জাতীয়
সরকারের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতেই গণভোট: আলী রীয়াজ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ভবিষ্যতে যারা এই দেশ পরিচালনা করবেন, তারা যেন আর কখনোই ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এবারের গণভোট।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলনকক্ষে ‘আসন্ন গণভোট এবং এনজিওসমূহের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
দেশে নিবন্ধিত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রায় সাড়ে ৪০০ এনজিওর প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।
আসন্ন গণভোটে সরকারের তরফে প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, যারা দেশ চালান, আমাদের বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ সাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্যই তারা ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ পান। আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ ভোটকে জয়ী করে তাদের এই ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতে হবে।
গণভোট আসলে কী বা কেন- এ নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, অন্য সব সাধারণ নির্বাচনের মতোই হবে গণভোট। তবে, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত দেবে যে, আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে চলবে। আসন্ন নির্বাচনে সব ভোটার ভোটকেন্দ্রে দুটি ব্যালট পাবেন যার মধ্যে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যালটটি হবে সাদা ও গণভোটের ব্যালটটি হবে রঙিন।
গণভোটের বিষয়ে জনমত সৃষ্টি ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বিগত সরকারের সময়ে যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, নিপীড়িত-নির্যাতিত হয়ে হাসপাতালে ধুঁকছেন, আত্মদানের মধ্য দিয়ে তারা এই দায়িত্ব আমাদের দিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সব থেকে বড় সংকটগুলোর একটা হলো রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব। গণভোটের জনগণের সম্মতির মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।
এ সময় স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভগ্যোন্নয়ন এবং সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকটে এনজিও এবং উন্নয়নকর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ উপস্থিত এনজিও প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের ওপর মানুষ আস্থা রাখেন, তাই প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে গণভোটের বিষয়ে সচেতন করতে আপনারা গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
কর্মশালার বিশেষ আলোচক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার বলেন, পাকিস্তানি শাসনামলে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি দেশ যেখানে নাগরিকদের অধিকার সমুন্নত থাকবে। যদি গণভোটে মাধ্যমে আমরা কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করতে পারি তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পথ সুগম হবে। অন্যথায় দেশ আবার ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, জনগণ যদি হ্যা-ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দেয় তাহলে একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা পাবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আসবে, বিচার বিভাগের সংস্কার ও বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি দেশ পরিচালনার সব ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সাবেক সদস্য বদিউল আলম মজুমদার কর্মশালায় সুজনের পক্ষ থেকে ‘গণভোট কী ও কেন?’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা তুলে ধরে জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংস্কার ও গণভোট সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনা করেন।
এ সময় উপস্থিত এনজিওসমূহের ৫০-৬০ লাখ প্রত্যক্ষ উপকারভোগী, তাদের পরিবার ও পরোক্ষ উপকারভোগীদের মধ্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে এনিজওগুলো ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ঘনিষ্টভাবে কাজ করবে বলে জানান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া।
এমকে
জাতীয়
‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল দিতে ফটোকার্ড প্রকাশ করল সরকার
আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারার জন্য উৎসাহ দিতে ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ রবিবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তি বার্তায় ফটোকার্ড প্রকাশের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি বার্তায় বলা হয়েছে, রবিবার (১১ জানুয়ারি) থেকে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আটটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হবে। গণভোটের প্রচারণার অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
ফটোকার্ডে লেখা রয়েছে, ‘আমাদের সবার স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবে গড়ার জন্য হ্যাঁ-তে সিল দিন।’
এর আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোটের বিষয়ে সারা দেশে প্রচার কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ১০টি সুপার ক্যারাভ্যান। গত ২২ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ভোটের গাড়ির উদ্বোধন করা হয়।
এসব গাড়ি ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলায় ঘুরে বেড়াবে।
তারা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেবে বলে উদ্বোধনের সময় বার্তা দেওয়া হয়।
জাতীয়
হলফনামায় অপ্রদর্শিত সম্পদের মালিকরা শাসক হতে পারে না: দুদক চেয়ারম্যান
নির্বাচনী হলফনামায় প্রদর্শিত হয়নি এমন সম্পদের মালিকদের আগামী দিনে শাসক হিসেবে দেখতে চাই না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুদকের সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন (র্যাক)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
র্যাকের সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ এবং সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম উপস্থিত ছিলেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনাদের মনে করিয়ে দিই ২০০৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলফনামায় সম্পদের যে বিবরণী দিয়েছিলেন এবং বাস্তবে আমরা যে সম্পত্তি পেয়েছি, তার মধ্যে ছিল বিস্তর ব্যবধান। সেই সময় যদি দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করত, তাহলে তখনই তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু সেটি হয়নি।’
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য যাচাইয়ের জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে ড. আবদুল মোমেন বলেন, ‘স্বল্প সময়ে আমাদের পক্ষে অত সূক্ষ্মভাবে কাজ করা কঠিন। আপনারা যদি কোনো ব্যক্তির সম্পদের বিষয়ে সন্দিহান হন, তবে অনুগ্রহ করে সেই তথ্য সবার আগে আমাদের দিন। আপনারা নিজেরাও তো অনুসন্ধানকারী। অনুসন্ধান করে আমাদের সহায়তা করুন। আমরা চাইব না হলফনামায় প্রদর্শিত হয়নি, এমন সম্পদের মালিক আগামী দিনে শাসক হিসেবে আসুক।’
রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সবার জন্য সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য। একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও সুবিচারসম্পন্ন রাষ্ট্র গঠনের জন্য দুর্নীতি নিরসন জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, আগামীতে যারা শাসক হবেন তারা যেন অবশ্যই ন্যায়নিষ্ঠ হন।
এমকে
জাতীয়
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ
প্রশ্নফাঁস, ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন একদল নিয়োগপ্রত্যাশী। একই সঙ্গে তারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। এ দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা নানান স্লোগানে পরীক্ষায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁস হয়েছে জানিয়ে বাতিলের দাবি করছেন।
তাদের হাতে ‘প্রশ্ন ফাঁস চলবে না, চলবে না’; ‘প্রশ্নফাঁস হটাও, শিক্ষা বাঁচাও’; ‘মেধাবীরা বঞ্চিত কেন, ডিপিই জবাব চাই’; ‘পরিশ্রমের মর্যাদা নেই’ প্রভৃতি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো-
>> সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত পরীক্ষা নিতে হবে।
>> সকল চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় নিতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার রাখতে হবে।
>> স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করতে হবে এবং তার আওতায় সকল পরীক্ষা নিতে হবে। একই দিনে একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।
>> যেসব প্রতিষ্ঠানে বিগত সালে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের রেকর্ড আছে, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্ন প্রণয়ন করার দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
>> প্রশ্নফাঁস হওয়ার তথ্য প্রমাণিত হলে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানকে স্বেচ্ছায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।
জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ফেসবুকে শেয়ারও করেন।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার দুদিন আগে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের একটি অংশ থেকে হুবহু কয়েকটি প্রশ্ন পরীক্ষায় এসেছে। এতে প্রশ্নফাঁসের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। ২৫ ডিসেম্বর প্রশ্নপত্র জেলা পর্যায়ে পাঠিয়ে দিয়ে তার প্রায় দুই সপ্তাহ পর পরীক্ষা নেওয়ায় চক্রের হাতে প্রশ্নপত্র চলে গেছে বলে অভিযোগ তাদের।
অন্যদিকে এ পরীক্ষা ঘিরে সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘ডিভাইস পার্টি’। তারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থ চুক্তির মাধ্যমে ডিভাইসের সহায়তা দিয়েছেন। এ চক্রটি চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীকে ডিভাইস সরবরাহ করে এবং পরীক্ষা শুরুর পরপরই প্রশ্ন ম্যানেজ করে উত্তর বলে দেয়। পরীক্ষার্থী ডিভাইসে উত্তর শুনে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসেন।
পরীক্ষার্থীরা জানান, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ডিভাইস পার্টি ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিল। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর উত্তরের জেলাগুলোতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কিছুটা তৎপর ছিল। এ কারণে ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়া শতাধিক চাকরিপ্রার্থীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছেন। গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮, দিনাজপুরে ১৮, কুড়িগ্রামে ১৬ ও রংপুরে দুইজনসহ শতাধিক পরীক্ষার্থী জালিয়াতি করে ধরা পড়েছেন।
তবে অসংখ্য জালিয়াত পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও কক্ষ পরিদর্শকদের নজরদারি এড়িয়ে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে গেছেন। কোথাও কোথাও কক্ষ পরিদর্শকরাও এ চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে জালিয়াতিতে সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা দেখাই যায়নি। ফলে সেখানে নির্বিঘ্নে জালিয়াতি-অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী।
প্রথম ধাপে (রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ) ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি। তবে ঠিক কতজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন এবং কত পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত করে জানায়নি অধিদপ্তর।
এমকে
জাতীয়
ওআইসি রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্সের ২২তম বিশেষ অধিবেশনে এ কথা জানান তিনি।
সোমালিয়ার একটি অঞ্চলকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি দেয়া এবং এতে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর প্রভাব, পাশাপাশি এর বৃহত্তর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে এই জরুরি অধিবেশন আহ্বান করে ওআইসি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা, সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় ওআইসির সম্মিলিত সংকল্পের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পূর্ণরূপে একাত্ম রয়েছে।’
ইসরায়েলের এ ধরনের স্বীকৃতিকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানাতে ওআইসির প্রতি আহ্বান জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। একই সঙ্গে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। অবৈধ আলোচনা ও উদ্যোগ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ন্যায়বিচার, আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিকতাই একতরফা সিদ্ধান্ত ও চাপের রাজনীতির ওপর প্রাধান্য পাবে।’
এর আগে, শনিবার সকালে ওআইসির সদস্য দেশগুলোর বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধির অংশগ্রহণে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের (সিএফএম) বিশেষ অধিবেশনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অব্যাহত সংহতি জানানো হয়।
এমকে
জাতীয়
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয় করার জন্য আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সভায় সভাপতিত্ব করবেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। এতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দফতর, বিভাগ, বাহিনী ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
ইসির উপ-সচিব মো. মনির হোসেন এ সংক্রান্ত দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিষয়টি জানিয়েছেন।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ১১ জানুয়ারি সকাল ৯টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষ (কক্ষ নম্বর-৫২০), নির্বাচন ভবন, আগারগাঁও, ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কার্যাবলীর সমন্বয় সাধনের জন্য একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.) সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বর্ডার গার্ডের মহাপরিচালক, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টিলিজেন্স (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক, জাতীয় টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) মহপরিচালক, র্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।
এমকে




