জাতীয়
দূষণে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচে ঢাকা, বায়ুমান খুব অস্বাস্থ্যকর
অব্যাহত রয়েছে বৈশ্বিক বায়ুদূষণ পরিস্থিতির অবনতি। বিশেষ করে শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়ায় মেগাসিটি ঢাকার বায়ুমান প্রায়ই বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। আজ বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষ চারটি শহরের বায়ুমান ‘ভয়াবহ’ পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে ঢাকার অবস্থান চতুর্থ।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ২০৮ স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা।
গতকাল শুক্রবার এই স্কোর ছিল ১৮৬। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা কিছুটা বেড়েছে। একিউআই মানদণ্ড অনুযায়ী আজকের এই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
শীর্ষে থাকা অন্যান্য শহর তালিকার তথ্যমতে, ৩৩২ স্কোর নিয়ে আজ দূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে মিশরের কায়রো। ভারতের রাজধানী দিল্লি ২৩৫ স্কোর নিয়ে রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের লাহোরের স্কোর ২১৭। এছাড়া ভারতের আরেক শহর কলকাতা ১৭৪ স্কোর নিয়ে রয়েছে সপ্তম অবস্থানে। তালিকার শীর্ষ চারটি শহরের বায়ুমানই ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।
বৈশ্বিক তালিকার অন্যান্য শহর দূষণের ক্রমানুসারে ১৯৪ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটার, ১৮৬ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে ভিয়েতনামের হ্যানয়, ১৬৫ স্কোর নিয়ে অষ্টম অবস্থানে আফগানিস্তানের কাবুল, ১৬২ স্কোর নিয়ে নবম অবস্থানে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন, ১৬০ স্কোর নিয়ে দশম অবস্থানে রয়েছে চীনের বেইজিং।
একিউআই স্কোর অনুযায়ী শূন্য থেকে ৫০ ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়।
এমএন
জাতীয়
পুলিশের পোশাক পরিবর্তন নিয়ে যে বার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের ইউনিফর্মে আংশিক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পোশাকের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও কিছু অংশে নতুনত্ব আসছে। শার্টের রঙ আগের মতোই থাকবে, মেট্রোপলিটন এলাকায় সবুজ এবং দেশের অন্যান্য স্থানে নীল। তবে প্যান্টে পরিবর্তন এনে খাকি রঙ নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সোমবার (৪ মে) সচিবালয়ে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সদস্যদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের একটি অংশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার ভাবছে।
এদিকে, প্রথম অধিবেশন নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, অধিবেশনটি ব্যর্থ হয়েছে এবং সংস্কার প্রস্তাব বা গণভোটের ফল বাস্তবায়ন না হলে তারা আবার রাজপথে আন্দোলনে নামবেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘৭২-এর সংবিধানকে আঁকড়ে ধরে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব অভিযোগ নতুন নয়, বরং পুরোনো। তিনি জানান, বিরোধীদলীয় নেতারা তাদের মতামত দিতে পারেন, যেমন সরকারও তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এই সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল প্রাণবন্ত ও সক্রিয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অধিবেশনে সর্বাধিক আইন প্রণয়ন হয়েছে এবং আলোচনা হয়েছে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। সরকার ও বিরোধী দলের উপস্থিতিতে মতবিনিময় হলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় ছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদল একসঙ্গে কাজ করেছে এবং যৌথ কমিটি গঠন করেছে, যা জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। যদিও মতবিরোধ ছিল, তবুও উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
শেষে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও বিতর্ক স্বাভাবিক বিষয়। বিরোধীদল তাদের বক্তব্য দিয়েছে, সরকারও তাদের মত প্রকাশ করেছে।
জাতীয়
বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্টে প্রকল্প অনুমোদন সহজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়োপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি কল-কারখানাগুলোতে বিনিয়োগে আগ্রহীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কল-কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা ও পুনরায় চালুর করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি।
বৈঠকে উপস্থিত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তর থেকে অনুমতি নেওয়ার জটিলতাও বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও সময়োপযোগী করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, যেসব মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের অনুমোদন অপরিহার্য নয়, সেগুলো অনুমোদন প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিতে হবে।
বন্ধ থাকা সরকারি কল-কারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন সিকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাতীয়
২০৮ প্রবাসী জুলাই যোদ্ধাকে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল
জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার রাখার কারণে প্রবাসে কারা নির্যাতন ভোগ করে দেশে ফেরত আসা ২০৮ প্রবাসী জুলাইযোদ্ধার প্রত্যেককে কেন ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (৪ মে) বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
পরে ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, ২০৮ জনের মধ্যে জুলাই আন্দোলনের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ জন শ্রমিক রয়েছেন। এই ৫৭ জনসহ ২০৮ জনকে সরকার জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এমএন
জাতীয়
বাড়ছে ৭ নদীর পানি, যেসব অঞ্চলে ধেয়ে আসছে বন্যা
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা বৃষ্টির প্রভাবে বন্যার শঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ইতোমধ্যে সাতটি নদীর একাধিক পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
সোমবার (৪ মে) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে হাওর এলাকার নদীগুলোতে। এতে কয়েকটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, নেত্রকোনার জারিয়াজঞ্জাইল ও হবিগঞ্জে ৭৪ মিলিমিটার এবং চাঁদপুর-বাগান এলাকায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, হাওর বেসিনের তিন জেলার সাতটি নদীর আটটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের নলজুর নদী, নেত্রকোনার ধনু-বাউলাই, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংশ নদী এবং মগরা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে।
অন্যদিকে হবিগঞ্জের কালনি ও সুতাং নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও কিছু নদীতে পানি সামান্য কমেছে, তবুও সার্বিকভাবে হাওর অঞ্চলে পানির স্তর ধীরগতিতে বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
জাতীয়
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, তদবির করলেই ‘অপরাধী’: ডিএমপি
রাজধানীতে চাঁদাবাজি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে বিশেষ অভিযান জোরদার করার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। কেউ অপরাধীর পক্ষে তদবির করলে তাকেও অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
তিনি বলেন, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং তাদের ৯৪ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীতে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
রোববার (৩ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকায় পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে, আমাদের মূল গুরুত্ব থাকবে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে ডিএমপি চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাসী এবং অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি ‘সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল’ গ্রহণ করেছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই— অপরাধীদের নির্মূল করা, নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং ঢাকা মহানগরীকে আরও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করা।
মো. সরওয়ার বলেন, বিভিন্ন কাঁচাবাজার, বড় মার্কেট, টার্মিনাল, ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশ, ডিবি এবং সিটিটিসি টিম যৌথভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং ৯৪ জন সহযোগী চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে, যা আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শনিবার ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ গত এক সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে। আগে যেখানে ছোট পরিমাণের মাদকসেবী বা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করা হতো, গত কয়েক সপ্তাহে বড় বড় মাদকের চালান জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে সক্রিয় মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের পেছনে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করে মানি লন্ডারিংসহ অন্যান্য মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’
এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার এবং নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসিলা এবং কারওয়ান বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান কমিশনার। তিনি বলেন, ‘আরও কয়েকটি জায়গায় শিগগিরই পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন নতুন এলাকা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বাজার, সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নতুন করে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান আছে, যাতে দ্রুত আসামি শনাক্ত এবং অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়।’
সন্দেহজনক ব্যক্তি, চাঁদাবাজ, মাদক বা অনলাইন জুয়া ও প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে দিতে জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচ্য নয়; তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে। চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এবং অনলাইন জুয়াড়ি ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তদবির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “বিভিন্ন অপরাধীকে ছাড়ানোর জন্য যদি কেউ তদবির করে, কোনোক্রমেই সেই তদবির গ্রহণ করা হবে না। ধরে নেওয়া হবে, যারা তদবির করবে তারাও এই অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত। অতএব, এ ক্ষেত্রে ডিএমপির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা)।”
চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, চাঁদাবাজ শুধুই চাঁদাবাজ। তাদের পরিচয় বা অন্য কিছু আমাদের কাছে মুখ্য নয়। মুখ্য হলো সে চাঁদাবাজি করে, অপরাধ করে। সে যেই হোক, আমাদের কাছে অপরাধী। যারা চাঁদাবাজ, তাদেরকে আমরা গ্রেপ্তার করছি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই অভিযানে শুধু থানা পুলিশ নয়, পাশাপাশি ডিবি এবং সিটিটিসি-ও কাজ করছে। আসামিদের তালিকা তিন সংস্থার কাছে এবং র্যাবের কাছেও আছে। অপরাধী কোনো না কোনোভাবে ধরা পড়বেই। আমরা তাকে চাঁদাবাজির স্থান থেকে, তার বাড়ি থেকে, এমনকি সে যদি দিনাজপুর বা রংপুরেও পালিয়ে যায়, সেখান থেকেও ধরে নিয়ে আসব। ওদের পার পাওয়ার কোনো উপায় নেই।
চাঁদাবাজদের তালিকার বিষয়ে তিনি বলেন, এই তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ৫৮ জন তালিকাভুক্ত অপরাধী। এর বাইরে ৯৪ জনকে ধরা হয়েছে, যারা তালিকায় ছিল না কিন্তু চাঁদাবাজিতে জড়িত। এই ৯৪ জনের নামও এখন তালিকায় উঠে যাবে।
শীর্ষ সন্ত্রাসীদের উপদ্রব প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বলা যায়, এখন তেমন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের উপদ্রব নেই। তবে কিছু মিডিয়াম লেভেল (মাঝারি সারির) বা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে কিছু সন্ত্রাসী কাজ করে। তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করলেও জনসাধারণের ওপর আক্রমণের ঘটনা তেমন নেই। তারপরও আমরা তাদেরকে মনিটরিং করছি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।’
মোহাম্মদপুর এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বসিলায় ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে এপিবিএনের (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) ৬৬ জন সদস্য থাকে। তাদের দিয়ে দিনে-রাতে যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় ‘ব্লক রেইড’ দেওয়া হচ্ছে। মোহাম্মদপুরে আরও দুটি ক্যাম্প আছে। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরে একটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে এবং রায়েরবাজার থানা স্থাপনের প্রস্তাব অলরেডি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আছে।




