আন্তর্জাতিক
ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন যে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ‘কোনো পরিকল্পনা নেই’।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং পরিকল্পিত ফাঁসিও স্থগিত করা হয়েছে। ইরানে হামলার হুমকি দেওয়ার পর তার এই বক্তব্য সংকট নিয়ে তুলনামূলক নরম অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কাতারের একটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা প্রত্যাহার শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প জানান, তিনি ‘অন্য পক্ষের খুব গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের’ সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতি কীভাবে এগোয় তা তিনি দেখবেন। তবে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচও করেননি তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দেখব প্রক্রিয়াটা কীভাবে এগোয়’ । তিনি আরও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘খুব ভালো বিবৃতি’ পেয়েছে।
পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই। তিনি বলেন, ‘ফাঁসির প্রশ্নই ওঠে না’।
ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মাইক হান্না জানান, ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের প্রতি তার অবস্থান কিছুটা নরম হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তার ভাষায়, ট্রাম্প এখনো বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন, তবে তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত মিলছে।
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র গবেষক সিনা তুসসি আল জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য হয়তো সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানোর একটি ‘সম্মান রক্ষার পথ’। তবে একেবারে সংঘাতের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে—এমনও বলা যাচ্ছে না।
তুসসি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প বড় ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে অনাগ্রহী। ইরানের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি ছিল। আজকের মন্তব্যে মনে হচ্ছে, তিনি পরিস্থিতি থেকে সম্মানজনকভাবে সরে আসার পথ খুঁজছেন।’
স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিন বলেন, ইরান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ট্রাম্প সম্ভবত দ্বিধায় আছেন। তিনি হয়তো ‘আরেকটি দ্রুত জয়’ চান, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়াতে চান না। তার ধারণা, ট্রাম্প সীমিত আকারে হামলা চালাতে পারেন, যাতে তিনি ইরানের জনগণকে ‘সহায়তা করার’ প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি করতে পারেন, কিন্তু বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানো যায়।
এর আগে বুধবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র কাতারের একটি বিমানঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেয়, কারণ এক ইরানি কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানবে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে তারা পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভুল হিসাবের’ জবাবে ইরান ‘নির্ণায়কভাবে’ প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে পাকপুর বলেন, আইআরজিসি এখন ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায়’ রয়েছে। তিনি ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘ইরানের যুবকদের হত্যাকারী’ বলেও আখ্যা দেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফক্স নিউজকে বলেন, তিন দিনব্যাপী ‘সন্ত্রাসী তৎপরতার’ পর এখন পরিস্থিতি শান্ত এবং সরকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।
ডিসেম্বরে স্থানীয় মুদ্রার দরপতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দোকানিরা রাস্তায় নামলে আন্দোলনের সূচনা হয়, যা পরে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্বীকার করেছে, সহিংসতায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে। সরকারপক্ষ বলছে, ‘সশস্ত্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ এর জন্য দায়ী।
রাষ্ট্রীয় হিসাবে, দুই সপ্তাহের অস্থিরতায় ১০০–এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে বিরোধীদের দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং তাতে হাজারো বিক্ষোভকারী রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি বলেছে, তারা দুই হাজার ৪০০–এর বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে আল জাজিরা স্বাধীনভাবে এসব সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি।
এদিকে ইরানে প্রায় সম্পূর্ণ টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নেটব্লকস জানিয়েছে, এই ব্ল্যাকআউট ১৪৪ ঘণ্টা ছাড়িয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারা এমন প্রমাণ পেয়েছে যা ইঙ্গিত করে—গত এক সপ্তাহে ইরানে ‘অভূতপূর্ব মাত্রায় বেআইনি হত্যাকাণ্ড’ ঘটেছে, যেখানে বেশিরভাগই ছিল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও সাধারণ মানুষ। সংস্থাটি বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে—এমন ভিডিও প্রমাণও তারা পর্যালোচনা করেছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন: রুশ প্রেসিডেন্ট
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই মৃত্যুকে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেছেন, এটি মানবিক নৈতিকতার আদর্শ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
রোববার (১ মার্চ) রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় এই মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্লাদিমির পুতিন খামেনির এই মৃত্যুকে একটি ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই ঘটনা মানবিক নৈতিকতার সমস্ত আদর্শ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
• খামেনিকে হত্যা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’। রোববার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ওই মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় খামেনি হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্বজুড়ে শিয়া সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট নেতাকে এভাবে হত্যা করা… বিশ্বের সব প্রান্তের মুসলিম, বিশেষ করে শিয়াদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অধিকার ও কর্তব্য।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই ঐতিহাসিক অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়াকে তার বৈধ দায়িত্ব এবং অধিকার বলে মনে করে।
সূত্র: এএফপি
এমএন
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি ঘাঁটিতে হামলা করা হয়েছে: ইরান রেভোল্যুশনারি গার্ড
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। গতকাল শনিবার থেকে আজ রোববার (১ মার্চ) সকাল পর্যন্ত এসব হামলা চালানো হয়।
রোববার (১ মার্চ) ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টিরও বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি ইসরায়েলের তেল নফ শহরে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ঘাঁটি, তেল আবিবের হাকিরিয়ায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কমান্ড হেডকোয়ার্টার এবং তেল আবিবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি বড় শিল্প কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের রাজাধানী মাস্কাটে সংলাপ শুরু হয় তেহরান ও ওয়াশিংটনে প্রতিনিধিদের মধ্যে। ৫ দফা আলোচনা চলার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় শেষ হয় সংলাপ। সেদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই সংলাপের ফলাফল নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।
সংলাপ শেষ হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই ইরানের রাজধানী তেহরানসহ ৭ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথবাহিনী। অতর্কিত এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন নিক্ষেপ শুরু করে ইরানের সেনাবাহিনী। শুরু হয় ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ।
সূত্র : আলজাজিরা
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হচ্ছেন?
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন— তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ আলোচনা এ পর্যন্ত উঠে এসেছ ৫ জনের নাম। এরা হলেন—
মোজতাবা খামেনি : ৫৬ বছর বয়স্ক মোজতাবা খামেনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আধাসামরিক বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী’র ওপর তার দৃঢ় ও গভীর প্রভাব রয়েছে। তবে ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রক্ষমতায় পিতা-পুত্রের উত্তরাধিকারকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আরেকটি বাধা হলো— মোজতবা খামেনি খুব উচ্চ পর্যায়ের ইসলামি পণ্ডিত নন এবং এখন পর্যন্ত শাসনব্যবস্থায় তার কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই।
আলীরেজা আরাফি : ৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি ইরানে তেমন পরিচিত ব্যক্তি নন, তবে তিনি খামেনির আস্থাভাজন এবং একজন প্রতিষ্ঠিত ইসলামি পণ্ডিত। আরাফি বর্তমানে ইরানের আলেমদের পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য। এই কাউন্সিল ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের নির্বাচনে প্রার্থীদের বাছাই এবং পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইনগুলো যাচাই করে। আরাফি ইরানের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থারও প্রধান। তবে তিনি রাজনৈতিকভাবে হেভিওয়েট নন এবং সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই।
মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি : ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি একজন কট্টরপন্থি ইসলামি আলেম এবং ইরানের কেন্দ্রীয় আলেম পরিষদের সদস্য। তিনি ইরানের রক্ষণশীল আলেম-উলামাদের নেতা। ইরানের ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সমালোচক সংবাদমাধ্যম ইরান ওয়্যারের প্রতিবেদনে অনুসারে, মিরবাঘের তীব্রভাবে পশ্চিমাদের বিরোধী এবং তিনি বিশ্বাস করেন, বিশ্বাসী মুসলিম এবং অবিশ্বাসীদের মধ্যে সংঘাত অনিবার্য। বর্তমানে তিনি ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কোম এর বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির প্রধান।
হাসান খোমেনি : ৫০ বছর বয়স্ক হাসান খোমেনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের শীর্ষ নেতা এবং দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। তিনি বর্তমানে খোমেনির সমাধিসৌধের প্রধান রক্ষকের দায়িত্বে আছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি সরকারের প্রশাসন পর্যায়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেননি। ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরেও তার প্রভাব কম। তবে তিনি তার অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তুলনায় কম কঠোর মনোভাবের।
হাশেম হোসেইনি বুশেহরি : ষাটোর্ধ্ব হাশেম হোসেইনি বুশেহরি ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ ইসলামি পণ্ডিত এবং উত্তরাধিকার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং একই সঙ্গে ইরানের আলেম পরিষদের এক নম্বর উপ-চেয়ারম্যান। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিন্তু সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক তেমন দৃঢ় নয়।
সূত্র : সিএনএনে
এমএন
আন্তর্জাতিক
খামেনি হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে যে বার্তা দিলো ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যায় জড়িত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট তার অফিস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খামেনির হত্যাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এর কঠিন প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই গুরুতর অপরাধ কখনো অপ্রতিক্রিয়ায় থাকবে না এবং এটি ইসলামি বিশ্বের ও শিয়াবাদের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলবে। এই মহান নেতার বিশুদ্ধ রক্ত একটি উন্মাদ স্রোতের মতো প্রবাহিত হবে এবং মার্কিন-জায়োনিস্টদের শোষণ ও অপরাধ নির্মূল করবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এইবারও আমরা আমাদের সব শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে, ইসলামি জাতি এবং বিশ্বের মুক্ত মানুষদের সমর্থন নিয়ে, এই গুরুতর অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও দায়ীদের অনুতপ্ত করে তুলব।’
পেজেশকিয়ান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটির ঘোষণাও দিয়েছেন।
এদিকে খামেনির মৃত্যুর খবর রোববার পাওয়া গেলেও তিনি হামলার শিকার হয়েছেন আগের দিন ভোরেই। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এদিন তার বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছিল সংবাদমাধ্যম বিবিসি। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে খামেনিকে তার কার্যালয়েই হত্যা করা হয়েছে। ওই সময় তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনরত ছিলেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ ছিলেন।
এমএন
আন্তর্জাতিক
খামেনির মৃত্যুসংবাদ পোস্ট করে যা লিখলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ তাসনিম ও ফার্স সংবাদ সংস্থা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি রোববার সকালে জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’।
এর আগে, নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুসংবাদ প্রচার করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম দুষ্টু ব্যক্তি, মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নয়, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেই মহান আমেরিকানদের জন্যও ন্যায়বিচার, যারা খামেনি ও তার রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী দলের হাতে নিহত বা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। তিনি আমাদের গোয়েন্দা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার নজর এড়াতে পারেননি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নিশ্চিত করেছি যে তিনি বা তার সঙ্গে নিহত অন্য নেতারা কিছুই করতে পারেননি।’
ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘এটি ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা শুনছি যে তাদের আইআরজিসি, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চান না এবং আমাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা (ইমিউনিটি) চাইছেন।’
তিনি যোগ করেন, ‘‘যেমন আমি গত রাতে বলেছি, ‘এখন তারা নিরাপত্তা পেতে পারে, পরে তারা শুধু মৃত্যুই পাবে!’ আশা করা যায়, আইআরজিসি ও পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একীভূত হবে এবং একসঙ্গে কাজ করে দেশকে তার প্রাপ্য মহত্ত্বে ফিরিয়ে আনবে।’’
এদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে ৭ দিনের সরকারি ছুটি ও ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।
এমএন




