আন্তর্জাতিক
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস
আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েই চলেছে স্বর্ণের দাম। এতে একের পর এক সৃষ্টি হচ্ছে নতুন রেকর্ড। দফায় দফায় দাম বেড়ে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে এক আউন্স সোনার দাম প্রথমবারের মতো ৫ হাজার ৫০০ ডলারে ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। ফলে দেশের বাজারেও হচ্ছে একের পর এক রেকর্ড। এমনকি একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন রেকর্ড হয়েছে সোনার দামে।
সর্বশেষ গত ২৮ জানুয়ারি সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ৩৪৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৬ হাজার ৯৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৬ হাজার ৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৭৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৩২ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকা। দেশের বাজারে এটিই এখনো পর্যন্ত সোনার সর্বোচ্চ দামে। বর্তমানে এই দামেই সোনা বিক্রি হচ্ছে।
তবে শিগগির এই রেকর্ড ভেঙে সোনার দামে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে বাজুসের এক সদস্য বলেন, বাংলাদেশে সোনার দাম নির্ধারণের পর বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্সে ৩০০ ডলারের ওপরে বেড়েছে। সুতরাং আবার দেশের বাজারে দাম বাড়াবে এটাই স্বাভাবিক।
এদিকে বিশ্ববাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ২৭ মিনিটের দিকে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১০২ দশমিক ৩৫ ডলার বেড়ে ৫ হাজার ৫২২ দশমিক ১৮ ডলারে উঠে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৯৮০ সালে এক আউন্স সোনার দাম ৮৫০ ডলার ছিল। এরপর ২০০৮ সালে এক আউন্স সোনার দাম ৮৬৫ ডলারে ওঠে। তারপর ২০১১ সালে নতুন রেকর্ড গড়ে এক আউন্স সোনার দাম ১ হাজার ৯১৩ ডলার পর্যন্ত উঠে। কয়েক দফায় দাম বেড়ে ২০২৫ সালারের মার্চে এক আউন্স সোনার দাম প্রথমবার ৩ হাজার ডলার স্পর্শ করে।
অবশ্য এই রেকর্ড গড়ে থেমে থাকেনি সোনা। ২০২৫ সালে কয়েক দফায় সোনার সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রতি আউন্স সোনা ৩ হাজার ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৩ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। অক্টোবর মাসে প্রথমবার প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে। ২০২৫ সালের শেষদিকে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৫৫০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে।
আর নতুন বছর ২০২৬ সালের শুর থেকেই সোনার দামে ব্যাপক চাঙ্গাভাব দেখা যাচ্ছে। সোনার আউন্স ৪ হাজার ৬০০, ৪ হাজার ৭০০, ৪ হাজার ৮০০, ৪ হাজার ৯০০, ৫ হাজার ডলারের রেকর্ড ভেঙে এখন সাড়ে ৫ হাজার ডলারের ওপরে উঠলো।
এমকে
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধের ভালো খবর দেখাও, নয়তো লাইসেন্স বাতিল, ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে। যুদ্ধের নেতিবাচক বা সমালোচনামূলক সংবাদ প্রচার করলে সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। বর্তমান প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, সম্প্রচারকারী মাধ্যমগুলোকে অবশ্যই ‘জনস্বার্থে’ কাজ করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, যেসব সংবাদমাধ্যম ‘ভুয়া খবর’ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াবে, লাইসেন্স নবায়নের সময় তাদের কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।
কারের এই বক্তব্যকে সংবাদমাধ্যমের ওপর সরাসরি চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে কৌতুক অভিনেতা জিমি কিমেলের শো নিয়ে এবিসি চ্যানেলকে দেওয়া তার হুমকি এবং পরবর্তীতে শো সাময়িক বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি এই উদ্বেগকে আরও উসকে দিয়েছে।
সম্প্রতি সৌদিতে ইরানি হামলায় মার্কিন তেলের বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর গণমাধ্যমে আসার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি দাবি করেন, মিডিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে বলছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘বাজে মিডিয়া’ চায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে হেরে যাক।
অন্যদিকে, প্রশাসনের নীতি নির্ধারকরা সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘দেশপ্রেমিক’ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের যুদ্ধের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পরামর্শ দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের উচিত ইরানের ‘দুর্বলতা’র খবর প্রচার করা, যুদ্ধের ভয়াবহতার নয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মার্কিন রাজনীতিবিদ এবং মানবাধিকার কর্মীরা। হাওয়াইয়ের সিনেটর ব্রায়ান শাটজ একে সরাসরি সেন্সরশিপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি পরিষ্কার বার্তা— হয় সরকারের গুণগান গাও, নয়তো বন্ধ হয়ে যাও।”
ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন (ফায়ার)-এর অ্যারন টের বলেন, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী সরকার যুদ্ধের কোনো তথ্য সেন্সর করতে পারে না।
ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধে জয়ের দাবি করলেও কুইনিপিয়াকের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানের বিরোধী। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই যুদ্ধকে বিনা উস্কানিতে আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর অব্যাহত হামলার মধ্যেও ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সব ঠিক আছে’ দাবি মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যুদ্ধের মাঠ, অন্যদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা— দুই ফ্রন্টেই এখন উত্তাল আমেরিকা।
এমএন
আন্তর্জাতিক
সম্ভব হলে এখনই সৌদি আরব ছাড়ুন, মার্কিন নাগরিকদের জরুরি বার্তা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দ্রুত দেশটি ছাড়ার জরুরি নির্দেশ দিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
রোববার (১৫ মার্চ) এক জরুরি নিরাপত্তা সতর্ক বার্তায় দূতাবাস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে দূতাবাস।
বার্তায় আরও বলা হয়, মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তাই এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন প্রশাসন।
দূতাবাস ফ্লাইটের সবশেষ আপডেটের জন্য বিমান সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মাম বিমানবন্দর চালু রয়েছে। তবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে আকাশসীমা বার বার বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। ফলে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যাত্রীদের বিমান সংস্থাগুলোর সাথে যোগযোগ অব্যাহত রাখতে হয়।
এদিকে যারা এখনই সৌদি আরব ছাড়তে পারবেন না, তাদের জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাড়তি সতর্কতা অবলম্বর করতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানি, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প, মার্কিন সিনেটরের হুঁশিয়ারি
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যকে এক দ্রুত অবনতিশীল সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছেন এবং এই সংঘাতের ওপর তিনি ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় এক মার্কিন সিনেটর। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ধারাবাহিকভাবে দেওয়া কয়েকটি পোস্টে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি।
ক্রিস মারফি বলেন, এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে ট্রাম্প এই যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। ইরানের পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা সম্পর্কে তিনি মারাত্মক ভুল ধারণা পোষণ করেছিলেন। পুরো অঞ্চল এখন জ্বলছে।
মার্কিন এই সিনেটরের মতে, এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে অঞ্চলটিকে একটি সহিংসতার চক্রে নিক্ষেপ করেছে। তিনি মূলত তিনটি প্রধান সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন।
মারফি জানান, প্রথম সংকটটি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে, যেখান দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। ওয়াশিংটন তেহরানের এই পথ বন্ধ করার ক্ষমতাকে খাটো করে দেখেছিল। তিনি বলেন, ট্রাম্প বিশ্বাস করেছিলেন ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করবে না, কিন্তু তিনি ভুল ছিলেন। এখন তেলের দাম আকাশচুম্বী।
তিনি আরও সতর্ক করেন যে ইরানের ড্রোন, স্পিডবোট এবং সমুদ্র মাইন এই জলপথকে অনিরাপদ করে তুলেছে এবং এগুলো নির্মূল করা অসম্ভব।
দ্বিতীয় সংকট হিসেবে মারফি আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সস্তা ও অস্ত্রধারী ড্রোন দিয়ে ইরান অনির্দিষ্টকাল ধরে অঞ্চলের তেলের ডিপোগুলোতে আঘাত করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে ট্রাম্প কোনও শিক্ষা নেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধ যে বদলে গেছে, ট্রাম্প সেদিকে নজর দেননি। তিনি চরম ভুল করেছেন।
ইতোমধ্যে যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এসে ইসরায়েল ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে, তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসছে।
মারফি সতর্ক করেন, এই সংঘাত ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। লেবানন ও ইরাক থেকে ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হচ্ছে। ইয়েমেনের হুথি এবং সিরিয়াও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে মারফি এই যুদ্ধ শেষ করার কোনও পরিকল্পনা না থাকাকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন স্থল অভিযান হবে মহাপ্রলয়ের মতো, যেখানে হাজার হাজার মার্কিনির মৃত্যু হতে পারে। আবার মিথ্যা বিজয় ঘোষণা করে পিছু হটলেও ইরান পুনরায় শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
প্রশাসনের প্রতি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সব কিছুই আগে থেকে অনুমেয় ছিল। এই কারণেই আগের কোনও প্রেসিডেন্ট এমন বোকামি করে যুদ্ধ শুরু করেননি। বড় বিপর্যয় এড়াতে ট্রাম্পের উচিত এখনই এই যুদ্ধ শেষ করা।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
আন্তর্জাতিক
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৮ ইসরায়েলি আহত
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন কেবল আগুনের লেলিহান শিখা আর সতর্ক সংকেতের (সাইরেন) শব্দে প্রকম্পিত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ত্রিমুখী সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইরানের পালটা হামলার জেরে অন্তত ১০৮ জন ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সংঘাত শুরুর পর থেকে এটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরে সাধারণ নাগরিকদের ওপর অন্যতম বড় মানসিক ও শারীরিক আঘাতের ঘটনা।
ইসরায়েলের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আহতদের তালিকা দেওয়া হলেও ঠিক কী কারণে তাঁরা আহত হয়েছেন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় সাইরেন শুনে তড়িঘড়ি করে শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় হুড়োহুড়িতে অনেকেই মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। এছাড়া রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতেও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ ১৫ মার্চ সকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৯৫ জন ইসরায়েলিকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে ৮১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাঁরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
সংঘাতের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি বিশেষ বিবৃতি। তারা সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি প্রদান করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিনের হামলার যোগ্য জবাব হিসেবে তারা ‘শীর্ষ নেতৃত্বকে’ লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল নিয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে আজ সকালেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও চুপ বসে নেই। তারা দাবি করেছে, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত তিনটি বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আজ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়া এখন সরাসরি ইরানকে ড্রোন সরবরাহ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। জেলেনস্কির মতে, রাশিয়া এই যুদ্ধের মাধ্যমে পশ্চিমাদের নজর ইউক্রেন থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবদ্ধ রাখতে চাইছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্রিটেন একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। লন্ডনের সূত্র অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপন ও ড্রোন তৎপরতা মোকাবিলায় ব্রিটেন নিজস্ব ড্রোন বহর পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এটি যুদ্ধের ব্যাপ্তিকে ইউরোপীয় শক্তির দিকেও টেনে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১৫ মার্চের এই চিত্র প্রমাণ করছে যে, সংঘাত প্রশমনের কোনো লক্ষণ তো নেই-ই, বরং এটি এখন ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ দিকে মোড় নিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া এক সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যে ইসরায়েল এই সংঘাত বন্ধ করবে নাকি প্রতিশোধের নেশায় পুরো অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকারে ঠেলে দেবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
এমএন
আন্তর্জাতিক
নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার অঙ্গীকার: আইআরজিসি
ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
রোববার (১৫ মার্চ) আইআরজিসির এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মাঝে রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে লক্ষ্যবস্তু করার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
আইআরজিসির পরিচালিত সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী বেঁচে থাকেন, তাহলে আমরা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাড়া করে তাকে হত্যা করব।
অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার সুত্রের বরাত দিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে নেতানিয়াহু ইরানের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি




