জাতীয়
শপথে উপস্থিত থাকবেন উপদেষ্টারা, ফিরবেন পতাকাবিহীন গাড়িতে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শপথ আজ সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা। যদিও নির্বাচনের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে যে উপদেষ্টারা দেশ ছেড়ে চলে যাবেন। তবে এ বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে স্টষ্ট করেছেন প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ‘দেশের গর্বিত সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সোমবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিং প্রেস সচিব বলেন, ‘এখনো তারা দেশেই আছেন এবং নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানেও তারা অংশ নেবেন।’
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উপদেষ্টারা যারা, তারা শপথের দিন থাকবেন। তারা জয়েন করবেন এবং শপথের দিন ফ্ল্যাগবাহী গাড়িতে যাবেন। ফেরার সময় ওই গাড়ি তাদের বাসায় পৌঁছে দেবে, কিন্তু গাড়িতে আর ফ্ল্যাগ থাকবে না।’
এদিকে উপদেষ্টাদের মধ্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তার পুরোনো আবাসস্থল ফিরে গেছেন। তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, কর্মস্থল থেকে ‘যথাযথভাবে’ বিদায় নিয়েই ঢাকা ছেড়েছেন।
এছাড়া অন্য কোনো উপদেষ্টার দেশ ছেড়ে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এমএন
জাতীয়
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন এহসানুল হক মিলন
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় শপথগ্রহণের জন্য ডাক পেয়েছেন চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এহসানুল হক মিলন ১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গভ. ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ (বর্তমান সরকারী বিজ্ঞান কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। তিনি নিউ ইয়র্ক ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ব্রুকলিন কলেজ এবং বোরো অব ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্মজীবনে ওষুধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবে কাজ করেন। ২০১৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণাপত্রের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা।
মিলন ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ-২৬০ চাঁদপুর-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যাতে তিনি আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী প্রাক্তন মন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীরকে পরাজিত করেছিলেন।
জাতীয়
শপথ নিলেন জামায়াত ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে শপথগ্রহণ করেছেন জামায়াত ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা (এমপি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। শপথ অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি অতিথিরা অংশ নেন।
এর আগে প্রথম ধাপে শপথগ্রহণ করেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তারা বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে শপথগ্রহণ করেন।
এমএন
জাতীয়
মন্ত্রিপরিষদে ডাক পাচ্ছেন নুরুল হক নুর
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নুর বলেন, আলহামদুলিল্লাহ…তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছি। আমাকে কল করা হয়েছে। তারেক রহমান এবং বিএনপিকে ধন্যবাদ।
এমএন
জাতীয়
বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নিলে শপথ নেবে না জামায়াত
বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা কোনো শপথ নেবেন না বলে জানিয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণমাধ্যমকে একথা বলেন তিনি।
জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, দুপুর ১২টায় জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত রয়েছে। সংসদ ভবনে তারা যাবেন। তবে বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেন, জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না। কারণ তারা মনে করেন, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন।
যদিও সংসদ ভবনে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন জামায়াতের আমিরসহ ১১ দলীয় জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।
সংসদ সচিবালয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি রেখেছিল। তবে বিএনপি এরইমধ্যে জানিয়েছে, সংসদ সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না।
শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। সংবিধানে এখনও এটাকে ধারণ করা হয়নি।
মঙ্গলবার সকালে সংসদ সচিবালয়ে বিএনপির নির্বাচিত সব সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ করে এ কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। সংবিধানে এখনও এটাকে ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য কে, কে শপথ নেওয়াবেন, সেটার বিধান করতে হবে। এ ফর্মটি সংবিধানে নেই (নীল)। ফর্মটি তৃতীয় তফসিলে আছে (সাদা)।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, শপথের নির্দিষ্ট ফর্মটি সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে থাকে। বর্তমানে যা আছে তা সাদা বা সাধারণ। যখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি তৃতীয় তফসিলে যুক্ত হবে এবং জাতীয় সংসদে সাংবিধানিকভাবে গৃহীত হবে, কেবল তখনই সদস্যদের শপথ নেওয়ার আইনি ভিত্তি তৈরি হবে। সেই পর্যন্ত আমরা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি সবসময় সংবিধান মেনে চলছে এবং আগামী দিনেও চলবে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এমএন
জাতীয়
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন হুমায়ুন কবির
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য হুমায়ুন কবির।
জন্মসূত্রে সিলেটের সন্তান হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই দীর্ঘ সময় রাজনীতি ও প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে রাজনীতিতে মাস্টার্স, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ থেকে ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স এবং লিডস ল’ স্কুল থেকে আইনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনেই তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতি, প্রশাসন ও জননীতি নিয়ে কাজ শুরু করেন।
পেশাগত জীবনে হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যের লন্ডন মেয়রের দপ্তরে কৌশল সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীতে লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে কেবিনেট উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন— প্রথমে বরিস জনসনের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি টিমে এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের অধীনে ন্যায় মন্ত্রণালয়ে একাধিক কেবিনেট মন্ত্রী ও বিশেষ উপদেষ্টার সঙ্গে প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে হুমায়ুন কবির বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কর্মকৌশল ও কূটনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তিনি লন্ডন ও ইউরোপে বিএনপির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পক্ষে বক্তব্য দেন। সম্প্রতি হুমায়ুন কবিরকে দলের যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছে, যা তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।



