আন্তর্জাতিক
জনগণের সঙ্গে ‘গভীর বিশ্বাসঘাতকতা’ করছে ইরান : ওয়াশিংটন
ইরান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানি জনগণের সঙ্গে ‘গভীর বিশ্বাসঘাতকতা’। খবর শাফাক নিউজের।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ফার্সি ভাষায় দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তেহরান বিক্ষোভকারীদের দমাতে সন্ত্রাসী প্রক্সি বাহিনী মোতায়েন করেছে বলে প্রতিবেদন পাওয়া যাচ্ছে। এতে বলা হয়, ইরানের জনগণের অর্থ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এসব গোষ্ঠীকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে। খামেনি বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ধ্বংস করছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, প্রকৃত উদ্বেগের বিষয় হলো, ইরানের জনগণ ৪৭ বছরের মিথ্যা ও সরকারের ব্যর্থতা বুঝে ফেলেছে।
এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান, হিজবুল্লাহ বা ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। রিয়ালের বড় দরপতন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট এর মূল কারণ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন নিহত এবং ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার স্বীকার করে আলোচনার পথ খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এমকে
আন্তর্জাতিক
১৫ স্যাটেলাইট নিয়ে ছিটকে পড়ল ভারতের রকেট
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) উৎক্ষেপণের পরপরই ত্রুটির কারণে ১৫টি স্যাটেলাইট নিয়ে নির্ধারিত পথ থেকে ছিটকে পড়েছে একটি রকেট। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে দেশটির অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটা দ্বীপের সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণের সময় এই ঘটনা ঘটে। ভারতের এ ঘটনাকে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
ইসরো বলেছে, রকেটটি পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী একটি উপগ্রহ ও বাণিজ্যিক পেলোড বহন করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরো বলেছে, চার ধাপের উৎক্ষেপণযান পিএসএলভি-সি৬২ তৃতীয় ধাপের শেষের দিকে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।
তবে কী ধরনের ত্রুটির কারণে রকেটটি নির্ধারিত পথ থেকে ছিটকে পড়েছে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি ইসরো। ভারতীয় এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বলেছে, এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
উৎক্ষেপণ দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের ভিডিওতে রকেটটিকে আকাশে ছুটে যেতে দেখা যায়। তবে ত্রুটির কারণে রকেটটির উড্ডয়নপথে বিচ্যুতি ঘটে বলে ইসরোর প্রধান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ভারতের জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচির প্রধান ভরসা হিসেবে পরিচিত পিএসএলভি রকেট দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন উৎক্ষেপণ করেছে; যার মধ্যে প্রথম চন্দ্র ও মঙ্গল অভিযানের কক্ষপথযানও রয়েছে।
২০১৭ সালে একক মিশনে ১০৪টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল পিএসএলভি।
সোমবার উৎক্ষেপিত পিএসএলভি-সি৬২ রকেটটি একটি পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহসহ দেশি ও বিদেশি গ্রাহকদের জন্য ১৫টি উপগ্রহ বহন করছিল বলে ইসরো পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন দূরদর্শনকে নারায়ণন বলেন, তৃতীয় ধাপের শেষের দিকে আমরা যানটিতে কিছুটা বেশি অস্থিরতা লক্ষ্য করছি। তিনি বলেন, এর পরপরই যানটির উড্ডয়নপথে বিচ্যুতি দেখা যায়।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত গত এক দশকে মহাকাশ অভিযানে নিজেদের সক্ষমতা জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। তুলনামূলক কম খরচে প্রতিষ্ঠিত শক্তিধর দেশগুলোর অর্জনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহাকাশ কর্মসূচি আকার ও গতি ব্যাপক বাড়িয়েছে দেশটি।
২০২৩ সালের আগস্টে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদে মনুষ্যবিহীন একটি যান অবতরণ করায় ভারত। ২০২৪ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার ঘোষণা দেন।
আন্তর্জাতিক
নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা ট্রাম্পের
সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক এক পোস্টে নিজেকে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়ার কয়েকদিনের মাথায় দেয়া এই ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। যদিও ডেলসি রদ্রিগেজ সম্প্রতি দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ‘ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট (অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট)’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। নিজের সামাজিক মাধ্যমে দেয়া একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন— ‘Acting President of Venezuela, Incumbent January 2026’ (ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে দায়িত্বে)। পোস্টটির সঙ্গে ছিল উইকিপিডিয়ার আদলে তৈরি একটি সম্পাদিত ছবি, যেখানে ট্রাম্পের সরকারি প্রতিকৃতি দেখানো হয় এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে প্রকৃত উইকিপিডিয়া পাতায় ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখানো হয়নি। কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থাও তার এই দাবির স্বীকৃতি দেয়নি।
ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্টটি এমন এক সময়ে দিলেন যখন কয়েকদিন আগেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী। মূলত ট্রাম্পের নির্দেশে সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাদক পাচারের অভিযোগে সেখানে তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক তৎপরতার পর এই অভিযান চালানো হয়। মাদুরো দাবি করেছেন, তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে। চীন, রাশিয়া, কলম্বিয়া এমনকি স্পেনও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।
নজিরবিহীন সেই অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং ‘নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা হস্তান্তর’ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। তিনি আরও বলেন, এই অন্তর্বর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির দায়িত্বও যুক্তরাষ্ট্র তদারকি করবে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার ভেতরে মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি মাদুরোর মুক্তি দাবি করেছেন এবং তাকেই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
যদিও ট্রাম্প তাকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে রদ্রিগেজকেও ‘ভয়াবহ মূল্য দিতে হতে পারে’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিণতি মাদুরোর চেয়েও কঠোর হতে পারে। নিউইয়র্কে আটক মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদ’ ও মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলায় কিছু রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণার কৃতিত্বও দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ’ হিসেবে এই মুক্তি দেয়া হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর ‘বড় আকারে’ বন্দিমুক্তি হয়েছে। একইসঙ্গে মুক্তিপ্রাপ্তদের ‘এটা কখনও ভুলে না যেতে’ সতর্ক করে দেন তিনি।
এছাড়া ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বড় তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় সর্বোচ্চ ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যাতে দ্রুত দেশটির তেল উৎপাদন বাড়ানো যায়। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, কোন কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় কাজ করবে তা যুক্তরাষ্ট্রই ঠিক করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত তেল খাত পুনর্গঠনে সহায়তা দেবে।
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের সঙ্গে ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহের একটি চুক্তিরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই সরবরাহ অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে এবং বাড়তি তেল সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমাতে সহায়ক হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে অর্জিত অর্থ সুরক্ষায় একটি নির্বাহী আদেশেও সম্প্রতি স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক
নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পোস্ট করা ছবির নিচে লেখা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার এক সপ্তাহ পর ট্রাম্পের এই ঘোষণায় লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি ঝটিকা অভিযান চালায়।
ওই অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা মাদক পাচারের অভিযোগে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে আটক রয়েছেন। ওই অভিযানে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি জানান, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের তদারকি ওয়াশিংটনের হাতে থাকবে এবং পরে ‘উপযুক্ত সময়ে’ তা দেশটির সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে এবং সেনাবাহিনীও তাকে সমর্থন দেয়।
তবে ট্রাম্পের নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণার ফলে এখন ভেনেজুয়েলায় একই সঙ্গে দু’জন নিজেদের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দাবি করছেন। সূত্র: রয়টার্স।
এমকে
আন্তর্জাতিক
জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু
মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলার বিচার প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় পর জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজি)। জাতিসংঘের এই আদালত ‘বৈশ্বিক আদালত’ (ওয়ার্ল্ড কোর্ট) নামেও পরিচিত।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জাতিসংঘের আদালতের অবস্থান। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দেশটির স্থানীয় সময় বেলা ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা) মামলার শুনানি শুরু হবে। আগামী ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে এই শুনানিপর্ব।
জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যে মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয়েছিল, সেই মামলার তদন্তকারী দল ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০১৭ সালের জুলাই মাসে বাংলাদশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে বোমা হামলা হয়েছিল। সশস্ত্র রোহিঙ্গাগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে এই হামলার জন্য দায়ী করে মিয়ানমারের সরকার। পরে এ হামলার জের ধরে ওই মাসেই বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
অভিযানের নামে সাধারণ রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে বর্মী সেনাবাহিনীর লাগাতার হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের সামনে টিকতে না পেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালাতে শুরু করে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন সে সময়। তারা এখনও বাংলাদেশেই আছেন।
২০১৭ সালে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের পরপরই জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল এ ঘটনার তদন্ত করেছিল। সেই দলের তদন্ত প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৯ সালে বৈশ্বিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা করেছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিায়া। সেই মামলারই শুনানি শুরু হচ্ছে সোমবার।
মিয়ানমারে যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছিল, সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অং সান সুচি। জাতিসংঘের অনুসন্ধানি দলের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। গাম্বিয়া যখন মামলা করে, তখনও সেই মামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সুচি বলেছিলেন, গাম্বিয়ার অভিযোগ ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’।
২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন সুচি এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকার। বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে সেনাবাহিনীর আদালতে তার বিচার চলছে।
দেশটিতে বর্তমানে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা জাতিসংঘ, কিছু পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার গোষ্ঠী কর্তৃক অবাধ বা সুষ্ঠু নয় বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
এই বিচারের ফলাফলের প্রভাব মিয়ানমারের বাইরেও পড়বে। সম্ভবত গাজা যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইসিজেতে দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যার মামলার উপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানে যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায় তবে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। প্রাণঘাতী সরকারি দমন-পীড়ন উপেক্ষা করেও সেখানে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে আন্দোলনকারীরা। বিবিসির যাচাই করা ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে দেখা গেছে, বিক্ষোভের বিরুদ্ধে সরকার আরও কঠোর অবস্থানে গিয়েছে।
এই আন্দোলন ইরানের প্রতিটি প্রদেশের একশটিরও বেশি শহর ও নগরে ছড়িয়ে পড়েছে। দুইটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, দুইদিনে শতাধিক মরদেহ আনা হয়েছে। দেশজুড়ে নিহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্দোলনকারী নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সংসদের স্পিকার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায় তবে ইসরায়েলসহ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ পরিবহন কেন্দ্রগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানের রাজধানী তেহরানে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের অবসান দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, যারা বিক্ষোভ করবে তাদের ‘এনিমি অব গড বা প্রভুর শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
এদিকে খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘একদল দুষ্কৃতকারী’ অভিহিত করে বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খুশি করতে এই আন্দোলন করছে।
অপরদিকে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সহায়তা করতে প্রস্তুত’ যেহেতু ইরান ‘স্বাধীনতা চাইছে।’
একটি মানবাধিকার গ্রুপ জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই হাজার পাঁচশো জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এমকে




