর্থনীতি
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনদিন বাড়ছে। এই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বাড়ছে।
লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিনিময় হার :
বৈদেশিক মুদ্রার নাম–বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার – ১২২ টাকা ৩০ পয়সা
ইউরোপীয় ইউরো – ১৪৪ টাকা ১৩ পয়সা
ব্রিটিশ পাউন্ড – ১৬৫ টাকা ৯ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার – ৮৬ টাকা ১৬ পয়সা
জাপানি ইয়েন – ৭৯ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার – ৮৯ টাকা ৩০ পয়সা
সুইডিশ ক্রোনা – ১৩ টাকা ৫৪ পয়সা
সিঙ্গাপুর ডলার – ৯৬ টাকা ৫৫ পয়সা
চীনা ইউয়ান রেনমিনবি – ১৭ টাকা ৭৪ পয়সা
ভারতীয় রুপি – ১ টাকা ৩৪ পয়সা
শ্রীলঙ্কান রুপি – ২ টাকা ৫২ পয়সা
(সূত্র : বাংলাদেশ ব্যাংক)
সিঙ্গাপুর ডলার – ৯৬ টাকা ৪৭ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত – ৩১ টাকা ৩২ পয়সা
সৌদি রিয়াল – ৩২ টাকা ৬৩ পয়সা
কুয়েতি দিনার – ৩৯৮ টাকা ৮৫ পয়সা
(সূত্র : গুগল)
*যেকোনো সময় মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।
অর্থনীতি
বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, নেপথ্যে কী?
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনায় অচলাবস্থা ও উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ব্রেন্ট ফিউচার ২৪ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭০.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২৮ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৫.৪৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বুধবার উভয় সূচকই ৪ শতাংশেরও বেশি বেড়েছিল, যা ৩০ জানুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ। মার্কিন ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বের তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের ওপর প্রভাব পড়বে। নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা কম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্র বৃদ্ধি চান না। সামরিক পদক্ষেপ হলে তা সম্ভবত সীমিত এবং স্বল্পমেয়াদি হবে।
হোয়াইট হাউস জানায়, জেনেভায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে কিছু বিষয়ে এখনও দূরত্ব রয়ে গেছে। তেহরান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও বিস্তারিত তথ্য নিয়ে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সময়ে ইরান তাদের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরান ২০২৪ সালে ইসরায়েলি বোমা হামলার স্থানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটি মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছিল।
এদিকে, জেনেভায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার দুই দিনের শান্তি আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। বাজার সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে মার্কিন অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিস্টিলেটের মজুত কমেছে। পূর্বানুমান অনুযায়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত ২.১ মিলিয়ন ব্যারেল বাড়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
এমএন
অর্থনীতি
এলসি মার্জিন সুবিধার পরও খেজুরের বাজারে অস্থিরতা কেন?
রমজান সামনে রেখে সরকার খেজুর আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড় ও এলসি মার্জিন সুবিধা দিলেও তার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা। গত বছরের তুলনায় খেজুরের আমদানি প্রায় ২০০ শতাংশ বাড়লেও বাজারে উল্টো দাম বেড়েছে। গত বছর যে খেজুর কেজিপ্রতি ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা কিনতে হচ্ছে ২৫০ টাকায়। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও বাজারের এই অস্থিরতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
রমজান মুসলিম বিশ্বের জন্য আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস হলেও দেশের খেজুরের বাজারে তার প্রতিফলন নেই। ক্রেতাদের মতে, বাজারে ন্যায়পরায়ণতা বা সহানুভূতির ছাপ দেখা যাচ্ছে না।
গত অর্থবছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চার মাসে ৩ হাজার ১৮৪ মেট্রিক টন খেজুর আমদানি হয়েছিল। আর চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছে ৯ হাজার ৩০১ মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি প্রায় তিনগুণ। তবুও বাজারে দাম কমেনি।
ক্রেতারা বলছেন, দাম না কমলে তাদের কষ্ট কমবে না। আর বিক্রেতারা জানান, আগে যে খেজুর ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা কিনতেই ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা লাগছে। ফলে বিক্রির দামও বেড়েছে।
রমজানের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানির এলসি সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় ডাল, চিনি, পেঁয়াজ ও রসুনের আমদানি ১১ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে চাহিদার তুলনায় ১ থেকে ৩৬ শতাংশ বেশি আমদানি হয়েছে আদা, ছোলা ও ভোজ্যতেল। এরইমধ্যে বাজারে ১৯২ শতাংশ বেশি খেজুর প্রবেশ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ডাল, চিনি, ছোলা ও তেলসহ রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যে সরবরাহ ঘাটতি নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি ও মজুত রয়েছে। যারা আমদানি করেছেন তারা সঠিকভাবে সরবরাহ করলে কোনো পণ্যের ঘাটতি থাকবে না।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে এনবিআর। অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে এবং আগাম করের ৫ শতাংশ পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।
এরপরও যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করা হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার পরিস্থিতি নজরে রাখছে। কেউ সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করলে শক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত টিম বাজারে তৎপর থাকবে। ক্রেতারা প্রতিযোগিতা কমিশন ও ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
এমএন



