আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত কি অনিবার্য
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করছে। এর মধ্যে ইরান তাদের এক পারমাণবিক স্থাপনার কাছে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ একটি কমপ্লেক্সকে আগের তুলনায় মজবুত করছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান আলোচনার মধ্যেই তেহরানের এ নতুন তৎপরতার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেল। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন— হয় ইরান সমঝোতায় আসবে, নয় আবারও অপারেশন ‘মিডনাইট হ্যামার’। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠছে?
স্যাটেলাইট চিত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশপাশে নতুন করে শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো নির্মাণ ও পুরোনো কমপ্লেক্সগুলো পুনর্গঠনের কাজ জোরদার করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ থেকে স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষিত রাখতেই এ উদ্যোগ। অতীতে ইরানের নাতাঞ্জ ও ফোরদো কেন্দ্র নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল; এবারও একই ধরনের আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত না করে এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থায় পূর্ণ সহযোগিতা না দেয়, তাহলে ‘সব বিকল্প খোলা রয়েছে।’ ইরানের সঙ্গে হয় সমঝোতা, নয়তো ফের ‘মিডনাইট হ্যামার’ এর মতো সামরিক অভিযান চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ হুমকি দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের অনুমান, প্রয়োজনে দ্রুত ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে ট্রাম্পের।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নৌ-সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের বরাতে জানা গেছে, পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হচ্ছে। এর ফলে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একদিকে প্রতিরোধমূলক কৌশল, অন্যদিকে ইরানের প্রতি কড়াবার্তা।
অন্যদিকে ইরান সরকার বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক আইনসম্মত। তেহরানের এক মুখপাত্র জানান, ‘আমরা আত্মরক্ষামূলক অবকাঠামো গড়ে তুলছি। এটি কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নয়।’ একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘উসকানিমূলক সামরিক উপস্থিতি’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে সামরিক প্রস্তুতি ও কড়া ভাষার পাল্টাপাল্টি বিবৃতি পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, সরাসরি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এখনো সম্ভাবনার বাইরে। কারণ, উভয় দেশই জানে এমন সংঘাত পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়াবে—যার প্রভাব পড়বে জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায়। তবে সীমিত আকারের হামলা, প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে পাল্টা আঘাত বা সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে আগ থেকেই বিভিন্ন সংঘাত চলমান। এ প্রেক্ষাপটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রা যোগ করছে। কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার না হলে এবং পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি দূর না হলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কমপ্লেক্স শক্তিশালীকরণ, ‘মিডনাইট হ্যামার’-এর হুমকি এবং মার্কিন রণতরী মোতায়েন—এ তিন উপাদান বর্তমান সংকটকে স্পষ্টতই গভীর করেছে। তবে সংঘাত অনিবার্য কি না, তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ, পারস্পরিক বার্তা ও আঞ্চলিক সমীকরণের ওপর। বিশ্ববাসীর নজর এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের দিকে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত
রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরও ২৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অনুমোদন দিয়েছে ভারত। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএসি এস-৪০০ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমের জন্য ২৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অব নেসেসিটি’ অনুমোদন দিয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সামরিক আধুনিকীকরণ ও পরিচালনাগত চাহিদা পূরণে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অব নেসেসিটি’ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে সরাসরি এস-৪০০-এর উল্লেখ না থাকলেও যুদ্ধবিমান, মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট, রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার কথা বলা হয়।
প্রতিবেদন বলছে, ভারতীয় বিমানবাহিনী রাশিয়ার কাছ থেকে আরও এস-৪০০ সিস্টেম সংগ্রহ করতে চায়, যা প্যান্টসির স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে ব্যবহৃত হবে। অনুমোদিত ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১২০টি স্বল্পপাল্লার এবং ১৬৮টি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এসব কেনাকাটা দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ভারতের হাতে চারটি এস-৪০০ সিস্টেম রয়েছে। চলতি বছর আরও দুটি সিস্টেম সরবরাহ পাওয়ার কথা রয়েছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
চীনের নৌযান জব্দ করল জাপান, বাড়ল উত্তেজনা
চীনের একটি মাছধরার নৌযান জব্দ করেছে জাপান। এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। টোকিও কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা পরিদর্শনের লক্ষ্যে ওই মাছধরা নৌযানকে থামতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে নৌযানটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা সেটি জব্দ করে। ওই নৌযান জাপানের নাগাসাকি প্রশাসনিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক জলসীমায় গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার তারা নৌযানের ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তার করে। খবর বিবিসির।
জাপানের মৎস্যবিষয়ক সংস্থা জানায়, ‘মৎস্যবিষয়ক সংস্থার এক পরিদর্শক পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে নৌযানের ক্যাপ্টেনকে থামতে বলেছিল, কিন্তু ওই নৌযান নির্দেশ অমান্য করে ও পালিয়ে যায়।’
২০২২ সালের পর এবারই প্রথম তারা কোনো চীনা মাছধরার নৌযান জব্দ করল। জাপানের এ বিবৃতির পাল্টায় চীন এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। জব্দের সময় নৌযানে ক্যাপ্টেনসহ ১১ জন ছিলেন। ৪৭ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন চীনা নাগরিক।
জব্দ নৌযান থেকে মাছ ধরায় ব্যবহৃত ‘টাইগার নেট’ পাওয়া গেছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষ ও জাপানি সংবাদমাধ্যমগুলোর। এ ধরনের জাল ব্যবহারে অনেক দেশেই বিধিনিষেধ রয়েছে। এমন এক সময়ে টোকিও এই নৌযান জব্দ করল যখন তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে ব্যাপক টানাপোড়েন চলছে।
বেইজিং বলপ্রয়োগ করে তাইওয়ান দখলে নিলে টোকিও সামরিক পদক্ষেপ নেবে, নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এমন ইঙ্গিতই চীনকে এ দফা ক্রুদ্ধ করে। দিনকয়েক আগের নির্বাচনে তাকাইচি বিপুল ব্যবধানে জেতায় জাপান তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ‘শান্তিপূর্ণ’ অবস্থান থেকে সরে এসে সামরিক খাতে মনোযোগ বাড়াবে বলেই বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করেছেন।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অংশ বলে আসছে। জাপানও ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কয়েক দশক দ্বীপটি দখলে রেখেছিল। আপসে রাজি না হলে, মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে জুড়তে তাইওয়ানে বলপ্রয়োগের হুমকিও আছে বেইজিংয়ের।
নভেম্বরে তাকাইচির ওই মন্তব্যকে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘চরম আপত্তিকর’ আখ্যা দিয়েছিল। বেইজিং টোকিও রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছিল এবং নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণ ও পড়তে যাওয়ার বিষয়টি নতুন করে বিবেচনার অনুরোধ করেছিল। এর কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই জাপানে চীনা পর্যটকের সংখ্যা অনেক কমে যায়, যা পর্যটনসহ বিভিন্ন খাত সংশ্লিষ্ট জাপানি স্টকগুলোকে জোর ধাক্কা দেয়।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এরপর থেকে ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। বেইজিং বারবার তাকাইচির বক্তব্য সংশোধনের দাবি জানালেও টোকিও এখন পর্যন্ত তাতে কান দেয়নি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাপানকে ‘আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করতে’ হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। এ টানাপোড়েনের মধ্যে চীন সফররত জাপানি শিল্পীদের তাদের শো বাতিল করতে হয় এবং জনপ্রিয় অনেক জাপানি চলচ্চিত্রের মুক্তিও স্থগিত হয়ে যায়। গত মাসে জাপান তাদের কাছে থাকা শেষ দুটি পান্ডাও চীনে ফেরত পাঠাতে হয়।
এমএন
আন্তর্জাতিক
তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে মমতার অভিনন্দন
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোটের বিপুল জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এই শুভেচ্ছা জানান।
পোস্টে মমতা বলেন, ‘বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেক ভাইকে, তার দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন।’
পোস্টে তিনি আরও বলেন, আমাদের সঙ্গে সব সময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।
এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে মোদি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে এক বড় বিজয়ে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আমি তারেক রহমানকে আমার উষ্ণ অভিনন্দন জানাই।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী পোস্টে আরও বলেন, ‘এই জয় আপনার নেতৃত্বের ওপর বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন। ভারত ‘গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন’ অব্যাহত রাখবে বলেও বাংলাদেশের আসন্ন সরকারকে আশ্বস্ত করেছেন মোদি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বহুমুখী সম্পর্ক জোরদার করতে এবং আমাদের সাধারণ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে আপনার সাথে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ।’
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
সবশেষ প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ইতোমধ্যেই ২১২টি আসনে জয়ী হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট ৭৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া ৭টি আসনে স্বতন্ত্র ও অন্যান্যরা জয়ী হয়েছেন। বাকি আর ২টি আসনের ফলাফল ঘোষণা বাকি আছে। আর ২টি আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত থাকবে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশের ভোট বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে গণতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষা
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের জন্য ‘গণতন্ত্রের পরীক্ষার মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, নির্বাচনের সঙ্গে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ গণভোটে প্রধানমন্ত্রীদের মেয়াদসীমা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কয়েকটি বড় রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের ফল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিক নির্দেশ করবে। নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই নির্বাচনের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগও রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দেখছেন, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভোটের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্ডারলেন্সের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুসারে, ভোটের আগে অন্তর্বর্তী প্রশাসন ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। নির্বাচনটি গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাবেরও প্রতীক।
বিশ্ব গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো থেকে এটি স্পষ্ট হচ্ছে, বাংলাদেশের এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
কানাডায় স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ১০
কানাডায় একটি স্কুলে বন্দুকধারী হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানিয়েছে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের টাম্বলার রিজ শহরের একটি স্কুলে গুলি চালানোর ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে গুলি চালনাকারীও রয়েছে। এছাড়া আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
আরসিএমপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে বন্দুক হামলা হয়েছে। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে স্কুলের ভিতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজে আত্মহত্যা করেছেন।
অন্যান্য সূত্র জানিয়েছে, স্কুলের ভিতরে ৬ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজন মারা গেছেন। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা একটি বাড়িতে আরও ২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে মোট নিহতের সংখ্যা ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুজনকে গুরুতর বা প্রাণঘাতী অবস্থায় হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মেডিকেল সেন্টারে প্রায় ২৫ জনকে বিভিন্ন ধরনের আঘাতের জন্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর সব ছাত্র-শিক্ষককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। বর্তমানে এলাকায় জারি করা শেল্টার-ইন-প্লেস আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখন আর কোনো হুমকি নেই।
এমএন



