জাতীয়
প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলের সপ্তম দিনের শুনানি আজ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল শুনানির আজ সপ্তম দিন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ৩টায় চতুর্থ দিনের আপিল শুনানি শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এই সময়ে ৪৮১ থেকে ৫১০ নম্বর আপিলের শুনানি হবে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ষষ্ঠ দিনের শুনানিতে ১০৪টি আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত দেয় নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ৬০টি আবেদন মঞ্জুর করা হয়, ৩৪টি আবেদন নামঞ্জুর করা হয় এবং ১০টি আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়। ষষ্ঠ দিনের শুনানি শুরু হয় সকাল ১০টায় এবং বিকেল পর্যন্ত তা চলে।
ইসি জানায়, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) আপিল শুনানির প্রথম দিনে ৭০টি আবেদনের মধ্যে ৫২টি বৈধ ঘোষণা করা হয়। ওইদিন ১৫টি আবেদন বাতিল এবং ৩টি আবেদন স্থগিত রাখা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত অনুষ্ঠিত শুনানিতে মোট ৩৩৭ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। একই সময়ে ১১৫ জনের আপিল নামঞ্জুর বা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৩টি আবেদন এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাকি আপিলগুলোর শুনানি ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।
এমকে
জাতীয়
পাবনা ১ ও ২ আসনে নির্বাচনের নতুন তপশিল ঘোষণা
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ ও ২ আসনের নতুন নির্বাচনী তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ১৫ জানুয়ারির এক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিপূর্বে প্রকাশিত ১১ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপনের সংশ্লিষ্ট অংশটুকু বাতিল করে এই নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন তপশিল অনুযায়ী, আগামী রোববার ( ১৮ জানুয়ারি) রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি সোমবার দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে।
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল দায়েরের সুযোগ থাকবে। এই আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৫ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি এবং ২৭ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
ইসি সচিবালয় জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এই দুই আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (নং ১৯০/২০২৬) সংক্রান্ত আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী ইসি এই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা স্থগিত, যেসব সমস্যায় পড়বেন বাংলাদেশিরা
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের সেই প্রতীক্ষা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অনেক ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিকল্পনা বর্তমানে থমকে গেছে। কবে নাগাদ এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। এমনকি যারা বৈধভাবে গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের মধ্যেও এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন পুরাতন গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বগুলোও পুনর্মূল্যায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের মূল কারণ হলো ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি। তাদের মতে, অনেক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কাজ না করে সরকারি সাহায্য বা জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা মার্কিন অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
তথ্যানুসারে, বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ এই ধরনের সুবিধা গ্রহণ করে। এখন থেকে যারা নতুন করে আসতে চাইবেন, তাদের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টি অত্যন্ত কড়াভাবে যাচাই করা হবে। যারা আগে স্পন্সর করে আত্মীয়-স্বজনদের এনেছেন এবং তারা যদি সরকারি সুবিধা ভোগ করে থাকেন, সেই দায়ভার এখন স্পন্সরের ওপর আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যাপ্ত আয় না থাকলে বা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি থাকলে এখন আর ভিসা পাওয়া সম্ভব হবে না।
যারা পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্যও পথটি কঠিন হয়ে পড়েছে। পড়াশোনা শেষে চাকরি খোঁজার জন্য যে নির্দিষ্ট সময় পাওয়া যেত, সেটি পাওয়ার প্রক্রিয়া এখন আরও জটিল হবে।
যারা স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন, ভিসা স্থগিতের কারণে তাদের দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তায় কাটাতে হবে। এ ছাড়া, যারা বর্তমানে গ্রিন কার্ডধারী কিন্তু ছুটিতে বাংলাদেশে আসতে চান, তারাও এখন দেশে ফিরতে দ্বিধাবোধ করছেন। কারণ একবার দেশ ছাড়লে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে কোনো আইনি জটিলতায় পড়তে হয় কিনা, সেই ভয় তাদের তাড়া করে ফিরছে।
এই স্থগিতাদেশ মূলত অভিবাসন বা ইমিগ্রেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে পর্যটন, ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসাগুলো এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ, সাধারণ দর্শনার্থী বা বর্তমান শিক্ষার্থীদের চলাচলে এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা ভিসার জন্য আবেদন বা সাক্ষাৎকার দিতে পারলেও, স্থগিতাদেশ চলাকালীন তাদের অনুকূলে কোনো নতুন অভিবাসন ভিসা ইস্যু করা হবে না। এছাড়া দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-ওয়ানবি ভিসার খরচও আগের চেয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগকে আরও সংকুচিত করেছে।
এমকে
জাতীয়
প্রার্থিতা ফিরে পেলো আরও ৬০ জন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ দিনে আরও ৬০টি আপিল মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির ষষ্ঠ দিনে (বৃহস্পতিবার) ১০৪টি আবেদনের শুনানি গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ৬০টি আপিল আবেদন মঞ্জুর হয়েছে এবং ২৯টি আপিল আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। কমিশন মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে ৫টি আপিল নামঞ্জুর করেছে। শুনানিতে ১০টি আপিল আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
আজ রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেইজমেন্ট-২) সকাল ১০টা থেকে আপিলের শুনানি শুরু হয়। দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল শুনানি গ্রহণ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ফুল কমিশন।
এদিকে, ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ৪৮১ থেকে ৫১০ নম্বর ও পেন্ডিং আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) ৫১১ থেকে ৬১০ নম্বর আপিল এবং ১৮ জানুয়ারি রোববার ৬১১ থেকে ৬৪৫ নম্বর ও অবশিষ্ট পেন্ডিং আপিলের শুনানির মধ্য দিয়ে আপিল শুনানির কার্যক্রম শেষ হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন।
জাতীয়
পে-স্কেল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো কমিশন
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে পে-কমিশনের নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত পূর্ণ কমিশন সভায় গ্রেড সংখ্যা পরিবর্তনের প্রস্তাব আলোচনা হলেও, প্রশাসনিক জটিলতা এড়িয়ে আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের হার নির্ধারণে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর হয়নি এবং বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।
কমিশনের একটি সূত্র জানায়, গ্রেড সংখ্যা কমানোর বা পুনর্গঠনের প্রস্তাব থাকলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কমিশনের এক সদস্য নিশ্চিত করেন, গ্রেড সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হবে।
সভায় বেতন কাঠামোর পাশাপাশি পেনশন ও চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতার বিষয় আলোচনা করা হলেও সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণে একমত হতে না পারায় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
কমিশন সদস্যরা সর্বনিম্ন বেতনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। আগামী ২১ জানুয়ারি পরবর্তী সভায় এই বিষয়ে পুনরায় আলোচনা হবে। এছাড়া, কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বনিম্ন বেতনের হার নির্ধারণের জন্য সবুজ সংকেত নিতে পারেন বলে জানা গেছে।
আগের সংবাদ অনুযায়ী, বেতন বৈষম্য কমাতে বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার কথা ভাবা হচ্ছিল, যা নিয়েও আলোচনা চলছে। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেলে পরিবর্তনের আশা জাগলেও, চূড়ান্ত বেতন কাঠামোর অগ্রগতি কিছুদিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
জাতীয়
সিআইডিকে হাদি হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলাটি পুনরায় তদন্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।
এর আগে, মামলাটির তদন্তে ছিল ডিবি। তবে ডিবির তদন্তে সন্তুষ্ট না হওয়ায় আদালতে নারাজির আবেদন করেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, আদালত পুনঃতদন্ত করে ২০ জানুয়ারির মধ্যে সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে, গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। সেদিন মামলাটি শুনানির জন্য থাকলেও আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
এদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেছেন মামলার বাদী। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল শুনানি করেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা শুধু অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। অথচ, এখানে হত্যার পরিকল্পনাকারীদের সাথে হত্যাকারী শুটারদের কী সম্পর্ক তা উল্লেখ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে আওয়ামী লীগের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলেরর কথা বলা হয়েছে। এটা হাস্যকরা। একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের এ সাহস করার কথা না। অবশ্যই বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল। এজন্য এ অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আমরা নারাজি দিয়েছি।
এ ছাড়া অভিযোগপত্রের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে আদালতকে অবহিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ অটোরিকশা করে ফেরার পথে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।



