জাতীয়
কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালটসহ ভোটের উপকরণ
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারসহ ভোটের উপকরণ কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে৷
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তারা নিজের দপ্তর থেকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নির্বাচনী সকল উপকরণ বিতরণ করছেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন।
আর হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
এসব ভোটার ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটদান করার সুযোগ পাচ্ছেন। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ২১ হাজার ৫০৬টি।
নির্বাচনে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোট নেবেন। এদের মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন, পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক ও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন।
১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করছে।
এতে দলের প্রার্থী রয়েছে ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এরমধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন। বাকি ২০ জন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
ভোটে পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন।
শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ভোট স্থগিত করেছে কমিশন, যেখানে পরবর্তীতে নতুন তফসিলের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করবে ভোট আয়োজনকারী সংস্থাটি।
জাতীয়
রাজশাহী মেডিকেলের পরিচালককে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের অভাবে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘১১ দিনে ৩৩ জন শিশু মারা গেছে রাজশাহী মেডিকেলে। অথচ সেখানকার পরিচালক আমাদের জানাননি যে তার কাছে ভেন্টিলেটর নেই। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসার নৈতিকতা নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি ফোন করার পর তিনি (পরিচালক) দাবি করেন, মিডিয়া একটু বাড়াবাড়ি করছে। কিন্তু গতকাল প্রতিবেদন পাওয়ার পর দেখা গেল, মিডিয়া যা বলেছে তা–ই সত্য। তিনি আর বিষয়টি অস্বীকার করতে পারেননি।’
সরকারি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যক্তি উদ্যোগে ভেন্টিলেটর সংগ্রহের কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সরকার থেকে দ্রুত কিনে দেওয়া কঠিন ব্যাপার। আমি ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে দু-একজন ওষুধ প্রস্তুতকারকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সহায়তায় আজ জরুরি ভিত্তিতে তিনটি ভেন্টিলেটর কিনে দেওয়া হচ্ছে। এটা সরকারি টাকায় নয়, বেসরকারি উদ্যোগে হচ্ছে। আজ আরও দুটি ভেন্টিলেটর ম্যানেজ করার চেষ্টা করব।’
চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতা (মেডিকেল এথিকস) নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর ঈশ্বরের মতো ভরসা করে। তাই তাদেরকে আচরণ, কথা ও সেবায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় পত্রিকায় দেখি, অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতর সুতা রেখে দেওয়া হয়েছে। পরে ব্যথায় রোগী কষ্ট পান। এগুলো কেন হয়? চিকিৎসকেরা যখন অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকেন বা খুব বেশি ব্যস্ত থাকেন, তখন কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না। এই বিষয়গুলো চিকিৎসকদের খেয়াল রাখতে হবে।’
একই সঙ্গে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা নর্থের এক জায়গায় প্র্যাকটিস করতেন এমন একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট আছেন—দেখতে খুবই সুদর্শন, ব্যাকগ্রাউন্ড সেনাবাহিনীর। নারীরা গেলে তিনি রোগের কথা না শুনে নিজের ইচ্ছামতো গল্প করতেন, গান গাইতেন। এসব করা মেডিকেল এথিকসের পুরোপুরি বাইরে।’
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নিজের চিকিৎসা নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে পুলিশের হামলায় তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে দেশীয় অনেক চিকিৎসক তাকে অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ভারতে গিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কেবল বিশেষ জুতা (অর্থোপেডিক শু) ব্যবহার করে ও ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
নতুন নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চিকিৎসকদের নিয়মিত পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের ওপর তাগিদ দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আপনাদের প্রতিনিয়ত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। প্রবীণ চিকিৎসকদের কাছ থেকে শিখতে হবে এবং বিশ্বের নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে মেডিকেল জার্নালগুলো পড়তে হবে।’
জাতীয়
ইয়াজউদ্দিনকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন অনেকে
বাংলাদেশে প্রায় ১৯ বছর আগে ‘ওয়ান ইলেভেন’ ঘটে। সে সময় প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। গ্রেফতারের পর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার রাতে তাকে তার বারিধারার বাসা থেকে আটকের পর ঢাকার পল্টন থানায় মানবপাচারের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ফেনীতে ছয়টি ও ঢাকায় পাঁচটি মামলার তথ্য পেয়েছি। এর মধ্যে ফেনীতে তিনটি মামলা বিচারাধীন। উনি পলাতক থাকায় আদালত সেখানে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেছে।
এদিকে রিমান্ডে থাকা মাসুদকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে এক-এগারোর সরকারের কুশীলব ছিলেন-এমন সামরিক ও বেসামরিক বেশকিছু কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। তাদের অনেকে অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে হটিয়ে সেনা সমর্থিত এক-এগারোর সরকার গঠনে নেপথ্যে কাজ করেছেন।
বিশেষ করে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের পদ থেকে চাপ প্রয়োগ করে ইয়াজউদ্দিনকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন অনেকে। ঘটনার দিন ইয়াজউদ্দিনের বাসায় এক চাচক্রে অংশ নেন বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। তাদেরই একজন ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ওই চাচক্রে তৎকালীন তিন বাহিনীর প্রধান ছাড়াও আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন, যাদের ওপর নজর রেখেছে গোয়েন্দারা।
সূত্র বলছে, ওইসব কর্মকর্তাসহ এক-এগারোর কুশীলবদেরে মধ্যে এখনো যারা দেশে অবস্থান করছেন তারা দেশ ত্যাগ করার অনুমতি পাবেন না। ইতোমধ্যে সামরিক ও বেসামরিক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর। মাসুদ জিজ্ঞাসাবাদে ড. ইয়াজউদ্দিনের বাসায় যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ওই বাসায় ঘটনার দিন চাচক্রে উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকে। সেখানে কারা ছিলেন সে তথ্যও দিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিভ্রান্তিকর তথ্যও দিচ্ছেন। নিবিড় তদন্তে তার সব অপকর্মের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন ডিবির ওই কর্মকর্তা।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর অর্থিক দুর্নীতি নিয়ে দুদক তদন্তের উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, অভিযোগ এক-এগারোর সরকারের সময় যারা কলকাঠি নেড়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম সাবেক প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতন এবং তাদের দুর্নীতিবাজ প্রমাণের অপচেষ্টা করেছেন তিনি।
একপর্যায়ে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে দেশছাড়া করতে ‘মাইনাস-টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়নের চেষ্টাও করেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল এক-এগারো সরকারের সময় দীর্ঘায়িত করা।
জাতীয়
যারা মাজার ভাঙে, তারা কোনো ধর্মের লোক হতে পারে না: ফরহাদ মজহার
ভাবুক কবি ও রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, যারা মাজার ভাঙছে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। মাজার ভাঙা একটা ফৌজদারি অপরাধ। যারা মাজার ভাঙে তারা কোনো ধর্মের লোক হতে পারে না। যারা মাজার ভাঙে তারা অপরাধী।
তাদের শাস্তি পেতেই হবে।
শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ আব্দুল কাদির শাহর ৫৮তম স্মরণোউৎসব ও বার্ষিক ওরসে ‘সুফিবাদ ও আত্মদর্শন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ফরহাদ মাজহার বলেন, ‘একটি বিশেষ পক্ষ নিয়ে অন্য পক্ষকে দমন করা, নির্যাতন করা আইনবিরোধী কাজ। মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে আমি দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করেছি, সংগ্রাম করছি।
এর আগের সরকার চেষ্টা করেছে, কিন্তু মাজার ভাঙা বন্ধ হয়নি। বর্তমান সরকারের সময়ে আমরা আশা করব, কোনো মাজার যেন ভাঙা না হয়।’
তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, চিন্ময়কে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় ভয়ংকর যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে, যে চিন্ময় ইসকন।
কিন্তু চিন্ময় ইসকনের অন্তর্ভুক্ত কেউ নন। আগে থেকেই ইসকনের সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে। মিথ্যা প্রপাগান্ডা তার বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বড় কথা হলো—আপনার যদি কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে, থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সে তো জামিন পাওয়ার যোগ্য।
কিন্তু তার জামিন পাওয়ার জন্য যে উকিল দরকার, সেই উকিলও তাকে দেওয়া হয়নি। উল্টো তার বিরুদ্ধে অন্যায় মামলা দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে। এটা অন্যায় মামলা। তিনি যখন জেলে তখন আইনজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যদিও আইনজীবী হত্যার ঘটনাটি দুঃখজনক। তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আইনজীবী হত্যার দায় চিন্ময়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আব্দুল কাদির শাহ পাঠাগার আয়োজিত ওরসে সভাপতিত্ব করেন পাঠাগারটির উপদেষ্টা মো. খালিদ সাহিদ বিদ্যুৎ। পরে আধ্যাত্মিক ও বাউল গানের আসর চলে রাতব্যাপী।
জাতীয়
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী দিলারা আর নেই
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ আর নেই। সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১টা ২৯ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন করেন তিনি। (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহী রাজিউন)।
দিলারা হাফিজেরর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্বামী, এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতিনাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মরদেহ আগামীকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। আগামী ৩০ মার্চ প্রথম নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে তারা।
এদিন জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজায় রাখা হবে মরদেহ। বাদ যোহর সেনানিবাসে কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে বনানী সামরিক বাহিনীর কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির বিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
জাতীয়
নকল নিয়ে শিক্ষকদের যে হুঁশিয়ারি দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
পরীক্ষায় নকল হলে শুধু সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকেই নয়, কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা হবে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত এবং প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত। যদি কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে কেবল পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নয়, কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আমরা বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেব।
এবার খাতায় ‘গ্রেস মার্কে’র সুযোগ নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবার থেকে খাতায় কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না।
ছাত্রছাত্রীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই নম্বর পাবে তারা। আমরা চাই মেধার প্রকৃত লড়াই হোক। কোনো ধরনের দয়া-দাক্ষিণ্য দেখিয়ে অযোগ্যদের পার করে দেওয়ার সংস্কৃতি আমরা বন্ধ করতে চাই। আমরা আর কোনো অটোপাস চাই না।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বসানো হবে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। এই কেন্দ্রগুলো বিশেষভাবে তদারক করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব কেন্দ্রে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে এবারও আগের মতো ‘হেলিকপ্টার মিশন’ থাকবে।
তাৎক্ষণিকভাবে পরিদর্শন করা হবে দেশের যেকোনো কেন্দ্র।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, আসন্ন এসএসসি-এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা, চরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং পাহাড়ঘেরা কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজর থাকবে। খাতা মূল্যায়নে কোনো ধরনের অলিখিত দয়া-দাক্ষিণ্য দেখিয়ে অযোগ্যদের পার করে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
শিক্ষামন্ত্রী এর মধ্যে সব শিক্ষা বোর্ডের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা চেয়েছেন। সেখানে প্রয়োজনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে বিশেষ ‘লাইভ মনিটরিং’ সিস্টেম। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রে অস্বাভাবিক গতিবিধির সংকেত পাওয়া গেলে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সেখানে পৌঁছে যাবেন শিক্ষামন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের টিম।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ও ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে নিরাপত্তার জাল বিছিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও বিতরণের প্রতিটি পয়েন্টে নিরাপত্তাব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বিশেষ বিধি-নিষেধ আরোপের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা।



