জাতীয়
নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন?
তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার আকার ‘ছোট হবে’ জানালেও শেষপর্যন্ত ৫০ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদ ঘোষণা করেছে বিএনপি। নতুন এই সরকারে যারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪১ জনই প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এমন দায়িত্ব পেলেন। এমনকি তারেক রহমান নিজেও প্রথমবার মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন।
অতীতে মন্ত্রণালয় চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে, দলটির এমন নয়জন নেতাকে এবার পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালেও মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় নেতাদের ছবি ও নামসহ দপ্তরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও নতুন মন্ত্রীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়টির ওয়েবসাইটে মন্ত্রী হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে আইনমন্ত্রী, খন্দকার আব্দুল মোকতাদিরকে বাণিজ্যমন্ত্রী এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে নতুন মন্ত্রিসভায় বড় চমক খলিলুর রহমান, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন।
অতীতে দলের একাধিক নেতাকে মি. রহমানের সমালোচনা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গেলেও শেষমেশ তাকেই টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করে পররাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি।
ফলে এটিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হতে দেখা যাচ্ছে।
এর বাইরে, বিএনপি’র প্রয়াত নেতাদের অনেকের ছেলে-মেয়েও নতুন মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেয়েছেন।
দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে বঙ্গভবনে না করে মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর তাদের মধ্যে মন্ত্রণালয় বণ্টন করা হয়।
চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন।
সিনিয়র নেতারা কে কোন মন্ত্রণালয়ে?
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নতুন মন্ত্রিপরিষদে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী এবং দু’জন টেকনোক্রেট মন্ত্রী রয়েছেন।
বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
এর আগে, ২০০১ সালের বিএনপি সরকারের সময় মি. আলমগীর কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অতীতে তিনি বিএনপি সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অতীতে খালেদা জিয়ার সরকারে বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন। এবার তার কাঁধে পড়েছে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
বিএনপি নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এর আগে বিএনপি সরকারের বাণিজ্য এবং পানিসম্পদমন্ত্রী ছিলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলটির সিনিয়র নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে। অতীতে তিনি একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।
২০০১ সালে বিএনপি সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পদে ছিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি এবার একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। সেইসঙ্গে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়এর দায়িত্ব থাকবে তার কাঁধে।
কুমিল্লা থেকে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বিএনপি’র সবশেষ সরকারের ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনিও এ দফায় পূর্ণমন্ত্রী হয়ে পেয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। অতীতে তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।
লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসাদুল হাবিব দুলু তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিএনপি’র ২০০১ সালের সরকারেও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ছিলেন।
আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের হাতে থাকছে জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
নতুন মন্ত্রীদের কে কোন মন্ত্রণালয়ে?
আরও ১৬ জনকে প্রথমবার মন্ত্রী করেছেন তারেক রহমান। তাদের মধ্যে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন পেয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
ঢাকা-১০ আসন থেকে বিজয়ী শেখ রবিউল আলমকে একইসঙ্গে দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তার নাম নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে দেওয়া হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ২০২৪ সালের আটই অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর তিনি এক বছরের বেশি সময় ধরে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রথমবার মন্ত্রী হয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল আওয়াল মিন্টু পেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুকে দেওয়া হয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
লক্ষ্মীপুর থেকে বিজয়ী বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পেয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
এর বাইরে, আরিফুল হক চৌধুরিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; খন্দকার আব্দুল মোকতাদিরকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জাকারিয়া তাহেরকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং ফকির মাহবুব আনামকে ডাক, টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের মধ্যে বিএনপি নেতা আমিন উর রশিদ একইসঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন।
আর সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খলিলুর রহমানকে দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
এছাড়া নতুন মন্ত্রিপরিষদের পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় থাকা একমাত্র নারী আফরোজা খানম রিতা পেয়েছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
প্রতিমন্ত্রীরা কে কোথায়?
নতুন সরকারে যে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম রয়েছে, তাদের সবাই এবারই প্রথম মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রয়াত বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন এবারের মন্ত্রিপরিষদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
এছাড়া ভোটে না জিতলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক ফুটবলার মো. আমিনুল হক টেকনোক্র্যাট হিসেবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
অন্য আলোচিতদের মধ্যে ববি হাজ্জাজকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জোনায়েদ সাকিকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং নুরুল হক নুরকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
যশোর সদর আসন থেকে নির্বাচিত অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। খুলনা বিভাগীয় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মি. অমিত বিএনপির প্রয়াত সিনিয়র নেতা তরিকুল ইসলাম ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগমের ছেলে।
নারীদের মধ্যে ফরিদপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং নাটোর-১ আসন থেকে বিজয়ী ফারজানা শারমিন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
তাদের মধ্যে মিজ ওবায়েদকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মিজ শারমিনকে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
এর বাইরে, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে খাদ্য এবং কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কায়সার কামালকে ভূমি মন্ত্রণালয়, ফরহাদ হোসেন আজাদকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
সেইসঙ্গে, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, হাবিবুর রশিদকে সড়ক পরিবহন, সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়; মো. রাজীব আহসানকে নৌ মন্ত্রণালয়, মো. আব্দুল বারীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং মীর শাহে আলমকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
এছাড়া মো. শরিফুল আলমকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, এম এ মুহিতকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, এম ইকবাল হোসেইনকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ইয়াসের খান চৌধুরীকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং শেখ ফরিদুল ইসলামকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
তথ্য মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং সকল সম্প্রচার মাধ্যমকে বিটিভির সৌজন্যে ভাষণটি প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান। একই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা (২৫ মন্ত্রী, ২৪ প্রতিমন্ত্রী) শপথও অনুষ্ঠিত হয়।
আজ দুপুরে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করেন।
এর আগে তাঁরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এমএন
জাতীয়
স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে যা লিখলেন তারেক রহমান
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে এক দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য লেখেন, যেখানে তিনি দেশের গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা এবং শহীদদের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় স্মৃতিসৌধে মহান শহীদদের ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি।
পরিদর্শন বইয়ে তারিখের জায়গায় বাংলায় আজকের ১৮-২-২০২৬ তারিখ লেখেন তিনি। পদবীর জায়গায় লেখেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
আর মন্তব্যের ঘরে লেখেন, ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই।
তিনি লেখেন, বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নবগঠিত মন্ত্রীসভাসহ আমি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি যাদের আত্মত্যাগে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ দেশের ইতিহাসে এ যাবৎ কালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সকল শহীদদের প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
তিনি আরও লেখেন, আমি এবং আমরা বিশ্বাস করি শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা কাজ শুরু করেছি। আল্লাহ যেন আমাদের জনগণের সামনে ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের তৌফিক দান করুন। আমি আবারও আল্লাহর দরবারে সকল শহীদদের মাগফিরাত কামনা করছি।
এ সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনির্বাচিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণও উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
জাতীয়
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের শ্রদ্ধা
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিপরিষদ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র কবর জিয়ারত করেন তারা।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিপরিষদ। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন সমন্বিতভাবে। মহাসড়কে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মহড়া চলছে নিয়মিত। পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা আনা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়।
এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। দেশ পরিচালনার প্রথম দিন বুধবার সচিবালয়ে প্রথম অফিস করবেন তিনি। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেয়ারও কথা রয়েছে। বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। এজন্য সচিবালয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের গেজেটের পরই তুমুল ব্যস্ততা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। নতুন ভবনের ছয়টি লিফটের সবকটিই ছিল ব্যস্ত। কর্মকর্তারা এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে উঠছেন, নামছেন। সবার হাতেই ফাইল। রেওয়াজ ভেঙে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হয়েছে মন্ত্রিসভার শপথ। আর সেই শপথ অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
এমএন
জাতীয়
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা।
বুধবার বেলা ১১টায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপরে তিনি মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী সেখানকার পরিদর্শন বইয়ে সইয়ের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ করেন।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি জিয়ারত করবেন।
এরপর সচিবালয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিকালে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন সরকারের শপথের পর এটিই হবে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। পরে সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
এমএন
জাতীয়
প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল পেজ আজ থেকে বন্ধ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল পেজটি আর সক্রিয় থাকবে না। আজ বুধবার পেজটি থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
ওই পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘গত ১৮ মাস সময় কালজুড়ে সকলের সহায়তা, আগ্রহ ও অংশগ্রহণের জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সমর্থন, সহযোগিতা, সমালোচনা আমাদের যাত্রাকে আরো মূল্যবান ও সমৃদ্ধ করেছে।
পোস্টের নিচে লেখা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠন করে বিএনপি। এদিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে ড. ইউনূসের প্রধান উপদেষ্টার পদ বিলুপ্ত হয়।
পরে অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নামে ভেরিফায়েড পেজটি চালু হয়। যা পরিচালনা করতেন তার প্রেস উইং। এই পেজ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও তথ্য জানানো হতো।
এমএন



