রাজনীতি
ফেনীতে ভোটকেন্দ্রে জামায়াতকর্মীর ওপর হামলা: অভিযুক্ত বিএনপির ২ কর্মী
ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদ নগর ইউনিয়নের মধ্যম ফরহাদ নগর গ্রামের মাহবুবুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীর ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপির দুই কর্মী বকু ও স্বপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতকর্মী রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে বকু ও স্বপনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি অতর্কিতভাবে রেজাউল করিমের ওপর হামলা চালায়।
ফরহাদ নগর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত নই। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
ফেনী জেলা জামাতের আমির মাওলানা আব্দুল হান্নান বলেন, আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
ফেনী মডেল থানার ওসি ফৌজুল আজিম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এমএন
রাজনীতি
তাসনিম জারার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ
নিজের পোলিং এজেন্টদের বিভিন্ন অজুহাতে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। এছাড়া নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নিজের নির্বাচনি এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না এবং অনেককে বের করে দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ওনারা এখানকার ভোটার না। কিন্তু এমন কোনো নিয়ম নেই যে, পোলিং এজেন্ট হতে হলে ওই আসনের ভোটার হতে হবে। আমরা চাই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ঢাকা-৯ আসনের এই প্রার্থী ঢাকা-১১ আসনে ভোট দেন। এদিন সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তিনি খিলগাঁওয়ের তালতলা প্রাইম স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন।
এমএন
রাজনীতি
পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে, জবাব দেবে জনগণ: মির্জা আব্বাস
ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন যে, একটি পক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। তবে সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হচ্ছে, ভালো চলছে। ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নির্বাচন ভালো হচ্ছে, সুষ্ঠু হচ্ছে।
পাটোয়ারীর এজেন্ট কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা আমার জানা নেই। আমি এই এলাকায় ৫/৬ বার নির্বাচন করেছি। এমন অভিযোগ কোনো সময় শুনিনি।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হচ্ছে, এটা জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবে।
ফলাফল যাই হোক মেনে নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং ফলাফল মেনে নেওয়া হবে না।
এমএন
রাজনীতি
ভোট বয়কটের পরিকল্পনা আছে কি না, জানালেন নাসীরুদ্দীন
ঢাকা-৮ আসনের জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচন বয়কট করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পল্টন কলেজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা ১১ দলীয় জোট পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত আমাদের ভোট বয়কটের কোনো পরিকল্পনা নেই। এখনো পরিস্থিতি শান্ত, কোনো সমস্যা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি অনেক বছর পর মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে আসছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উত্তরণ হবে।’
এ সময় তিনি ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা ভোটকেন্দ্রে আসুন, ভোট দিন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। এখানে একটি নীরব ভোট বিপ্লব হবে।’
এমএন
রাজনীতি
জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার (১২ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত বলেন, আজ দুপুর ২টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া বিকাল সাড়ে ৫টা ও রাত ১০টায় দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ব্রিফিং করা হবে।
তিনি বলেন, দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন।
বাংলামোটরের অস্থায়ী কার্যালয়ে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজনীতি
খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা: বিএনপি নেতার মৃত্যু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে খুলনা মহানগরীর আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) সকালে ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকাল আটটায় আলিয়া মাদ্রাস একাডেমিক ভবন কেন্দ্রের অদূরে সামনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করে বলেন, ‘সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের প্রচারণায় ছিলেন। তাকে বাধা দিলে তিনি মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খান এবং মাথায় আঘাত পান। এতেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
তবে জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নারী কর্মীদের বিএনপির লোকজন বের করে দিচ্ছিল। আমি বাঁধা দেই। তখন তাঁদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুনি তিনি মারা গেছেন। কাউকে ধাক্কা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসার সিসি ক্যামেরা আছে চেক করলে সব ধরা পড়বে।’
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। এটি আমার বিষয় নয়।
কেন্দ্রের দায়িত্ব পুলিশ কর্মকর্তা সদর থানা এসআই খান ফয়সাল রাফি বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং দুই পক্ষকে সরিয়ে দেই। তখন একজনকে অটোরিকশায় করে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এখানে ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ রায় বলেন, মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না। খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, আলিয়া মাদ্রাসায় জামায়াত নেতার ধাক্কায় বিএনপি নেতা কচি নিহত হয়েছেন। আমরা অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতা মাহাবুবের গ্ৰেপ্তারের দাবি জানাই।’
খুলনা-২ আসনে জামায়তের প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট শেখ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। এখানেও জামায়াতকে জড়ানো দুঃখজনক। অধ্যক্ষ জামায়াতের কেউ নন।’



