অর্থনীতি
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে বড় চ্যালেঞ্জে ভারত
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্টের বাণিজ্য চুক্তি ভারতের বস্ত্র ও তুলা খাতের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। চুক্তিতে বাংলাদেশি কিছু পোশাক পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক ছাড়াই বিক্রি করা যাবে, যা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের অবস্থান দুর্বল করতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, চুক্তির আগে ভারতের বস্ত্র রপ্তানির ওপর শুল্ক ছিল ৫০ শতাংশ; এখন তা কমে ১৮ শতাংশে এসেছে। বাংলাদেশি পোশাকের জন্য যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ছাড়ার কারণে মার্কিন বাজারে তারা ভারতের চেয়ে সস্তা অবস্থানে আসতে পারে।
বাংলাদেশের বস্ত্র খাত দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশ বিশ্বের বড় তুলা আমদানিকারক এবং ভারতের তুলার সবচেয়ে বড় ক্রেতা। নতুন চুক্তিতে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে পোশাক তৈরির সুবিধা বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় তুলা ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বাড়ছে।
ইতোমধ্যে ভারতীয় বস্ত্র ও সুতা উৎপাদনকারী কোম্পানির শেয়ারে চাপ পড়েছে। বিরোধী কংগ্রেস দল ও রাজ্যসভার সদস্য প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেস বলেছে, চুক্তির কারণে দেশীয় তুলাচাষি ও রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
চূড়ান্ত যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি এখনো সই হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে শুল্ক ও বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করার চেষ্টা হতে পারে।
এমএন
অর্থনীতি
৬ ঘণ্টার ব্যবধানে বাড়ল দফা স্বর্ণের দাম
৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আরেক দফা বাড়ানো হলো স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এ দাম বিকাল ৪টা থেকেই কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতি
এপ্রিলের জন্য ৯ এলএনজি কার্গো কিনবে সরকার
বিশ্বজুড়ে জ্বলানি সংকটের মধ্যেও দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে আগামী এপ্রিল মাসের নয়টি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কার্গো কিনবে সরকার। এসব কার্গোর মধ্যে আটটি কেনা হবে স্পট মার্কেট থেকে। আর বাকি একটি কাতারএনার্জি ট্রেডিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অ্যাঙ্গোলা থেকে আসবে। এসব এলএনজি আমদানিতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।
রাজস্বের ওপর চাপ বাড়লেও এপ্রিল মাসের জন্য এসব কার্গো নিশ্চিত করতে সরকার অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে ১১টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা ছিল সরকারের; সে তুলনায় এখন ২টি কার্গো কম আসছে।
স্পট মার্কেট থেকে কার্গোগুলো গড়ে প্রায় ২২ ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ দরে কেনা হচ্ছে—যা যুদ্ধের আগে প্রতি এমএমবিটিইউ ৯ থেকে ১০ ডলারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
কর্মকর্তারা বলছেন, এ ব্যয় বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য।
চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬-এর জন্য বরাদ্দকৃত ৬ হাজার কোটি টাকার প্রায় সমান এই ভর্তুকি বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনা। মার্চের শুরু থেকে চুক্তিবদ্ধ পাঁচটি সরবরাহকারীই ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করায় দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সরকারকে ব্যয়বহুল স্পট মার্কেটের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার হিসাবে, চলতি অর্থবছরের শেষ তিন মাস—এপ্রিল থেকে জুন—পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে, যা মূলত ওই ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বাইরে। এর বড় অংশই ব্যয় হবে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানিতে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘উচ্চমূল্য হলেও এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। স্পট মার্কেট থেকে কেনার কারণে শুধু এপ্রিল মাসেই অতিরিক্ত প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ভর্তুকির আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
স্পট মার্কেটই একমাত্র ভরসা
সংঘাত তীব্র হওয়ার আগে এপ্রিল মাসে ১১টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা ছিল পেট্রোবাংলার। এর মধ্যে আটটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এবং তিনটি স্পট মার্কেট থেকে আনার কথা ছিল।
তবে চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সেই পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর কাতারএনার্জি, ওমানের ওকিউটি ট্রেডিং এবং এক্সেলারেট এনার্জিসহ বড় সরবরাহকারীরা ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা সরাসরি বা সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীদের মাধ্যমে কাতারএনার্জির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘কাতারএনার্জির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কাতারএনার্জি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু না করা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌপরিবহন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।’
ব্যয় বাড়ছে
স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি এলএনজির দামের মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে। বর্তমানে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ২২ ডলার। আর এপ্রিলের একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি কার্গোর দাম ধরা হচ্ছে প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ থেকে ১১ ডলারের মধ্যে—যা ব্রেন্ট ক্রুডের গত তিন মাসের গড় মূল্য ও প্রযোজ্য অতিরিক্ত খরচের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, স্পট কার্গোর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে এলএনজির দামের তীব্র ঊর্ধ্বগতির কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ভর্তুকির চাপ তৈরি হয়েছে।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘এপ্রিলের জন্য এলএনজি কার্গো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন মে ও জুন মাসের জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করার কাজ চলছে।’
গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল থাকার আশা
চলমান সরবরাহ সংকটের মধ্যেও এপ্রিলে গ্যাস সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা পেট্রোবাংলার। এ সময় দৈনিক ২ হাজার ৫৭০ থেকে ২ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ এমএমসিএফডি এবং এলএনজির মাধ্যমে অতিরিক্ত ৮৭০ থেকে ৮৯২ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যাবে।
এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হবে প্রায় ৮২৫ থেকে ৮৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস— যা দিয়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ প্রায় ৪,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
অবশিষ্ট গ্যাস শিল্প খাত, সার কারখানা ও গৃহস্থালি খাতে বিতরণ করা হবে; তবে এক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পখাতকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতি
টানা ৭ দফা কমার পর ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। টানা সাত দফা কমানোর পর এবার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১২ টাকা। এই নতুন দর আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
অর্থনীতি
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রয়োজন, তবে সতর্ক থাকতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (এমসি১৪) এ বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ করণীয় শীর্ষক সেশনে তিনি একথা বলেন।
এতে জানানো হয়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার: মৌলিক বিষয়সমূহ শীর্ষক এ অধিবেশনে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ডব্লিউটিও-এর মূল ভিত্তি হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐকমত্যভিত্তিক ও নিয়মভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসিএস) জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ (এমএফএন) সুবিধা, শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার (ডিএফকিউএফ), এবং বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা (এসএন্ডডিটি)-এর মতো ব্যবস্থাগুলো বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় ছাড়া গত তিন দশকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যম আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিদ্যমান বাণিজ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
ডব্লিউটিও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ সময় ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে গড়ে ওঠা বর্তমান কাঠামো সংস্কারের নামে নষ্ট করা উচিত নয়, কারণ বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনীতি এই নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, ডব্লিটিও সংস্কার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে, যাতে ব্যবস্থার অখণ্ডতা বজায় থাকে, পূর্বের অর্জনগুলো অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সকল সদস্য দেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী ফলাফল নিশ্চিত করা যায়।
উল্লেখ্য, মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে সদস্য দেশসমূহ বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।
এবারের সম্মেলনে ১৬৬টি সদস্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিগণ অংশ নিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নিচ্ছেন।
এমএন
অর্থনীতি
বিএফটিআই ও আইসিডিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অবস্থান আরও সংহত করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) ও ইসলামিক সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব ট্রেড (আইসিডিটি)।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় আইসিডিটি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে ওআইসিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি এমজেএইচ জাবেদ এবং আইসিডিটির মহাপরিচালক লতিফা এলবুয়াবদেল্লাউই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। এ সময় মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা এবং আইসিডিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পূর্ববর্তী আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার তার অংশীদার দেশসমূহকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি আইসিডিটির গবেষণা ও নীতিনির্ধারণমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাত ও উপখাত অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আইসিডিটির সঙ্গে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করে যে, এর মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ধারণা, বিশেষজ্ঞ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করে যে, এর ফলে দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীরা আইসিডিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সরাসরি অবদান রাখার সুযোগ পাবেন।
আইসিডিটির মহাপরিচালক লতিফা এলবুয়াবদেল্লাউই বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ওআইসির বিভিন্ন অঙ্গসংস্থায় নিয়মিত অবদান রাখছে এবং সংস্থাটির বিভিন্ন ফোরামে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি এই সমঝোতা স্মারককে একটি ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের ধারাবাহিক অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ আইসিডিটি বাংলাদেশকে বিভিন্ন বাণিজ্য উন্নয়ন কার্যক্রমে একটি ‘পাইলট দেশ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এ প্রেক্ষিতে ঢাকাকে একটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও পর্যালোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য একটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ব্র্যান্ডিং, প্রদর্শনী, কর্মশালা, বাণিজ্য আলোচনা এবং সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে যে, প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য কার্যকর এই সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আরো সম্প্রসারিত করা যাবে।
এমএন



