জাতীয়
প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারা কে কোথায় ভোট দেবেন?
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে তার ভোট প্রদান করবেন।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদয়ন হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। একই এলাকায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেবেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার।
সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর এলাকার ই ব্লকের একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শ্যামলী শিশু মেলার কাছের একটি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মহাখালী ডিওএইচএস এলাকার একটি স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেবেন। ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম চট্টগ্রাম মহানগরীর মেহেদীবাগ এলাকায় নিজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। তবে ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন, যিনি চট্টগ্রামের ভোটার, জরুরি কাজের কারণে ঢাকায় অবস্থান করায় এবার ভোটকেন্দ্রে যেতে নাও পারেন বলে জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গুলশান-২ এর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। আর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ধানমন্ডির একটি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এমএন
জাতীয়
চীনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন
চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের দূতাবাস মহান (২৬শে মার্চ) বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করেছে।
দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, দূতাবাসের কূটনৈতিক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মচারীরা। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নিজেদের জীবন উৎসর্গকারী লক্ষ লক্ষ শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সাথে তিনি একটি সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ জাতি গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন যে, জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান এবং চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশই প্রথম’—এই রূপকল্পের আওতায় ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং আইনের শাসনের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জাতিসংঘের বহুপাক্ষিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রার্থিতার কথা উল্লেখ করেন।
সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের স্থানীয় একটি হোটেলে একটি কূটনৈতিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে চীনের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধানগণ, চীনা ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে একটি সাংস্কৃতিক কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান, লোকসংগীত এবং নৃত্য পরিবেশন করে। পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিষয়ক ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। যা দেশটির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং চীনের সাথে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধিষ্ণু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়।
জাতীয়
জ্বালানি তেল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী। যাতে কেউ অতিরিক্ত মজুত করতে না পারে এবং তেলের দাম বৃদ্ধি না পায়।
শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছু অসাধু চক্রের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে। এমনকি সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
চিফ হুইপ জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টন তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও ২ লাখ মেট্রিক টন তেল আসার পথে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, রোববার (২৯ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে ৩০০ বিধিতে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, সংরক্ষিত নারী আসন এবং অন্যান্য বিল নিয়ে ৩০ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন উপস্থাপনের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
চিফ হুইপ বলেন, ‘সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন উদ্যোগ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের নিয়মিতভাবে সংসদ সদস্যদের কাছে তথ্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন। এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিং আয়োজন করা হবে।’
বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
এমএন
জাতীয়
বিরতি শেষে আজ বসছে ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন
ঈদুল ফিতরে টানা ১৩ দিনের বিরতির পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠক রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় আবারও বসছে।
গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশন ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য ছুটির কারণে ১৫ মার্চ মূলতবি করা হয়। সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে মূলত প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এই আলোচনায় অংশ নেবেন। এছাড়া মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন ও সেই নোটিশের ওপর আলোচনার আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা এতে অংশ নেবেন। সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অধিবেশন চলবে।
জাতীয়
রাজশাহী মেডিকেলের পরিচালককে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের অভাবে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘১১ দিনে ৩৩ জন শিশু মারা গেছে রাজশাহী মেডিকেলে। অথচ সেখানকার পরিচালক আমাদের জানাননি যে তার কাছে ভেন্টিলেটর নেই। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসার নৈতিকতা নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি ফোন করার পর তিনি (পরিচালক) দাবি করেন, মিডিয়া একটু বাড়াবাড়ি করছে। কিন্তু গতকাল প্রতিবেদন পাওয়ার পর দেখা গেল, মিডিয়া যা বলেছে তা–ই সত্য। তিনি আর বিষয়টি অস্বীকার করতে পারেননি।’
সরকারি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যক্তি উদ্যোগে ভেন্টিলেটর সংগ্রহের কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সরকার থেকে দ্রুত কিনে দেওয়া কঠিন ব্যাপার। আমি ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে দু-একজন ওষুধ প্রস্তুতকারকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সহায়তায় আজ জরুরি ভিত্তিতে তিনটি ভেন্টিলেটর কিনে দেওয়া হচ্ছে। এটা সরকারি টাকায় নয়, বেসরকারি উদ্যোগে হচ্ছে। আজ আরও দুটি ভেন্টিলেটর ম্যানেজ করার চেষ্টা করব।’
চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতা (মেডিকেল এথিকস) নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর ঈশ্বরের মতো ভরসা করে। তাই তাদেরকে আচরণ, কথা ও সেবায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় পত্রিকায় দেখি, অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতর সুতা রেখে দেওয়া হয়েছে। পরে ব্যথায় রোগী কষ্ট পান। এগুলো কেন হয়? চিকিৎসকেরা যখন অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকেন বা খুব বেশি ব্যস্ত থাকেন, তখন কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না। এই বিষয়গুলো চিকিৎসকদের খেয়াল রাখতে হবে।’
একই সঙ্গে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা নর্থের এক জায়গায় প্র্যাকটিস করতেন এমন একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট আছেন—দেখতে খুবই সুদর্শন, ব্যাকগ্রাউন্ড সেনাবাহিনীর। নারীরা গেলে তিনি রোগের কথা না শুনে নিজের ইচ্ছামতো গল্প করতেন, গান গাইতেন। এসব করা মেডিকেল এথিকসের পুরোপুরি বাইরে।’
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নিজের চিকিৎসা নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে পুলিশের হামলায় তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে দেশীয় অনেক চিকিৎসক তাকে অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ভারতে গিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কেবল বিশেষ জুতা (অর্থোপেডিক শু) ব্যবহার করে ও ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
নতুন নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চিকিৎসকদের নিয়মিত পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের ওপর তাগিদ দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আপনাদের প্রতিনিয়ত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। প্রবীণ চিকিৎসকদের কাছ থেকে শিখতে হবে এবং বিশ্বের নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে মেডিকেল জার্নালগুলো পড়তে হবে।’
জাতীয়
ইয়াজউদ্দিনকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন অনেকে
বাংলাদেশে প্রায় ১৯ বছর আগে ‘ওয়ান ইলেভেন’ ঘটে। সে সময় প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। গ্রেফতারের পর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার রাতে তাকে তার বারিধারার বাসা থেকে আটকের পর ঢাকার পল্টন থানায় মানবপাচারের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ফেনীতে ছয়টি ও ঢাকায় পাঁচটি মামলার তথ্য পেয়েছি। এর মধ্যে ফেনীতে তিনটি মামলা বিচারাধীন। উনি পলাতক থাকায় আদালত সেখানে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেছে।
এদিকে রিমান্ডে থাকা মাসুদকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে এক-এগারোর সরকারের কুশীলব ছিলেন-এমন সামরিক ও বেসামরিক বেশকিছু কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। তাদের অনেকে অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে হটিয়ে সেনা সমর্থিত এক-এগারোর সরকার গঠনে নেপথ্যে কাজ করেছেন।
বিশেষ করে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের পদ থেকে চাপ প্রয়োগ করে ইয়াজউদ্দিনকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন অনেকে। ঘটনার দিন ইয়াজউদ্দিনের বাসায় এক চাচক্রে অংশ নেন বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। তাদেরই একজন ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ওই চাচক্রে তৎকালীন তিন বাহিনীর প্রধান ছাড়াও আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন, যাদের ওপর নজর রেখেছে গোয়েন্দারা।
সূত্র বলছে, ওইসব কর্মকর্তাসহ এক-এগারোর কুশীলবদেরে মধ্যে এখনো যারা দেশে অবস্থান করছেন তারা দেশ ত্যাগ করার অনুমতি পাবেন না। ইতোমধ্যে সামরিক ও বেসামরিক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর। মাসুদ জিজ্ঞাসাবাদে ড. ইয়াজউদ্দিনের বাসায় যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ওই বাসায় ঘটনার দিন চাচক্রে উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকে। সেখানে কারা ছিলেন সে তথ্যও দিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিভ্রান্তিকর তথ্যও দিচ্ছেন। নিবিড় তদন্তে তার সব অপকর্মের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন ডিবির ওই কর্মকর্তা।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর অর্থিক দুর্নীতি নিয়ে দুদক তদন্তের উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, অভিযোগ এক-এগারোর সরকারের সময় যারা কলকাঠি নেড়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম সাবেক প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতন এবং তাদের দুর্নীতিবাজ প্রমাণের অপচেষ্টা করেছেন তিনি।
একপর্যায়ে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে দেশছাড়া করতে ‘মাইনাস-টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়নের চেষ্টাও করেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল এক-এগারো সরকারের সময় দীর্ঘায়িত করা।



