আন্তর্জাতিক
কোনো দেশ গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করলেই নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনায় যারা বাধা দেবে, সেই দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, দেশগুলো গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত না হলে তিনি তাদের ওপর শুল্ক বসাতে পারেন।’ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের শাসনাধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
তবে কোন কোন দেশের ওপর এই নতুন শুল্কারোপ করা হতে পারে অথবা নিজের লক্ষ্য অর্জনে আমদানির ওপর এমন কর বসাতে কোন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ছাড়াও আরও অনেক দেশ ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। এমনকি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও অনেকে এই অধিগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প যখন এই মন্তব্য করছিলেন, তখন মার্কিন কংগ্রেসের একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধি দল গ্রিনল্যান্ড সফরে ছিলেন। মূলত অঞ্চলটির প্রতি সংহতি জানাতেই তাদের এই সফর।
১১ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে রিপাবলিকান সদস্যরাও ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে প্রেসিডেন্টের আহ্বানে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সফরকালে তারা গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) ছাড়াও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন ও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রতিনিধি দলের নেতা ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস জানান, তাদের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয়দের কথা শোনা এবং তাদের মতামত ওয়াশিংটনে পৌঁছে দিয়ে বিদ্যমান ‘উত্তেজনা প্রশমন’ করা।
ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন অঞ্চলটি হয় ‘সহজ উপায়ে’ নাহয় ‘কঠিন উপায়ে’ দখল করবে। তার এই মন্তব্যকে দ্বীপটি কিনে নেওয়া অথবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দখলের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘দেশগুলো যদি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আমাদের সঙ্গে না আসে, তবে আমি তাদের ওপর শুল্ক বসাতে পারি; কারণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন।’
গ্রিনল্যান্ডে জনবসতি খুব কম হলেও দ্বীপটি প্রাকৃতিক সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মাঝামাঝি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অঞ্চলটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তা প্রদান এবং এই অঞ্চলের জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকেই গ্রিনল্যান্ডে ১০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক নামক একটি ক্ষেপণাস্ত্র পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছে মার্কিন বাহিনী।
ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে গ্রিনল্যান্ডে যেকোনো সংখ্যক সেনা মোতায়েন করতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প মনে করেন, রাশিয়া বা চীনের সম্ভাব্য হামলা থেকে অঞ্চলটিকে যথাযথভাবে রক্ষা করতে হলে এর ‘মালিকানা’ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা প্রয়োজন।
ডেনমার্ক অবশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হবে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর অবসানের সংকেত। উল্লেখ্য, ন্যাটো জোটে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে প্রভাবশালী অংশীদার।
ন্যাটোর মূল নীতি হলো, কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য মিত্ররা তাকে সহায়তা করবে। কিন্তু কোনো সদস্য রাষ্ট্র যদি অন্য কোনো সদস্যের বিরুদ্ধেই শক্তি প্রয়োগ করে, তবে কী হবে—সে বিষয়ে জোটে কোনো নজির নেই।
ইতিমধ্যেই ডেনমার্কের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো। তারা বলেছে, আর্কটিক অঞ্চল তাদের কাছেও সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং এর নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব ন্যাটোর যৌথভাবে নেওয়া উচিত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রেরও অংশগ্রহণ থাকবে।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ গ্রিনল্যান্ডে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী মিশনে ক্ষুদ্র আকারের একটি সামরিক দল পাঠিয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডে শীঘ্রই ‘স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথের সামরিক সরঞ্জাম’ পাঠানো হবে।
ট্রাম্পকে তার এই পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখতে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কয়েকদিন পরই মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল গ্রিনল্যান্ড সফরে যায়। এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ন্যাটোর কট্টর সমর্থক মার্কিন সিনেটর ও হাউস অভ রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যরা।
প্রতিনিধি দলের প্রধান ক্রিস কুনস ও অধিকাংশ সদস্য ট্রাম্পের ঘোর বিরোধী ডেমোক্র্যাট হলেও, এই দলে থম টিলিস ও লিসা মুরকোস্কির মতো মধ্যপন্থি রিপাবলিকান সিনেটররাও রয়েছেন।
গ্রিনল্যান্ডের এমপি আয়া চেমনিৎজ বলেন, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এই বৈঠক তাকে ‘আশাবাদী’ করেছে। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের বন্ধু প্রয়োজন, আমাদের মিত্র প্রয়োজন।’
হোয়াইট হাউসের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের অবস্থানের বিশাল পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ম্যারাথন, কোনো স্বল্প দূরত্বের দৌড় নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০১৯ সাল থেকেই আমরা মার্কিন পক্ষের এই চাপ দেখে আসছি। সবকিছু এখনই শেষ হয়ে গেছে—এমনটা ভাবা বোকামি হবে। পরিস্থিতি প্রায় প্রতি ঘণ্টায় বদলাচ্ছে। তাই আমরা যত বেশি সমর্থন পাব, ততই ভালো।’
লিসা মুরকোস্কি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের যেকোনো প্রচেষ্টা রুখে দেওয়ার লক্ষ্যে আনা একটি দ্বিদলীয় বিলের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। অন্যদিকে একজন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য এই দ্বীপ অধিগ্রহণের সমর্থনে পাল্টা বিল উত্থাপন করেছেন।
গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি গত শুক্রবার ফক্স নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ডেনমার্কের সঙ্গে নয়, বরং গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা।
তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। আমার মনে হয় তিনি তার লক্ষ্য পরিষ্কার করে দিয়েছেন।’
গত বুধবার হোয়াইট হাউসে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ বৈঠকের বিষয়ে একজন ডেনিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে জানান, মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট এমন একটি ‘মধ্যপন্থা’ খোঁজার প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে ট্রাম্প, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সব পক্ষই সন্তুষ্ট থাকে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, হোয়াইট হাউসের বৈঠকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রসঙ্গ ওঠেনি।
তা সত্ত্বেও গ্রিনল্যান্ড দখলের ব্যাপারে ট্রাম্পের প্রকাশ্য ঘোষণাকে ডেনমার্ক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে বলে জানান ওই ডেনিশ কর্মকর্তা।
আন্তর্জাতিক
ইরানে এক হাজারের বেশি বেসামরিক নিহত
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত চার দিনে ইরানে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক। নিহতদের মধ্যে ১৮১ জন শিশু, যাদের বয়স ১০ বছরের কম।
এছাড়া আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৫ হাজার ৪০২ জন। এই আহতদের মধ্যেও ১০০ জন শিশু আছে।
গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি এনজিও হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (হারানা)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৮ তারিখ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত চার দিনে ইরানজুড়ে শত শত রাউন্ড বোমা ফেলেছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। ইরানের সামরিক ঘাঁটি, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে এসব বোমা।
ইরানে নিহত এবং আহত সংক্রান্ত প্রচুর তথ্য আসছে উল্লেখ করে হারানা বলেছে, সেসব তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে।
সূত্র : বিবিসি
আন্তর্জাতিক
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হলেন খামেনির ছেলে মোজতবা
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বিপ্লবী গার্ডের চাপে ইরানের এসেম্বলি অব এক্সপার্ট মোজতবাকে নতুন লিডার হিসেবে নির্বাচিত করেছে।
খামেনিকে সমাহিত করা হবে মাশহাদ শহরে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে মাশহাদে সমাহিত করা হবে। ইরানিদের কাছে এটি একটি পবিত্র শহর।
বুধবার বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
৮৬ বছর বয়সী খামেনিকে লক্ষ্য করে গত শনিবার সকালে হামলা চালানো হয়। মৃত্যুর আগে দীর্ঘ ৩৬ বছর তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ছিলেন।
খামেনির জন্মও হয়েছিল মাশহাদ শহরে। সেখানকার ইমাম রেজা মাজারে পিতাকে সমাহিত করা হয়েছিল।
জানা গেছে, খামেনি মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছিলেন তাকে যেন মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে শেষ নিদ্রায় শায়িত করা হয়।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
আন্তর্জাতিক
সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে তেল পরিবহন খরচ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল পরিবহনের জন্য একটি সুপারট্যাঙ্কার ভাড়ার খরচ সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, এই খরচ বর্তমানে ৪ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আক্রমণের হুমকি দিয়েছিল, সেই সময়ের তুলনায় এই ভাড়া বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। দেশের দক্ষিণে অবস্থিত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
রেকর্ড পরিমাণ এই ভাড়া মূলত সবচেয়ে বড় তেলবাহী জাহাজগুলোর (সুপারট্যাঙ্কার) জন্য প্রযোজ্য, যা একবারে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করতে পারে।
গত সপ্তাহে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকে জ্বালানি খাতের যে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, এই জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি তারই একটি বড় প্রতিফলন।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
এমএন
আন্তর্জাতিক
খামেনির অনুপস্থিতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রে আবির্ভূত কে এই লারিজানি?
ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একসময় অযোগ্য ঘোষিত নেতা আলি লারিজানিই এখন দেশে নেতৃত্বে শূন্যতার সংকটময় সময়ে নিজেকে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ইরানে শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে একটি যুগের অবসান ঘটেছে।
চারিদিকে যখন শোকের মাতম আর বিশৃঙ্খলা ঘনিয়ে উঠছে, ঠিক তখনই তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দ থেকে নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছেন প্রবীণ এক ঝানু রাজনীতিবিদ আলি লারিজানি।
রোববার তিনি জানিয়েছেন, দেশে একটি ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ গঠন করা হবে। এই ঘোষণা দিয়ে তিনি যেন বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি না থাকলেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো স্থিতিশীল আছে।
গত বছরেই ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে নতুন করে লারিজানির আবির্ভাব ঘটেছে। ইরানের পারমাণবিক আলোচনা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং দেশের অভ্যন্তরীন বিক্ষোভ দমনে লারিজানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
ইরানে গতবছর বিক্ষোভ চলতে থাকার সেই সংকটের মধ্যে দেশের হাল ধরতে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিজের অন্যতম বিশ্বস্ত ও অনুগত এক নেতার ওপরই আস্থা রেখেছিলেন। আর তিনিই হলেন ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি।
৬৭ বছর বয়সী লারিজানি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান। মূলত তখন থেকেই আড়ালে থেকে ইরান চালাচ্ছিলেন তিনি। গত কয়েক মাসে লারিজানির ক্ষমতা ও দায়িত্বের পরিধি কেবলই বেড়েছে।
খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী:
আলি লারিজানি ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবার থেকে এসেছেন। গত আগস্টে তিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সেক্রেটারি নিযুক্ত হন।
লারিজানিকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত মাসেই তিনি ওমানে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতেও তিনি সম্প্রতি বেশ কয়েকবার মস্কো সফর করেছেন, যা আরও উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিরই লক্ষণ।
তবে লারিজানির ভাবমূর্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। গত জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকা রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয় তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, লারিজানিই প্রথম বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরুর ডাক দিয়েছিলেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ওই দমনে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। লারিজানি অবশ্য বিক্ষোভকারীদের ‘শহরকেন্দ্রিক আধা-সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
লারিজানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সুরক্ষা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দরকষাকষিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি একবার ইউরোপীয় দেশগুলোর দেওয়া প্রস্তাবকে ‘চকলেটের বিনিময়ে মুক্তা দেওয়া’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সুর কিছুটা নরম করে বলেছিলেন, আমেরিকার উদ্বেগের জায়গা যদি এটি হয় যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে আগানো উচিত না, তবে সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
শনিবার ইরানে হামলার পর রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে লারিজনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনও ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এক নজরে আলি লারিজানি:
লারিজানির জন্ম ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে। তিনি একজন দর্শনের পিএইচডি ডিগ্রিধারী। ২০০৫-২০০৭ সালের প্রধান পারমাণবিক আলোচক এবং ২০০৮-২০২০ সাল পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্পিকার ছিলেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তিতেও তার বড় ভূমিকা ছিল।
২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন এবং ২০২১ ও ২০২৪ সালে লারিজানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লারিজানি অংশ নিতে চাইলেও তাকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল।
সেই প্রত্যাখ্যাত নেতাই উঠে এসেছেন ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইরানে নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরির এই সংকটময় মুহূর্তে লারিজানি নিজেকে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরান নিয়ে ফক্স নিউজে নেতানিয়াহুর সাক্ষাৎকার, কী বললেন
সোমবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহ জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ সামরিক অভিযান ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ নয়। একইসঙ্গে বিমান হামলার নেতৃত্ব দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।
নেতানিয়াহু ইরানে হামলা চালানোর বিষয়টি নিয়ে বলেন, এটি একটি দ্রুত এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ হবে।
ফক্স নিউজকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি শুনেছি মানুষ বলছে যে, এখানে একটা অন্তহীন যুদ্ধ হতে চলেছে। এখানে সীমাহীন যুদ্ধ হচ্ছে না।’
এটি একটি দ্রুত এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ হতে চলেছে এবং আমরা প্রথমে এমন পরিস্থিতি তৈরি করব যাতে ইরানি জনগণ তাদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে এবং তাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার গঠন করতে পারে।
ফক্স নিউজে প্রচারিত সাক্ষাৎকার জুড়ে, নেতানিয়াহু ইরানে হামলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
তিনি বলেন, ডনাল্ড জে. ট্রাম্পের মতো প্রেসিডেন্ট আর কখনও ছিল না। তার দৃঢ়তা, তার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্যতা, তার চিন্তাভাবনার স্পষ্টতা, তিনি যেভাবে সবকিছু করেন, একেবারে মূল বিষয়ের দিকে এগিয়ে যান। আমরা খুবই ভাগ্যবান তাকে মুক্ত বিশ্বের নেতা হিসেবে পেয়ে।
ইরানে হামলা শুরু করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নেতৃত্বের ভূমিকার উপর জোর দিয়ে নেতানিয়াহু ফ্লোরিডার পাম বিচে ট্রাম্পের মার-এ-লাগোর বাড়িতে তার সাথে দেখা করা এবং ট্রাম্পের কাছ থেকে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার গুরুত্বের উপর জোর দেয়ার একটি গল্প বলেছিলেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা মার-এ-লাগোতে দেখা করলাম। ডনাল্ড ট্রাম্প আমাকে প্রথম যে কথাটি বলেছিলেন, ‘তুমি জানো, আমাদের ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে বাধা দিতে হবে। তিনি আমাকে বলেছিলেন, শুরু থেকেই, আমি তাকে বলিনি তিনিই বলেছিলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র না পায়। তিনি তাই করেছেন।’
ইরানে এখন বিমান হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে নেতানিয়াহু যুক্তি দেন যে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এমনভাবে পুনর্গঠন করছে যে কয়েক মাসের মধ্যেই এটি কার্যকরী হয়ে উঠবে। যদি এখনই কোনো পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলেন তিনি।
শনিবার ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের হত্যা করে। জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালায় তেহরান।
সূত্র: পলিটিকো




