জাতীয়
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে, কিভাবে হতে পারে
রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকায় তিনি পদত্যাগ বা অভিশংসিত না হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্ভব নয়। পদ শূন্য হলে সংসদ সদস্যদের ভোটে, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও এরই মধ্যে শপথ নিয়েছেন। বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু করার পর এই সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি কে হবেন বা কবে হবেন তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আমলেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো: সাহাবুদ্দিন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ওঠে ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে। তবে তার কাছেই নতুন নির্বাচিত সরকার শপথ গ্রহণ করেছেন।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব আসেন। তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। ফলে ওই পদে থাকা অবস্থায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার আইনগত সুযোগ নেই।
যে কারণে তিনি যদি পদত্যাগ না করেন কিংবা অভিশংসন না করা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কেউ শপথ নিতে পারবেন না বলে জানাচ্ছেন সংবিধান বিশ্লেষকরা।
আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, এ নিয়ে সংবিধানেই বলা আছে যে রাষ্ট্রপতির পদ কিভাবে শূন্য হবে। পদ শূন্য হওয়ার পরই এই নিয়ে কার্যক্রম শুরু করবে নতুন সংসদ।
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খুবই সীমিত। যে কারণে রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কারের জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বেশ কিছু প্রস্তাবনাও আনা হয়েছে। সেসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বেশ কিছুটা বাড়বে।
তিন কারণে শূন্য হয় রাষ্ট্রপতি পদ
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সর্বোচ্চ দু’বার দায়িত্ব পালন করতে পারেন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেয়া মো: সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
২০২৪ এ গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের শপথও যেমন পড়িয়েছেন মো: সাহাবুদ্দিন, তেমনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের শপথ পাঠ করিয়েছেন তিনি।
যদিও ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে জোরাল আন্দোলন করেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে অপসারণ কিংবা তার পদত্যাগের ঘটনা ঘটেনি।
তবে গত ডিসেম্বর মাসে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি ‘অপমাণিত বোধ’ করছেন।
সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই, আমি সরে যেতে আগ্রহী। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’
বিশ্লেষকদের অনেকে ধারণা করছেন, মো: সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেয়া বিএনপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসবে। নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে নানা আলোচনাও চলছে।
গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। এরপরই নতুন সংসদে নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগপত্র জমা দেন তাহলে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না। রাষ্ট্রপতি আগেই সরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় এক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হবে না বলেই বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
নতুন সরকার ও সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব নেয়ার পর রাষ্ট্রপতির পরিবর্তনের প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন যেভাবে
সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার পদে প্রবেশের তারিখ থেকে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ব্যক্তি দু’বারের বেশি রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।
সংবিধান বিশ্লেষক জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক কারণ কিংবা গুরুত্বর কোন অসদাচরণজনিত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে।’
মেয়াদ শেষ, পদত্যাগ কিংবা অভিসংশনজনিত কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে এই নির্বাচনের আয়োজন করে থাকে নির্বাচন কমিশন।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যের ভোটেই নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। এক্ষেত্রে কারো বয়স ৩৫ বছরের কম ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হলে কেউ রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না।
একসময় বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিক সরকার ব্যবস্থায় সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিধান ছিল। তবে ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পরে সেই পদ্ধতি বাতিল হয়।
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, এখন দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে।
নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ‘নির্বাচনী কর্মকর্তা’ হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হলে স্পিকারের সাথে আলোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে পদ শূন্য হইলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হইতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আইনজীবী ও সংবিধান বিশ্লেষক কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘এক্ষেত্রে দু’জন সংসদ সদস্যের প্রয়োজন হবে। একজন থাকবেন প্রস্তাবক আরেকজন সমর্থক।’
রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে বিধান অনুযায়ী ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।
তফসিল ঘোষণার পর সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময়ে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সময়ে যদি অধিবেশন না থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সাথে আলোচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে ভোটগ্রহণের কমপক্ষে সাতদিন আগে অধিবেশন আহ্বান করবে।
রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতখানি তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে।
এক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রপতির তেমন কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তাই অনেকেই পদটিকে ‘আলঙ্কারিক’ হিসেবেও আখ্যা দেন। তবে রাজনৈতিক সঙ্কট কিংবা নির্বাচনের সময়ে রাষ্ট্রপতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতি পদের গুরুত্ব বাড়ে। কারণ সংসদ ভেঙে দেয়া হলে শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসাবে বহাল থাকেন।
সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দু’টি ক্ষমতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। এ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতির কারো পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন নেই- এটা আইনে বলা আছে। কিন্তু বাংলাদেশে বিগত সময়ে এই বিষয়গুলোর খুব একটা চর্চা দেখা যায়নি বলেই মনে করেন রাজনৈতিক ও সংবিধান বিশ্লেষকরা।
রাষ্ট্র সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের ঐকমত্য কমিশনের ধারাবাহিক আলোচনার পর জুলাই সনদ প্রস্তুত হয়েছে। গণভোটের ‘হ্যাঁ’ জয়ের ফলে যে সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নের পথ খুলেছে, তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব হলো প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে।
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতিকে কাজ করতে হয়। তবে জুলাই সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে কারো পরামর্শ বা সুপারিশ ছাড়াই নিজ এখতিয়ারে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিতে পারবেন।
আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো কিংবা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির যে বিষয়গুলো জুলাই সনদে রয়েছে এটার জন্য আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।’
তার মতে, সংবিধান সংশোধন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনো সময় সাপেক্ষ বিষয়। তার আগ পর্যন্ত ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টি নিশ্চিত হবে না।
সংসদ সদস্যরা শপথ নেয়ার পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন কবে শুরু হবে সেটি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। সেই অধিবেশন শুরুর আগে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এমএন
জাতীয়
সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
তথ্য মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং সকল সম্প্রচার মাধ্যমকে বিটিভির সৌজন্যে ভাষণটি প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান। একই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা (২৫ মন্ত্রী, ২৪ প্রতিমন্ত্রী) শপথও অনুষ্ঠিত হয়।
আজ দুপুরে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করেন।
এর আগে তাঁরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এমএন
জাতীয়
স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে যা লিখলেন তারেক রহমান
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে এক দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য লেখেন, যেখানে তিনি দেশের গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা এবং শহীদদের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় স্মৃতিসৌধে মহান শহীদদের ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি।
পরিদর্শন বইয়ে তারিখের জায়গায় বাংলায় আজকের ১৮-২-২০২৬ তারিখ লেখেন তিনি। পদবীর জায়গায় লেখেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
আর মন্তব্যের ঘরে লেখেন, ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই।
তিনি লেখেন, বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নবগঠিত মন্ত্রীসভাসহ আমি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি যাদের আত্মত্যাগে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ দেশের ইতিহাসে এ যাবৎ কালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সকল শহীদদের প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
তিনি আরও লেখেন, আমি এবং আমরা বিশ্বাস করি শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা কাজ শুরু করেছি। আল্লাহ যেন আমাদের জনগণের সামনে ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের তৌফিক দান করুন। আমি আবারও আল্লাহর দরবারে সকল শহীদদের মাগফিরাত কামনা করছি।
এ সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনির্বাচিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণও উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
জাতীয়
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের শ্রদ্ধা
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিপরিষদ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র কবর জিয়ারত করেন তারা।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিপরিষদ। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন সমন্বিতভাবে। মহাসড়কে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মহড়া চলছে নিয়মিত। পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা আনা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়।
এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। দেশ পরিচালনার প্রথম দিন বুধবার সচিবালয়ে প্রথম অফিস করবেন তিনি। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেয়ারও কথা রয়েছে। বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। এজন্য সচিবালয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের গেজেটের পরই তুমুল ব্যস্ততা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। নতুন ভবনের ছয়টি লিফটের সবকটিই ছিল ব্যস্ত। কর্মকর্তারা এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে উঠছেন, নামছেন। সবার হাতেই ফাইল। রেওয়াজ ভেঙে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হয়েছে মন্ত্রিসভার শপথ। আর সেই শপথ অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
এমএন
জাতীয়
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা।
বুধবার বেলা ১১টায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপরে তিনি মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী সেখানকার পরিদর্শন বইয়ে সইয়ের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ করেন।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি জিয়ারত করবেন।
এরপর সচিবালয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিকালে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন সরকারের শপথের পর এটিই হবে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। পরে সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
এমএন
জাতীয়
প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল পেজ আজ থেকে বন্ধ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল পেজটি আর সক্রিয় থাকবে না। আজ বুধবার পেজটি থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
ওই পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘গত ১৮ মাস সময় কালজুড়ে সকলের সহায়তা, আগ্রহ ও অংশগ্রহণের জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সমর্থন, সহযোগিতা, সমালোচনা আমাদের যাত্রাকে আরো মূল্যবান ও সমৃদ্ধ করেছে।
পোস্টের নিচে লেখা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠন করে বিএনপি। এদিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে ড. ইউনূসের প্রধান উপদেষ্টার পদ বিলুপ্ত হয়।
পরে অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নামে ভেরিফায়েড পেজটি চালু হয়। যা পরিচালনা করতেন তার প্রেস উইং। এই পেজ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও তথ্য জানানো হতো।
এমএন



