জাতীয়
তারেক রহমান ১০ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বসছেন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ী হয়ে দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে ২০৯টি আসনেই জয়ী হয়েছে বিএনপি।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতির মাঝেই আলোচনায় উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে থাকা বিশাল চ্যালেঞ্জগুলো।
বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব এখন তারেক রহমান কাঁধে, এখন এক বৈষম্যহীন নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার পর্বতসম প্রত্যাশার মুখোমুখি। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের পথচলা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই জয় কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং একগুচ্ছ কঠিন সমস্যা সমাধানের অগ্নিপরীক্ষা।
তাদের মতে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বড় ধরনের ১০টি চ্যালেঞ্জ নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে হচ্ছে তাকে। বৈষম্যহীন নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে মানুষের পর্বতসম প্রত্যাশা এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপিকে ঘিরে। এই প্রত্যাশা আর স্বপ্নের সারথি হয়ে সক্ষমতা প্রমাণের সবচেয়ে বড় এবং কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দলটির নতুন নেতৃত্ব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানকে বড় ধরনের যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে—গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণ করা; মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা; ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠন করা; রাষ্ট্রের সব পর্যায় থেকে দুর্নীতি দূর করা; উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান থেকে দেশের সুরক্ষা প্রদান; কার্যকর নিরপেক্ষ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম আমলাতন্ত্র গঠন; রাষ্ট্রের সামষ্টিক অর্থনীতিকে টেনে তোলা; মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলা; কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরির মাধ্যমে রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা আনা।
এসবের পাশাপাশি রয়েছে বেশকিছু কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের সব শক্তিকে একত্রিত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করতে হবে। তবেই গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণের পথ সুগম হবে। দেশে বইতে শুরু করবে স্থিতিশীলতার সুবাতাস।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সব মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণ করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করা। বিগত সময়ে বাংলাদেশে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটেছে, যারা পরবর্তী সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পদে পদে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করবে। এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলোকে সম্পৃক্ত করে ঐক্যবদ্ধভাবে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির মোকাবিলা করতে হবে। নয়তো জনপ্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্ক বা বাণিজ্যিক সম্পর্কের নামে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের এমন অনুরোধ রক্ষা করা যাবে না, যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয় বা জনস্বার্থবিরোধী হয়।
তিনি আরও বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বিএনপিকে মোকাবিলা করতে হবে, সেটি হলো জুলাই সনদ। যেখানে এমন অনেক বিষয় রয়েছে, যার সঙ্গে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একমত হতে পারেনি, সেই বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করতে হবে। এক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আগামী সংসদের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দেন তিনি।
বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ে দেশের প্রশাসনে ব্যাপক দলীয়করণের অভিযোগ ওঠে। এতে প্রশাসন, বিশেষ করে জনপ্রশাসনে বিভিন্ন শাখায় স্বাভাবিক কার্যক্রম নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। দলীয় পরিচয়ে পরিচিত কর্মকর্তাদের প্রভাবে চাকরি, নিয়োগ, পদোন্নতি নানাভাবে প্রভাবিত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া প্রশাসনে জেঁকে বসে একটি সুবিধাবাদী গ্রুপ, যারা রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের চেয়ে নিজেদের উন্নয়নে বেশি সময় ব্যয় করে। এতে প্রশাসন পরিণত হয় দুর্নীতির আঁতুরঘরে, স্থবির হয়ে পড়ে উন্নয়মূলক কার্যক্রম। আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসন ঢেলে সাজাতে এবং নিরপেক্ষ প্রশাসন গঠনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ফলে এ সময়ে প্রশাসন হয়ে পড়েছে গতিহীন, কর্মস্পৃহাহীন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর এ প্রশাসন দিয়ে আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাধার সম্মুখীন হতে পারে। তাই প্রশাসন ঢেলে সাজাতে না পারলে সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা নির্বিঘ্ন হবে না।
সাবেক জনপ্রশাসন সচিব ও রাজনীতি বিশ্লেষক এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, আমলাতন্ত্রকে ঢেলে সাজানো। অধ্যাপক ইউনূসের সরকার এ কাজটি দক্ষতার সঙ্গে করতে না পারায় অনেক ভালো কাজের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। তবে কাজটি তাদের জন্য খুব সহজও ছিল না। নির্বাচিত সরকারের জন্য কাজটি কঠিন হবে না। রাষ্ট্র হলো একটি ‘ঘর’। সরকার হলো ওই ঘরের ‘ছাউনি’। আমলাতন্ত্র হলো ‘খুঁটি’। খুঁটি নড়বড়ে হলে বসবাস নিরাপত্তাহীন ও নিরানন্দ হয়। এমন অবস্থায় ভালো থাকা বা ভালো কাজ করা সম্ভব হয় না। তাই নতুন সরকার প্রধানকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র মাঝামাঝি মানের। এটা সিঙ্গাপুর, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো চৌকস নয়। তাই এখান থেকে তুলনামূলকভাবে সেরাদের খুঁজে বের করে কাজে লাগাতে হবে। দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য না দিয়ে পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে আমলাতন্ত্রে একটি সুবিধাবাদী গ্রুপ রয়েছে, যারা সবসময় নতুন সরকারের কাছে ভিড়ে যায় এবং সরকারকে বিভ্রান্ত করে। এই সুবিধাবাদীদের খপ্পরে পড়লে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে, সরকারকে বিপদে পড়তে হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি অনেকটা গতিহীন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে আমদানি, রপ্তানি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অনেকটাই সংকুচিত হয়ে আসে। এই সময়ে যদিও রেমিট্যান্স অর্থনীতির চাকা কিছু সচল রেখেছে, কিন্তু স্বাভাবিক গতি ফেরাতে পারেনি। তা ছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, মবতন্ত্র ইত্যাদি কারণে ছোট- বড় অসংখ্য কারখানা বন্ধ হয়ে লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়ে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। তাই নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি পুনরুদ্ধার একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের নাজুক অবস্থা এবং গত ১৫ বছরে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে নতুন সরকারকে। এ ছাড়া ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করাটাও নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, নতুন সরকারকে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হবে। কারণ দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। এটা আগামী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারের আয়ের গতি মন্থর। অন্তর্বর্তী সরকার বারবার সময় বাড়িয়েও আয়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। দেশে বর্তমানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি বিরাজ করছে, এমন পরিস্থিতিতে যদি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় কাঙ্ক্ষিত আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারে, তাহলে টাকা ছাপতে হবে। এটি মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দেবে। এক্ষেত্রে করহার তিন শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে একাধিক স্লাবে ভাগ করলে মানুষ কর প্রদানে আগ্রহী হবে। বর্তমান স্লাবের উচ্চ স্তরে ২৫ শতাংশ হারে কর প্রদান অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনাও একটি চ্যালেঞ্জ, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে হলে বাজার ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং রিজার্ভ বাড়াতে এ মুহূর্তে রেমিট্যান্সের ওপর জোর দিতে হবে। এসব অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে দক্ষ, অভিজ্ঞদের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে হবে।
বাংলাদেশে সংবিধান অনুসারে, দেশের কূটনৈতিক নীতি হলো সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে, বিশেষ করে ভিসা জটিলতা দেখা দেয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে শুরু করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসা জটিলতা দেখা গেছে। এ ছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে অনেক দেশ ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করা আসন্ন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশিষ্ট কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবীরের মতে, আগামীতে যারা সরকার গঠন করবে, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের বৈশ্বিক যোগাযোগ সমুন্নত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে পেশাগত কূটনীতি ও আধুনিক কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসাগত জটিলতা রয়েছে। মূলত কোনো দেশের মানুষ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, অবৈধ কাগজপত্র সরবরাহ করে অন্য দেশে গমন করে, অথবা রাষ্ট্রীয় অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়, তাহলে এমন ভিসা জটিলতা দেখা দেয়। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। যারা এসব কাজে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে ফের যেন তা না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মূলত তরুণরা এসব পথ অবলম্বন করে বিদেশ পাড়ি জমাতে চায়, তাই তাদের বিদেশ যাত্রায় নিরুৎসাহিত করতে দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সেজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে আইনের শাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সরকারকে মনে রাখতে হবে, পৃথিবী আর আগের মতো নেই। বাংলাদেশ বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এবং ভারত ও চীনের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দুই পৃথক পরিস্থিতির মধ্যে অবস্থান করছে। এ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সব মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। কূটনৈতিক নীতি নির্ধারণ উন্নয়নে এমনভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে, যেন বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে এই দেশগুলো পারস্পরিক কোনো দ্বন্দ্বে জড়িয়ে না পড়ে।
তবে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জ যতটা বড়, তার চেয়ে বড় সম্ভাবনাও অপেক্ষা করছে। ২৫ ডিসেম্বর নেতাকর্মী ও দেশবাসীর উষ্ণ সংবর্ধনা নিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন তারেক রহমান। লাখ লাখ মানুষের সমাগমে তার এই রাজসিক প্রত্যাবর্তন রাজনীতির জন্য নতুন বার্তাবহ ঘটনা। যার অর্থ মানুষের সমর্থন এবং ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে দলটি ঘিরে, দলের নেতা তারেক রহমানকে ঘিরে, যার প্রমাণ মিলেছে নির্বাচনে দলটির বড় জয়েও। এখন মানুষের সেই সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি তাদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।
এমএন
জাতীয়
১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ সম্পন্ন হবে
আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে বলে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই এই শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নিয়মানুযায়ী যদি আমাদের বলা হয়; আগামীকাল বা পরশু (শপথ হবে), সেটার প্রস্তুতিও আছে। আবার যদি বলা হয়, তিন দিন পরে হবে তার প্রস্তুতিও আছে।
নতুন মন্ত্রীদের কে শপথ পড়াবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা হ্যান্ডেল করেন সংসদ সচিবালয়। ওখানে কথা বলতে হবে। আমি যেটা জানতে পেরেছি সেটা ইনফরমাল। সেটা বলতে চাচ্ছি না।
শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, অপশন আছে- স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার বা তাদের মনোনীত কেউ পড়াতে পারেন। তারা না পারলে সরকার থেকে কাউকে মনোনয়ন করা হতে পারে। অথবা প্রধান বিচারপতি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারেন।
তিনি জানান, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে এক হাজার দেশি-বিদেশি অতিথি থাকবেন।
এমএন
জাতীয়
নতুন মন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি : মন্ত্রিপরিষদ সচিব
আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। সংবিধান অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শপথ অনুষ্ঠানে আনুমানিক এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের পর তাদের শপথের আয়োজন করবে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। সংসদ সদস্যদের শপথের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংসদীয় দলনেতা নির্বাচন করা হবে। রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন।
দলনেতা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নাম দেবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তাদের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেবে। রোজার আগেই মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। বলতে পারেন, এটা নিশ্চিত।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হয়নি।
জাতীয়
নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা যে দুই বিষয়ে শপথ নেবেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ী হয়ে সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এরই মধ্যে সরকার গঠনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুই বিষয়ে শপথ নেবেন। এর মধ্যে একটি জাতীয় সংসদ ও অন্যটি হলো সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সংস্কারের পক্ষে গণরায় এসেছে। এটা জুলাইয়ের স্বীকৃতি। ১৬ বছরের অনাচারের বিরুদ্ধে জনআকাঙ্ক্ষা প্রকাশ। রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা ও কমিটমেন্ট থাকলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব।
আলী রীয়াজ আরো বলেন, আলাপ-আলোচনা ও ঐক্য বজায় রেখে সবার উচিত সনদ বাস্তবায়ন। অনেকে শুধু গণভোটে ভোট দিয়েছেন বলে সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এক ভাগ ভোট বেশি পড়েছে গণভোটে।
দেশের মানুষ পুরনো ব্যবস্থায় আর যেতে চায় না জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ মানুষ আর পুরনো ব্যবস্থায় ফেরত যেতে চায় না। এ কারণেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে। অঙ্গীকার অনুযায়ী দলগুলো কাজ করবে।
এমএন
জাতীয়
জামায়াত আমিরকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের উদ্দেশে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন ভবিষ্যতের দিনগুলোতে তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি।
তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।
এমএন
জাতীয়
নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে; যা গণতান্ত্রিক শাসন এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে ভোটে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যা আশাব্যঞ্জক নয়—এতে তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস এসব কথা বলেন।
ইভার্স ইজাবস বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ও আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো এই নির্বাচন সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ছিল।
এটি একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটেছে, যা অনেক সময় অনলাইনে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার কারণে তৈরি হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ইজাবস বলেন, সদ্য নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মোট ২০০ জন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে, যার মধ্যে ৯০ জন সংক্ষিপ্তকালীন পর্যবেক্ষক।
এটি ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।



